
শেখ হাসিনার প্রত্যর্পণ ইস্যুতে অনিশ্চিত তারেক রহমানের সম্ভাব্য ভারত সফর
নিউজ ডেস্ক, আদালত বার্তা
১৮ আগস্ট ২০২৬
বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সম্ভাব্য ভারত সফরকে ঘিরে নতুন করে কূটনৈতিক অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। সফরের সময়সূচি এখনো চূড়ান্ত না হলেও সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার প্রত্যর্পণ, ভারত থেকে তাঁর রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড এবং দুই দেশের মধ্যে ‘অনুকূল পরিবেশ’ তৈরির বিষয়টি সফরকে ঘিরে আলোচনার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ইস্যু হয়ে উঠেছে।
সম্প্রতি ভারতের দ্য ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস ও টাইমস অব ইন্ডিয়াসহ বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, তারেক রহমানের সম্ভাব্য নয়াদিল্লি সফরের আগে ঢাকা শেখ হাসিনাকে বাংলাদেশে ফেরত পাঠানোর বিষয়ে ভারতের কাছ থেকে স্পষ্ট অগ্রগতি প্রত্যাশা করছে। ভারতীয় সংবাদমাধ্যমগুলো ঢাকার এসব অবস্থানকে তুলনামূলকভাবে কঠিন অবস্থান হিসেবে বর্ণনা করেছে।
‘অনুকূল পরিবেশ’ চায় ঢাকা
বাংলাদেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের ভারত সফর নিয়ে দুই দেশের মধ্যে আলোচনা অব্যাহত রয়েছে। তবে সফরের আগে একটি অনুকূল ও ইতিবাচক পরিবেশ তৈরির ওপর গুরুত্ব দিচ্ছে ঢাকা। শেখ হাসিনার প্রত্যর্পণের পাশাপাশি বাংলাদেশ থেকে ভারতে অবস্থানরত অন্যান্য অভিযুক্ত বা পলাতক ব্যক্তিদের বিষয়ও আলোচনায় রয়েছে।
কূটনৈতিক সূত্রের বরাতে ভারতীয় সংবাদমাধ্যমগুলো জানিয়েছে, শেখ হাসিনার বিষয়টি বর্তমানে ঢাকা-দিল্লি আলোচনার অন্যতম স্পর্শকাতর ইস্যু। বিশেষ করে ভারতের মাটিতে শেখ হাসিনার সাম্প্রতিক রাজনৈতিক বক্তব্য দুই দেশের সম্পর্কে নতুন করে উত্তেজনা তৈরি করেছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
প্রত্যর্পণ নিয়ে ভারতের অবস্থান
ভারতের পক্ষ থেকে ইঙ্গিত দেওয়া হয়েছে, শেখ হাসিনার প্রত্যর্পণের বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত শুধু রাজনৈতিক আলোচনার মাধ্যমে হবে না; বিষয়টি ভারতের বিদ্যমান আইন ও প্রত্যর্পণ-সংক্রান্ত প্রক্রিয়ার আওতায় বিবেচিত হবে। দ্য ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস-এর প্রতিবেদনে ভারতীয় সরকারি কর্মকর্তাদের উদ্ধৃত করে বলা হয়েছে, এ ধরনের প্রত্যর্পণ অনুরোধ ভারতীয় বিচারিক প্রক্রিয়ার আওতায় যেতে পারে। একই সঙ্গে ঢাকা-দিল্লির মধ্যে উত্তেজনা কমাতে জোর আলোচনা চলছে।
ফলে ঢাকার প্রত্যাশা এবং নয়াদিল্লির আইনি ও কূটনৈতিক অবস্থানের মধ্যে সমন্বয় ঘটানোই এখন গুরুত্বপূর্ণ চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
BRICS সম্মেলনে আমন্ত্রণ বহাল
এদিকে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে ব্রিকস সম্মেলনের আউটরিচ পর্বে অংশগ্রহণের জন্য ভারতের আমন্ত্রণ বহাল রয়েছে বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। ভারতের পক্ষ থেকে তারেক রহমানকে দ্বিপক্ষীয় সফরেরও আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। তবে সম্ভাব্য সফরের সুনির্দিষ্ট সময়সূচি নিয়ে দুই দেশের আলোচনা এখনো শেষ হয়নি।
ভারতীয় সংবাদমাধ্যমের সাম্প্রতিক প্রতিবেদনে সফরটি নিয়ে অনিশ্চয়তার কথা বলা হলেও একই সঙ্গে ঢাকা ও নয়াদিল্লি সম্পর্ক স্বাভাবিক করার জন্য কূটনৈতিক তৎপরতা অব্যাহত থাকার কথাও উঠে এসেছে।
ঢাকা-দিল্লি সম্পর্কে নতুন পরীক্ষা
শেখ হাসিনার প্রত্যর্পণ ইস্যু ছাড়াও সীমান্ত, বাণিজ্য, পানি, নিরাপত্তা ও আঞ্চলিক সহযোগিতার মতো দীর্ঘদিনের গুরুত্বপূর্ণ বিষয় রয়েছে দুই দেশের দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কে। ফলে তারেক রহমানের সম্ভাব্য ভারত সফর কেবল একটি রাষ্ট্রীয় সফর নয়; এটি ঢাকা-দিল্লি সম্পর্কের ভবিষ্যৎ গতিপথ নির্ধারণেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।
বিশ্লেষকদের মতে, শেখ হাসিনা ইস্যুতে দুই পক্ষের অবস্থানের মধ্যে সমঝোতা না হলে সফরের সময়সূচি চূড়ান্ত করতে জটিলতা তৈরি হতে পারে। তবে আলোচনার মাধ্যমে কোনো সমঝোতার পথ বের হলে এই সফর দুই দেশের সম্পর্ক পুনর্গঠনের একটি গুরুত্বপূর্ণ সুযোগও তৈরি করতে পারে।
সব মিলিয়ে, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সম্ভাব্য ভারত সফর বাতিল হয়েছে—এমন কোনো চূড়ান্ত ঘোষণা এখনো পাওয়া যায়নি। বরং সফর নিয়ে ঢাকা ও নয়াদিল্লির মধ্যে কূটনৈতিক আলোচনা অব্যাহত রয়েছে। আগামী দিনগুলোতে শেখ হাসিনার প্রত্যর্পণ প্রশ্নে ভারতের অবস্থান এবং ঢাকার প্রত্যাশার মধ্যে কতটা সমন্বয় হয়, তার ওপরই সফরের ভবিষ্যৎ অনেকাংশে নির্ভর করছে।