শনিবার, ০১ অগাস্ট ২০২৬, ০৯:৪৫ অপরাহ্ন
Title :
মফস্বলে সাংবাদিকদের ওপর নির্যাতন বাড়ছে: জুলাইয়ে ৫০ জন ক্ষতিগ্রস্ত, ৯১% ঘটনা জেলা-উপজেলায় কক্সবাজারে প্যারাসেইলিং দুর্ঘটনায় পর্যটকের মৃত্যু, নিরাপত্তা ব্যবস্থায় প্রশ্ন জুলাইয়ের চেতনা মুক্তিযুদ্ধের ধারাবাহিকতা: তথ্যমন্ত্রী গবেষণায় চৌর্যবৃত্তি ও অনিয়ম: বাংলাদেশের উচ্চশিক্ষায় আস্থার সংকট জুলাই আন্দোলনের হত্যা মামলা: পিবিআইয়ের অভিযোগপত্রে শেখ হাসিনাসহ ৫০ জন অভিযুক্ত, ৪৯ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রমাণিত হয়নি বাংলাদেশিদের জন্য দ্রুত ভারতীয় ভিসা কার্যক্রম স্বাভাবিক করার তাগিদ জুলাইয়ে বেড়েছে ধর্ষণ ও আত্মহত্যা সৌদি প্রতিরক্ষা জোটে বাংলাদেশের যোগ দেওয়ার অর্থ কী? নিউজ ডেস্ক আদালত বার্তাঃ১ আগস্ট ২০২৬ পাঁচ রুটে মনোরেল পরিকল্পনা: সমীক্ষার দায়িত্বে বুয়েট, ২০২৯ সালের মধ্যে দুই রুট চালুর লক্ষ্য আইনের রক্ষকরাই এখন ঝুঁকিতে: পুলিশ সদস্যদের ওপর ধারাবাহিক হামলায় উদ্বেগ বাড়ছে

মফস্বলে সাংবাদিকদের ওপর নির্যাতন বাড়ছে: জুলাইয়ে ৫০ জন ক্ষতিগ্রস্ত, ৯১% ঘটনা জেলা-উপজেলায়

  • প্রকাশিত: শনিবার, ১ আগস্ট, ২০২৬
  • ২ বার পড়া হয়েছে

মফস্বলে সাংবাদিকদের ওপর নির্যাতন বাড়ছে: জুলাইয়ে ৫০ জন ক্ষতিগ্রস্ত, ৯১% ঘটনা জেলা-উপজেলায়
নিউজ ডেস্ক, আদালত বার্তা | ১ আগস্ট ২০২৬
দেশে সাংবাদিকদের নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। গত জুলাই মাসে দেশের বিভিন্ন স্থানে সাংবাদিক নির্যাতনের অন্তত ৩৯টি ঘটনা ঘটেছে, যেখানে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন ৫০ জন সাংবাদিক। এসব ঘটনার মধ্যে সবচেয়ে বেশি ছিল প্রাণনাশের হুমকি, যা সাংবাদিকদের স্বাধীনভাবে পেশাগত দায়িত্ব পালনে বড় বাধা হয়ে দাঁড়াচ্ছে।
শনিবার (১ আগস্ট) প্রকাশিত মিডিয়া ইনিশিয়েটিভ ফর ডেভেলপমেন্ট (মিড)-এর জুলাই ২০২৬ মাসের পর্যবেক্ষণ প্রতিবেদনে এসব তথ্য উঠে এসেছে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, মোট ৩৯টি ঘটনার মধ্যে ১৯টি (৪৮.৭%) ছিল প্রাণনাশের হুমকি। এছাড়া ১১টি (২৮.২%) শারীরিক হামলা, ৬টি (১৫.৪%) আইনি হয়রানি বা মামলা এবং ৩টি (৭.৭%) গুলিবর্ষণ ও হত্যাচেষ্টার ঘটনা ঘটেছে। বিশ্লেষণে দেখা যায়, সাংবাদিকদের ভয়ভীতি প্রদর্শন করে সংবাদ প্রকাশ থেকে বিরত রাখার উদ্দেশ্যেই এসব হুমকি ও সহিংসতা চালানো হচ্ছে।
সবচেয়ে উদ্বেগজনক বিষয় হলো—এই নির্যাতনের অধিকাংশ ঘটনাই ঘটেছে মফস্বলে। নথিভুক্ত ৩৯টি ঘটনার মধ্যে ৩২টি (৯১.৪%) জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে সংঘটিত হয়েছে। বিপরীতে রাজধানী ও মহানগর এলাকায় ঘটেছে মাত্র ৭টি ঘটনা। এতে স্পষ্টভাবে প্রতীয়মান হয় যে, স্থানীয় পর্যায়ে কর্মরত সাংবাদিকরাই সবচেয়ে বেশি ঝুঁকির মধ্যে রয়েছেন।
প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, এসব ঘটনার সঙ্গে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের স্থানীয় নেতাকর্মী, ভূমিদস্যু, অবৈধ বালু উত্তোলনকারী, মাদক ব্যবসায়ী এবং কিছু ক্ষেত্রে সরকারি কর্মকর্তা ও প্রশাসনের সদস্যদের সম্পৃক্ততার অভিযোগ পাওয়া গেছে। বিশেষ করে দুর্নীতি ও অনিয়ম উন্মোচন, রাজনৈতিক সংঘাতের সংবাদ সংগ্রহ এবং প্রকাশিত প্রতিবেদনের প্রতিশোধ—এই তিনটি কারণকে নির্যাতনের প্রধান উৎস হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে।
আইনি প্রক্রিয়ার ক্ষেত্রেও হতাশাজনক চিত্র উঠে এসেছে। ৩৯টি ঘটনার মধ্যে ১৮টিতে সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করা হলেও মামলা হয়েছে মাত্র ৫টিতে। গ্রেফতার হয়েছেন কেবল ২ জন অভিযুক্ত। ফলে অধিকাংশ ঘটনায় বিচারিক অগ্রগতি না হওয়ায় দায়মুক্তির সংস্কৃতি আরও শক্তিশালী হচ্ছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
মিডের নির্বাহী পরিচালক রাশেদুল হাসান বলেন, “মফস্বলের সাংবাদিকরা সবচেয়ে বেশি ঝুঁকির মধ্যে রয়েছেন। তারা প্রতিনিয়ত হামলা, হুমকি ও হয়রানির শিকার হচ্ছেন। তাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বিশেষ উদ্যোগ প্রয়োজন।”
তিনি আরও বলেন, সাংবাদিকদের নিরাপদ কর্মপরিবেশ নিশ্চিত করা রাষ্ট্রের সাংবিধানিক দায়িত্ব। এজন্য রাজনৈতিক দল, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী, বিচার বিভাগ, গণমাধ্যম প্রতিষ্ঠান ও নাগরিক সমাজের সমন্বিত উদ্যোগ জরুরি।
বিশ্লেষকরা মনে করছেন, সাংবাদিকদের ওপর বাড়তে থাকা সহিংসতা গণমাধ্যমের স্বাধীনতা ও গণতান্ত্রিক চর্চার জন্য গুরুতর হুমকি। এ পরিস্থিতি মোকাবিলায় দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ না করলে ভবিষ্যতে এর প্রভাব আরও গভীর হতে পারে।

আরো সংবাদ পড়ুন
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত
ওয়েবসাইট ডিজাইন : ইয়োলো হোস্ট