শনিবার, ০৩ অক্টোবর ২০২৬, ০৮:১৩ অপরাহ্ন
Title :
চাঁদাবাজ ও সন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে ‘জিরো টলারেন্স’: এমপি মিষ্টির পদত্যাগে কাঁপছে অপরাধ জগৎ কড়া নিরাপত্তায় রূপপুরে পৌঁছাল দ্বিতীয় ইউনিটের প্রথম ইউরেনিয়াম চালান বিবাহ ও তালাক নিবন্ধন হচ্ছে ডিজিটাল, কমবে পারিবারিক মামলা ও জালিয়াতি ঘণ্টাপ্রতি শ্রম নয়, দক্ষতার বাজারমূল্যেই বাড়ে সফলতা প্রযুক্তি ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার যুগে টিকে থাকতে কারিগরি দক্ষতার বিকল্প নেই বিডিনিউজের প্রধান সম্পাদক তৌফিক ইমরোজ খালিদী আর নেই সাংবাদিকতা কি ‘মামার বাড়ির মোয়া’? সরকারি চাকরিতে পুলিশ ভেরিফিকেশন: নিরাপত্তা যাচাই, নাকি রাজনৈতিক পরিচয় অনুসন্ধান? সড়ক-ফুটপাতে হকার বসলেই মালামাল ক্রোক ও মামলা: ডিএসসিসি প্রশাসকের কঠোর হুঁশিয়ারি। রাড্ডা স্বাস্থ্যকেন্দ্রে হামলা: প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে পদত্যাগ করছেন এমপি মিষ্টি, প্রত্যাহার পুলিশ কর্মকর্তা অপারেশন ক্লিন হার্ট’-এর মতো কোনো অভিযানের পরিকল্পনা নেই সরকারের: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

অবশেষে বৈধতা পাচ্ছে নিয়ম না মেনে অবৈধভাবে নির্মিত ঢাকা জেলা পরিষদের ২০ তলা ভবন।

  • প্রকাশিত: বুধবার, ১৯ আগস্ট, ২০২৬
  • ১৩১ বার পড়া হয়েছে

অবশেষে বৈধতা পাচ্ছে নিয়ম না মেনে অবৈধভাবে নির্মিত ঢাকা জেলা পরিষদের ২০ তলা ভবন।

​নিউজ ডেস্ক , আদালত বার্তাঃ১৯ আগষ্ট ২০২৬

ঢাকাতিন: রাজধানী ঢাকার প্রাণকেন্দ্রে রাজউকের কোনো অনুমোদন ছাড়াই গড়ে উঠেছে ঢাকা জেলা পরিষদের ২০ তলা বহুতল ভবন (ঢাকা জেলা পরিষদ টাওয়ার)। প্রায় ১৬০ কোটি টাকা ব্যয়ে ২০১১ থেকে ২০১৬ সালের মধ্যে নির্মিত এই ভবনটিতে পদে পদে দেখা গেছে গুরুতর অনিয়ম, কমিশন বাণিজ্য ও অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ। ২০১৭ সালে জালিয়াতির বিষয়টি প্রকাশ পাওয়ার পর পুরো কাজের ফাইল গায়েব হয়ে যায়। অথচ বিগত দিনের অনিয়ম ও দুর্নীতির কোনো বিচার কিংবা সুরাহা না করেই ভবনটি চালুর তোড়জোড় শুরু হয়েছে। ভবনটি ভেঙে ফেলা বা জড়িতদের শাস্তির আওতায় আনার বদলে অসাধু প্রক্রিয়ায় উল্টো রাজউক থেকে ভূমি ব্যবহারের ছাড়পত্র দিয়ে অবৈধ ২০ তলা ভবনকে ‘বৈধতা’ দেওয়ার প্রক্রিয়া চূড়ান্ত করা হচ্ছে।

