1. multicare.net@gmail.com : আদালত বার্তা :
প্রথম সফর নিয়ে জটিলতা আওয়ামী লীগকে নিষিদ্ধ করে ভারতের আস্থাহীনতায় সরকার - আদালত বার্তা
বৃহস্পতিবার, ০৭ মে ২০২৬, ১২:০০ অপরাহ্ন
শিরোনাম :
প্রথম সফর নিয়ে জটিলতা আওয়ামী লীগকে নিষিদ্ধ করে ভারতের আস্থাহীনতায় সরকার ঢাকার রাস্তায়  ট্রাফিক সিস্টেমে নতুন  বাস্তবতা AI ক্যামেরা। সাবেক প্রধান বিচারপতি খায়রুল হকের দীর্ঘ কারাবাস:আইনের অপব্যবহার নিয়ে আইনজীবীদের উদ্বেগ। একজন আইনজীবীর অপ্রাসঙ্গিক জেরা গুণগতভাবে শক্তিশালী মোকদ্দমাকেও ধ্বংস করে দেয়। সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালত, আমতলী এজলাসে আইনজীবীকে কটূক্তি করায় বাদীর কারাদণ্ড জুলাই আন্দোলনে অংশ নেয়া ২০৮ প্রবাসীকে ২৫ লাখ টাকা করে ক্ষতিপূরণ দিতে রুল জারি করেছেন হাইকোর্ট। আইনগত দিক থেকে  অপরাধজনক বিশ্বাস ভঙ্গ (৪০৬) বনাম প্রতারণা (৪২০): বিভ্রান্তি ও বাস্তবতা অধস্তন আদালত মনিটরিংয়ে দায়িত্ব পেলেন ১৩ বিচারপতি ডিসির পর এবার ঢাকার পুলিশ সুপারও হলেন একজন নারী সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির আসন্ন নির্বাচনে প্রায় ৪০ প্রার্থীর মনোনয়ন বাতিল হয়ে গেছে।

প্রথম সফর নিয়ে জটিলতা আওয়ামী লীগকে নিষিদ্ধ করে ভারতের আস্থাহীনতায় সরকার

প্রতিবেদকের নাম:
  • প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ৭ মে, ২০২৬
  • ১৬ বার পড়া হয়েছে

প্রথম সফর নিয়ে জটিলতা

আওয়ামী লীগকে নিষিদ্ধ করে ভারতের আস্থাহীনতায় সরকার

নিউজ ডেস্ক আদালত বার্তাঃ৭ মে ২০২৬

নবনির্বাচিত প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান দায়িত্ব গ্রহণের পর একটি গুরুত্বপূর্ণ দ্বিপাক্ষিক রাষ্ট্রীয় সফরের প্রস্তুতি নিলেও তা এখন ভূরাজনৈতিক
জটিলতায় পড়েছে। সংসদে আইন পাস করে আওয়ামী লীগের রাজনৈতিক কার্যক্রম
নিষিদ্ধ করায় ভারতের সঙ্গে নতুন সরকারের আস্থার সংকট দেখা দিয়েছে।

ভারতের দিকথেকে ইতিবাচক সাড়া না পেয়ে সরকার এখন চীনের দিকে ঝুঁকছে। তবে চীন শর্ত জুড়ে
দিয়েছে তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়নের। সব মিলিয়ে প্রথম বিদেশ সফর নিয়ে পরাশক্তিগুলোর রশি টানাটানির মধ্যে কঠিন পরীক্ষার মুখে পড়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

রাজনৈতিক বিশ্লেষক ও কূটনৈতিক সূত্রগুলোর মতে, দেশের ভেতরে সিলেটসহ বিভিন্ন স্থানে
ঘুরে বেড়ালেও আন্তর্জাতিকভাবে একটি সফল রাষ্ট্রীয় সফরের অপেক্ষায় রয়েছেন
প্রধানমন্ত্রী। কিন্তু বর্তমান বাস্তবতায় সেই সফর নিশ্চিত করা
ক্রমশ কঠিন হয়ে পড়ছে।

ভারতের সঙ্গে আস্থার সংকট কূটনৈতিক সূত্রগুলো বলছে, প্রধানমন্ত্রী হিসেবে তারেক রহমানের প্রথম রাষ্ট্রীয় সফরটি ভারতে হওয়ার জোরালো সম্ভাবনা ছিল। নির্বাচনে সংখ্যাগরিষ্ঠতা পাওয়ার পরপরই ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি সবার আগে তাঁকে ফোন করে অভিনন্দন জানান। এমনকি স্ত্রী জুবাইদা রহমান ও কন্যা জাইমা রহমানকে নিয়ে ভারত সফরের আমন্ত্রণ
জানিয়ে আবেগপূর্ণ চিঠিও পাঠিয়েছিলেন মোদি।

কিন্তু এর কয়েক মাসের মধ্যেই সম্পর্কে বড় ধরনের ফাটল ধরে। ভারত সরকারের সঙ্গে
পূর্ববর্তী সমঝোতার ভিত্তিতে গত ডিসেম্বরে ভারত ও যুক্তরাষ্ট্রের সহায়তায় দেশে ফিরলেও, সম্প্রতি সংসদে আওয়ামী লীগকে নিষিদ্ধ করার আইন
পাস করেছে নতুন সরকার। এতে ভারত সরকারের মধ্যে এক ধরনের ‘বিশ্বাসঘাতকতার’
অনুভূতি তৈরি হয়েছে। ভারত মনে করছে, এখন তারেক রহমানকে রাজকীয় আতিথেয়তা
দিলে নিজ দেশেই তারা বিরোধিতার মুখে পড়বে। ফলে ভারতের দিক থেকে এই সফরের
বিষয়ে এখন এক ধরনের নীরবতা ও দূরত্ব পালন করা হচ্ছে।

