

বিশেষ প্রতিবেদন,আদালত বার্তাঃ১০ আগস্ট ২০২৬
সুস্থ ও সমৃদ্ধ জাতি গঠনে নিরাপদ খাদ্যের কোনো বিকল্প নেই। নিত্যপ্রয়োজনীয় খাদ্যসামগ্রী কেনার পূর্বে মোড়কের গায়ে উল্লিখিত লেবেল, উৎপাদন ও মেয়াদোত্তীর্ণের তারিখ, উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানের নাম ও পূর্ণাঙ্গ ঠিকানা যাচাই করা এবং মোড়কের অক্ষত অবস্থা নিশ্চিত করা একজন সচেতন নাগরিকের প্রধান দায়িত্ব। সম্প্রতি বাংলাদেশ নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষ (BFSA) জনস্বার্থে প্রচারিত সচেতনতামূলক বার্তায় এই বিষয়টি বিশেষভাবে পুনর্ব্যক্ত করেছে। বর্তমান বাজার প্রেক্ষাপট, অনলাইন ই-কমার্স কেনাকাটার প্রসার এবং ভেজালবিরোধী আইন বাস্তবায়নের সূচকে এই নির্দেশনাটি অত্যন্ত সময়োপযোগী ও গুরুত্বপূর্ণ।
বর্তমানে প্রক্রিয়াজাত ও প্যাকেটজাত খাদ্যের ওপর মানুষের নির্ভরতা অভূতপূর্ব হারে বৃদ্ধি পেয়েছে। তবে এর সাথে পাল্লা দিয়ে বেড়েছে মেয়াদোত্তীর্ণ, নকল ও মানহীন খাদ্যসামগ্রী বিক্রির প্রবণতা।
বাংলাদেশের ‘নিরাপদ খাদ্য আইন, ২০১৩’ এবং ‘ভোক্তা-অধিকার সংরক্ষণ আইন, ২০০৯’ অনুযায়ী ভোক্তাদের অধিকার সুরক্ষায় স্পষ্ট বিধান রয়েছে।
|
আইনের ধারা / ক্ষেত্র |
আইনি বিধান ও বাধ্যবাধকতা |
|---|---|
|
লেবেলিং প্রবিধানমালা |
মোড়কজাত খাদ্যে উপাদান, উৎপাদনকারী, উৎপাদনের তারিখ ও মেয়াদের সঠিক তথ্য প্রদান বাধ্যতামূলক। |
|
নকল ও ভেজাল খাদ্য |
মেয়াদোত্তীর্ণ বা মোড়কহীন নিম্নমানের পণ্য বিক্রি আইনত দণ্ডনীয় অপরাধ। |
|
শাস্তির বিধান |
অপরাধের মাত্রাভেদে অর্থদণ্ড, কারাদণ্ড এবং ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের লাইসেন্স বাতিলের কঠোর শাস্তি নির্ধারিত রয়েছে। |
বাংলাদেশ নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষ (BFSA) নিয়মিত ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা ও ল্যাব পরীক্ষার মাধ্যমে বাজার মনিটরিং নিশ্চিত করছে। আদালতের সাম্প্রতিক বিভিন্ন পর্যবেক্ষণ ও নির্দেশনায় খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিতে প্রশাসনকে জিরো টলারেন্স নীতি অনুসরণের তাগিদ দেওয়া হয়েছে।
নিরাপদ খাদ্য কেনাকাটায় প্রতারণা থেকে বাঁচতে এবং স্বাস্থ্য সুরক্ষা নিশ্চিত করতে সচেতন নাগরিকদের নিম্নোক্ত বিষয়গুলো কঠোরভাবে মেনে চলা উচিত:
লেবেল সতর্কতার সাথে পাঠ করা: প্যাকেটের গায়ে লেখা উপাদান, সংরক্ষণ পদ্ধতি এবং পুষ্টিগুণ যাচাই করুন।
উৎপাদন ও মেয়াদোত্তীর্ণের তারিখ নিশ্চিত হওয়া: পণ্য ক্রয়ের সময় ‘Date of Manufacture’ এবং ‘Expiry Date’ বা ‘Best Before’ ভালো করে দেখে নিন।
প্রস্তুতকারকের বিশ্বস্ততা: অনুমোদনহীন বা ঠিকানা ছাড়া অজ্ঞাত প্রস্তুতকারকের পণ্য কেনা থেকে বিরত থাকুন।
মোড়কের মান পরীক্ষা: মোড়ক ছেঁড়া, ফুটো, ফোলা বা সীল ভাঙা থাকলে তা ক্রয় করা থেকে বিরত থাকুন।
অধিকার হরণ হলে অভিযোগ দায়ের: মেয়াদোত্তীর্ণ বা ভেজাল পণ্য নজরে এলে তাৎক্ষণিকভাবে জাতীয় ভোক্তা-অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর বা বিএফএসএ-এর হটলাইনে অভিযোগ জানান।
খাদ্যের মোড়কের তথ্য যাচাই কেবল একটি ভালো অভ্যাস নয়, বরং এটি আপনার আইনি অধিকার ও স্বাস্থ্য সুরক্ষার বর্ম। সরকারি নজরদারির পাশাপাশি ভোক্তা হিসেবে আমাদের সচেতনতাই পারে বাজার থেকে ভেজাল ও অনিয়ম দূর করতে। নিরাপদ খাদ্য ক্রয়ে নিজে সচেতন হোন এবং অন্যকে উৎসাহিত করুন।