ফ্রান্সের অস্থিরতা: গণতান্ত্রিক প্রতিবাদ কোথায় শেষ, নৈরাজ্য কোথায় শুরু?
সম্পাদকীয় আদালত বার্তাঃ২১ অক্টোবর ২০২৬
প্যারিস থেকে ইউরোপের জন্য নতুন সতর্কবার্তা—দ্রব্যমূল্য, শিক্ষা ও জনসেবার সংকট থেকে রাজপথের সহিংসতা; তবে ‘ষড়যন্ত্র’ নাকি গভীর সামাজিক-অর্থনৈতিক সংকট—প্রশ্ন এখন সেটিই
ফ্রান্স আবারও ইউরোপের রাজনৈতিক আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে। তবে এবার আলোচনার বিষয় কেবল সরকারবিরোধী বিক্ষোভ নয়; বরং গণতান্ত্রিক প্রতিবাদের সীমা, রাষ্ট্রের প্রতি নাগরিকের আস্থা, তরুণ প্রজন্মের ভবিষ্যৎ নিয়ে উদ্বেগ এবং শান্তিপূর্ণ আন্দোলন কীভাবে সহিংসতা, অগ্নিসংযোগ, লুটপাট ও পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষে রূপ নিতে পারে—এসব প্রশ্নও সামনে এসেছে।
২০২৬ সালের সেপ্টেম্বর থেকে ফ্রান্সে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের অবস্থা, শিক্ষক সংকট ও শিক্ষাব্যবস্থার অবনতির প্রতিবাদে শিক্ষার্থীদের আন্দোলন শুরু হয়। পরবর্তীতে এর সঙ্গে যুক্ত হয় জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধি, জ্বালানি ও অন্যান্য ব্যয়, সরকারি সেবায় কাটছাঁট এবং ক্রমবর্ধমান অর্থনৈতিক চাপের অভিযোগ। অক্টোবরের মাঝামাঝি এসে আন্দোলনটি দেশব্যাপী বড় আকার ধারণ করে।
১৭ অক্টোবরের বিক্ষোভে ফরাসি স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের হিসাবে প্রায় ৫ লাখ ৫০ হাজার মানুষ দেশব্যাপী বিভিন্ন কর্মসূচিতে অংশ নেয়। অধিকাংশ কর্মসূচি শান্তিপূর্ণ থাকলেও কয়েকটি বড় শহরে পরিস্থিতি দ্রুত সহিংস হয়ে ওঠে। পুলিশকে লক্ষ্য করে পাথর ও বিভিন্ন বস্তু নিক্ষেপ, অগ্নিসংযোগ, দোকান ভাঙচুর, লুটপাট এবং সরকারি স্থাপনায় হামলার ঘটনা ঘটে।
পরবর্তী সময়ে ফরাসি কর্তৃপক্ষের হিসাবে গ্রেপ্তারের সংখ্যা দুই হাজার ছাড়িয়ে যায়; রয়টার্স জানিয়েছে, প্রায় এক হাজার পুলিশ সদস্য আহত হয়েছেন এবং একজন বিক্ষোভকারী মারা গেছেন। প্যারিস, মার্সেইসহ বিভিন্ন শহরে ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান ও সরকারি সম্পত্তির ক্ষতি হয়।
প্রতিবাদের বৈধতা আছে, কিন্তু সহিংসতার বৈধতা নেই
ফ্রান্সের ইতিহাসে প্রতিবাদ রাজনৈতিক সংস্কৃতির একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ। ফরাসি বিপ্লব থেকে শুরু করে সাম্প্রতিক ‘ইয়েলো ভেস্ট’ আন্দোলন—রাজপথে প্রতিবাদ সেখানে রাজনৈতিক মত প্রকাশের স্বীকৃত মাধ্যম।
কিন্তু গণতান্ত্রিক অধিকার এবং সহিংসতার অধিকার এক বিষয় নয়।
সরকারের নীতির বিরুদ্ধে মিছিল করা, স্লোগান দেওয়া, ধর্মঘট করা, স্মারকলিপি দেওয়া কিংবা শিক্ষা ও জীবনযাত্রার ব্যয় নিয়ে প্রতিবাদ করা গণতান্ত্রিক অধিকারের অংশ। বিপরীতে দোকান লুট করা, আগুন দেওয়া, সরকারি ভবন ধ্বংস করা, পুলিশ বা সাধারণ মানুষের ওপর হামলা এবং ঐতিহাসিক স্থাপনা ক্ষতিগ্রস্ত করা কোনো গণতান্ত্রিক অধিকারের স্বাভাবিক প্রয়োগ নয়।
