বৃহস্পতিবার, ০১ অক্টোবর ২০২৬, ০৬:১৯ অপরাহ্ন
Title :
রাড্ডা স্বাস্থ্যকেন্দ্রে হামলা: প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে পদত্যাগ করছেন এমপি মিষ্টি, প্রত্যাহার পুলিশ কর্মকর্তা অপারেশন ক্লিন হার্ট’-এর মতো কোনো অভিযানের পরিকল্পনা নেই সরকারের: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ক্রসফায়ার’ বন্ধ, অপরাধ দমনে বিশেষ ক্ষমতা আইনে ডিটেনশনের প্রস্তাব পুলিশের বঙ্গবন্ধুর “অসমাপ্ত আত্মজীবনী”: এক অনন্য ঐতিহাসিক ও রাজনৈতিক দলিলের বিচার-বিশ্লেষণ বাংলাদেশের শাসনব্যবস্থায় প্রাতিষ্ঠানিক সংকট ও নৈতিক দ্বন্দ্ব: একটি বিশ্লেষণাত্মক প্রতিবেদন বিমানবন্দরে ইমিগ্রেশন হয়রানি: বৈধ যাত্রীদের বাধা দেওয়ায় হাইকোর্টের কড়া রুল ও নির্দেশনা রাষ্ট্রীয় নিষেধাজ্ঞা ছাড়াই ‘অসমাপ্ত আত্মজীবনী’ বিক্রিতে বাধা: আইনি প্রক্রিয়া লঙ্ঘনের অভিযোগ প্রকাশকদের তত্ত্বাবধায়ক সরকার গঠন প্রক্রিয়া এখনো চূড়ান্ত হয়নি: সংবিধান সংশোধন কমিটির সভাপতি জাসদ কার্যালয় থেকে আটক ২৭ জনের জামিন আবেদন নামঞ্জুর খালাস পাওয়ার পরও ৮ বছর কারাগারে: ৫ কোটি টাকা ক্ষতিপূরণ দিতে হাইকোর্টের রুল

দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার বৃহত্তম কৃত্রিম লেক রাঙ্গামাটির কাপ্তাই হ্রদের পানির পরিমাণ কমে যাওয়ায় বিদ্যুৎ উৎপাদন সর্বনিম্নে নেমেছে।

  • প্রকাশিত: রবিবার, ৯ এপ্রিল, ২০২৩
  • ৬২০ বার পড়া হয়েছে

দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার বৃহত্তম কৃত্রিম লেক রাঙ্গামাটির কাপ্তাই হ্রদের পানির পরিমাণ কমে যাওয়ায় বিদ্যুৎ উৎপাদন সর্বনিম্নে নেমেছে।

ডেস্ক নিউজ আদালত বার্তা :৯ এপ্রিল ২০২৩।

দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার বৃহত্তম কৃত্রিম লেক রাঙ্গামাটির কাপ্তাই হ্রদ। এ হ্রদের পানির ওপর নির্ভর করে গড়ে উঠেছে দেশের একমাত্র পানিবিদ্যুৎ কেন্দ্র। তবে লেকের পানির পরিমাণ কমে যাওয়ায় বিদ্যুৎ উৎপাদনও সর্বনিম্নে নেমেছে।

বিদ্যুৎকেন্দ্রের কন্ট্রোল রুম সূত্রে জানা যায়, বিদ্যুৎকেন্দ্রটির পাঁচটি ইউনিট থেকে ২৪০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন করা হয়। অন্য সময় পাঁচটি ইউনিট সচল থাকলেও পানির অভাবে এখন চারটি ইউনিট থেকে বিদ্যুৎ উৎপাদন সম্ভব হচ্ছে না। সচল আছে শুধু ১ নম্বর ইউনিট। সেখান থেকে দৈনিক মাত্র ২৫ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন করা সম্ভব হচ্ছে।

