১৮০ দিনের মধ্যে সংবিধান সংস্কার পরিষদ গঠনের দাবি উদ্বিগ্ন নাগরিকদের যৌথ বিবৃতি
নিউজ ডেস্ক আদালত বার্তাঃ২৭ জুলাই ২০২৭
জুলাই গণঅভ্যুত্থানের অঙ্গীকার বাস্তবায়নে নির্ধারিত ১৮০ দিনের মধ্যে একটি স্বাধীন ও কার্যকর সংবিধান সংস্কার পরিষদ গঠনের দাবি জানিয়েছেন দেশের বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার বিশিষ্ট ব্যক্তিরা। তারা বলেছেন, গণভোটে জনগণ রাষ্ট্র সংস্কারের পক্ষে যে রায় দিয়েছেন, তা বাস্তবায়নে সরকারকে দ্রুত উদ্যোগ নিতে হবে।
শুক্রবার (২৪ জুলাই) ‘উদ্বিগ্ন নাগরিকদের’ ব্যানারে প্রকাশিত এক যৌথ বিবৃতিতে এ দাবি জানানো হয়।
বিবৃতিতে বলা হয়, জুলাই গণঅভ্যুত্থানের পর রাষ্ট্র পুনর্গঠনের যে জনআকাঙ্ক্ষা তৈরি হয়েছে, গণভোটে তারই প্রতিফলন ঘটেছে। বৈধ ভোটের ৬৮ দশমিক ৫৯ শতাংশ রাষ্ট্র সংস্কারের পক্ষে মত দিয়েছে, যা জনগণের রাজনৈতিক সদিচ্ছার সুস্পষ্ট বহিঃপ্রকাশ।
বিবৃতিদাতারা অভিযোগ করেন, গণরায়ের ভিত্তিতে জুলাই সনদে নির্ধারিত ১৮০ দিনের মধ্যে সংবিধান সংস্কার পরিষদ গঠনের অঙ্গীকার থাকলেও সরকার তা বাস্তবায়নের পরিবর্তে বিভিন্ন যুক্তি তুলে ধরে অনিশ্চয়তা সৃষ্টি করছে। এতে রাষ্ট্র সংস্কার প্রক্রিয়া নিয়ে জনমনে উদ্বেগ বাড়ছে।
তারা বলেন, সংবিধান সংস্কারের মতো জাতীয় গুরুত্বপূর্ণ ইস্যুতে সরকার ও বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলোর পরস্পরবিরোধী অবস্থান কাম্য নয়। উভয় পক্ষের বক্তব্যে যৌক্তিকতা থাকলেও গণতান্ত্রিক ব্যবস্থায় জনগণের রায়কেই সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া উচিত।
বাংলাভিশনের গুগল নিউজ ফলো করতে ক্লিক করুন
যৌথ বিবৃতিতে তিন দফা দাবি তুলে ধরা হয়। দাবিগুলো হলো—জুলাই সনদের অঙ্গীকার অনুযায়ী ১৮০ দিনের মধ্যে কার্যকর ও প্রতিনিধিত্বশীল সংবিধান সংস্কার পরিষদ গঠন, গণভোটে জনগণের দেওয়া রাষ্ট্র সংস্কারের রায় পূর্ণাঙ্গভাবে বাস্তবায়ন এবং দলীয় স্বার্থের ঊর্ধ্বে উঠে জনগণের রাজনৈতিক সদিচ্ছার ভিত্তিতে ন্যায়ভিত্তিক, গণতান্ত্রিক ও জবাবদিহিমূলক কল্যাণরাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে সংস্কার কার্যক্রম এগিয়ে নেওয়া।
এছাড়া দেশের রাজনৈতিক দল, নাগরিক সমাজ, পেশাজীবী, ছাত্র-জনতা ও সচেতন নাগরিকদের প্রতি গণভোটের রায়, গণসার্বভৌমত্ব এবং জুলাই গণঅভ্যুত্থানের অর্জন রক্ষায় ঐক্যবদ্ধ থাকার আহ্বান জানানো হয়েছে।
যৌথ বিবৃতিতে জাস্টিস অ্যান্ড ডেমোক্রেসি পার্টির (জেডিপি) আহ্বায়ক নাঈম আহমাদ, কবি ও দার্শনিক মুসা আল হাফিজ, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের সহযোগী অধ্যাপক মোহাম্মদ মোজাম্মেল হক, আইনজীবী, গবেষক, সাংবাদিক, লেখক, রাজনৈতিক বিশ্লেষক, চিকিৎসক, ছাত্রনেতাসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মোট ৪১ জন স্বাক্ষর করেন