শুক্রবার, ২১ অগাস্ট ২০২৬, ১২:৪৪ অপরাহ্ন
Title :
রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে অংশ নিয়ে বিরোধী দল বিদ্যমান সংবিধান স্বীকৃতি দিয়েছে: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী রাষ্ট্রপতি পদে প্রত্যাশার আলো জাতীয় অভিভাবকত্ব ও সাংবিধানিক মর্যাদার নতুন দিগন্ত এলএনজি মজুত শেষ, এক্সিলারেট টার্মিনাল বন্ধ ফের তীব্র গ্যাস সংকট, চাপে বিদ্যুৎ-শিল্প-বাসাবাড়ি ডাকসু নির্বাচন আয়োজনের প্রাথমিক কার্যক্রম শুরু অংশীজনের মতামত, হলের পরিবেশ ও শৃঙ্খলা পরিস্থিতি পর্যালোচনার উদ্যোগ ৩৫ বছর পর প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ রাষ্ট্রপতি নির্বাচন বাংলাদেশের ২৩তম রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর ধানমন্ডি ৩২ স্মৃতি জাদুঘর ভাঙচুর: ড. ইউনূস–আসিফ নজরুলসহ ২৭ জনের বিরুদ্ধে মামলার আবেদন ক্ষমতা নয়, জনগণের আস্থাই সবচেয়ে বড় শক্তি অতীতের শিক্ষা, বর্তমানের বাস্তবতা ও ভবিষ্যৎ বাংলাদেশের রাজনীতির পথরেখা যুদ্ধ শেষে মধ্যপ্রাচ্যে সামরিক উপস্থিতি কমানোর পরিকল্পনা মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের। অবশেষে বৈধতা পাচ্ছে নিয়ম না মেনে অবৈধভাবে নির্মিত ঢাকা জেলা পরিষদের ২০ তলা ভবন। রাষ্ট্রের চাকা ঘুরুক, কিন্তু মানুষ যেন তার নিচে না পড়ে

রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে অংশ নিয়ে বিরোধী দল বিদ্যমান সংবিধান স্বীকৃতি দিয়েছে: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