কাপ্তাই পানিবিদ্যুৎ কেন্দ্রের ব্যবস্থাপক এটিএম আব্দুজ্জাহের জানান, রুলকার্ভ অনুযায়ী বছরের এসময়ে কাপ্তাই হ্রদে পানি থাকার কথা ৮৭ দশমিক ৮০ ফুট এমএসএল (মিন সি লেভেল বা গড় সমুদ্র সমতল)। কিন্তু কাপ্তাই হ্রদে বর্তমানে পানি আছে ৭৬ ফুট এমএসএল। যেখানে ১১ দশমিক ৮ এমএসএল পানি কম রয়েছে। কাপ্তাই হ্রদে পানি ধারণক্ষমতা ১০৯ ফুট এমএসএল। পানি ৬৬ এমএসএলের নিচে নেমে গেলে তখন এটি বিপৎসীমা হিসেবে ধরা হয়। ভারি বৃষ্টিপাত না হওয়া পর্যন্ত কাপ্তাই কেন্দ্রে বিদ্যুৎ উৎপাদন স্বাভাবিক হবে না বলে জানান তিনি।
এদিকে কাপ্তাই হ্রদের পানি কমে যাওয়ায় দুর্ভোগে পড়েছেন এ হ্রদের ওপর নির্ভরশীল অনেকে। প্রভাব পড়েছে মানুষের জীবন-জীবিকায়।

কাপ্তাই হ্রদের জেলে শৈবাল দাশ জাগো নিউজকে বলেন, ‘হ্রদে এমনিতেই আগের মতো পানি সবসময় থাকে না। পানি না থাকায় আমাদের মাছ ধরতেও বেশ কষ্ট পেতে হয়। মাছও আগের মতো পাই না। পানি কমে যাওয়ায় মাছ ধরতে কষ্ট হচ্ছে।’

মৎস্য ব্যবসায়ী আব্দুল আওয়াল বলেন, ‘মে মাস থেকে মাছ ধরা বন্ধ হয়ে যাবে। অথচ এখনই পানি কমে গেছে। এখন হ্রদে যে পরিমাণ মাছ আছে তাতে পুষিয়ে নিতে কষ্ট হচ্ছে।’

বোটচালক শের আলী বলেন, ‘হ্রদে পানি কমতে শুরু করে আরও পরে। কিন্তু এ বছর আগেভাগেই পানি কমে গেছে। পানি কমে যাওয়ায় আমাদের বোট চালাতে বেশ কষ্ট হচ্ছে। বিভিন্ন উপজেলায় ভাড়া নিয়ে যেতে পারছি না।’

চট্টগ্রাম থেকে এসে রাঙ্গামাটির লংগদু, জুড়াছড়িসহ বিভিন্ন উপজেলা থেকে মৌসুমি ফল পাইকারি কিনে চট্টগ্রাম বাজারে নিয়ে যান ব্যবসায়ী গণি মিয়া। তিনি জাগো নিউজকে বলেন, ‘এখন তরমুজ ব্যবসার সময়। কিন্তু হ্রদের পানি কমে যাওয়ায় ফল সংগ্রহ করে রাঙ্গামাটি মূল শহরে আনতে বেগ পেতে হচ্ছে। বোট ভাড়া ও লেবার খরচ বেশি পড়ে যাচ্ছে। এতে আমাদের লাভ হচ্ছে কম।’

কলা ব্যবসায়ী ধনপতি চাকমা বলেন, ‘আমার আদাম (গ্রাম) থেকে পায়ে হেঁটে আগে তিন ঘণ্টায় উপজেলা ঘাটে আসা যেতো। সেখান থেকে বোটে রাঙ্গামাটি শহরে কলা নিয়ে আসতাম। এখন লেকের পানি কমে যাওয়ায় আমাদের উপজেলা ঘাট থেকে আরও আধাঘণ্টা পথ হেঁটে বোটে উঠতে হয়। অনেক কষ্ট করে শহরে আসতে হচ্ছে।’

রাঙ্গামাটির কাপ্তাই উপজেলায় কর্ণফুলী নদীর ওপর নির্মিত কাপ্তাই বাঁধ। এ বাঁধের ফলে সৃষ্টি হয়েছে কাপ্তাই হ্রদ নামের একটি কৃত্রিম জলাধারা। বাঁধ ও হ্রদটি নির্মাণের প্রাথমিক উদ্দেশ্য ছিল পানিবিদ্যুৎ উৎপাদন করা। ১৯৬২ সালে বাঁধ নির্মাণের কাজ শেষ হয়।

আরো সংবাদ পড়ুন
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত
ওয়েবসাইট ডিজাইন : ইয়োলো হোস্ট