
আদালত বার্তা ডেস্ক
ঢাকা | ২৯ অক্টোবর ২০২৬
ই-পারিবারিক আপিল আদালতের উদ্বোধন; কর্মঘণ্টা মেনে চলা ও প্রযুক্তিগত দক্ষতা বৃদ্ধির আহ্বান
আদালতের নির্ধারিত কর্মঘণ্টা ফাঁকি দিয়ে মাত্র দুই-তিন ঘণ্টা এজলাসে বসার প্রবণতার বিরুদ্ধে বিচারকদের কড়া সতর্কবার্তা দিয়েছেন আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান। স্পষ্ট ভাষায় তিনি জানিয়েছেন, “অনেক বিচারক বেলা ১১টায় আদালতে আসেন এবং দেড়টা-দুইটার মধ্যে কাজ শেষ করে চলে যান—এ ধরনের কর্মকাণ্ড কোনোভাবেই চলতে দেওয়া হবে না।”
বৃহস্পতিবার ঢাকার চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট (সিএমএম) আদালতের কনফারেন্স রুমে দেশের প্রথম ‘ই-পারিবারিক আপিল আদালত’-এর আনুষ্ঠানিক উদ্বোধনকালে প্রধান অতিথির বক্তব্যে মন্ত্রী এ হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেন। বেলা সাড়ে ১১টায় তিনি নতুন এ ডিজিটাল বিচারসেবার উদ্বোধন ঘোষণা করেন।
কর্মঘণ্টা না মানা বিচার বিভাগীয় কর্মকর্তাদের প্রতি ইঙ্গিত করে আইনমন্ত্রী বলেন, “কোনো কোনো জায়গা থেকে অভিযোগ আসছে, কেউ কেউ মাত্র দুই-তিন ঘণ্টা কোর্ট পরিচালনা করেন। যারা বিচার বিভাগে থেকে আয়েশি জীবন কাটাতে চান, তাদের জন্য আমরা অন্য ব্যবস্থা করতে পারি—যেখানে বসে তারা আয়েশ করেই চাকরি করতে পারবেন।”
বিচারকদের পেশাগত দায়বদ্ধতার ওপর জোর দিয়ে তিনি বলেন, বিচার বিভাগকে সাধারণ মানুষের প্রকৃত আস্থা ও ভরসার কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত করতে হবে। তরুণ বিচারকদের প্রশংসা করে তিনি যোগ করেন, “আমাদের তরুণ বিচারকেরা অত্যন্ত দক্ষ ও স্মার্ট। তাদের আধুনিক যুগের গতির সঙ্গে তাল মিলিয়ে চলতে হবে। বর্তমান সময়ের বড় চ্যালেঞ্জ হলো কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) ও ডিজিটাল প্রযুক্তি। এই চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় প্রযুক্তিগত দক্ষতায় আমাদের আরও এগিয়ে যেতে হবে।”
দেশে বিচারাধীন মামলার জট প্রসঙ্গে মন্ত্রী উল্লেখ করেন, বর্তমানে সারা দেশে ৪৬ লাখেরও বেশি মামলা চলমান। এই বিশাল মামলার বোঝা দ্রুত নিষ্পত্তি করতে গিয়ে বিচারকদের ওপর মানবিক সীমার অতিরিক্ত চাপ পড়ছে। সরকার বিচারকদের এই চাপ লাঘবে পদ্ধতিগত সংস্কারে আন্তরিকভাবে কাজ করছে।
বিচার বিভাগে আধুনিকায়নের চিত্র তুলে ধরে আইনমন্ত্রী বলেন, সাধারণ বিচারপ্রার্থী মানুষের ভোগান্তি কমাতে ইতোমধ্যে ই-বেইল বন্ড চালু করা হয়েছে এবং ডিজিটালি সাক্ষ্য গ্রহণ ও হাজিরা দেওয়ার সুবিধা কার্যকর হয়েছে। ভবিষ্যতে বিচার কার্যক্রম আরও গতিশীল করতে উন্নত প্রযুক্তির সংযোগ ঘটানো হবে।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন আইন ও বিচার বিভাগের সচিব লিয়াকত আলী মোল্লা, বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের রেজিস্ট্রার জেনারেল মোহাম্মদ হাবিবুর রহমান সিদ্দিকী, ঢাকার জেলা ও দায়রা জজ মো. রফিকুল ইসলাম, ঢাকা মহানগর দায়রা জজ মো. শাহজাহান কবীর এবং ঢাকা আইনজীবী সমিতির সভাপতি আনোয়ার জাহিদ ভূঁইয়া। এছাড়াও ঢাকায় কর্মরত বিভিন্ন পর্যায়ের বিচারকবৃন্দ অনুষ্ঠানে অংশ নেন।
ই-পারিবারিক আপিল আদালত সম্পর্কে:
বিচারপ্রক্রিয়াকে স্বচ্ছ, দুর্নীতিমুক্ত ও কাগুজে নথিমুক্ত করতে দেশে প্রথমবারের মতো চালু হলো এই ই-পারিবারিক আপিল আদালত। এর আগে গত বছরের শেষভাগে ঢাকা ও চট্টগ্রামে পাইলট প্রকল্প হিসেবে দুটি ই-পারিবারিক আদালতের কার্যক্রম শুরু হয়েছিল। এই ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে মূলত পাঁচ ধরনের পারিবারিক আইনি বিরোধ নিষ্পত্তি করা হবে—