  • প্রকাশিত: শুক্রবার, ২১ আগস্ট, ২০২৬
  • ৯ বার পড়া হয়েছে

রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে অংশ নিয়ে বিরোধী দল বিদ্যমান সংবিধান স্বীকৃতি দিয়েছে: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী
নিউজ ডেস্ক, আদালত বার্তা
প্রকাশ: ২১ আগস্ট ২০২৬
৩৫ বছর পর প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ রাষ্ট্রপতি নির্বাচন; মির্জা ফখরুল ২৫৫, অলি আহমদ ৮৮ ভোট
দেশের প্রচলিত সাংবিধানিক কাঠামো অনুসরণ করে ২৩তম রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে বিরোধী পক্ষের অংশগ্রহণকে গণতান্ত্রিক রাজনীতির ইতিবাচক দৃষ্টান্ত হিসেবে দেখছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। তাঁর মতে, বিদ্যমান সাংবিধানিক ও আইনগত প্রক্রিয়ার অধীনে রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার মধ্য দিয়ে বিরোধী পক্ষ কার্যত বর্তমান সংবিধান ও সাংবিধানিক প্রক্রিয়ার প্রতি আস্থা ও স্বীকৃতি প্রকাশ করেছে।
বৃহস্পতিবার (২০ আগস্ট) জাতীয় সংসদে রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের ভোটগ্রহণ ও ফলাফল ঘোষণার পর সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী এ মন্তব্য করেন। তিনি বিরোধী জোটের প্রার্থী কর্নেল (অব.) অলি আহমদের নির্বাচনে অংশগ্রহণের প্রশংসা করে বলেন, প্রতিদ্বন্দ্বিতার মধ্য দিয়েই গণতন্ত্রের সৌন্দর্য প্রকাশ পায়। নির্বাচনে অংশ নেওয়ার পর বিজয়ী প্রার্থীকে অভিনন্দন জানানোর বিষয়টিকেও তিনি ইতিবাচক রাজনৈতিক সংস্কৃতির নিদর্শন হিসেবে উল্লেখ করেন।
২৩তম রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে মির্জা ফখরুলের জয়
বৃহস্পতিবার জাতীয় সংসদ ভবনের অধিবেশন কক্ষে অনুষ্ঠিত রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে বিএনপির মনোনীত প্রার্থী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর ২৫৫ ভোট পেয়ে বাংলাদেশের ২৩তম রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হন। তাঁর একমাত্র প্রতিদ্বন্দ্বী জামায়াত নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় জোট সমর্থিত প্রার্থী কর্নেল (অব.) অলি আহমদ পেয়েছেন ৮৮ ভোট।
নির্বাচনে মোট ৩৪৯ জন সংসদ সদস্য ভোটার ছিলেন। তাঁদের মধ্যে ৩৪৩ জন ভোট দেন এবং সবগুলো ভোটই বৈধ ঘোষণা করা হয়। ফলে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর ১৬৭ ভোটের ব্যবধানে জয়ী হন। প্রধান নির্বাচন কমিশনার ও রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের নির্বাচনি কর্তা এ এম এম নাসির উদ্দিন ফলাফল ঘোষণা করেন।
নির্বাচন কমিশন পরে রাষ্ট্রপতি নির্বাচন আইন, ১৯৯১-এর ১১ ধারা এবং রাষ্ট্রপতি নির্বাচন বিধিমালা, ১৯৯১-এর ১২(৬) বিধি অনুযায়ী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরকে রাষ্ট্রপতি পদে নির্বাচিত ঘোষণা করে প্রজ্ঞাপন জারি করে।
৭০ অনুচ্ছেদ নিয়ে নতুন আলোচনা
রাষ্ট্রপতি নির্বাচনকে ঘিরে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ সাংবিধানিক আলোচনার একটি বিষয় হয়ে উঠেছে সংবিধানের ৭০ অনুচ্ছেদ। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জানিয়েছেন, সরকার এই অনুচ্ছেদে পরিবর্তন আনার উদ্যোগ নিয়েছে এবং সংশোধিত বিধানের ভিত্তিতেই ভবিষ্যতে রাষ্ট্রপতি নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে।
সংবিধানের ৭০ অনুচ্ছেদ মূলত সংসদ সদস্যদের দলীয় অবস্থানের সঙ্গে সম্পর্কিত। এই বিধানের কারণে সংসদীয় রাজনীতিতে দলীয় শৃঙ্খলা ও সংসদ সদস্যের স্বাধীন ভোটাধিকার নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে রাজনৈতিক ও সাংবিধানিক বিতর্ক রয়েছে। রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে সংসদ সদস্যদের স্বাধীনভাবে ভোট দেওয়ার সুযোগ, গোপন ব্যালট এবং ভবিষ্যৎ রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের পদ্ধতি—এসব বিষয়ও সাম্প্রতিক আলোচনায় গুরুত্ব পেয়েছে।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর বক্তব্য অনুযায়ী, ভবিষ্যতে ৭০ অনুচ্ছেদে পরিবর্তন আনা হলে রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে সংসদ সদস্যদের ভোটাধিকার ও দলীয় নিয়ন্ত্রণের বিষয়টি নতুন সাংবিধানিক কাঠামোর অধীনে নির্ধারিত হতে পারে।
বিরোধী দলের অংশগ্রহণের রাজনৈতিক তাৎপর্য
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের দৃষ্টিতে, এবারের রাষ্ট্রপতি নির্বাচন শুধু একজন রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের আনুষ্ঠানিক প্রক্রিয়া নয়; বরং দীর্ঘ সময় পর প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের মাধ্যমে সংসদীয় গণতন্ত্রে একটি নতুন রাজনৈতিক বার্তা তৈরি করেছে।
বিশেষ করে বিরোধী জোটের প্রার্থী অলি আহমদের অংশগ্রহণ এবং পরবর্তী সময়ে বিজয়ী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরকে অভিনন্দন জানানোর ঘটনা রাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বিতার পাশাপাশি প্রাতিষ্ঠানিক প্রক্রিয়ার প্রতি আনুগত্যের বার্তা দিয়েছে। অলি আহমদ নির্বাচনের ফল ঘোষণার পর নবনির্বাচিত রাষ্ট্রপতিকে অভিনন্দন জানিয়েছেন।
তবে ‘নির্বাচনে অংশগ্রহণ’ মানেই কোনো রাজনৈতিক দলের সব সাংবিধানিক বা রাজনৈতিক অবস্থানের পরিবর্তন—এমন সরল সিদ্ধান্তে পৌঁছানোও সমীচীন নয়। নির্বাচনী প্রক্রিয়ায় অংশগ্রহণকে বিদ্যমান আইনি কাঠামো ব্যবহারের সিদ্ধান্ত হিসেবে দেখা যেতে পারে; আর সংবিধান সংস্কার, রাষ্ট্রব্যবস্থার পরিবর্তন কিংবা রাজনৈতিক দাবিদাওয়ার প্রশ্ন আলাদা রাজনৈতিক ও সাংবিধানিক বিতর্কের বিষয়।
সামনে কী?
রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের পর এখন আলোচনার কেন্দ্রে রয়েছে সংবিধানের ৭০ অনুচ্ছেদের সম্ভাব্য সংশোধন এবং ভবিষ্যৎ রাষ্ট্রপতি নির্বাচন কী পদ্ধতিতে অনুষ্ঠিত হবে—সে প্রশ্ন।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ইতোমধ্যে জানিয়েছেন, ৭০ অনুচ্ছেদে পরিবর্তন আনার উদ্যোগ রয়েছে। ফলে সংশোধনী প্রস্তাবটি কীভাবে বাস্তবায়িত হয়, সংসদ সদস্যদের ভোটাধিকার কতটা স্বাধীন হয় এবং ভবিষ্যৎ রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে তার কী প্রভাব পড়ে—সেদিকেই এখন রাজনৈতিক ও সাংবিধানিক মহলের নজর।
সব মিলিয়ে ২০ আগস্টের রাষ্ট্রপতি নির্বাচন বাংলাদেশের সাম্প্রতিক রাজনৈতিক ইতিহাসে একটি গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। ৩৫ বছর পর প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ রাষ্ট্রপতি নির্বাচন, বিরোধী প্রার্থীর অংশগ্রহণ এবং ফল মেনে নেওয়ার রাজনৈতিক বার্তা—সব মিলিয়ে এটি দেশের গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠান ও সাংবিধানিক রাজনীতির ভবিষ্যৎ গতিপথ নিয়ে নতুন আলোচনার সুযোগ তৈরি করেছে।

আরো সংবাদ পড়ুন
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত
ওয়েবসাইট ডিজাইন : ইয়োলো হোস্ট