শনিবার, ০১ অগাস্ট ২০২৬, ০৯:১৫ অপরাহ্ন
Title :
মফস্বলে সাংবাদিকদের ওপর নির্যাতন বাড়ছে: জুলাইয়ে ৫০ জন ক্ষতিগ্রস্ত, ৯১% ঘটনা জেলা-উপজেলায় কক্সবাজারে প্যারাসেইলিং দুর্ঘটনায় পর্যটকের মৃত্যু, নিরাপত্তা ব্যবস্থায় প্রশ্ন জুলাইয়ের চেতনা মুক্তিযুদ্ধের ধারাবাহিকতা: তথ্যমন্ত্রী গবেষণায় চৌর্যবৃত্তি ও অনিয়ম: বাংলাদেশের উচ্চশিক্ষায় আস্থার সংকট জুলাই আন্দোলনের হত্যা মামলা: পিবিআইয়ের অভিযোগপত্রে শেখ হাসিনাসহ ৫০ জন অভিযুক্ত, ৪৯ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রমাণিত হয়নি বাংলাদেশিদের জন্য দ্রুত ভারতীয় ভিসা কার্যক্রম স্বাভাবিক করার তাগিদ জুলাইয়ে বেড়েছে ধর্ষণ ও আত্মহত্যা সৌদি প্রতিরক্ষা জোটে বাংলাদেশের যোগ দেওয়ার অর্থ কী? নিউজ ডেস্ক আদালত বার্তাঃ১ আগস্ট ২০২৬ পাঁচ রুটে মনোরেল পরিকল্পনা: সমীক্ষার দায়িত্বে বুয়েট, ২০২৯ সালের মধ্যে দুই রুট চালুর লক্ষ্য আইনের রক্ষকরাই এখন ঝুঁকিতে: পুলিশ সদস্যদের ওপর ধারাবাহিক হামলায় উদ্বেগ বাড়ছে

ঢাকার ইতিহাসে নতুন দিগন্ত: নাজিমুদ্দিন রোডের খননে মিলল ৬০০ বছরের প্রাচীন দুর্গ, ইঙ্গিত আড়াই হাজার বছরের পুরোনো জনপদের

  • প্রকাশিত: বুধবার, ১৭ জুন, ২০২৬
  • ১৮৬ বার পড়া হয়েছে

ঢাকার ইতিহাসে নতুন দিগন্ত: নাজিমুদ্দিন রোডের খননে মিলল ৬০০ বছরের প্রাচীন দুর্গ, ইঙ্গিত আড়াই হাজার বছরের পুরোনো জনপদের
প্রতিবেদন: আদালত বার্তা ডেস্ক,১৭ মে ২০২৬
পুরান ঢাকার নাজিমুদ্দিন রোডে অবস্থিত সাবেক কেন্দ্রীয় কারাগারের অভ্যন্তরে পরিচালিত প্রত্নতাত্ত্বিক খননকাজে উদ্ভাসিত হয়েছে ঢাকার ইতিহাসের এক নতুন অধ্যায়। খননে পাওয়া বিভিন্ন স্থাপত্য নিদর্শন, প্রাচীন দেয়াল, ইটের গঠন ও প্রতিরক্ষা কাঠামোর উপস্থিতি প্রমাণ করে যে, ১৫শ শতকের শুরুতেই—বিশেষ করে ১৪৩০ সালের দিকে—এখানে একটি সুপরিকল্পিত প্রাসাদ-দুর্গ বা দুর্গনগরী গড়ে উঠেছিল।
প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তরের সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞদের মতে, এই দুর্গ কেবল একটি সামরিক স্থাপনা ছিল না; বরং এটি একটি প্রশাসনিক ও রাজনৈতিক কেন্দ্র হিসেবেও ব্যবহৃত হতো। এর পরিকল্পনা, দেয়ালের পুরুত্ব, স্থাপত্যরীতি এবং প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার ধরন বিশ্লেষণ করে ধারণা করা হচ্ছে, এটি একটি সমৃদ্ধ ও সংগঠিত রাজধানী শহরের অংশ ছিল।
আরও তাৎপর্যপূর্ণ বিষয় হলো—খননকাজে এমন কিছু মৃৎপাত্র, পোড়ামাটির টুকরা, প্রাচীন ইট ও দৈনন্দিন ব্যবহারের সামগ্রী পাওয়া গেছে, যা এই অঞ্চলে মানববসতির ইতিহাসকে আরও পেছনে নিয়ে যাচ্ছে। প্রত্নতত্ত্ববিদদের প্রাথমিক বিশ্লেষণে ধারণা করা হচ্ছে, খ্রিষ্টপূর্ব পঞ্চম থেকে দ্বিতীয় শতকের মধ্যেই এই অঞ্চলে মানুষের বসতি গড়ে উঠেছিল।
এই আবিষ্কার ঢাকার ঐতিহাসিক অবস্থান সম্পর্কে প্রচলিত ধারণাকে নতুনভাবে ভাবতে বাধ্য করছে। এতদিন মোগল আমল—বিশেষ করে ১৭শ শতকে ঢাকাকে রাজধানী হিসেবে প্রতিষ্ঠার সময়কালকে নগরীর বিকাশের সূচনা ধরা হলেও, নতুন এই তথ্য প্রমাণ করছে যে, ঢাকার ইতিহাস অনেক গভীর এবং প্রাচীন।
ইতিহাসবিদরা বলছেন, গঙ্গা-ব্রহ্মপুত্র অববাহিকার কৌশলগত অবস্থান, নদীপথের যোগাযোগ ব্যবস্থা এবং বাণিজ্যিক সম্ভাবনার কারণে এই অঞ্চল বহু আগে থেকেই গুরুত্বপূর্ণ ছিল। নতুন প্রত্নতাত্ত্বিক প্রমাণগুলো সেই ধারণাকেই আরও শক্তিশালী করছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, যদি এই খননকাজ আরও বিস্তৃতভাবে পরিচালনা করা হয়, তবে ঢাকার প্রাচীন নগরায়ন, বাণিজ্যিক যোগাযোগ এবং রাজনৈতিক গুরুত্ব সম্পর্কে আরও নির্ভরযোগ্য তথ্য পাওয়া সম্ভব হবে। একই সঙ্গে এটি দেশের সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য সংরক্ষণ ও গবেষণার ক্ষেত্রেও গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখবে।
নাজিমুদ্দিন রোডের এই প্রত্নস্থল তাই কেবল একটি খনন এলাকা নয়—এটি ঢাকার হাজার বছরের ইতিহাসের এক জীবন্ত দলিল, যা ভবিষ্যৎ গবেষণার জন্য এক অনন্য ভিত্তি হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

আরো সংবাদ পড়ুন
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত
ওয়েবসাইট ডিজাইন : ইয়োলো হোস্ট