আসামী পক্ষে আইনজীবী ছাড়া বাংলাদেশের আইনে বর্ণিত সর্বোচ্চ শাস্তি মৃত্যুদণ্ড বা যাবজ্জীবন কারাদণ্ড প্রদান করা যায় না।
বিশেষ প্রতিবেদন,আদালত বার্তাঃ২৫ মে ২০
বাংলাদেশ সংবিধানের ৩৫(৩) অনুচ্ছেদে প্রত্যেক অভিযুক্ত ব্যক্তির ন্যায়সংগত বিচারের অধিকার নিশ্চিত করা হয়েছে। ন্যায়সংগত বিচারের অন্যতম প্রধান উপাদান হলো আইনজীবীর মাধ্যমে আত্মপক্ষ সমর্থনের সুযোগ পাওয়া। একজন আসামি যদি আইনগত সহায়তা ছাড়া গুরুতর ফৌজদারি মামলার মুখোমুখি হয়, তাহলে সে সঠিকভাবে নিজের পক্ষে বক্তব্য উপস্থাপন করতে পারে না। ফলে বিচার প্রক্রিয়ায় ভারসাম্য নষ্ট হয়।
ফৌজদারি কার্যবিধির ৩৪০ ধারাতেও আসামির আইনজীবীর মাধ্যমে আত্মপক্ষ সমর্থনের অধিকার স্বীকৃত হয়েছে। যাবজ্জীবন কারাদণ্ড বা মৃত্যুদণ্ডযোগ্য মামলায় এই অধিকার আরও গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এসব মামলায় সাক্ষ্য-প্রমাণ বিশ্লেষণ, সাক্ষীদের জেরা, আইনগত যুক্তি উপস্থাপন এবং বিচারিক প্রক্রিয়া অনুসরণ করা অত্যন্ত জটিল বিষয়। একজন সাধারণ মানুষ আইন না জানার কারণে আত্মপক্ষ সমর্থন যথাযথভাবে পরিচালনা করতে সক্ষম নাও হতে পারেন।
বাংলাদেশের Legal Remembrancer’s Manual (LR Manual)-এ উল্লেখ রয়েছে যে, কোনো আসামি গুরুতর অপরাধে অভিযুক্ত হলে এবং তিনি আইনজীবী নিয়োগে অসামর্থ্য হন বা আইনজীবী না পান, তাহলে রাষ্ট্রের পক্ষ থেকে তার জন্য আইনজীবী নিয়োগের ব্যবস্থা করতে হবে।
State vs. Deputy Commissioner, Satkhira, 45 DLR (AD) 643 মামলায় আপিল বিভাগ বলেন যে, ন্যায়সংগত বিচার নিশ্চিত করা আদালতের সাংবিধানিক দায়িত্ব এবং বিচার এমন হতে হবে যাতে আসামি কার্যকরভাবে আত্মপক্ষ সমর্থনের সুযোগ পান।
আবার Abdul Quader Molla vs. Government of Bangladesh, 66 DLR (AD) 289 মামলায় আপিল বিভাগ মৃত্যুদণ্ডের ক্ষেত্রে বিচারিক সতর্কতার প্রয়োজনীয়তার ওপর জোর দেন এবং বলেন যে, capital punishment-এর ক্ষেত্রে বিচার হতে হবে অত্যন্ত fair, cautious এবং legally sound।
এছাড়া BLAST vs. Bangladesh, 55 DLR (HCD) 363 মামলায় উচ্চ আদালত legal aid এবং fair trial-এর গুরুত্ব ব্যাখ্যা করে বলেন যে, দরিদ্র বা অসহায় আসামিকেও কার্যকর আইনগত সহায়তা দিতে হবে, অন্যথায় ন্যায়বিচার ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে।
উচ্চ আদালত সাধারণত দেখতে চান আসামি প্রকৃত অর্থে আত্মপক্ষ সমর্থনের সুযোগ পেয়েছেন কি না। যদি দেখা যায় আসামির কোনো আইনজীবী ছিল না এবং কার্যকর প্রতিরক্ষা উপস্থাপন করা হয়নি, তাহলে সেই বিচারের রায় set aside হতে পারে।
বাংলাদেশের সংবিধান, ফৌজদারি আইন এবং ন্যায়বিচারের মৌলিক নীতির আলোকে আসামির পক্ষে আইনজীবী ছাড়া মৃত্যুদণ্ড বা যাবজ্জীবন কারাদণ্ড প্রদান আইন অনুযায়ী গ্রহণযোগ্য নয়।