শনিবার, ২৫ জুলাই ২০২৬, ০১:১০ পূর্বাহ্ন
Title :
দেশে চলমান গ্যাস সংকটে ভোগান্তি ক্ষতিগ্রস্ত এলএনজি টার্মিনাল মেরামতে যুক্তরাজ্যের বিশেষজ্ঞ দল আসছে। বাংলাদেশের বিচার ব্যবস্থায় সুপ্রিম কোর্ট, আইনজীবী সম্প্রদায়ের জরুরি সংস্কারের প্রয়োজন কক্সবাজারের পর্যটন নিয়ে সরকারের মহাপরিকল্পনা মেট্রো রেখে মনোরেলে মনোযোগ “ওকালতি পেশার মূলমন্ত্র হলো গুরু শিক্ষা” আইনজীবীর মাথা ফাটানো বিচারককে মন্ত্রণালয়ে সংযুক্ত করার উদ্যোগ ঢাকার ৪১৬ বছরপূর্তি উপলক্ষে  ‘হৃদয়ে ঢাকা’ কর্মসূচিতে ঐতিহ্য ও নাগরিক চেতনার নতুন উদযাপন আইনজীবীর মাথায় পেপার ওয়েট ছুড়ে বিচারিক ক্ষমতা হারালেন সেই বিচারক যে কারণে পদত্যাগ করতে হচ্ছে রাষ্ট্রপতিকে, জানা গেল কারণ এক বছরে ২৫ লাখে মামলা কমানোর চেষ্টা সরকারের: আইনমন্ত্রী

দেশে চলমান গ্যাস সংকটে ভোগান্তি ক্ষতিগ্রস্ত এলএনজি টার্মিনাল মেরামতে যুক্তরাজ্যের বিশেষজ্ঞ দল আসছে।

  • প্রকাশিত: শুক্রবার, ২৪ জুলাই, ২০২৬
  • ৩ বার পড়া হয়েছে

দেশে চলমান গ্যাস সংকটে ভোগান্তি ক্ষতিগ্রস্ত এলএনজি টার্মিনাল মেরামতে যুক্তরাজ্যের বিশেষজ্ঞ দল আসছে।

