আদালত বার্তা ডেস্ক
প্রকাশ: ৮ নভেম্বর ২০২৬
কক্সবাজারের মহেশখালীতে সামিট এলএনজি টার্মিনালের জরুরি রক্ষণাবেক্ষণ কাজ শেষে প্রায় চার দিন পর আবারও জাতীয় গ্রিডে গ্যাস সরবরাহ শুরু হয়েছে। শনিবার (৭ নভেম্বর) দুপুর ১টা থেকে টার্মিনালটিতে আমদানি করা তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) পুনরায় গ্যাসে রূপান্তরের কার্যক্রম শুরু হয়।
পেট্রোবাংলা জানিয়েছে, রক্ষণাবেক্ষণ কার্যক্রম সম্পন্ন হওয়ায় মহেশখালীর দুটি এলএনজি টার্মিনাল থেকেই আগের মতো জাতীয় গ্রিডে গ্যাস সরবরাহ করা হচ্ছে। একই সঙ্গে রক্ষণাবেক্ষণকালীন সময়ে সহযোগিতা করায় গ্রাহকদের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়েছে সংস্থাটি।
এর আগে সামিট এলএনজি টার্মিনালে জরুরি রক্ষণাবেক্ষণের কারণে ৪ নভেম্বর সকাল ৮টা থেকে ৭ নভেম্বর বিকেল ৪টা পর্যন্ত গ্যাস রিগ্যাসিফিকেশন কার্যক্রম বন্ধ রাখার ঘোষণা দিয়েছিল পেট্রোবাংলা।
রক্ষণাবেক্ষণ চলাকালে জাতীয় গ্রিডে গ্যাস সরবরাহ দৈনিক প্রায় ২ হাজার ৫৭০ মিলিয়ন ঘনফুট থেকে কমে ২ হাজার ২৫০ মিলিয়ন ঘনফুটে নেমে আসতে পারে বলে পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছিল। ফলে দেশের বিভিন্ন এলাকায় গ্যাসের চাপ সাময়িকভাবে কমে যাওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছিল।
তবে রক্ষণাবেক্ষণ শুরুর আগে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ‘চার দিন সারা দেশে গ্যাস সরবরাহ বন্ধ থাকবে’—এমন খবর ছড়িয়ে পড়লে সেটিকে গুজব বলে স্পষ্ট করেছিল পেট্রোবাংলা। সংস্থাটি জানিয়েছিল, রক্ষণাবেক্ষণের কারণে সার্বিকভাবে গ্যাস সরবরাহ বন্ধ হবে না; তবে কোনো কোনো এলাকায় সাময়িকভাবে গ্যাসের চাপ কম থাকতে পারে।
দেশে আমদানি করা এলএনজি জাতীয় গ্রিডে সরবরাহের জন্য কক্সবাজারের মহেশখালীতে দুটি ভাসমান স্টোরেজ ও রিগ্যাসিফিকেশন ইউনিট (এফএসআরইউ) রয়েছে। এর একটি পরিচালনা করছে সামিট গ্রুপ এবং অন্যটি পরিচালনা করছে যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক প্রতিষ্ঠান এক্সিলারেট এনার্জি।
সামিটের টার্মিনাল থেকে দৈনিক সর্বোচ্চ প্রায় ৫০০ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস জাতীয় গ্রিডে সরবরাহের সক্ষমতা রয়েছে। অন্যদিকে এক্সিলারেট এনার্জির টার্মিনালের সক্ষমতা প্রায় ৬০০ মিলিয়ন ঘনফুট।
এই দুটি টার্মিনাল দেশের আমদানি করা এলএনজি সরবরাহ ব্যবস্থায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। ফলে কোনো একটি টার্মিনালে রক্ষণাবেক্ষণ বা কারিগরি সমস্যার কারণে সরবরাহ কমে গেলে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে গ্যাসের চাপের ওপর তার প্রভাব পড়তে পারে।
সামিট টার্মিনালের রক্ষণাবেক্ষণ কার্যক্রম শেষ হওয়ায় এখন দুটি টার্মিনাল থেকেই স্বাভাবিকভাবে জাতীয় গ্রিডে
গ্যাস সরবরাহ অব্যাহত রয়েছে বলে জানিয়েছে পেট্রোবাংলা।