শনিবার, ২৪ অক্টোবর ২০২৬, ০৫:৪৪ পূর্বাহ্ন
Title :
কেরানীগঞ্জে যুব মহিলা লীগ নেত্রীর রক্তাক্ত মরদেহ উদ্ধার নিজ ফ্ল্যাটে গলা ও শরীরে ধারালো অস্ত্রের আঘাত, রহস্য উদঘাটনে পুলিশের তদন্ত দীর্ঘ অবকাশ শেষে সুপ্রিম কোর্টে নিয়মিত বিচারিক কার্যক্রম শুরু ২৫ অক্টোবর বিজ্ঞ আইনজীবীদের জন্য শনিবার খোলা থাকবে অ্যাটর্নি-জেনারেলের কার্যালয় পাহাড়ের সৌন্দর্যের আড়ালে নিরাপত্তার নেপথ্য প্রহরা বর্ডার পার হওয়ার আগে অবশ্যই পোর্ট ট্যাক্স ও ভ্রমণ কর সঙ্গে রাখবেন সেনাপ্রধানের সেন্ট মার্টিন সফর ঘিরে প্রশ্ন, গভীর সমুদ্রে যাওয়ার খবরের স্বাধীন যাচাই হয়নি চীনা কোম্পানির আনুষ্ঠানিক প্রস্তাব: তিন দশকের ফাইলবন্দি খানজাহান আলী বিমানবন্দর প্রকল্পে নতুন গতি ফ্রান্সের অস্থিরতা: গণতান্ত্রিক প্রতিবাদ কোথায় শেষ, নৈরাজ্য কোথায় শুরু? সৌরবিদ্যুৎ সুরক্ষায় কঠোর শাস্তির বিধান রেখে অধ্যাদেশ জারি: চুরি ও নাশকতায় কারাদণ্ড-অর্থদণ্ড আশুলিয়ায় মরদেহ পোড়ানোর মামলা: রাজসাক্ষী হওয়ায় ক্ষমা পেয়ে কারামুক্ত সাবেক এসআই আবজালুল স্থানীয় সরকার নির্বাচন সামনে রেখে ইসির সময়সূচি জারি নতুন ভোটার অন্তর্ভুক্তি ও এলাকা পরিবর্তনের আবেদন ৩১ অক্টোবর পর্যন্ত

বাংলাদেশের বিচার ব্যবস্থায় সুপ্রিম কোর্ট, আইনজীবী সম্প্রদায়ের জরুরি সংস্কারের প্রয়োজন

