যুবলীগ নেতার মৃত্যুর ঘটনায় এসপি মাসুদ সহ ৮ জনের বিরুদ্ধে আদালতে এজাহার দাখিল করেছেন মৃত নুরুল আলমের মা নূর জাহান।
নিউজ ডেস্ক আদালত বার্তাঃ২৫ জুন ২০২৬
চট্টগ্রামের সাতকানিয়ায় যুবলীগ নেতা গ্রেফতারের একদিনের মধ্যেই মৃ/ত্যুর ঘটনায় এসপি মাসুদ সহ ৮ জনের বিরুদ্ধে আদালতে এজাহার দাখিল করেছেন ভুক্তভোগী নুরুল আলমের মা নূর জাহান।
এজাহারে উল্লেখ করা হয়, গত ২২/০৬/২০২৬ তারিখ ৭-৮ সদস্যদের একটি পুলিশ টিম যুবলীগ নেতাকে গ্রেফতারের উদ্দেশ্যে বাসায় আসে। মৃত নুরুল আলমের মা নূর জাহান পুলিশের উদ্দেশ্যে জিজ্ঞেস করেন, মৃত নুরুল আলমের বিরুদ্ধে কোনো মামলা আছে কি-না।
ভুক্তভোগী নুরুল আলমের মা-এর ভাষ্য অনুযায়ী এই সময় ওসি পরিচয় দেওয়া নুরুল আলম ও জাহাঙ্গীর আলম নামের দুইজন পুলিশ সদস্য মৃত যুবলীগ নেতার পেট ও বুকে লাথি মারতে থাকে,মুখে ঘুষি মারার পাশাপাশি টেনেহিঁচড়ে নিয়ে যেতে চাইছিলেন।
এসময় এসআই আনোয়ার এবং কনস্টেবল ইমদাদ যুবলীগ নেতার বুক বরাবর লাথি মারতে থাকে। ভুক্তভোগীর মা নূর জাহান এসময় পুলিশ সদস্য জাহাঙ্গীরের পা ধরে আকুতি করলেও, জাহাঙ্গীরের মন গলাতে পারে নি। উলটো ফোন কলে জাহাঙ্গীরকে বলতে শোনা যায়, তিনি যুবলীগ নেতা নুরুল আলমকে নিয়ে ২নং গেইট আসছেন।
ভুক্তভোগী নুরুল আলমের মা জাহাঙ্গীর আলমকে জিজ্ঞেস করে কেন তার সন্তানকে ২ং গেইট নিয়ে যাবে? এই সময় জাহাঙ্গীর জানান- এসপি মাসুদ স্যারের নির্দেশে যুবলীগ নেতা নুরুল আলমকে নিয়ে যাওয়া হবে। এরপর মৃত যুবলীগ নেতাকে নিয়ে যাওয়া হয় দুই নং গেইট এসপি মাসুদের অফিসে।
পরদিন কোর্টে চালান দিলে,মায়ের সাথে দেখা হওয়ার পর যুবলীগ নেতা নুরুল আলম জানান, পুলিশ তাকে মারধরের পর তার বুকে ব্যথা অনুভব হচ্ছে। কয়েকদফা বমিও হয়েছে।
কারাগারে যাওয়ার পর অসুস্থ নুরুল আলম কয়েকবার রক্ত বমি করলে, জেলার তাকে জিজ্ঞেস করে কেন বমি করছে। এই সময় যুবলীগ নেতা পুলিশের মারধরের বিবরণ জানালে,স্বয়ং জেলার নিজেই যুবলীগ নেতা নুরুল আলমকে মারধর করে।
এবং একপর্যায়ে মৃত্যুর কোলে লুটিয়ে পড়ে যুবলীগ নেতা নুরুল আলম।
এজাহারে এসপি মাসুদ সহ বাকি অভিযুক্তরা হলেন, ১/ এসপি মাসুদ, ২/ ইনস্পেকটর নুরুল আলম, ৩/
ইনস্পেকটর জাহাঙ্গীর আলম, ৪/ এস আই আনোয়ার, ৫/ ওসি সাতকানিয়া থানা, ৬/ কনস্টেবল ইমদাদ, ৭/ জেলার রাকিব শেখব,৮/ জেল সুপার ইকবাল হোসেন।