নিউজ ডেস্ক,  আদালত বার্তাঃ ২৫ জুলাই ২০২৬
দেশে চলমান গ্যাস সংকট নিরসনে আগুনে ক্ষতিগ্রস্ত ভাসমান এলএনজি (তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস) টার্মিনাল দ্রুত মেরামতের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। এ লক্ষ্যে যুক্তরাজ্য থেকে বিশেষজ্ঞ প্রকৌশলীদের একটি দল বাংলাদেশে এসে কাজ শুরু করবে বলে জানিয়েছে বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজসম্পদ মন্ত্রণালয়। সংশ্লিষ্টরা আশা করছেন, তাদের সহায়তায় অল্প সময়ের মধ্যেই গ্যাস সরবরাহ স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরে আসবে।
গত ২১ জুলাই এক্সিলারেট এনার্জি পরিচালিত ভাসমান টার্মিনালে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। এর পর থেকেই জাতীয় গ্রিডে এলএনজি সরবরাহে বড় ধরনের ঘাটতি দেখা দেয়। বর্তমানে দেশে এলএনজি আমদানি ও পুনর্গ্যাসীকরণের জন্য দুটি ভাসমান টার্মিনাল (এফএসআরইউ) চালু রয়েছে—একটি সামিট গ্রুপ এবং অন্যটি এক্সিলারেট এনার্জি পরিচালনা করে। এর মধ্যে একটি টার্মিনাল বন্ধ হয়ে যাওয়ায় সরবরাহ ব্যবস্থা মারাত্মকভাবে ব্যাহত হয়েছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, স্বাভাবিক সময়ে এলএনজি থেকে জাতীয় গ্রিডে প্রতিদিন প্রায় ৯৫ থেকে ১০০ কোটি ঘনফুট গ্যাস সরবরাহ করা হলেও বর্তমানে প্রায় ৪৫ কোটি ঘনফুট সরবরাহ কমে গেছে। এতে দেশের প্রধান গ্যাস বিতরণকারী প্রতিষ্ঠান তিতাস গ্যাস ট্রান্সমিশন অ্যান্ড ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানির ওপর অতিরিক্ত চাপ তৈরি হয়েছে।
তিতাসের ব্যবস্থাপনা পরিচালক শাহনেওয়াজ পারভেজ বলেন, দেশে দৈনিক গ্যাসের চাহিদা প্রায় ২ হাজার ২০০ মিলিয়ন ঘনফুট, যেখানে স্বাভাবিক পরিস্থিতি বজায় রাখতে অন্তত ১ হাজার ৭০০ মিলিয়ন ঘনফুট সরবরাহ প্রয়োজন। কিন্তু একটি টার্মিনাল বন্ধ থাকায় সেই চাহিদা পূরণ সম্ভব হচ্ছে না, ফলে পুরো সরবরাহ ব্যবস্থায় চাপ বেড়েছে।
গ্যাস সংকটের সবচেয়ে বড় প্রভাব পড়েছে সিএনজি ফিলিং স্টেশনগুলোতে। পর্যাপ্ত চাপ না থাকায় অনেক স্টেশন কার্যত অচল হয়ে পড়েছে। দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করেও অনেক যানবাহন গ্যাস নিতে পারছে না। সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ীরা জানান, সাধারণত স্টেশন চালাতে ১৫ পিএসআই চাপ প্রয়োজন হলেও বর্তমানে ৪ থেকে ৫ পিএসআইয়ের বেশি পাওয়া যাচ্ছে না; কখনো কখনো তা ২ পিএসআইয়ের নিচে নেমে যাচ্ছে। এতে মেশিন সচল রাখা কঠিন হয়ে পড়ছে।
এ অবস্থায় দ্রুত টার্মিনাল সচল করতে প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতি প্রস্তুত রাখা হয়েছে বলে জানিয়েছেন মন্ত্রণালয়ের অপারেশন অনুবিভাগের যুগ্ম সচিব মনির হোসেন চৌধুরী। তিনি বলেন, বিদেশি বিশেষজ্ঞরা কাজ শুরু করলে অল্প সময়ের মধ্যেই টার্মিনাল পুনরায় চালু করা সম্ভব হবে।
তবে জ্বালানি বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বর্তমান পরিস্থিতি দেশের এলএনজি অবকাঠামোর একটি বড় দুর্বলতা উন্মোচন করেছে। মাত্র দুটি ভাসমান টার্মিনালের ওপর নির্ভরশীলতা থাকায় একটি বন্ধ হয়ে গেলেই পুরো ব্যবস্থায় অস্থিরতা তৈরি হচ্ছে। তারা দীর্ঘমেয়াদে স্থলভিত্তিক এলএনজি টার্মিনাল নির্মাণের ওপর গুরুত্ব আরোপ করেছেন।
বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের কেমিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের অধ্যাপক ড. মো. ইকবাল হোসেন বলেন, স্থলভিত্তিক এলএনজি টার্মিনালের আয়ুষ্কাল ২০ থেকে ৩০ বছর এবং পরিচালন ব্যয় তুলনামূলক কম। পাশাপাশি এগুলোর পরিচালনায় নমনীয়তা বেশি থাকে, যা জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, ভবিষ্যতে এ ধরনের সংকট এড়াতে শুধু এলএনজির ওপর নির্ভরশীল না থেকে নিজস্ব গ্যাস অনুসন্ধান জোরদার করা, বিকল্প জ্বালানির ব্যবহার বৃদ্ধি এবং অবকাঠামোর বহুমুখীকরণ জরুরি। তাহলেই একটি টার্মিনালে সমস্যা দেখা দিলেও জাতীয় গ্যাস সরবরাহ ব্যবস্থায় বড় ধরনের বিপর্যয় সৃষ্টি হবে না।

আরো সংবাদ পড়ুন
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত
Theme Customized By BreakingNews