মঙ্গলবার, ০৬ অক্টোবর ২০২৬, ০৪:০৮ অপরাহ্ন
Title :
কর ফাঁকি ধরতে এনবিআরের এআই প্রযুক্তি: কড়া নজরে বিলাসবহুল গাড়ির মালিকরা কক্সবাজার থেকে মিয়ানমার হয়ে সরাসরি চীন: বাংলাদেশের সামনে ভূ-অর্থনীতির নতুন দিগন্ত বৈধ ভিসা থাকলেই প্রবেশের অধিকার নিশ্চিত নয়: দিল্লি হাইকোর্ট রিমান্ড শেষে মেজর (অব.) আখতারুজ্জামানকে কারাগারে পাঠানোর আবেদন নামের বিভ্রাটে ১০ মাস ধরে কারাগারে নির্দোষ আলমাছ: পরিচয় নিশ্চিতে হাইকোর্টের তদন্তের নির্দেশ যমুনার চরে ৬ হাজার মেগাওয়াটের সৌরবিদ্যুৎ কেন্দ্র: জ্বালানি নিরাপত্তায় নতুন সম্ভাবনা, বাস্তবায়ন নিয়ে প্রশ্ন চাঁদাবাজ ও সন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে ‘জিরো টলারেন্স’: এমপি মিষ্টির পদত্যাগে কাঁপছে অপরাধ জগৎ কড়া নিরাপত্তায় রূপপুরে পৌঁছাল দ্বিতীয় ইউনিটের প্রথম ইউরেনিয়াম চালান বিবাহ ও তালাক নিবন্ধন হচ্ছে ডিজিটাল, কমবে পারিবারিক মামলা ও জালিয়াতি ঘণ্টাপ্রতি শ্রম নয়, দক্ষতার বাজারমূল্যেই বাড়ে সফলতা প্রযুক্তি ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার যুগে টিকে থাকতে কারিগরি দক্ষতার বিকল্প নেই

ক্ষমতার ভিত্তি হতে হবে আইন, পেশিশক্তি নয়’: জাতিসংঘ অধিবেশনে আন্তর্জাতিক আইন ও আদালতের নির্দেশ পালনের কড়া তাগিদ মহাসচিবের

  • প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ২২ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
  • ৬৭ বার পড়া হয়েছে

‘ক্ষমতার ভিত্তি হতে হবে আইন, পেশিশক্তি নয়’: জাতিসংঘ অধিবেশনে আন্তর্জাতিক আইন ও আদালতের নির্দেশ পালনের কড়া তাগিদ মহাসচিবের

আন্তর্জাতিক নিউজ ডেক্স আদালত বার্তাঃ২২সেপ্টেম্বর ২০২৬

​জাতিসংঘের ৮১তম সাধারণ অধিবেশনে আন্তর্জাতিক আইন, জাতিসংঘ সনদ এবং আন্তর্জাতিক বিচার আদালতের (আইসিজে) রায় বাস্তবায়নের ওপর জোর দিয়েছেন সংস্থাটির মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস। গাজায় নজিরবিহীন প্রাণহানি, ইউক্রেনে জাতিসংঘ সনদের লঙ্ঘন এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার (এআই) অনিয়ন্ত্রিত প্রসারের প্রেক্ষাপটে তিনি বৈশ্বিক শাসনকাঠামোয় আইনের শাসন প্রতিষ্ঠার কড়া বার্তা দিয়েছেন।

​মঙ্গলবার (২২ সেপ্টেম্বর ২০২৬) সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে দেয়া ভাষণে বৈশ্বিক সংঘাত ও ক্ষমতার পালাবদলের আইনি দিকগুলো তুলে ধরেন তিনি।

​আন্তর্জাতিক বিচার আদালতের (ICJ) রায় ও গাজা পরিস্থিতি

​গাজায় চলমান ধ্বংসযজ্ঞের প্রসঙ্গে গুতেরেস আন্তর্জাতিক বিচার আদালতের (আইসিজে) সাম্প্রতিক আইনি মতামতের কথা স্মরণ করিয়ে দেন। তিনি স্পষ্টভাবে উল্লেখ করেন, আন্তর্জাতিক আদালত নির্দেশ দিয়েছেন যে, গাজায় জাতিসংঘ ও এর মানবিক সহায়তাকর্মীদের সুরক্ষা দিতে হবে এবং তাদের নির্বিঘ্নে দায়িত্ব পালন করতে দিতে হবে। সংঘাতে জড়িত সব পক্ষকে অবশ্যই আন্তর্জাতিক আইন ও আদালতের আদেশ পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে মেনে চলার আইনি বাধ্যবাধকতা স্মরণ করিয়ে দেন তিনি।

​ক্ষমতার ভিত্তি হবে আইন, সামরিক শক্তি নয়

​শুধু সামরিক বা প্রযুক্তিগত শক্তির মাধ্যমে শান্তি প্রতিষ্ঠার ধারণাকে নাকচ করে দিয়ে মহাসচিব বলেন, বৈশ্বিক ক্ষমতা পরিচালিত হতে হবে আইনের মাধ্যমে। তিনি বলেন, “কার জীবন ও ভবিষ্যৎ গুরুত্বপূর্ণ হবে, তা নির্ধারণের চূড়ান্ত মাপকাঠি শক্তি হতে পারে না।” একুশ শতকে শান্তি প্রতিষ্ঠায় আইনি কাঠামো ও সংযমের উপস্থিতিকে অপরিহার্য বলে মন্তব্য করেন তিনি।

​জাতিসংঘ সনদের লঙ্ঘন ও ইউক্রেন যুদ্ধ

​আন্তর্জাতিক আইনের অন্যতম ভিত্তি ‘জাতিসংঘ সনদ’ (UN Charter) লঙ্ঘনের তীব্র সমালোচনা করেন গুতেরেস। ইউক্রেনে রাশিয়ার পূর্ণমাত্রার আগ্রাসনকে ‘বর্বর যুদ্ধ’ আখ্যা দিয়ে তিনি বলেন, এটি জাতিসংঘ সনদের সুস্পষ্ট লঙ্ঘন। আন্তর্জাতিক আইনি বাধ্যবাধকতা অমান্য করে বেসামরিক নাগরিকদের ওপর হামলা ও যুদ্ধ পরিচালনা বিশ্বশান্তির জন্য চরম হুমকিস্বরূপ বলে সতর্ক করেন তিনি।

​কাঠামোগত ন্যায়বিচার ও এআইয়ের আইনি চ্যালেঞ্জ

​বৈশ্বিক শাসনকাঠামোতে ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠায় জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদে কাঠামোগত সংস্কারের দাবি জানান গুতেরেস। নিরাপত্তা পরিষদে আফ্রিকার স্থায়ী আসন না থাকাকে তিনি ‘অন্যায্য ও অগ্রহণযোগ্য’ অবিচার বলে আখ্যায়িত করেন।

​একইসঙ্গে তিনি সতর্ক করে বলেন, বৈশ্বিক ক্ষমতা এখন রাষ্ট্র ও ব্যক্তির হাত থেকে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) এবং স্বয়ংক্রিয় অস্ত্রের দিকে স্থানান্তরিত হচ্ছে। বিশ্বব্যবস্থার বর্তমান আইনি কাঠামো ও প্রতিষ্ঠানগুলো এই নতুন প্রযুক্তিগত পরিবর্তন ও এর আইনি চ্যালেঞ্জ মোকাবিলার জন্য এখনো প্রস্তুত নয় বলে তিনি গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেন।

আরো সংবাদ পড়ুন
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত
ওয়েবসাইট ডিজাইন : ইয়োলো হোস্ট