বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০১:১০ অপরাহ্ন
Title :
হাইকোর্টের স্থায়ী বিচারপতি হিসেবে শপথ নিলেন দেবাশীষ রায় চৌধুরী করছাড়ের বিধানে জটিলতা: নিয়মিত আগাম কর দিয়েও ৫ শতাংশ ছাড় থেকে বঞ্চিত করদাতারা আগেভাগেই মার্কিন প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের দৌড়ঝাঁপ শুরু, ট্রাম্পের পর কে? আঁধার পেরিয়ে আলো: উনিশ শতকের ঢাকায় সড়কবাতির ইতিকথা ক্যাঙারু কোর্ট’ মন্তব্যের ব্যাখ্যা দিতে ট্রাইব্যুনালে দুই আইনজীবী পড়াশোনায় প্রথম, জীবনযুদ্ধে সেরা: শিক্ষার্থীর আসল শক্তি কোথায়? ১৮০ দিনে বিচার শেষ না হলেও নারী ও শিশু নির্যাতন মামলা বাতিল হবে না: হাইকোর্ট বাংলাদেশি সাংবাদিকদের জন্য ভারতে বিশেষ প্রশিক্ষণ কোর্স ক্ষমতার ভিত্তি হতে হবে আইন, পেশিশক্তি নয়’: জাতিসংঘ অধিবেশনে আন্তর্জাতিক আইন ও আদালতের নির্দেশ পালনের কড়া তাগিদ মহাসচিবের অ্যাটর্নি জেনারেল কার্যালয় এখন ‘নোট বাণিজ্য’ মুক্ত: রুহুল কুদ্দুস

করছাড়ের বিধানে জটিলতা: নিয়মিত আগাম কর দিয়েও ৫ শতাংশ ছাড় থেকে বঞ্চিত করদাতারা

  • প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
  • ২৪ বার পড়া হয়েছে

করছাড়ের বিধানে জটিলতা: নিয়মিত আগাম কর দিয়েও ৫ শতাংশ ছাড় থেকে বঞ্চিত করদাতারা

নিজস্ব প্রতিবেদক, আদালত বার্তাঃ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬

আয়কর রিটার্ন দাখিলে করদাতাদের উৎসাহিত করতে চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে ৫ শতাংশ করছাড়ের বিধান রাখা হলেও, এর প্রয়োগিক জটিলতায় বঞ্চিত হচ্ছেন নিয়মিত ও আগাম করদাতারা। আগামী ৩০ সেপ্টেম্বরের মধ্যে রিটার্ন জমা দিলে প্রদেয় করের ৫ শতাংশ বা সর্বোচ্চ ২৫ হাজার টাকা পর্যন্ত ছাড় পাওয়ার আইনি সুযোগ রয়েছে। তবে আইনের ফাঁক গলে এই সুবিধা থেকে কার্যত বঞ্চিত হচ্ছেন চাকরিজীবী ও আগাম কর পরিশোধকারী ব্যক্তিরা।

​আইনি জটিলতা ও বৈষম্য কোথায়?

বর্তমান বিধান অনুযায়ী, রিটার্ন জমা দেওয়ার সময় যে পরিমাণ কর নগদ পরিশোধ করতে হয়, কেবল সেই অর্থের ওপরই ৫ শতাংশ করছাড় হিসাব করা হচ্ছে। সারা বছর ধরে উৎসে কর্তন (পে-রোল ট্যাক্স) বা অগ্রিম আয়কর (এআইটি) হিসেবে যে বিপুল পরিমাণ অর্থ করদাতারা ইতোমধ্যে সরকারি কোষাগারে জমা দিয়েছেন, তার ওপর এই ছাড় প্রযোজ্য হচ্ছে না।

