সরকারি অফিসে যত্রতত্র পতাকার ব্যবহার: তদন্তে হাইকোর্টের ৩ সদস্যের কমিটি
নিজস্ব প্রতিবেদক, আদালত বার্তা:১৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬
সরকারি ও স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তাদের চেয়ার বা সোফার পেছনে অবৈধভাবে জাতীয় পতাকা প্রদর্শন বন্ধে এবং পতাকার মর্যাদা রক্ষায় তিন সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করে দিয়েছেন হাইকোর্ট।
মঙ্গলবার (১৫ সেপ্টেম্বর) বিচারপতি আহমেদ সোহেল ও বিচারপতি এস এম ইফতেখার উদ্দিন মাহামুদের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ এক লিখিত আদেশে এই কমিটি গঠন করেন।
কমিটির গঠন ও কার্যপরিধি
আদালতের নির্দেশ অনুযায়ী, গঠিত এই কমিটিতে সদস্য হিসেবে থাকবেন:
এই কমিটি সরকারি দপ্তর ও আইন দ্বারা প্রতিষ্ঠিত সংস্থাগুলোতে কর্মকর্তাদের ব্যবহৃত চেয়ার ও সোফার পেছনে জাতীয় পতাকা প্রদর্শন 'বাংলাদেশ জাতীয় সংগীত, পতাকা ও প্রতীক আদেশ, ১৯৭২' এবং 'গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের পতাকা বিধিমালা, ১৯৭২'-এর বিধিবিধানের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ কি না, তা তদন্ত করবে। আগামী ৬০ দিনের মধ্যে আদালতে এই প্রতিবেদন জমা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
আদালতের কঠোর নির্দেশনা
হাইকোর্ট তার আদেশে স্পষ্ট করেছেন যে, যেসব সরকারি কর্মচারী আইনগতভাবে জাতীয় পতাকা ব্যবহারের যোগ্য বা অধিকারী নন, তাদের অফিস কক্ষে চেয়ার বা সোফার পেছনে পতাকা প্রদর্শন, ঝোলানো বা উত্তোলন থেকে সম্পূর্ণ বিরত থাকতে হবে। এছাড়া জাতীয় পতাকাকে কোনোভাবেই অভ্যন্তরীণ সাজসজ্জার সামগ্রী, অফিসের অলংকার কিংবা ব্যক্তিগত ব্যাকড্রপ হিসেবে ব্যবহার করা যাবে না।
প্রেক্ষাপট ও আইনি দিক
এর আগে গত ২৫ আগস্ট সরকারি ও স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের আইনবহির্ভূতভাবে পতাকা প্রদর্শন থেকে বিরত থাকার নির্দেশনা দিয়ে রুল জারি করেছিলেন হাইকোর্ট। জনস্বার্থে রিটটি দায়ের করেন আইনজীবী শরিফ সরকার। আদালতে রিটের পক্ষে শুনানি করেন ব্যারিস্টার এইচ এম সানজিদ সিদ্দিকী।
শুনানিতে ব্যারিস্টার সানজিদ সিদ্দিকী উল্লেখ করেন,
‘জাতীয় পতাকা বিধিমালা, ১৯৭২’ অনুযায়ী কেবল ১৫ ক্যাটাগরির বিশিষ্ট ব্যক্তি তাদের দপ্তরে, বাসস্থানে এবং গাড়িতে জাতীয় পতাকা ব্যবহারের অধিকারী। কিন্তু বর্তমানে সচিবালয়ের অধীনস্থ বিভিন্ন অফিস, কর্পোরেশন ও অথরিটির কর্মকর্তারা তাদের চেয়ারের পেছনে সার্বক্ষণিকভাবে পতাকা প্রদর্শন করছেন, যার কোনো আইনি ভিত্তি নেই।