সাতাত্তর বছরে আওয়ামী লীগ: নিষেধাজ্ঞা, সংকট ও পুনর্গঠনের চ্যালেঞ্জ
নিজস্ব প্রতিবেদক,আদালত বার্তাঃ২৩ জুন ২০২৬
বাংলাদেশের অন্যতম প্রাচীন ও ঐতিহ্যবাহী রাজনৈতিক দল আওয়ামী লীগ তাদের প্রতিষ্ঠার ৭৭ বছর পূর্ণ করেছে এক গভীর রাজনৈতিক সংকটের মধ্য দিয়ে। দীর্ঘ সময় ক্ষমতায় থাকার পর ২০২৪ সালের গণ-অভ্যুত্থানের মাধ্যমে সরকারের পতন এবং পরবর্তী সময়ে দলীয় কার্যক্রম নিষিদ্ধ হওয়ায় দলটি বর্তমানে ইতিহাসের অন্যতম কঠিন সময় অতিক্রম করছে।
বর্তমানে দেশে আওয়ামী লীগের রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড প্রায় দুই বছর ধরে নিষিদ্ধ। ফলে সরাসরি রাজনৈতিক কর্মসূচি পরিচালনায় অক্ষম দলটি সীমিত পরিসরে ঝটিকা মিছিল এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সক্রিয়তার মাধ্যমে নিজেদের উপস্থিতি জানান দেওয়ার চেষ্টা করছে। তবে এসব কার্যক্রমের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে বাড়ছে দলীয় নেতাকর্মীদের গ্রেফতারও।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, প্রতিষ্ঠার পর থেকে এই প্রথমবারের মতো আওয়ামী লীগ এতটা বিপর্যস্ত অবস্থার মুখোমুখি হয়েছে। অন্তর্বর্তী সরকারের জারি করা অধ্যাদেশের মাধ্যমে সন্ত্রাসবিরোধী আইনের আওতায় দলটির সকল কার্যক্রম নিষিদ্ধ করা হয়। পরবর্তীতে নির্বাচনের মাধ্যমে গঠিত বিএনপি নেতৃত্বাধীন সরকার জাতীয় সংসদে সেই নিষেধাজ্ঞা বহাল রাখে।
এমন পরিস্থিতিতে দলটির প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী ঘিরেও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে বিশেষ সতর্কতা জারি করা হয়েছে, যা রাজনৈতিক অঙ্গনে দলটির সীমাবদ্ধ অবস্থানকে আরও স্পষ্ট করে তুলেছে।
তবে নিষেধাজ্ঞার মধ্যেও আওয়ামী লীগের তৃণমূল নেতাকর্মীদের মাঝে কিছুটা তৎপরতা লক্ষ্য করা যাচ্ছে। রাজধানী ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে হঠাৎ মিছিল এবং সংগঠিত হওয়ার চেষ্টা অব্যাহত রয়েছে। পাশাপাশি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দলটির সমর্থকদের সরব উপস্থিতিও চোখে পড়ছে।
দলটির নেতাদের দাবি, এসব দৃশ্যমান কার্যক্রম তাদের সামগ্রিক সাংগঠনিক কার্যক্রমের একটি ক্ষুদ্র অংশ মাত্র। দ্বাদশ জাতীয় সংসদের সাবেক সংসদ সদস্য বিপ্লব হাসান পলাশের ভাষ্য অনুযায়ী, দলের কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব এখনো সারাদেশের নেতাকর্মীদের সঙ্গে যোগাযোগ রক্ষা করছে এবং দিকনির্দেশনা দিচ্ছে।
তিনি আরও জানান, দলের অনেক শীর্ষ নেতা বর্তমানে কারাগারে অথবা দেশের বাইরে অবস্থান করায় নতুন করে ‘চেইন অব কমান্ড’ পুনর্গঠন করা হচ্ছে। শূন্যস্থান পূরণে নতুন নেতৃত্ব তৈরি এবং সাংগঠনিক কাঠামো পুনর্বিন্যাসের কাজ চলছে।
“দেশের বিভিন্ন স্থানে দায়িত্ব পুনর্বণ্টন করা হচ্ছে। আন্দোলনের মাধ্যমে জনগণের অধিকার প্রতিষ্ঠা এবং দলের শীর্ষ নেত্রীকে দেশে ফিরিয়ে আনার লক্ষ্যে আওয়ামী লীগ কাজ করে যাচ্ছে,” বলেন তিনি।
অন্যদিকে বিশ্লেষকদের মতে, ২০২৪ সালের গণ-অভ্যুত্থানকে কেন্দ্র করে আওয়ামী লীগের পূর্ববর্তী
শাসনামলের কর্মকাণ্ড নিয়ে দলটির ভেতরে এখনো দৃশ্যমান কোনো আত্মসমালোচনা বা অনুশোচনা দেখা যায়নি। এই অবস্থান ভবিষ্যতে মূলধারার রাজনীতিতে ফিরে আসা এবং জনসমর্থন পুনরুদ্ধারের পথে বড় বাধা হয়ে দাঁড়াতে পারে।
সামগ্রিকভাবে, সীমিত অফলাইন কার্যক্রম এবং অনলাইন নির্ভরতায় আওয়ামী লীগ কতটা রাজনৈতিক সুবিধা অর্জন করতে পারবে, তা নিয়ে রাজনৈতিক মহলে নানা প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। নিষেধাজ্ঞা, নেতৃত্ব সংকট এবং জনসমর্থনের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করে দলটি কীভাবে পুনরায় ঘুরে দাঁড়াবে—সেটিই এখন সময়ের বড় প্রশ্ন।