বুধবার, ১২ অগাস্ট ২০২৬, ০৭:১৬ অপরাহ্ন
Title :
বাংলাদেশের রাজস্ব আয়-ব্যয়ে আরও স্বচ্ছতা চায় যুক্তরাষ্ট্র নন প্র্যাকটিসিং ও দ্বৈত পেশায় যুক্ত আইনজীবীদের সনদ বাতিলের দাবিতে বার কাউন্সিলে আইনি নোটিশ আখেরি চাহার সোম্বা: ইসলামী শরিয়তে এর অবস্থান ও ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট সরকারি খরচে বিনামূল্যে আইনগত সহায়তা দরিদ্র ও অসহায় বিচারপ্রার্থীর ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে জেলা লিগ্যাল এইড অফিস মির্জা ফখরুল রাষ্ট্রপতি হলে বিএনপিতে শূন্য হবে গুরুত্বপূর্ণ দুই পদ, বদল আসতে পারে মন্ত্রিসভাতেও সুপ্রিম কোর্ট লিগ্যাল এইড অফিসে মধ্যস্থতা (ADR) কার্যক্রম শুরু: বিচারপ্রার্থীদের জন্য এক নতুন দিগন্ত চার কোটি টাকা আত্মসাতের মামলা: অ্যাম্বুলেন্সে আদালতে ফারমার্স ব্যাংকের সাবেক কর্মকর্তা হাইকোর্টের ৫৫টি বেঞ্চ পুনর্গঠন করলেন প্রধান বিচারপতি। অতিরিক্ত দামের কারনে মার্কিন প্রতিষ্ঠানের সাথে দীর্ঘমেয়াদি এলএনজি চুক্তি স্থগিত ই-গভর্নেন্স ও প্রযুক্তিতে বাংলাদেশের অংশীদার হতে চায় এস্তোনিয়া: নেওয়া হবে আইটি ও স্বাস্থ্য খাতের দক্ষ জনশক্তি

