
হবিগঞ্জে নাসীরুদ্দীন, সারজিসসহ ৫০ জনের বিরুদ্ধে ছাত্রদলের হত্যাচেষ্টা মামলা
নিউজ ডেস্ক আদালত বার্তা ৩১ জুলাই ২০২৬
হবিগঞ্জে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) কেন্দ্রীয় মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী, উত্তরাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক সারজিস আলমসহ ৫০ জনের বিরুদ্ধে হত্যাচেষ্টা, হামলা, ভাঙচুর ও ছিনতাইয়ের অভিযোগে মামলা হয়েছে। গতকাল বৃহস্পতিবার রাতে হবিগঞ্জ সদর মডেল থানায় মামলাটি করেন জেলা ছাত্রদলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ইকবাল হোসেন রুকন।
মামলায় ১০ জনের নাম উল্লেখ করা হয়েছে। বাকি ৪০ জনকে অজ্ঞাতনামা আসামি করা হয়েছে। এজাহার সূত্রে জানা যায়, ২৮ জুলাই বিকেলে হবিগঞ্জ পৌরসভার কোর্ট মসজিদ এলাকায় এনসিপি ও ছাত্রদলের নেতা-কর্মীদের মধ্যে দফায় দফায় সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এ সময় দেশি অস্ত্র নিয়ে ছাত্রদলের নেতা-কর্মীদের ওপর হামলা চালানো হয় বলে অভিযোগ করা হয়েছে। হামলায় জেলা ছাত্রদলের নেতা মাহফুজ চৌধুরী, মোজাক্কির হোসেন ইমনসহ কয়েকজন আহত হন। তাঁদের রড, রামদা, বল্লম ও ইট দিয়ে আঘাত করা হয়েছে বলে অভিযোগ করা হয়েছে।
এ ছাড়া সংঘর্ষের সময় বাদীসহ পাঁচজনের মুঠোফোন ও একজনের কাছ থেকে ৫০ হাজার টাকা ছিনিয়ে নেওয়ার অভিযোগও রয়েছে। পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছালে অভিযুক্ত ব্যক্তিরা চলে যান এবং আহত ব্যক্তিদের হবিগঞ্জ সদর আধুনিক হাসপাতালে ভর্তি করা হয় বলে এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে।
বাদীর ভাষ্য, কেন্দ্রীয় কর্মসূচির অংশ হিসেবে জুলাই আন্দোলনের শহীদ রিপন শীলের পরিবারের সঙ্গে সাক্ষাৎ ও শোকসভায় অংশ নিতে ছাত্রদলের নেতা-কর্মীরা সেখানে জড়ো হয়েছিলেন। এ সময় নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী, সারজিস আলম, আবু হেনা মোস্তফা কামাল, মাহবুবুল বারী চৌধুরী মুবিনসহ ৪০ থেকে ৫০ জনের একটি দল তাঁদের ওপর হামলা চালায়।
মামলায় নাম উল্লেখ করা আসামিরা হলেন এনসিপির কেন্দ্রীয় মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী, উত্তরাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক সারজিস আলম, হবিগঞ্জ জেলা জাতীয় শক্তির আহ্বায়ক নুর আলম চৌধুরী, জেলা কমিটির সদস্য ফখরুল জাকির, আবদুল হাই কামাল, রুহাম গাজী, সদস্যসচিব মাহবুবুল বারী চৌধুরী মুবিন, কেন্দ্রীয় সমন্বয়ক নাহিদ উদ্দিন তারেক, জেলা আহ্বায়ক আবু হেনা মোস্তফা কামাল ও জেলা কমিটির সদস্য ওয়াদুদ মাহমুদ চৌধুরী।
এর আগে একই ঘটনাকে কেন্দ্র করে ছাত্রদলের নেতা-কর্মীদের বিরুদ্ধে মামলা করে এনসিপি। ওই মামলায় জেলা ছাত্রদলের সভাপতিসহ ১১ জনের নাম উল্লেখ করে অজ্ঞাতনামা আরও ১০০ জনকে আসামি করা হয়।
এনসিপির দাবি, ২৮ জুলাই পদযাত্রা ও পথসভা শেষে সার্কিট হাউসে ফেরার পথে ছাত্রদলের হামলায় সারজিস আলমসহ অন্তত ১৫ জন নেতা-কর্মী আহত হন। তাঁদের একজন একটি চোখের দৃষ্টিশক্তি হারিয়েছেন বলেও দলটির দাবি। একই ঘটনায় কয়েকটি সংবাদমাধ্যমের গাড়ি ভাঙচুরের অভিযোগও করেছে এনসিপি।
হবিগঞ্জ সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি)
জাহিদুল হক জানান, অভিযোগের বিষয়ে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তবে এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত কাউকে গ্রেপ্তার করা হয়নি।