1. multicare.net@gmail.com : আদালত বার্তা :
১৯ বছরে বিচার: শাজনীন হত্যা মামলায় ৬ আসামির মধ্যে ফাঁসি কার্যকর মাত্র ১ জনের - আদালত বার্তা
বৃহস্পতিবার, ১১ জুন ২০২৬, ০৮:০৬ অপরাহ্ন
শিরোনাম :
কাজী নিয়োগে ৩ সদস্যের প্যানেল থেকে সিদ্ধান্তে গড়িমসি বেআইনি—হাইকোর্টের পর্যবেক্ষণ আবেগ নয়, আইনের পথে: মামলা করার আগে পরামর্শ নেওয়ার গুরুত্ব বাড়ছে। চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে ‘চীন-বাংলাদেশ ওশান স্যাটেলাইট গ্রাউন্ড স্টেশন’ উদ্বোধন: সমুদ্র গবেষণায় নতুন দিগন্ত বিয়ে করে অপরাধ করেননি নাসির-তামিমা: খালাসের রায়, আপিলের ঘোষণা বাদীপক্ষের। বাংলাদেশের বিচার ব্যবস্থায় আজ একটি তাৎপর্যপূর্ণ অধ্যায়ের সূচনা হতে যাচ্ছে নাসির-তামিমা-রাকিব মামলায় বিচারের রায় আজ। স্থানীয় নির্বাচনে অংশ নিতে পারবেন আ’লীগ নেতাকর্মীরা: তথ্য উপদেষ্টা স্বাধীন বিচার বিভাগীয় সচিবালয় প্রতিষ্ঠার হাইকোর্টের রায় স্থগিত: আপিল শুনানি ১৬ জুন শেখ হাসিনাসহ অনেকেরই আপিলের সময় শেষ, দণ্ডিতদের সামনে এখন কোন পথ? “আইন জানুন, সচেতন থাকুন” — অজ্ঞতার অন্ধকার থেকে অধিকার রক্ষার আলোয় পল্লবীতে শিশু ধর্ষণ ও হত্যা মামলা আসামি সোহেল-স্বপ্নার মৃত্যুদণ্ড

১৯ বছরে বিচার: শাজনীন হত্যা মামলায় ৬ আসামির মধ্যে ফাঁসি কার্যকর মাত্র ১ জনের

প্রতিবেদকের নাম:
  • প্রকাশিত: রবিবার, ২৪ মে, ২০২৬
  • ৪৫ বার পড়া হয়েছে
  • ১৯ বছরে বিচার: শাজনীন হত্যা মামলায় ৬ আসামির মধ্যে ফাঁসি কার্যকর মাত্র ১ জনের
    বিশেষ প্রতিবেদন,আদালত বার্তাঃ২৫ মে ২০২৬
    দেশের প্রভাবশালী পরিবারের সন্তান হয়েও দীর্ঘ প্রতীক্ষা—বিচার ব্যবস্থার ধীরগতি নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন
    ঢাকা, ২৫ মে — ১৯৯৮ সালের ২৩ এপ্রিল রাত। রাজধানীর এক অভিজাত বাসভবনে ঘটে যায় দেশের অন্যতম আলোচিত এক নৃশংস ঘটনা। ট্রান্সকম গ্রুপের প্রতিষ্ঠাতা লতিফুর রহমানের কন্যা, মাত্র ১৫ বছর বয়সী স্কুলছাত্রী শাজনীন তাসনিম রহমানকে ধর্ষণের পর নির্মমভাবে হত্যা করা হয়। হত্যার সময় তাকে উপর্যুপরি ২৩ বার ছুরিকাঘাত করা হয়েছিল বলে মামলার বিবরণে উঠে আসে।