বাংলাদেশের রাজস্ব আয়-ব্যয়ে আরও স্বচ্ছতা চায় যুক্তরাষ্ট্র

  • প্রকাশিত: বুধবার, ১২ আগস্ট, ২০২৬
  • ১ বার পড়া হয়েছে

বাংলাদেশের রাজস্ব আয়-ব্যয়ে আরও স্বচ্ছতা চায় যুক্তরাষ্ট্র
নিউজ ডেস্ক, আদালত বার্তা | ১২ আগস্ট ২০২৬
বাংলাদেশ সরকারের রাজস্ব আয় ও ব্যয়ের বিস্তারিত তথ্য জনসাধারণের জন্য আরও স্বচ্ছভাবে প্রকাশের তাগিদ দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। একই সঙ্গে বাজেট প্রণয়ন ও বাস্তবায়ন, সরকারি নিরীক্ষা এবং সরকারি ক্রয়প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি বাড়ানোর জন্য বেশ কিছু সুপারিশ করেছে দেশটি।
সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর প্রকাশিত ‘২০২৬ ফিসক্যাল ট্রান্সপারেন্সি রিপোর্ট: বাংলাদেশ’ শীর্ষক প্রতিবেদনে এসব পর্যবেক্ষণ ও সুপারিশ তুলে ধরা হয়েছে।
বাজেট প্রকাশে অগ্রগতি
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, পর্যালোচনাধীন সময়ে বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকার নির্ধারিত সময়ের মধ্যে বছরের শেষের আর্থিক প্রতিবেদন প্রকাশ করে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি করেছে। আগের সরকারের বাজেট প্রণয়ন ও বাস্তবায়নসংক্রান্ত বেশ কিছু সুপারিশও অন্তর্বর্তী সরকার সাধারণভাবে অনুসরণ করেছে।
আর্থিক স্বচ্ছতা বাড়াতে অন্তর্বর্তী সরকার কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ সংস্কার উদ্যোগ নিয়েছে বলেও প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
সরকার তার প্রস্তাবিত নির্বাহী বাজেট এবং অনুমোদিত বাজেট অনলাইনে প্রকাশ করেছে। বাজেটে থাকা তথ্য সাধারণভাবে নির্ভরযোগ্য হলেও আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত নীতিমালা অনুযায়ী সব বাজেট নথি প্রস্তুত করা হয়নি বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়।
রাজস্ব ও ব্যয়ের পূর্ণাঙ্গ চিত্র নেই
প্রতিবেদন অনুযায়ী, সরকারের ঋণের দায়সংক্রান্ত তথ্য জনসাধারণের জন্য উন্মুক্ত ছিল। বাজেটের নথিতে সরকারের পরিকল্পিত ব্যয় ও রাজস্বের মোটামুটি পূর্ণাঙ্গ চিত্র তুলে ধরা হয়েছে। এতে প্রাকৃতিক সম্পদ থেকে অর্জিত রাজস্বও অন্তর্ভুক্ত ছিল।
তবে নির্বাহী কার্যালয়গুলোর সহায়তায় পরিচালিত ব্যয় আলাদাভাবে দেখানো হয়নি। পাশাপাশি বাজেটে সরকারের মোট রাজস্ব ও ব্যয়ের সম্পূর্ণ চিত্রও যথাযথভাবে তুলে ধরা হয়নি।
রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠানগুলোকে দেওয়া সরকারি আর্থিক বরাদ্দ এবং এসব প্রতিষ্ঠান থেকে সরকারের পাওয়া আয় বাজেটের নথিতে অন্তর্ভুক্ত ছিল বলেও প্রতিবেদনে বলা হয়েছে।
নিরীক্ষা ব্যবস্থায় স্বাধীনতার ঘাটতি
বাংলাদেশের সর্বোচ্চ নিরীক্ষা প্রতিষ্ঠান সরকারের হিসাব পর্যালোচনা করেনি। তবে প্রতিষ্ঠানটি কিছু সংক্ষিপ্ত ফলাফল প্রকাশ করেছে, যা যথাসময়ে জনসাধারণের জন্য উন্মুক্ত করা হয়েছিল।
তবে আন্তর্জাতিক মানদণ্ড অনুযায়ী দেশের সর্বোচ্চ নিরীক্ষা প্রতিষ্ঠানের পূর্ণ স্বাধীনতা নিশ্চিত হয়নি বলে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
সরকারি ক্রয়ে সীমিত তথ্য প্রকাশ
প্রাকৃতিক সম্পদ আহরণের চুক্তি ও লাইসেন্স প্রদানের ক্ষেত্রে সরকার আইন ও বিধিমালায় নির্ধারিত মানদণ্ড ও প্রক্রিয়া অনুসরণ করেছে বলে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে। বাস্তব ক্ষেত্রেও এসব মানদণ্ড ও প্রক্রিয়া অনুসরণ করা হয়েছে।
তবে সরকারি ক্রয়সংক্রান্ত চুক্তির ক্ষেত্রে জনসাধারণের জন্য প্রকাশিত তথ্য এখনও সীমিত বলে পর্যবেক্ষণ করেছে যুক্তরাষ্ট্র।
অন্তর্বর্তী সরকার একটি ইলেকট্রনিক সরকারি ক্রয়ব্যবস্থা চালু করেছে। তবে এ ব্যবস্থায় জনগণের প্রবেশাধিকার আরও সহজ ও কার্যকর করার সুযোগ রয়েছে বলেও প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রের সুপারিশ
বাংলাদেশের আর্থিক স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি বাড়াতে বেশ কয়েকটি সুপারিশ করেছে যুক্তরাষ্ট্র। এর মধ্যে রয়েছে—
আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত নীতিমালা অনুসরণ করে বাজেটের নথি প্রস্তুত করা;
নির্বাহী কার্যালয়গুলোর ব্যয় আলাদাভাবে প্রকাশ করা;
বাজেটে সরকারের মোট রাজস্ব ও ব্যয়ের পূর্ণাঙ্গ চিত্র তুলে ধরা;
অনুমোদিত বাজেটের সঙ্গে প্রকৃত রাজস্ব ও ব্যয়ের সামঞ্জস্য নিশ্চিত করা;
সর্বোচ্চ নিরীক্ষা প্রতিষ্ঠানের আন্তর্জাতিক মানদণ্ড অনুযায়ী স্বাধীনতা নিশ্চিত করা;
পুরো বছরের বাস্তবায়িত বাজেটে সময়মতো ও সরাসরি প্রবেশের জন্য পর্যাপ্ত সম্পদ নিশ্চিত করা;
নিরীক্ষা প্রতিবেদন যথাসময়ে প্রকাশ করা;
নিরীক্ষা প্রতিবেদনে গুরুত্বপূর্ণ ফলাফল, সুপারিশ ও বিস্তারিত তথ্য অন্তর্ভুক্ত করা;
প্রাকৃতিক সম্পদ আহরণের চুক্তি ও লাইসেন্স প্রদানের মৌলিক তথ্য প্রকাশ করা;
সরকারি ক্রয়সংক্রান্ত চুক্তির তথ্য আরও বিস্তৃতভাবে জনসমক্ষে প্রকাশ করা।
স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিই মূল লক্ষ্য
যুক্তরাষ্ট্রের এই প্রতিবেদনে বাংলাদেশের আর্থিক ব্যবস্থাপনায় সাম্প্রতিক কিছু অগ্রগতির পাশাপাশি যেসব ঘাটতি রয়েছে, সেগুলোও তুলে ধরা হয়েছে। বিশেষ করে সরকারি রাজস্ব-ব্যয়ের পূর্ণাঙ্গ তথ্য প্রকাশ, স্বাধীন নিরীক্ষা এবং সরকারি ক্রয়প্রক্রিয়ায় তথ্যপ্রকাশ বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।
বিশ্লেষকদের মতে, রাষ্ট্রীয় অর্থ ব্যবস্থাপনায় স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করা গেলে সরকারি ব্যয়ের কার্যকারিতা বাড়ানোর পাশাপাশি দুর্নীতি ও অনিয়মের ঝুঁকিও কমানো সম্ভব। যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিবেদনের সুপারিশগুলো বাস্তবায়ন হলে বাংলাদেশের আর্থিক ব্যবস্থাপনায় আন্তর্জাতিক মানের স্বচ্ছতা প্রতিষ্ঠার ক্ষেত্রে আরও অগ্রগতি হতে পারে।

আরো সংবাদ পড়ুন
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত
ওয়েবসাইট ডিজাইন : ইয়োলো হোস্ট