বুধবার, ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১১:৫১ পূর্বাহ্ন
Title :
১৮০ দিনে বিচার শেষ না হলেও নারী ও শিশু নির্যাতন মামলা বাতিল হবে না: হাইকোর্ট বাংলাদেশি সাংবাদিকদের জন্য ভারতে বিশেষ প্রশিক্ষণ কোর্স ক্ষমতার ভিত্তি হতে হবে আইন, পেশিশক্তি নয়’: জাতিসংঘ অধিবেশনে আন্তর্জাতিক আইন ও আদালতের নির্দেশ পালনের কড়া তাগিদ মহাসচিবের অ্যাটর্নি জেনারেল কার্যালয় এখন ‘নোট বাণিজ্য’ মুক্ত: রুহুল কুদ্দুস চাঞ্চল্যকর মামলার ডেথ রেফারেন্স নিষ্পত্তিতে গতি: হাইকোর্টের বিশেষ বেঞ্চে ৬৩ দিনে নিষ্পত্তি ২৬ মামলা মার্কিন ‘সেকেন্ডারি নিষেধাজ্ঞা’: ২৩ সেপ্টেম্বর থেকে বিশ্বজুড়ে বন্ধ হচ্ছে সব ইরানি এয়ারলাইন জামিন পেলেও মুক্তি মেলেনি নিষিদ্ধ ছাত্রলীগ নেতার: আদালতে চট্টগ্রাম জেল সুপারের ব্যাখ্যা দাখিল মৃত বাবার পেনশন প্রতিবন্ধী ছেলেকে কেন দেওয়া হবে না: হাইকোর্টের রুল জারি গত ৯ সেপ্টেম্বর স্বাস্থ্যগত কারণে হাইকোর্টে জামিন পেলেন সাবেক সিইসি হাবিবুল আউয়াল মব জাস্টিস ও আমাদের অসুস্থ সমাজ: বিচারহীনতা ও ‘সিলেক্টিভ প্রতিবাদ’-এর সংস্কৃতিতে জিম্মি মানবতা।

১৮০ দিনে বিচার শেষ না হলেও নারী ও শিশু নির্যাতন মামলা বাতিল হবে না: হাইকোর্ট

  • প্রকাশিত: বুধবার, ২৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
  • ১৭ বার পড়া হয়েছে
  • ১৮০ দিনে বিচার শেষ না হলেও নারী ও শিশু নির্যাতন মামলা বাতিল হবে না: হাইকোর্ট
    ১৮০ দিনের সময়সীমা বাধ্যতামূলক নয়, নির্দেশনামূলক—সময় পেরিয়ে গেলেও বিচারিক কার্যক্রম চলবে
    নিউজ ডেস্ক, আদালত বার্তা
    ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬
    নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনের মামলায় নির্ধারিত ১৮০ দিনের মধ্যে বিচার শেষ না হলে শুধু ওই সময়সীমা অতিক্রম করার কারণে মামলার বিচারিক কার্যক্রম বাতিল বা স্থগিত হবে না বলে গুরুত্বপূর্ণ রায় দিয়েছেন হাইকোর্ট।
    আদালত বলেছেন, নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন, ২০০০-এর সংশ্লিষ্ট বিধানে ১৮০ দিনের মধ্যে বিচার শেষ করার যে সময়সীমা নির্ধারণ করা হয়েছে, তা বাধ্যতামূলক নয়; বরং নির্দেশনামূলক। ফলে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে বিচার শেষ না হলেও মামলার বিচারিক কার্যক্রম স্বয়ংক্রিয়ভাবে অকার্যকর হয়ে যাবে না এবং বিচার চালিয়ে যেতে আইনগত কোনো বাধা সৃষ্টি হবে না।
    ‘মো. সাইফুল ইসলাম ওরফে পাভেল বনাম রাষ্ট্র’ মামলায় এই গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত দেন হাইকোর্ট। বিচারপতি কে. এম. কামরুল কাদের এবং বিচারপতি মোহাম্মদ শওকত আলী চৌধুরীর সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ ২০২৩ সালের ৭ জুন রায়টি ঘোষণা করেন। সম্প্রতি রায়ের অনুলিপি সুপ্রিম কোর্টের ওয়েবসাইটে প্রকাশিত হয়েছে।