চীনের শর্ত: তিস্তা মহাপরিকল্পনা
ভারতের দিক থেকে সাড়া না পেয়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান তাঁর পররাষ্ট্রমন্ত্রী
খলিলুর রহমানকে অবিলম্বে চীন সফরের আয়োজনের নির্দেশ দিয়েছেন। তবে চীনের
অবস্থান এ ক্ষেত্রে একেবারে সোজা-সাপ্টা। দীর্ঘদিন ধরেই তারা তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়নে যুক্ত হতে চাইছে। ২০২৪ সালের জুলাইয়ে শেখ হাসিনা এবং পরবর্তীতে ড. ইউনূসের অন্তর্বর্তীকালীন সরকারও ভারত ও
যুক্তরাষ্ট্রের চাপে এই প্রকল্প চীনের হাতে তুলে দিতে পারেনি।

তবে নির্বাচনপূর্ব সময়ে লংমার্চ ও জনসভায় তিস্তা প্রকল্প বাস্তবায়নের প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন তারেক রহমান। সম্প্রতি প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাৎ করে চীনের রাষ্ট্রদূতও স্পষ্ট জানিয়েছেন, বাংলাদেশ সরকার চাইলেই তিস্তা প্রকল্পের কাজ এখনই শুরু করতে পারে চীন এবং তারা সব ধরনের আর্থিক সহযোগিতা দিতে প্রস্তুত। কূটনৈতিক বিশ্লেষকেরা বলছেন, তারেক রহমানকে যদি চীন সফরে যেতে হয় বা ওই দাওয়াত পেতে হয়, তাহলে নিশ্চিতভাবেই তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়নের
অংশীদারত্ব বেইজিংকে বুঝিয়ে দিয়ে আসতে হবে।

যুক্তরাষ্ট্র ও ভারতের অস্বস্তি তারেক রহমান যদি চীন সফরে গিয়ে তিস্তা মহাপরিকল্পনার দায়িত্ব বেইজিংকে দেন, তবে তা ভারত ও যুক্তরাষ্ট্রের কড়া প্রতিক্রিয়ার জন্ম দেবে। সীমান্ত এলাকায় চীনের বড় ধরনের উপস্থিতি ভারতের জন্য চরম অস্বস্তির কারণ।

অন্যদিকে, যুক্তরাষ্ট্রের ট্রাম্প প্রশাসনের পক্ষ থেকে নিয়োগ পাওয়া মার্কিন রাষ্ট্রদূত ব্রেন্ট ক্রিস্টেনসেন গত জানুয়ারিতে দায়িত্ব নিয়েই স্পষ্ট বার্তা দিয়েছেন যে, ‘কমিউনিস্ট চীনের’ সঙ্গে বাংলাদেশের অতিরিক্ত সখ্য যুক্তরাষ্ট্র ভালোভাবে নেবে না। জামায়াতে ইসলামীকে ক্ষমতার বাইরে রেখে তারেক রহমানের নেতৃত্বে বর্তমান সরকারকে ক্ষমতায় আনতে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের যে
প্রচ্ছন্ন ভূমিকা ছিল, তিস্তা প্রকল্প চীনকে দিলে সেই সমীকরণও হুমকিতে পড়তে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।

পুরোনো অবিশ্বাস ও বিকল্প গন্তব্য
জিয়াউর রহমানের আমলে চীনের সঙ্গে বিএনপির চমৎকার সম্পর্ক থাকলেও, বর্তমানে
বেইজিংয়ের পুরোপুরি আস্থা অর্জন করা তারেক রহমানের জন্য সহজ হবে না। ২০০৪ সালে বিএনপি সরকারের বাণিজ্যমন্ত্রী থাকাকালে বর্তমান অর্থমন্ত্রী আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী ঢাকায় তাইওয়ানের একটি কনস্যুলার অফিস খোলার অনুমতি দিয়েছিলেন। এক চীন নীতির’ পরিপন্থী ওই পদক্ষেপে চরম ক্ষুব্ধ হয়েছিল বেইজিং। সেই আমীর খসরু এখন সরকারের অর্থমন্ত্রী হওয়ায় চীন বর্তমান সরকারকে কতটা বিশ্বাস করবে, তা নিয়ে সংশয় রয়েছে।

ভারত ও চীনের এই টানাপোড়েনের মধ্যে বিকল্প হিসেবে দক্ষিণ এশিয়ার দেশ ভুটানে রাষ্ট্রীয় সফরের কথা বিবেচনা করছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। অন্যদিকে, ওমরাহ পালনের উদ্দেশ্যে সৌদি আরবে রাষ্ট্রীয় সফরের একটি চেষ্টা
চললেও, বৈশ্বিক অস্থিরতার মধ্যে সেখানে তিনি কতটা কূটনৈতিক গুরুত্ব পাবেন, তা নিয়ে নিশ্চিত নন বিশ্লেষকেরা।

যুক্তরাষ্ট্র ও ভারতের মতো শক্তিশালী দেশগুলোকে খেপিয়ে তুলে ক্ষমতায় টিকে থাকার যে
কূটনৈতিক ভারসাম্য, তা বজায় রাখাই এখন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের জন্য সবচেয়ে
বড় চ্যালেঞ্জ।

আরো সংবাদ পড়ুন
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত
ওয়েবসাইট ডিজাইন প্রযুক্তি সহায়তায়: ইয়োলো হোস্ট