১৫ দিনে একবার দেখা: অতিরিক্ত বন্দীতে লালমনিরহাট কারাগারে স্বজনদের চরম দুর্ভোগ
নিউজ ডেস্ক, আদালত বার্তাঃ১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬
লালমনিরহাট জেলা কারাগারে ধারণক্ষমতার চেয়ে অতিরিক্ত বন্দী থাকায় চরম দুর্ভোগে পড়েছেন বন্দীদের স্বজনেরা। বিশেষ করে দীর্ঘ ১৫ দিন পরপর সাক্ষাতের সুযোগ এবং উপচে পড়া ভিড়ের কারণে এই দুর্ভোগ চরমে পৌঁছেছে। সাক্ষাৎ-বঞ্চিত স্বজনদের ক্ষোভ ও আহাজারি জনমনেও উদ্বেগের সৃষ্টি করেছে।
দেশের অন্যান্য কারাগারের মতো লালমনিরহাট জেলা কারাগারেও ধারণক্ষমতার চেয়ে বেশি বন্দী অবস্থান করছে। ফলে কারা বিধিমালা মেনে বন্দীদের সঙ্গে দেখা করতে আসা সাধারণ মানুষ চরম ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন। দূর-দূরান্ত থেকে আসা স্বজনদের দীর্ঘ সময় লাইনে দাঁড়িয়ে অপেক্ষা করতে হয়। এমনকি কঠোর নিয়ম ও অতিরিক্ত ভিড়ের কারণে অনেকেই প্রিয়জনের দেখা না পেয়েই হতাশ হয়ে ফিরে যেতে বাধ্য হন।
কারা বিধিমালা ও সাক্ষাতের বর্তমান নিয়ম
জেলা কারাগার ও কারা অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে সাক্ষাতের ক্ষেত্রে বেশ কিছু নিয়ম মেনে চলা হচ্ছে:
কর্তৃপক্ষের বক্তব্য ও নতুন উদ্যোগ
সার্বিক বিষয়ে লালমনিরহাট জেলা কারাগারের জেলার জামাল হোসাইন বলেন, "কারাগারের যেকোনো অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি এড়াতে এবং শৃঙ্খলা বজায় রাখতে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও কারা অধিদপ্তর নিয়মিত তদারকি করে থাকে। নিরাপত্তার স্বার্থেই বর্তমান সময়সূচি ও নিয়মকানুন কঠোরভাবে মেনে চলা হচ্ছে। তবে আমরা মানবিক দিকগুলোও বিবেচনা করছি।"
তিনি আরও জানান, বর্তমানে হাজতিরা সপ্তাহে একবার মুঠোফোনের মাধ্যমে পরিবারের সঙ্গে সর্বোচ্চ ১০ মিনিট কথা বলার সুযোগ পাচ্ছেন।
বন্দিজীবনে স্বজনদের সরাসরি দেখার আকুলতা দূর করতে খুব শিগগিরই পাইলট প্রকল্প হিসেবে কারাগারে যুক্ত হচ্ছে ভিডিও কল সুবিধা। কারা কর্তৃপক্ষের এই আধুনিক ও মানবিক উদ্যোগের ফলে নির্দিষ্ট নিয়ম মেনে কয়েদি ও হাজতিরা সপ্তাহে একবার ১০ মিনিট ভিডিও কলে পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে কথা বলতে পারবেন, যা বর্তমানে প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।
এদিকে, ভুক্তভোগী স্বজনরা মানবিক দিক বিবেচনা করে সাক্ষাতের নিয়ম কিছুটা শিথিল করা এবং কারাগারের ধারণক্ষমতা অনুযায়ী বন্দী ব্যবস্থাপনার জোর দাবি জানিয়েছেন।