বুধবার, ১২ অগাস্ট ২০২৬, ০৬:৫১ পূর্বাহ্ন
Title :
মির্জা ফখরুল রাষ্ট্রপতি হলে বিএনপিতে শূন্য হবে গুরুত্বপূর্ণ দুই পদ, বদল আসতে পারে মন্ত্রিসভাতেও সুপ্রিম কোর্ট লিগ্যাল এইড অফিসে মধ্যস্থতা (ADR) কার্যক্রম শুরু: বিচারপ্রার্থীদের জন্য এক নতুন দিগন্ত চার কোটি টাকা আত্মসাতের মামলা: অ্যাম্বুলেন্সে আদালতে ফারমার্স ব্যাংকের সাবেক কর্মকর্তা হাইকোর্টের ৫৫টি বেঞ্চ পুনর্গঠন করলেন প্রধান বিচারপতি। অতিরিক্ত দামের কারনে মার্কিন প্রতিষ্ঠানের সাথে দীর্ঘমেয়াদি এলএনজি চুক্তি স্থগিত ই-গভর্নেন্স ও প্রযুক্তিতে বাংলাদেশের অংশীদার হতে চায় এস্তোনিয়া: নেওয়া হবে আইটি ও স্বাস্থ্য খাতের দক্ষ জনশক্তি মেট্রোরেল লাইন-৬: সেফটি অডিট কমিটির সুপারিশ ও হাই কোর্টের নির্দেশ বাস্তবায়নে ডিএমটিসিএলের বিস্তৃত পদক্ষেপ পদ্মা সেতু হয়ে ঢাকা-গোপালগঞ্জ রুটে নতুন কমিউটার ট্রেন চালু নিরাপদ খাদ্য কেনাকাটায় উপভোক্তার সচেতনতায় আইন, বাস্তবতা ও নাগরিক দায়িত্ব মোবাইল ব্যাংকিংয়ে জরুরি প্রয়োজনে মিলবে সুদমুক্ত ৫ হাজার টাকা ঋণ

বাংলাদেশে কি চলছে? এরা কি মুসলিম দাবী করে নিজেদের?

  • প্রকাশিত: শনিবার, ১৬ মার্চ, ২০২৪
  • ৫৭৫ বার পড়া হয়েছে

বাংলাদেশে কি চলছে?
এরা কি মুসলিম দাবী করে নিজেদের?
সম্পাদকীয়, আদালত বার্তাঃ১৬ মার্চ ২০২৪

মানুষের অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড পরিচালনার জন্য মদিনায় রাসূল (সা.) ইসলামি বাজার প্রতিষ্ঠা করেছিলেন। বনু কায়নুকার বাজারটির পরিচালনার দায়িত্ব তিনি নিজেই নিয়েছিলেন। এ বাজারটির বৈশিষ্ট্য ছিল-এখানে কোনো রকম ধোঁকা-প্রতারণা, ঠকবাজি, মাপে কম-বেশি করার বা পণ্যদ্রব্য মজুত অথবা গুদামজাত করে কৃত্রিম মূল্যবৃদ্ধি করে জনগণকে কষ্ট দেওয়ার সুযোগই ছিল না। হজরত আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসূল (সা.) একদিন এক বিক্রেতার খাদ্যের স্তূপের সামনে দিয়ে যাচ্ছিলেন, তখন তিনি তাঁর হাত ওই খাদ্যের স্তূপে প্রবেশ করান, এতে তাঁর হাত ভিজে গেল এবং অনুপযুক্ত খাদ্যের সন্ধান পেলেন। তখন রাসূল (সা.) বললেন, হে খাদ্য বিক্রেতা! এগুলো কী? তখন সে বলল, ইয়া রাসূলাল্লাহ! খাদ্যগুলো বৃষ্টিতে ভিজে গেছে। রাসূল (সা.) বললেন, তুমি এই ভিজা খাদ্যগুলো ওপরে রাখোনি কেন, যাতে সবাই তা দেখে নিতে পারে? যে ব্যক্তি কাউকে ধোঁকা দেবে সে আমার উম্মত নয়। (সহিহ মুসলিম, হাদিস নং-২৯৫; তিরমিযি, হাদিস নং-১৩১৫)।

আল্লাহতায়ালা ব্যবসাকে হালাল করে ঘোষণা করে বলেছেন, ‘তোমাদের জন্য ব্যবসাকে হালাল করা হয়েছে আর সুদকে করা হয়েছে হারাম।’ (সূরা বাকারা, আয়াত-২৭৫)। ব্যবসায়ীদের সুসংবাদ দিয়ে রাসূল (সা.) আরও বলেছেন, সত্যবাদী ও বিশ্বস্ত ব্যবসায়ীরা কিয়ামতের দিন নবি, সিদ্দিক ও শহিদদের সঙ্গে থাকবে। (তিরমিযি, হাদিস নং-১২০৯)। অন্য হাদিসে এসেছে, রাসূল (সা.) বলেছেন, সত্যবাদী ব্যবসায়ী প্রথম জান্নাতে প্রবেশ করবে। (মুসান্নাফে ইবনে আবি শাইবা, হাদিস নং-৩৭১৯৬)। সুতরাং বোঝা গেল, ব্যবসা করাও একটি ইবাদত হবে যদি ব্যবসায়ী ভাইরা ব্যবসায় জুলুম, ধোঁকাবাজি, প্রতারণা, ঠকবাজি, মুনাফালাভের আশায় পণ্য গুদামজাত করে কৃত্রিম সংকট তৈরি করে মূল্যবৃদ্ধি, কালোবাজারি এবং হারাম জিনিসের ব্যবসা থেকে বেঁচে থাকেন। এটা সব সময়ের জন্য। আর রমজান যেহেতু ইবাদতের মাস, মানুষের সেবা করে জান্নাতের পথে এগিয়ে যাওয়ার মাস সেহেতু এ মাসে সেবার মাত্রা আরও বাড়িয়ে দিয়ে পণ্যসামগ্রীর দাম কমিয়ে দিলে আল্লাহর প্রিয় বান্দা হওয়ার পথে আরও এগিয়ে যাওয়া যাবে।

এ কারণে মুসলিম ব্যবসায়ীদের দায়িত্ব ও কর্তব্য হলো, কিছুটা ক্ষতি স্বীকার করে হলেও রমজানুল মুবারকে দ্রব্যমূল্য স্থিতিশীল রাখার চেষ্টা করা। এতে যেমন মুসলমানদের ভাবমর্যাদা উজ্জ্বল হবে তেমনি মানবসেবারও সাওয়াব পাওয়া যাবে। তা ছাড়া রাসূল (সা.) কিন্তু বলেছেন, এ মাসে মুমিন বান্দার রিজিক বাড়িয়ে দেওয়া হয়। (সহিহ ইবনে খুযাইমা, হাদিস নং-১৮৮৭)। আল্লাহতায়ালা আমাদের সব ব্যবসায়ী ভাইদের দ্রব্যমূল্য স্থিতিশীল রেখে মানবসেবায় এগিয়ে আসার তাওফিক দান করুন। আমিন।

আরো সংবাদ পড়ুন
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত
ওয়েবসাইট ডিজাইন : ইয়োলো হোস্ট