
আদালত বার্তা রিপোর্টঃ ১২ আগস্ট ২০২৬
ঢাকা: বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের বিচারকক্ষে গণমাধ্যমের প্রবেশে বাধা সৃষ্টি করা রাষ্ট্রের সংবিধান লঙ্ঘনের সামিল বলে মন্তব্য করেছেন সাংবাদিক নেতারা। এই সিদ্ধান্ত থেকে সরে আসার আহ্বান জানিয়ে তাঁরা বলেন, বিচার বিভাগে কোনো প্রশাসনিক সমস্যা থাকলে তা আলোচনার মাধ্যমে সমাধান সম্ভব। অন্যথায় সাংবাদিকদের অধিকার আদায়ে পেশাজীবী সংগঠনগুলো ঐক্যবদ্ধ কর্মসূচির মাধ্যমে প্রবেশাধিকার নিশ্চিত করতে বাধ্য হবে।
বুধবার দুপুরে সুপ্রিম কোর্টের প্রধান ফটকের সামনে ল’ রিপোর্টার্স ফোরামের (এলআরএফ) উদ্যোগে আয়োজিত এক অবস্থান কর্মসূচিতে বক্তারা এসব কথা বলেন। বিচারপ্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা, উন্মুক্ত বিচারব্যবস্থা এবং জনগণের তথ্য জানার অধিকার রক্ষায় বিচারকক্ষে সাংবাদিকদের অবাধ প্রবেশাধিকার পুনর্বহালের দাবি জানান তাঁরা।
সংহতি জানিয়ে সম্পাদক পরিষদের সভাপতি ও নিউ এজ সম্পাদক নুরুল কবীর বলেন, “ওপেন কোর্টে বা প্রকাশ্য আদালতে বিচারকার্য পরিচালনা করা বাংলাদেশের সাংবিধানিক বাধ্যবাধকতা। সংবিধানপ্রদত্ত অধিকার ক্ষুণ্ন হলে বিচার বিভাগ তা সমুন্নত রাখবে—এটাই প্রত্যাশিত। কিন্তু সেই বিভাগ নিজেই যদি অধিকার লঙ্ঘন করে, তবে তা অত্যন্ত দুঃখজনক ও লজ্জাজনক।”
তিনি আরও বলেন, গণঅভ্যুত্থানের পর দেশে গণতন্ত্র ও ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠার যে লক্ষ্য নির্ধারিত হয়েছে, সেখানে আদালতের কার্যক্রম গণমাধ্যমের মাধ্যমে জনগণকে জানানো জরুরি। কিন্তু সুপ্রিম কোর্টের শীর্ষ নেতৃত্ব তথ্য পাওয়ার সাংবিধানিক অধিকার থেকে জনগণকে বঞ্চিত করছে। অতীতে বিভিন্ন সরকারের সময় সংবাদমাধ্যম বিচার বিভাগের পাশে দাঁড়িয়েছিল উল্লেখ করে তিনি দ্রুত আলোচনার মাধ্যমে এই সংকট সমাধানের আহ্বান জানান।
ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়নের (ডিইউজে) সভাপতি শহীদুল ইসলাম বলেন, “মানুষ ন্যায়বিচারের শেষ আশ্রয়স্থল হিসেবে আদালতে যায়। কিন্তু আদালত নিজেই যদি মৌলিক অধিকার ক্ষুণ্ন করে, তবে মানুষ কোথায় যাবে?” তথ্যের অধিকার প্রতিষ্ঠার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, দাবি আদায় না হলে সাংবাদিক সমাজ রাজপথে নামতে বাধ্য হবে।
ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির (ডিআরইউ) সভাপতি আবু সালেহ আকন বিচারকক্ষে সাংবাদিকদের প্রবেশে বাধার কারণ নিয়ে প্রশ্ন তোলেন। তিনি বলেন, পেশাগত দায়িত্ব পালনে কোনো বাধা সাংবাদিক সমাজ মেনে নেবে না। সাংবাদিকদের পেশাগত অধিকার নিশ্চিতে প্রয়োজনে প্রধান বিচারপতির সাথে আলোচনা করতে সরকারের প্রতি আহ্বান জানান তিনি।
এলআরএফের সাবেক সভাপতি ও ইত্তেফাকের নির্বাহী সম্পাদক সালেহ উদ্দিন সংবিধানে নির্দেশিত প্রকাশ্য বিচারের নিশ্চয়তার কথা স্মরণ করিয়ে দেন। সাবেক সহসভাপতি ইলিয়াস হোসেন, সাবেক সভাপতি এম বদি-উজ-জামান, সাঈদ আহমেদ খান, আশুতোষ সরকার, ওয়াকিল আহমেদ হিরন, শামীমা আক্তার ও হাবিবুর রহমানসহ অন্যান্য বক্তারাও বিচারপ্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা বজায় রাখতে মিডিয়ার নিরপেক্ষ ভূমিকার ওপর জোর দেন।
বাংলাদেশ ক্রাইম রিপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের (ক্র্যাব) সাধারণ সম্পাদক এমএম বাদশাহ, রিপোর্টার্স অ্যাগেইন্সট করাপশনের (র্যাক) সভাপতি শাফিউদ্দীন আহমদ এবং রিপোর্টার্স ফোরাম ফর ইলেকশন অ্যান্ড ডেমোক্রেসির (আরএফইডি) সাধারণ সম্পাদক ইকরাম উদ্দৌলা কর্মসূচিতে উপস্থিত থেকে এলআরএফের দাবির প্রতি পূর্ণ সমর্থন জানান।
এলআরএফের সাধারণ সম্পাদক আরাফাত মুন্নার সঞ্চালনায় এবং সভাপতি মুহাম্মদ ইয়াছিনের সভাপতিত্বে এ কর্মসূচিতে সংগঠনের প্রায় দুই শতাধিক সদস্য অংশ নেন।
সভাপতির বক্তব্যে মুহাম্মদ ইয়াছিন বলেন, “সাংবাদিকদের স্বাভাবিক দায়িত্ব পালনে বাধা দিলে সুপ্রিম কোর্টের আপিল ও হাইকোর্ট বিভাগের বিচারপ্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ব্যাহত হয়। দ্রুত এই সিদ্ধান্ত প্রত্যাহার না করা হলে শিগগিরই সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগের বিচারকক্ষে প্রবেশের মতো কঠোর কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে।”