সাম্প্রতিক ফরাসি পরিস্থিতির সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষা সম্ভবত এখানেই—প্রতিবাদের অধিকার রক্ষা করতে হলে প্রতিবাদকে সহিংসতার হাত থেকে রক্ষা করাও জরুরি।
অর্থনৈতিক সংকটকে উপেক্ষা করলে আন্দোলন আরও বিস্তৃত হতে পারে
ফ্রান্সের বর্তমান অস্থিরতাকে শুধু ‘দাঙ্গা’ হিসেবে দেখলে এর মূল কারণগুলোর একটি অংশ অদৃশ্য থেকে যায়।
দেশটির সরকারি ঋণ বর্তমানে জিডিপির প্রায় ১১৯ শতাংশে পৌঁছেছে বলে সাম্প্রতিক অর্থনৈতিক বিশ্লেষণে উল্লেখ করা হয়েছে। একই সময়ে সরকারি ব্যয়, করের চাপ এবং ঋণের সুদ বৃদ্ধির কারণে সরকারের আর্থিক সক্ষমতা সীমিত হয়েছে। আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের হিসাবে ২০২৬ সালে ফ্রান্সের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি প্রায় ০.৪ শতাংশে সীমাবদ্ধ থাকতে পারে।
অন্যদিকে জীবনযাত্রার ব্যয় নিয়ে সাধারণ মানুষের উদ্বেগও বাস্তব। সাম্প্রতিক প্রতিবেদনগুলোতে দেখা যাচ্ছে, মূল্যস্ফীতি, জ্বালানি ব্যয়, শিক্ষা ও জনসেবার মান এবং পরিবারের ক্রয়ক্ষমতা নিয়ে তরুণ ও নিম্ন-মধ্যবিত্ত জনগোষ্ঠীর মধ্যে অসন্তোষ জমেছে।
অতএব, আন্দোলনের সহিংস অংশকে প্রত্যাখ্যান করার পাশাপাশি শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভকারীদের উত্থাপিত বাস্তব সমস্যাগুলোর সমাধান করাও রাষ্ট্রের দায়িত্ব।
আন্দোলন কি ‘ছাত্র আন্দোলন’ হিসেবেই আছে?
প্রথম পর্যায়ে আন্দোলনের প্রধান চালিকাশক্তি ছিল শিক্ষার্থীরা। শিক্ষক সংকট, শ্রেণিকক্ষের অবস্থা, অবকাঠামোগত দুর্বলতা ও শিক্ষাব্যবস্থার নানা সমস্যাকে কেন্দ্র করে উচ্চবিদ্যালয় ও বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা রাস্তায় নামে। পরবর্তীতে শ্রমিক সংগঠন, ‘ইয়েলো ভেস্ট’ আন্দোলনের সঙ্গে যুক্ত ব্যক্তিরা এবং বিভিন্ন বামপন্থী রাজনৈতিক গোষ্ঠী আন্দোলনে যুক্ত হয়।
এখানেই আন্দোলনের চরিত্র জটিল হয়ে ওঠে।
ফরাসি সংবাদমাধ্যম ও কর্তৃপক্ষের বিভিন্ন প্রতিবেদনে সহিংসতার সঙ্গে ultra-left বা চরম বামপন্থী গোষ্ঠী, বিশেষ করে ‘Black Bloc’ ধরনের সংগঠিত বা আধা-সংগঠিত কর্মীদের সম্পৃক্ততার কথা এসেছে। ফাইন্যান্সিয়াল টাইমসের বিশ্লেষণ অনুযায়ী, Black Bloc-এর সঙ্গে যুক্ত ব্যক্তিরা সাধারণত অ্যান্টি-ক্যাপিটালিস্ট, অ্যান্টি-ফ্যাসিস্ট ও অ্যানার্কিস্ট মতাদর্শে বিশ্বাসী এবং প্রতিবাদের সময় পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষ ও সম্পত্তি ধ্বংসের কৌশল ব্যবহার করে থাকে।
তবে এখানেও একটি গুরুত্বপূর্ণ পার্থক্য করা প্রয়োজন—সহিংস বিক্ষোভকারী এবং পুরো ছাত্র আন্দোলনকে একই পরিচয়ে চিহ্নিত করা তথ্যগতভাবে সঠিক নয়। বিভিন্ন প্রতিবেদনে স্পষ্ট যে বিপুলসংখ্যক মানুষ শান্তিপূর্ণভাবে বিক্ষোভে অংশ নিয়েছেন।
অভিবাসন ও জনসংখ্যার প্রশ্ন: তথ্য কী বলছে?
