সোমবার, ১৩ জুলাই ২০২৬, ০৪:১৪ পূর্বাহ্ন
Title :
UD Case মানেই হত্যা নয়: অপমৃত্যুর রহস্য উদঘাটনে আইনের প্রাথমিক অনুসন্ধান প্রক্রিয়া গণতান্ত্রিক আইনজীবী সমিতির নেতৃত্বে সুব্রত-তারিক রাষ্ট্র, রাজনীতি ও আইন অঙ্গনের প্রজ্ঞাবান ব্যক্তিত্ব ব্যারিস্টার জমির উদ্দিন সরকারের প্রয়াণে শোকের ছায়া ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের হৃদয়ে সম্প্রীতির আলোকবর্তিকা: গুরুদুয়ারা নানকশাহী বাংলাদেশের বিচার ব্যবস্থা সংস্কারে আরও তহবিল দিচ্ছে সুইডেন ও ইউএনডিপি বাংলাদেশের বিরুদ্ধে সম্ভাব্য আইনি লড়াইয়ে এস আলম, ব্রিটিশ উকিলদের এক মাসের বিলই প্রায় ৫ কোটি টাকা বন্যা পরিস্থিতি মোকাবিলায় চট্টগ্রামের ৭ উপজেলায় সেনা মোতায়েন ফৌজদারি মামলার তদন্ত কার্যক্রমে গতি আনতে নির্দেশনা জোরদার সপ্তাহে একবারের ইনসুলিন চালু ভারতে, কমবে খরচ ও ইনজেকশনের ঝামেলা

বাংলাদেশে কি চলছে? এরা কি মুসলিম দাবী করে নিজেদের?

  • প্রকাশিত: শনিবার, ১৬ মার্চ, ২০২৪
  • ৫২৮ বার পড়া হয়েছে

বাংলাদেশে কি চলছে?
এরা কি মুসলিম দাবী করে নিজেদের?
সম্পাদকীয়, আদালত বার্তাঃ১৬ মার্চ ২০২৪

মানুষের অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড পরিচালনার জন্য মদিনায় রাসূল (সা.) ইসলামি বাজার প্রতিষ্ঠা করেছিলেন। বনু কায়নুকার বাজারটির পরিচালনার দায়িত্ব তিনি নিজেই নিয়েছিলেন। এ বাজারটির বৈশিষ্ট্য ছিল-এখানে কোনো রকম ধোঁকা-প্রতারণা, ঠকবাজি, মাপে কম-বেশি করার বা পণ্যদ্রব্য মজুত অথবা গুদামজাত করে কৃত্রিম মূল্যবৃদ্ধি করে জনগণকে কষ্ট দেওয়ার সুযোগই ছিল না। হজরত আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসূল (সা.) একদিন এক বিক্রেতার খাদ্যের স্তূপের সামনে দিয়ে যাচ্ছিলেন, তখন তিনি তাঁর হাত ওই খাদ্যের স্তূপে প্রবেশ করান, এতে তাঁর হাত ভিজে গেল এবং অনুপযুক্ত খাদ্যের সন্ধান পেলেন। তখন রাসূল (সা.) বললেন, হে খাদ্য বিক্রেতা! এগুলো কী? তখন সে বলল, ইয়া রাসূলাল্লাহ! খাদ্যগুলো বৃষ্টিতে ভিজে গেছে। রাসূল (সা.) বললেন, তুমি এই ভিজা খাদ্যগুলো ওপরে রাখোনি কেন, যাতে সবাই তা দেখে নিতে পারে? যে ব্যক্তি কাউকে ধোঁকা দেবে সে আমার উম্মত নয়। (সহিহ মুসলিম, হাদিস নং-২৯৫; তিরমিযি, হাদিস নং-১৩১৫)।

আল্লাহতায়ালা ব্যবসাকে হালাল করে ঘোষণা করে বলেছেন, ‘তোমাদের জন্য ব্যবসাকে হালাল করা হয়েছে আর সুদকে করা হয়েছে হারাম।’ (সূরা বাকারা, আয়াত-২৭৫)। ব্যবসায়ীদের সুসংবাদ দিয়ে রাসূল (সা.) আরও বলেছেন, সত্যবাদী ও বিশ্বস্ত ব্যবসায়ীরা কিয়ামতের দিন নবি, সিদ্দিক ও শহিদদের সঙ্গে থাকবে। (তিরমিযি, হাদিস নং-১২০৯)। অন্য হাদিসে এসেছে, রাসূল (সা.) বলেছেন, সত্যবাদী ব্যবসায়ী প্রথম জান্নাতে প্রবেশ করবে। (মুসান্নাফে ইবনে আবি শাইবা, হাদিস নং-৩৭১৯৬)। সুতরাং বোঝা গেল, ব্যবসা করাও একটি ইবাদত হবে যদি ব্যবসায়ী ভাইরা ব্যবসায় জুলুম, ধোঁকাবাজি, প্রতারণা, ঠকবাজি, মুনাফালাভের আশায় পণ্য গুদামজাত করে কৃত্রিম সংকট তৈরি করে মূল্যবৃদ্ধি, কালোবাজারি এবং হারাম জিনিসের ব্যবসা থেকে বেঁচে থাকেন। এটা সব সময়ের জন্য। আর রমজান যেহেতু ইবাদতের মাস, মানুষের সেবা করে জান্নাতের পথে এগিয়ে যাওয়ার মাস সেহেতু এ মাসে সেবার মাত্রা আরও বাড়িয়ে দিয়ে পণ্যসামগ্রীর দাম কমিয়ে দিলে আল্লাহর প্রিয় বান্দা হওয়ার পথে আরও এগিয়ে যাওয়া যাবে।

এ কারণে মুসলিম ব্যবসায়ীদের দায়িত্ব ও কর্তব্য হলো, কিছুটা ক্ষতি স্বীকার করে হলেও রমজানুল মুবারকে দ্রব্যমূল্য স্থিতিশীল রাখার চেষ্টা করা। এতে যেমন মুসলমানদের ভাবমর্যাদা উজ্জ্বল হবে তেমনি মানবসেবারও সাওয়াব পাওয়া যাবে। তা ছাড়া রাসূল (সা.) কিন্তু বলেছেন, এ মাসে মুমিন বান্দার রিজিক বাড়িয়ে দেওয়া হয়। (সহিহ ইবনে খুযাইমা, হাদিস নং-১৮৮৭)। আল্লাহতায়ালা আমাদের সব ব্যবসায়ী ভাইদের দ্রব্যমূল্য স্থিতিশীল রেখে মানবসেবায় এগিয়ে আসার তাওফিক দান করুন। আমিন।

আরো সংবাদ পড়ুন
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত
Theme Customized By BreakingNews