    শাজনীন ঢাকার স্বনামধন্য স্কলাস্টিকা স্কুলের নবম শ্রেণীর ছাত্রী ছিলেন। ঘটনার দিন বাড়িতে মেরামতের কাজে আসা মিস্ত্রি সাজ্জাদ হাসান এবং বাড়ির গৃহকর্মী শহীদসহ কয়েকজন মিলে পরিকল্পিতভাবে এ হত্যাকাণ্ড সংঘটিত করে বলে অভিযোগে বলা হয়।
    পারিবারিক সূত্র জানায়, ঘটনার কিছুদিন আগে মিস্ত্রি হাসান শাজনীনকে শ্লীলতাহানির চেষ্টা করে। বিষয়টি বাবা-মাকে জানানোর সুযোগ না পেলেও পরে জানাতে চেয়েছিলেন তিনি। তবে সেই আশঙ্কাই কাল হয়ে দাঁড়ায়। নিজেদের অপরাধ ফাঁস হওয়ার ভয়ে পরিকল্পনা করে তাকে হত্যা করা হয়।
    ঘটনার দিন বাড়িতে অতিথি থাকার সুযোগে শাজনীনকে তার নিজ কক্ষে নিয়ে গিয়ে ধর্ষণ করা হয় এবং পরে নির্মমভাবে হত্যা করা হয়।
    এই ঘটনায় দায়ের করা মামলায় দীর্ঘ বিচারিক প্রক্রিয়ার পর ২০০৩ সালে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল ৬ জনকে মৃত্যুদণ্ড প্রদান করে। কিন্তু পরবর্তী আপিল প্রক্রিয়ায় ৫ জন আসামি খালাস পেয়ে যায়।
    অবশেষে দীর্ঘ ১৯ বছর পর, ২০১৭ সালে কেবলমাত্র একজন আসামি—গৃহকর্মী শহীদের ফাঁসি কার্যকর হয়। মূল অভিযুক্ত মিস্ত্রি হাসানসহ বাকি আসামিরা আইনের ফাঁক গলে মুক্তি পায়।
    এই মামলার প্রতিটি ধাপে উপস্থিত থেকে বিচার প্রক্রিয়া পর্যবেক্ষণ করেছেন শাজনীনের বাবা লতিফুর রহমান। তবুও বিচার পেতে তাকে অপেক্ষা করতে হয়েছে প্রায় দুই দশক।শাজনীন হত্যা মামলা কেবল একটি পরিবার বা একটি ঘটনার সীমায় আবদ্ধ নয়; এটি বাংলাদেশের বিচার ব্যবস্থার দীর্ঘসূত্রতা ও জটিলতার প্রতীক হয়ে উঠেছে।
    প্রভাবশালী পরিবারের সন্তান হয়েও যেখানে বিচার পেতে লেগেছে ১৯ বছর, সেখানে সাধারণ মানুষের জন্য বিচার প্রাপ্তি কতটা দুরূহ—এই প্রশ্ন নতুন করে সামনে এসেছে।
    আইন বিশেষজ্ঞদের মতে, তদন্তের দুর্বলতা, সাক্ষ্যপ্রমাণের ঘাটতি, এবং দীর্ঘ আপিল প্রক্রিয়াই এ ধরনের মামলার বিলম্বের অন্যতম কারণ।
    শাজনীন তাসনিম রহমানের হত্যাকাণ্ড দেশের ইতিহাসে এক বেদনাদায়ক অধ্যায় হয়ে থাকবে। এই মামলা মনে করিয়ে দেয়—ন্যায়বিচার শুধু রায় নয়, বরং সময়মতো বিচার পাওয়াও সমান গুরুত্বপূর্ণ।
    বিচার ব্যবস্থার কার্যকারিতা ও স্বচ্ছতা নিশ্চিত না হলে এমন ঘটনার পুনরাবৃত্তি ঠেকানো কঠিন—এমনটাই মনে করছেন সচেতন সমাজ।
আরো সংবাদ পড়ুন
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত
ওয়েবসাইট ডিজাইন প্রযুক্তি সহায়তায়: ইয়োলো হোস্ট