ফ্রান্সের সামাজিক পরিবর্তন নিয়ে অভিবাসন অবশ্যই একটি গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক প্রশ্ন। কিন্তু এ বিষয়ে আবেগের পরিবর্তে পরিসংখ্যানের দিকে তাকানো জরুরি।
ফ্রান্সের সরকারি পরিসংখ্যান সংস্থা INSEE-এর হিসাবে, ২০২৪ সালে ফ্রান্সে প্রায় ৭৭ লাখ অভিবাসী বসবাস করছিলেন, যা মোট জনসংখ্যার প্রায় ১১.৩ শতাংশ। তাদের মধ্যে প্রায় ৩৭ লাখ বা ৪৮ শতাংশ আফ্রিকায় জন্মগ্রহণকারী; প্রায় ২২ লাখ বা ২৯ শতাংশের জন্ম উত্তর আফ্রিকার মাগরেব অঞ্চলে।
২০২৪ সালে ফ্রান্সে বসবাসকারী বিদেশি নাগরিকের সংখ্যা ছিল প্রায় ৬০ লাখ, মোট জনসংখ্যার ৮.৮ শতাংশ।
তবে ফ্রান্সের সরকারি পরিসংখ্যান ধর্মের ভিত্তিতে জনসংখ্যাকে সাধারণত গণনা করে না, ফলে ‘ফ্রান্সের ২০ শতাংশের বেশি মুসলিম’—এমন একটি নির্দিষ্ট সরকারি সংখ্যা দিয়ে বর্তমান দাঙ্গার কারণ ব্যাখ্যা করা যথার্থ হবে না।
আরও গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো—অভিবাসী বা মুসলিম জনগোষ্ঠীর একটি সম্পূর্ণ অংশকে সহিংসতার সঙ্গে যুক্ত করা তথ্যসম্মত নয়। সাম্প্রতিক সহিংসতার বিষয়ে যেসব সরকারি ও আন্তর্জাতিক প্রতিবেদনে ultra-left groups, looters এবং criminal elements-এর কথা এসেছে, সেখানে ফ্রান্সের মুসলিম জনগোষ্ঠীকে সামগ্রিকভাবে দায়ী করার কোনো প্রমাণ পাওয়া যায়নি।
‘আন্তর্জাতিক ষড়যন্ত্র’—প্রমাণ কোথায়?