  • প্রকাশিত: শুক্রবার, ২৪ জুলাই, ২০২৬
  • ১৭৫ বার পড়া হয়েছে

বাংলাদেশের বিচার ব্যবস্থায় সুপ্রিম কোর্ট, আইনজীবী
সম্প্রদায়ের জরুরি সংস্কারের প্রয়োজন
বিশেষ প্রতিবেদন,আদালত বার্তাঃ ২৪ জুলাই ২০২৬
একটি দেশের আদালত তার জনগণের ন্যায়বিচারের রক্ষাকবচ। এটি অদৃশ্য রুহের মতো, যা সমাজের সকল কার্যক্রমকে নিয়ন্ত্রণ করে। প্রায় ১৯ বছরের আইন পেশায় অভিজ্ঞতাসম্পন্ন একজন আইনজীবী (যার মধ্যে প্রায় ১০ বছর সুপ্রিম কোর্টে এবং রাষ্ট্রপক্ষে প্রায় ২ বছর) তাঁর ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতা, ঐতিহাসিক পর্যবেক্ষণ ও ভবিষ্যৎমুখী প্রস্তাব নিয়ে তিন তার ভেরিফাইড ফেইস বুক পোস্টে যে লেখাটি তুলে ধরেছেন, তা বিশ্লেষণ করে দেখা যায়—বাংলাদেশের বিচার ব্যবস্থায় উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি হলেও মামলাজট, অবকাঠামোগত সীমাবদ্ধতা, ভাষাগত বাধা ও প্রশিক্ষণের অভাব এখনও বড় চ্যালেঞ্জ।
ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট
১৯৪৭ সালে স্বাধীন পাকিস্তান প্রতিষ্ঠার সময় ফেডারেল কোর্ট অব পাকিস্তান ছিল সর্বোচ্চ আদালত। পূর্ববাংলায় হাইকোর্ট গঠিত হয়েছিল, কিন্তু বিচারক ও আইনজীবীদের অধিকাংশই ছিলেন অভিজ্ঞতাহীন বা ধার করা। ১৯৭২ সালের সংবিধানের ৯৪ অনুচ্ছেদ অনুসারে বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্ট প্রতিষ্ঠিত হয়—যার দুটি বিভাগ: আপিলেট ডিভিশন ও হাইকোর্ট ডিভিশন।
স্বাধীনতার পর আদালতের ভাষা ছিল ইংরেজি, যা সাধারণ কৃষক-শ্রমিকের কাছে দুর্বোধ্য ছিল। ২০২৩ সালে সাবেক প্রধান বিচারপতি সৈয়দ মাহমুদ হোসেনের নেতৃত্বে বাংলায় রায় ও আইনি দলিল প্রস্তুতিতে গুরুত্ব দেওয়া হয়। বাংলা ভাষা বাস্তবায়ন আইন ১৯৮৭ অনুসারে নিম্ন আদালতে বাংলা ব্যবহার বাধ্যতামূলক, কিন্তু উচ্চ আদালতে এখনও ইংরেজির প্রভাব রয়েছে।
বর্তমান অবস্থা ও চ্যালেঞ্জ
বর্তমানে বাংলাদেশ বার কাউন্সিলের তথ্য অনুসারে আইনজীবীর সংখ্যা প্রায় ৮০ হাজারের কাছাকাছি এবং সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতিতে প্রায় ১৭ হাজার সদস্য। আগামী দশকে এ সংখ্যা ১ লাখ ৩০ হাজার ছাড়িয়ে যেতে পারে। আপিলেট ডিভিশনে আইনজীবী প্রায় ৭০০ জনের বেশি হলেও পর্যাপ্ত বেঞ্চের অভাবে মামলাজট তীব্র।
নিম্ন আদালতে দেওয়ানি, ফৌজদারি, অর্থঋণ, ভ্যাট-কাস্টমস, নারী-শিশু ট্রাইব্যুনালসহ বিভিন্ন বিশেষায়িত আদালত গড়ে উঠেছে। জনসংখ্যা বৃদ্ধির (১৯৭২ সালে প্রায় ৭ কোটি থেকে বর্তমানে প্রায় ১৭-২০ কোটি) সঙ্গে তাল মিলিয়ে আদালতের সংখ্যা বাড়ানো জরুরি।
প্রধান সমস্যা:
সুপ্রিম কোর্টে আইনজীবীদের বসার স্থান ও লাউঞ্জের অভাব।
নতুন আইনজীবীদের মধ্যে প্রশিক্ষণের ঘাটতি।
বিচারক-আইনজীবীদের মধ্যে পেশাদারি সম্পর্কের উন্নয়ন প্রয়োজন।
উচ্চ আদালতে বাংলা ভাষার ব্যবহার আরও বৃদ্ধি করা।
প্রস্তাবিত সংস্কার
১. আপিলেট ডিভিশনের সম্প্রসারণ: ১২ জন বিচারক দিয়ে অন্তত ৪টি বেঞ্চ গঠন করে মামলা দ্রুত নিষ্পত্তি করা। সিনিয়র আইনজীবীদের (যেমন শিশির মনির) এই দাবির সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে অবকাঠামো উন্নয়ন করা।
২. আইনজীবী সমিতির পুনর্গঠন: সুপ্রিম কোর্ট ও হাইকোর্ট আইনজীবী সমিতিকে আলাদা করা। এতে প্রতিযোগিতা বাড়বে এবং মেধাবী আইনজীবীরা আপিলেট ডিভিশনে আগ্রহী হবেন।
৩. নিম্ন আদালতের শক্তিশালীকরণ: জেলা দায়রা জজ আদালত জনসংখ্যা অনুপাতে বাড়ানো (মহানগরে আরও বেশি)। ফৌজদারি ও দেওয়ানি আদালতের বিশেষায়িত ট্রাইব্যুনালগুলোকে আরও কার্যকর করা।
৪. প্রশিক্ষণ ও ভাষা নীতি: আইনজীবী, বিচারক ও স্টাফদের জন্য নিয়মিত প্রশিক্ষণ কর্মসূচি চালু করা। সর্বস্তরে বাংলা ভাষার পূর্ণাঙ্গ ব্যবহার নিশ্চিত করা।
৫. অবকাঠামো উন্নয়ন: সুপ্রিম কোর্টে কমপক্ষে ৫টি লাউঞ্জসহ আধুনিক সুবিধা প্রদান এবং আইনজীবীদের বসার জন্য বর্তমানে যে সমস্ত বিল্ডং আছে তা ভেঙে হাইরেজ বিল্ড তৈরি করা।
বিচারক-আইনজীবীদের মধ্যে সুস্থ ঘনিষ্ঠতা বজায় রেখে আইনের সঠিক প্রয়োগ নিশ্চিত করা।
রাষ্ট্রের আইন এমনভাবে প্রয়োগ করতে হবে যাতে কেউ অপরাধ করে ছাড় না পায়, আবার ন্যায়বিচারও ব্যাহত না হয়। মানবিকতা, প্রশিক্ষণ ও অবকাঠামোগত উন্নয়নের মাধ্যমে বিচার ব্যবস্থাকে আরও জনবান্ধব করা সম্ভব। সরকার, বিচার বিভাগ ও আইনজীবী সম্প্রদায়ের সম্মিলিত উদ্যোগে এই সংস্কার বাস্তবায়িত হলে বাংলাদেশের গণতন্ত্র আরও সুদৃঢ় হবে।

আরো সংবাদ পড়ুন
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত
ওয়েবসাইট ডিজাইন : ইয়োলো হোস্ট