    ১৮০ দিনের সময়সীমার আইনি ব্যাখ্যা
    রায়ে হাইকোর্ট নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন, ২০০০-এর ২০ ও ৩১ক ধারার বিধান বিশ্লেষণ করেন।
    আদালতের পর্যবেক্ষণ অনুযায়ী, ট্রাইব্যুনাল নির্ধারিত ১৮০ দিনের মধ্যে বিচার শেষ করতে ব্যর্থ হলে তার ফলে মামলার বিচারিক কার্যক্রম বাতিল বা স্থগিত হয়ে যাওয়ার কোনো বিধান আইনে নেই।
    অর্থাৎ, ১৮০ দিনের সময়সীমা মূলত দ্রুত বিচার নিশ্চিত করার জন্য নির্ধারিত একটি আইনগত নির্দেশনা। এই সময়সীমা অতিক্রান্ত হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে মামলা বা বিচারিক কার্যক্রমের আইনগত অস্তিত্ব বিলুপ্ত হবে—এমন কোনো পরিণতি আইন নির্ধারণ করেনি।
    আদালত আরও উল্লেখ করেন, নির্ধারিত সময়ে বিচার শেষ না হলে এর কারণ উল্লেখ করে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে প্রতিবেদন দেওয়ার বিধান রয়েছে। কিন্তু প্রতিবেদন দাখিল না করার কারণে মামলার বিচারিক কার্যক্রম স্বয়ংক্রিয়ভাবে বাতিল হয়ে যাবে—এমন বিধানও আইনে নেই।
    যে মামলাকে কেন্দ্র করে রায়
    মামলার নথি অনুযায়ী, কলেজে যাওয়া-আসার সূত্রে পাভেলের সঙ্গে ইডেন কলেজের এক শিক্ষার্থীর পরিচয় ও ঘনিষ্ঠতা তৈরি হয়। ২০০৭ সালের ৮ জুলাই তাকে একটি বাসায় নিয়ে বিয়ের প্রস্তাব দেওয়ার পর তার ইচ্ছার বিরুদ্ধে ধর্ষণের অভিযোগ ওঠে। পরবর্তীতে একাধিকবার ধর্ষণ এবং জোরপূর্বক গর্ভপাতের অভিযোগও করা হয়।
    এ ঘটনায় ভুক্তভোগীর মা ২০০৮ সালের ২৭ জানুয়ারি রাজধানীর শ্যামপুর থানায় পাভেলসহ কয়েকজনের বিরুদ্ধে মামলা করেন।
    তদন্ত শেষে পুলিশ আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দাখিল করে। পরে মামলাটি ঢাকার ১ নম্বর নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালে বিচারের জন্য পাঠানো হয়। ২০০৮ সালের ২৩ জুলাই আসামি পাভেলের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করা হয়। তবে তিনি নিজেকে নির্দোষ দাবি করে অভিযোগ অস্বীকার করেন।
    ১৮০ দিনের মধ্যে বিচার শেষ না হওয়াকে কেন্দ্র করে রিট
    পরে পাভেল ২০১১ সালের ৮ মে হাইকোর্টে রিট আবেদন করেন।
    তার যুক্তি ছিল, মামলার নথি ২০০৮ সালের ১৩ জুলাই ট্রাইব্যুনালে গ্রহণের পর আইন নির্ধারিত ১৮০ দিনের মধ্যে বিচার শেষ হয়নি। ফলে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন, ২০০০-এর সংশ্লিষ্ট বিধান অনুযায়ী মামলাটির বিচারিক কার্যক্রম আর চলতে পারে না।
    রিটে আরও বলা হয়, নির্ধারিত সময়ের মধ্যে বিচার শেষ না হলে ৩১ক ধারার বিধান অনুযায়ী বিচার বিলম্বের কারণ উল্লেখ করে নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে প্রতিবেদন দেওয়ার কথা। কিন্তু তা করা হয়নি।