ফ্রান্সের ঘটনাকে দেখে আন্তর্জাতিক কোনো সুসংগঠিত ষড়যন্ত্রের আশঙ্কা নিয়ে রাজনৈতিক আলোচনা হতে পারে। একইভাবে ভবিষ্যতে বিদেশি অর্থায়ন, সংগঠিত অপরাধী নেটওয়ার্ক বা রাজনৈতিক উগ্রবাদী সংগঠনের ভূমিকা নিয়ে তদন্তও হতে পারে।
কিন্তু প্রমাণ ছাড়া কোনো আন্দোলনকে আন্তর্জাতিক বামপন্থী ষড়যন্ত্র, ইসলামী মৌলবাদী ষড়যন্ত্র বা কোনো নির্দিষ্ট জনগোষ্ঠীর পরিকল্পিত দেশ ধ্বংসের প্রকল্প হিসেবে ঘোষণা করা সাংবাদিকতার দৃষ্টিতে গ্রহণযোগ্য নয়।
বরং বর্তমানে যে তথ্য পাওয়া যাচ্ছে, তা একটি বহুস্তরীয় সংকটের দিকে ইঙ্গিত করে—অর্থনৈতিক চাপ, জনসেবার দুর্বলতা, শিক্ষাব্যবস্থার সমস্যা, রাজনৈতিক মেরুকরণ, তরুণদের ভবিষ্যৎ নিয়ে হতাশা এবং তার সুযোগ নেওয়া সহিংস উগ্রপন্থী ও অপরাধী গোষ্ঠী।
প্যারিসের ক্ষত শুধু একটি শহরের ক্ষত নয়
প্যারিস কেবল ফ্রান্সের রাজধানী নয়; বিশ্বসভ্যতার ইতিহাসে এটি শিল্প, সাহিত্য, দর্শন, স্থাপত্য ও সংস্কৃতির অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র।
লুভর, আইফেল টাওয়ার, ঐতিহাসিক স্থাপত্য, জাদুঘর ও শিল্পকলা—এসব কোনো একটি রাজনৈতিক দলের সম্পত্তি নয়। এগুলো মানবসভ্যতার সম্মিলিত ঐতিহ্যের অংশ।
সাম্প্রতিক সহিংসতার পর প্যারিসের বিভিন্ন এলাকায় ভাঙা দোকানের কাচ, পোড়া যানবাহন, আগুনে ক্ষতিগ্রস্ত স্থাপনা ও রাস্তায় পড়ে থাকা ধ্বংসাবশেষের দৃশ্য ফরাসি সমাজে গভীর উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে।
এখানে একটি গুরুত্বপূর্ণ সতর্কতাও জরুরি: সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আইফেল টাওয়ার পুড়ে যাওয়ার বা ধ্বংস হওয়ার কিছু ভিডিও ছড়িয়ে পড়লেও সেগুলোকে ভুয়া/AI-generated হিসেবে শনাক্ত করা হয়েছে। আইফেল টাওয়ার ধ্বংস হয়নি।
এই ঘটনাটি আবারও দেখিয়ে দেয়—সংকটের সময় ভুয়া ছবি ও বিভ্রান্তিকর তথ্যও সামাজিক অস্থিরতা বাড়াতে পারে।
ইউরোপের অন্য দেশেও একই ধরনের অসন্তোষ
ফ্রান্সের ঘটনা সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন নয়। ২০২৬ সালের অক্টোবর মাসে ইউরোপের বিভিন্ন দেশে তরুণদের মধ্যে শিক্ষা, আবাসন, জীবনযাত্রার ব্যয় এবং সরকারি সেবা নিয়ে আন্দোলন দেখা গেছে। ফ্রান্সের পাশাপাশি স্পেন, পর্তুগাল, ইতালি ও আলবেনিয়াতেও বিভিন্ন ধরনের সামাজিক ও রাজনৈতিক বিক্ষোভ হয়েছে।
অর্থাৎ সমস্যাটিকে শুধু ‘একটি দেশের অভ্যন্তরীণ ষড়যন্ত্র’ হিসেবে দেখলে বৃহত্তর ইউরোপীয় বাস্তবতা অনুধাবন করা কঠিন হবে।
বাংলাদেশের জন্য শিক্ষা কী?
ফ্রান্সের ঘটনাকে বাংলাদেশের সঙ্গে সরাসরি এক করে দেখা ঠিক হবে না। দুই দেশের রাজনৈতিক কাঠামো, অর্থনীতি, জনসংখ্যা, ইতিহাস এবং সামাজিক বাস্তবতা ভিন্ন।
তবু একটি সাধারণ শিক্ষা নেওয়া যায়।
গণতন্ত্রের শক্তি শুধু প্রতিবাদের অধিকারে নয়; প্রতিবাদের সঙ্গে দায়িত্ববোধ, আইন মানা, অন্যের অধিকারকে সম্মান করা এবং রাষ্ট্রীয় সম্পদ রক্ষার সংস্কৃতিতেও।
যে কোনো দেশে আন্দোলন যদি শান্তিপূর্ণ দাবি থেকে ধীরে ধীরে অগ্নিসংযোগ, লুটপাট, ভাঙচুর এবং সহিংসতায় পরিণত হয়, তাহলে আন্দোলনের মূল দাবিগুলোও একসময় আড়ালে পড়ে যায়। তখন রাজনৈতিক ও সামাজিক সমস্যার সমাধানের পরিবর্তে তৈরি হয় ভয়, অবিশ্বাস ও প্রতিশোধের পরিবেশ।
একইভাবে রাষ্ট্রের পক্ষেও শুধু আইনশৃঙ্খলা প্রয়োগ করে সমস্যার সমাধান করা সম্ভব নয়। জনগণের প্রকৃত অভিযোগ শুনতে হবে, অর্থনৈতিক ও সামাজিক সমস্যার সমাধান করতে হবে এবং শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদের সাংবিধানিক অধিকারকে সম্মান করতে হবে।
সভ্যতার সবচেয়ে বড় শত্রু কি প্রতিবাদ, নাকি দায়িত্বহীনতা?