​উদাহরণস্বরূপ, একজন করদাতার বার্ষিক করের পরিমাণ ৫ লাখ টাকা। তিনি বেতন থেকে উৎসে কর বা অগ্রিম কর হিসেবে ইতোমধ্যে ৪ লাখ টাকা পরিশোধ করেছেন। রিটার্ন জমার সময় তাকে দিতে হবে বাকি ১ লাখ টাকা। বর্তমান নিয়মে তিনি ছাড় পাবেন কেবল ওই ১ লাখ টাকার ৫ শতাংশ (৫ হাজার টাকা)। অথচ, তিনি যদি সারা বছর কোনো কর না দিয়ে রিটার্নের সময় এককালীন ৫ লাখ টাকা দিতেন, তবে তিনি সর্বোচ্চ ২৫ হাজার টাকা ছাড় পেতেন।

​ফলে আইনের এই প্রয়োগিক দিকটি নিয়মিত করদাতাদের প্রতি চরম বৈষম্য তৈরি করছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

​আয়কর আইনজীবীদের দাবি

এ বিষয়ে আয়কর আইনজীবীরা তীব্র আপত্তি জানিয়েছেন। তাদের মতে, করছাড়ের হিসাব রিটার্ন জমার সময় প্রদেয় করের ওপর না করে, করদাতার সারা বছরের ‘মোট করের দায়ের’ (Total Tax Liability) ওপর করা উচিত।

​আইনজীবীদের যুক্তি, যে ব্যক্তি সারা বছর নিয়ম মেনে রাষ্ট্রকে আগাম কর দিয়ে আসছেন, তাকে আইনি সুবিধায় পিছিয়ে রাখা ন্যায়বিচারের পরিপন্থী। কর ব্যবস্থায় এমন কোনো পরিস্থিতি তৈরি হওয়া উচিত নয়, যা সৎ ও নিয়মিত করদাতাদের নিরুৎসাহিত করে।

​সংশোধিত নির্দেশনার অপেক্ষায় এনবিআর

জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) শীর্ষ পর্যায়ের কর্মকর্তারাও এই আইনি বৈষম্যের বিষয়টি অনুধাবন করেছেন। এনবিআর সূত্র জানিয়েছে, করছাড়ের উদ্দেশ্য ছিল রিটার্ন দাখিলে উৎসাহ দেওয়া। কিন্তু প্রয়োগের ক্ষেত্রে যে জটিলতা তৈরি হয়েছে, তা নিরসনে কাজ চলছে। আগামী সপ্তাহের মধ্যেই এ বিষয়ে একটি সংশোধিত এসআরও বা আইনি নির্দেশনা আসতে পারে।

​ডিজিটাল প্রোফাইল ও রিটার্ন জমার বর্তমান চিত্র

এনবিআরের তথ্য অনুযায়ী, দেশে বর্তমানে টিআইএনধারীর সংখ্যা প্রায় ১ কোটি ৩০ লাখ হলেও রিটার্ন দাখিলের হার হতাশাজনক। গত ২০২৫-২৬ অর্থবছরে রিটার্ন জমা পড়েছিল ৪৯ লাখ ৫৫ হাজার। আর চলতি অর্থবছরের জুলাই-আগস্ট মাসে মাত্র সাড়ে ৪ লাখ রিটার্ন জমা পড়েছে।

​এই পরিস্থিতি থেকে উত্তরণে এবং করদাতাদের হয়রানি কমাতে প্রতিটি করদাতার জন্য ‘ডিজিটাল প্রোফাইল’ তৈরির কাজ করছে এনবিআর। এর ফলে একজন ব্যক্তি সারা বছরে কত টাকা কর দিয়েছেন এবং রিটার্নের সময় কত টাকা বকেয়া আছে, তার পূর্ণাঙ্গ হিসাব এক জায়গায় সংরক্ষিত থাকবে, যা ভবিষ্যতে করছাড়ের মতো আইনি সুবিধাগুলোকে আরও স্বচ্ছভাবে প্রয়োগে সাহায্য করবে।

​আগামী ৩০ সেপ্টেম্বরের সময়সীমা ঘনিয়ে আসায়, আগাম করদাতাদের স্বার্থ রক্ষার্থে এনবিআরের দ্রুত ও সুস্পষ্ট আইনি সিদ্ধান্তের দিকেই এখন তাকিয়ে আছেন আয়কর আইনজীবী ও করদাতারা।

আরো সংবাদ পড়ুন
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত
ওয়েবসাইট ডিজাইন : ইয়োলো হোস্ট