রবিবার, ১২ জুলাই ২০২৬, ০৯:৪৪ পূর্বাহ্ন
Title :
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের হৃদয়ে সম্প্রীতির আলোকবর্তিকা: গুরুদুয়ারা নানকশাহী বাংলাদেশের বিচার ব্যবস্থা সংস্কারে আরও তহবিল দিচ্ছে সুইডেন ও ইউএনডিপি বাংলাদেশের বিরুদ্ধে সম্ভাব্য আইনি লড়াইয়ে এস আলম, ব্রিটিশ উকিলদের এক মাসের বিলই প্রায় ৫ কোটি টাকা বন্যা পরিস্থিতি মোকাবিলায় চট্টগ্রামের ৭ উপজেলায় সেনা মোতায়েন ফৌজদারি মামলার তদন্ত কার্যক্রমে গতি আনতে নির্দেশনা জোরদার সপ্তাহে একবারের ইনসুলিন চালু ভারতে, কমবে খরচ ও ইনজেকশনের ঝামেলা সাংবাদিক নিবন্ধনের ব্যবস্থা করতে চায় সরকার দেশে বিচারাধীন মামলার সংখ্যা ৪৬ লাখ ছাড়িয়েছে: সংবিধানের ন্যায়বিচার নিশ্চিতে বাড়ছে চাপ ধানমন্ডিতে চিকিৎসক ধীপ্রার মৃত্যু: কবর থেকে মরদেহ উত্তোলনের নির্দেশ নিজেদের প্রণীত আইনেই মানবতাবিরোধী অভিযোগে বিচারের মুখে আ.লীগ: নিষিদ্ধ ঘোষণার আইনি পথ কতটা বাস্তবসম্মত?

কাজী নিয়োগে ৩ সদস্যের প্যানেল থেকে সিদ্ধান্তে গড়িমসি বেআইনি—হাইকোর্টের পর্যবেক্ষণ

  • প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ১১ জুন, ২০২৬
  • ১১৪ বার পড়া হয়েছে

কাজী নিয়োগে ৩ সদস্যের প্যানেল থেকে সিদ্ধান্তে গড়িমসি বেআইনি—হাইকোর্টের পর্যবেক্ষণ
নিউজ ডেস্ক আদালত বার্তাঃ১১ মে ২০২৬
কাজী (নিকাহ ও তালাক রেজিস্ট্রার) নিয়োগে প্রণীত ৩ সদস্যের প্যানেল থেকে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে সিদ্ধান্ত না নেওয়াকে প্রশাসনিক ব্যর্থতা হিসেবে অভিহিত করেছেন হাইকোর্ট। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, প্যানেল থেকে নিয়োগ প্রদানের ক্ষেত্রে যোগ্য প্রার্থী হলে সাবেক কাজীর সন্তানকে অগ্রাধিকার দিতে হবে।
১৪ নভেম্বর ২০২৪ তারিখে বিচারপতি ফাতেমা নজীব ও বিচারপতি সিকদার মাহমুদুর রাজীর সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ মোঃ আবুল কালাম সরকার বনাম গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার ও অন্যান্য মামলায় এ রায় প্রদান করেন।
মামলার পটভূমি
মামলার বিবরণে জানা যায়, রিট পিটিশনার মোঃ আবুল কালাম সরকারের পিতা মোঃ আলী রেজা সরকার ১৯৭৫ সাল থেকে রংপুরের পীরগঞ্জ এলাকায় অস্থায়ী ভিত্তিতে কাজী হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিলেন। ২০২০ সালে অসুস্থতা ও বার্ধক্যের কারণে দায়িত্ব পালনে অসমর্থ হয়ে তিনি তার পুত্রকে ওই পদে নিয়োগের জন্য আবেদন করেন।
পরবর্তীতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ পদটি শূন্য ঘোষণা করে এবং আইনানুগ প্রক্রিয়া শেষে ৩ সদস্যের একটি মেধাভিত্তিক প্যানেল তৈরি করে, যেখানে পিটিশনারের নাম অন্তর্ভুক্ত ছিল। প্যানেলটি ২০২১ সালে আইন মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হলেও দীর্ঘ সময়েও কোনো সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়নি।
আইনি প্রশ্ন ও রিট দায়ের
“মুসলিম বিবাহ ও তালাক (নিবন্ধন) বিধিমালা, ২০০৯” অনুযায়ী প্যানেল প্রাপ্তির ৩০ দিনের মধ্যে সিদ্ধান্ত নেওয়ার বাধ্যবাধকতা থাকলেও কর্তৃপক্ষ তা পালন করেনি। এ প্রেক্ষিতে পিটিশনার সংবিধানের ১০২ অনুচ্ছেদের অধীনে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন।
আদালতের পর্যবেক্ষণ
হাইকোর্ট তার পর্যবেক্ষণে বলেন, নির্ধারিত সময়ের মধ্যে সিদ্ধান্ত না নেওয়া এবং আদালতের পূর্ববর্তী নির্দেশনা উপেক্ষা করা প্রশাসনের জন্য অনভিপ্রেত। যদিও সময়সীমা লঙ্ঘনের জন্য সরাসরি শাস্তির বিধান নেই, তবুও জনস্বার্থে দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়া উচিত ছিল।
আদালত আরও উল্লেখ করেন, বিধিমালার ৬(৬কা) অনুযায়ী সাবেক কাজীর যোগ্য সন্তান নিয়োগের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার পাওয়ার অধিকারী।
চূড়ান্ত আদেশ
রায়ে আদালত নির্দেশ দেন—
১. আইন সচিবকে রায়ের অনুলিপি প্রাপ্তির ৩০ দিনের মধ্যে প্যানেলের বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিতে হবে।
২. প্যানেল থেকে নিয়োগ প্রদানের সময় পিটিশনার আইনগতভাবে যোগ্য হলে তাকে অগ্রাধিকার দিতে হবে।
এই রায় কাজী নিয়োগ প্রক্রিয়ায় প্রশাসনিক জবাবদিহিতা ও আইনের যথাযথ প্রয়োগ নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে একটি গুরুত্বপূর্ণ দৃষ্টান্ত হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

আরো সংবাদ পড়ুন
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত
Theme Customized By BreakingNews