ফ্রান্সের বর্তমান পরিস্থিতির সবচেয়ে বড় শিক্ষা সম্ভবত এটি—প্রতিবাদ সভ্যতার শত্রু নয়; দায়িত্বহীন সহিংসতা সভ্যতার শত্রু।
সরকারের সমালোচনা গণতন্ত্রের অংশ। ছাত্রদের দাবি জানানো গণতন্ত্রের অংশ। দ্রব্যমূল্য বৃদ্ধির প্রতিবাদ গণতন্ত্রের অংশ। সংবাদমাধ্যমের সমালোচনা গণতন্ত্রের অংশ।
কিন্তু একই সঙ্গে দোকান লুট করা, আগুন দেওয়া, পুলিশ বা সাধারণ মানুষকে আক্রমণ করা এবং ঐতিহাসিক সম্পদ ধ্বংস করাকে গণতান্ত্রিক অধিকার হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়া যায় না।
ফ্রান্স আজ যে প্রশ্নের মুখোমুখি হয়েছে, তা শুধু ফরাসিদের প্রশ্ন নয়। বিশ্বের প্রতিটি গণতান্ত্রিক সমাজের জন্য এটি একটি সতর্কবার্তা:
কীভাবে রাষ্ট্র নাগরিকের প্রতিবাদের অধিকার রক্ষা করবে এবং একই সঙ্গে সেই অধিকারকে সহিংস নৈরাজ্যে পরিণত হওয়া থেকে রক্ষা করবে—আগামী দিনের গণতন্ত্রের বড় পরীক্ষা সম্ভবত এখানেই।
ফ্রান্স দ্রুত শান্তি ও স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরে আসুক—এটি শুধু ফরাসি জনগণের জন্য নয়, গোটা বিশ্বের জন্যই প্রত্যাশিত। কারণ একটি শহরের ভাঙা কাচ বা পোড়া গাড়ি পুনর্নির্মাণ করা সম্ভব; কিন্তু নাগরিকদের মধ্যে আইন, সহনশীলতা ও পারস্পরিক আস্থার সংস্কৃতি ভেঙে গেলে তা পুনর্গঠন করতে অনেক বেশি সময় লাগে।
সভ্যতা টিকে থাকে শুধু তার স্থাপত্যে নয়; টিকে থাকে তার নাগরিকদের দায়িত্ববোধ, আইনের প্রতি শ্রদ্ধা এবং মতভিন্নতার মধ্যেও শান্তিপূর্ণ সহাবস্থানের সক্ষমতায়।
সম্পাদনা-নোট: প্রতিবেদনটিতে ইচ্ছাকৃতভাবে “ফ্রান্সের ২০% মুসলিম”, “ইসলামী মৌলবাদীদের হাতে আন্দোলনের নিয়ন্ত্রণ” এবং “আন্তর্জাতিক বামপন্থী ষড়যন্ত্র”কে প্রতিষ্ঠিত সত্য হিসেবে রাখা হয়নি—কারণ বর্তমান নির্ভরযোগ্য উৎসে এগুলোর পক্ষে পর্যাপ্ত প্রমাণ নেই। বরং INSEE, Reuters, AP, Al Jazeera, Le Monde ও
অন্যান্য সাম্প্রতিক উৎসের তথ্য দিয়ে বিষয়টিকে এমনভাবে সাজানো হয়েছে।