    এই যুক্তিতে পাভেল বিচারিক কার্যক্রম স্থগিতের আবেদন করেন। এর পরিপ্রেক্ষিতে হাইকোর্ট মামলার বিচারিক কার্যক্রম প্রথমে তিন মাসের জন্য স্থগিত করেন এবং পরবর্তীতে সেই স্থগিতাদেশ বিভিন্ন সময়ে বর্ধিত করা হয়।
    হাইকোর্টের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত
    পরবর্তীতে মামলার নথি, উভয় পক্ষের বক্তব্য এবং নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন, ২০০০-এর ২০ ও ৩১ক ধারার বিধান বিশ্লেষণ করে হাইকোর্ট রিটের ভিত্তিতে জারি করা রুল খারিজ করে দেন।
    রায়ে আদালত পর্যবেক্ষণ করেন, মামলাটি দীর্ঘদিন ধরে বিচারাধীন না থাকার বিষয়ে রিটকারী আদালতের সামনে সম্পূর্ণ তথ্য উপস্থাপন করেননি। আদালতের ভাষ্য অনুযায়ী, রিটকারী অত্যন্ত সতর্কতার সঙ্গে ২০১০ সালের ৭ নভেম্বরের পরবর্তী আদেশগুলো গোপন করেছিলেন, যা আদালতের দৃষ্টিতে অসৎ উদ্দেশ্যে করা হয়েছে বলে প্রতীয়মান হয়।
    আদালত আরও বলেন, বিচারিক কার্যক্রম স্থগিত রাখার পক্ষে যে যুক্তি উপস্থাপন করা হয়েছে, তাতে রিটকারীর মৌলিক অধিকার লঙ্ঘিত হয়নি। কারণ, নির্ধারিত ১৮০ দিনের সময়সীমা অতিক্রম করার কারণে তার পক্ষে বিচার বাতিল হওয়ার কোনো আইনগত অধিকার সৃষ্টি হয়নি।
    ফলে হাইকোর্ট রুলটি খারিজ করে দেন এবং পূর্বে দেওয়া বিচার স্থগিতের আদেশ প্রত্যাহার ও বাতিল করেন।
    রায়ের তাৎপর্য
    এই রায়ের মাধ্যমে হাইকোর্ট স্পষ্ট করেছেন যে, নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনের মামলায় দ্রুত বিচার নিশ্চিত করার জন্য নির্ধারিত ১৮০ দিনের সময়সীমা গুরুত্বপূর্ণ হলেও তা অতিক্রম করলেই মামলা বাতিল হওয়ার মতো স্বয়ংক্রিয় আইনগত পরিণতি সৃষ্টি হয় না।
    অন্যদিকে, এই বিধানের উদ্দেশ্য বিচার দীর্ঘায়িত করা নয়; বরং নারী ও শিশু নির্যাতনের মতো গুরুতর অপরাধের বিচার দ্রুত সম্পন্ন করার জন্য ট্রাইব্যুনালকে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে বিচার শেষ করার বিষয়ে দায়িত্বশীল করা।
    ফলে সময়সীমা অতিক্রমের প্রশ্নে মামলার বিচার বন্ধ করার পরিবর্তে সংশ্লিষ্ট ট্রাইব্যুনালের বিচার দ্রুত সম্পন্ন করার দায়িত্ব এবং বিলম্বের কারণ ব্যাখ্যার আইনগত প্রক্রিয়াই কার্যকর থাকবে—হাইকোর্টের এই রায় সেই বিষয়টিকে স্পষ্ট করেছে।

    এই রায় নারী ও শিশু নির্যাতন মামলার দ্রুত নিষ্পত্তির ক্ষেত্রে একদিকে যেমন ট্রাইব্যুনালের ওপর সময়ানুবর্তিতার দায়িত্বকে গুরুত্ব দেয়, অন্যদিকে শুধু সময়সীমা অতিক্রমের কারণে একটি বিচারিক কার্যক্রমকে স্বয়ংক্রিয়ভাবে অকার্যকর করার সুযোগ নেই—এই আইনগত নীতিও পরিষ্কার করে।

আরো সংবাদ পড়ুন
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত
ওয়েবসাইট ডিজাইন : ইয়োলো হোস্ট