​আইন না মেনে শতকোটি টাকার ভবন

রাজধানীতে যেকোনো বহুতল ভবন নির্মাণের জন্য রাজউকের ভূমি ব্যবহারের ছাড়পত্র, ন্যাশনাল বিল্ডিং কোড, ড্যাপ (DAP)-এর নির্দেশনা অনুসরণ করে নকশা অনুমোদন এবং ফায়ার সার্ভিস, পরিবেশ ও পরিবহন কর্তৃপক্ষের ছাড়পত্র বাধ্যতামূলক। তবে পুরান ঢাকার জজকোর্ট সংলগ্ন এক বিঘারও বেশি জমির ওপর রাজউকের কোনো অনুমোদন ছাড়াই এই ২০ তলা ভবন নির্মাণ করে ঢাকা জেলা পরিষদ। অভিযোগ রয়েছে, তখনকার কর্মকর্তা-কর্মচারী ও ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের যোগসাজশে অদক্ষ নির্মাণকাজ ও কোটি কোটি টাকার কমিশন বাণিজ্য সম্পন্ন করে ২০১৭ সালের পর থেকে সংশ্লিষ্ট সব গুরুত্বপূর্ণ ফাইল গায়েব করে দেওয়া হয়।

​আইন ও বিধিমালার চরম লঙ্ঘন

সাধারণ নিয়মে ভবন তৈরির আগেই ভূমি ব্যবহারের ছাড়পত্র ও নকশা অনুমোদন নিতে হয়। কিন্তু পুরো ভবনের কাজ শেষ হওয়ার দীর্ঘ ৯ বছর পর রাজউক থেকে ‘ভূমি ব্যবহার ছাড়পত্র’ দেওয়া নিয়ে তীব্র প্রশ্নের সৃষ্টি হয়েছে।

  • ​কারিগরি কমিটি ও যৌথ জরিপ: ঢাকা জেলা পরিষদ সম্প্রতি উত্তরা থেকে তাদের কার্যক্রম সরিয়ে পুনরায় পুরান ঢাকায় আনার লক্ষ্যে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান ‘মেসার্স তমা কনস্ট্রাকশন অ্যান্ড কোং লিমিটেড’-এর সঙ্গে চুক্তি বাতিল করে নতুন যৌথ জরিপ শুরু করেছে। পাশাপাশি এলজিইডি (LGEDI)-কে দিয়ে টেকনিক্যাল ভেরিফিকেশনের কাজ চালানো হচ্ছে।
  • ​বিগত দুর্নীতির তথ্য গায়েব: জেলা পরিষদের পক্ষ থেকে এসব উদ্যোগের কথা বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হলেও, বিগত দিনের অর্থ আত্মসাৎ কিংবা ফাইল গায়েবের ব্যাপারে কোনো তদন্ত বা পদক্ষেপের কথা উল্লেখ করা হয়নি।

​নগর পরিকল্পনাবিদ ও রাজউকের বক্তব্য

নগর পরিকল্পনাবিদ ও ইনস্টিটিউট ফর প্ল্যানিং অ্যান্ড ডেভেলপমেন্টের (আইপিডি) নির্বাহী পরিচালক অধ্যাপক ড. আদিল মুহাম্মদ খান বলেন, “সরকারি সংস্থা আইন ভাঙলে তাদের ছাড় দেওয়ার কোনো সুযোগ নেই; বরং দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি হওয়া উচিত। আইন অমান্যকারী সরকারি ভবনে রাজউক শিথিলতা দেখালে সাধারণ মানুষ আর নিয়ম মানবে না।”

​অন্যদিকে রাজউকের নগর পরিকল্পনাবিদ মোহাম্মদ নূর-ই-খোদা জানান, শতকোটি টাকার বেশি খরচ হওয়ায় ভবনটি নষ্ট না করে শর্তসাপেক্ষে নকশা অনুমোদনের সুযোগ দেওয়া হচ্ছে। তবে ওই এলাকার দায়িত্বরত রাজউকের অথরাইজড অফিসার মো. ইলিয়াস স্বীকার করেছেন যে ভবনটি একটি সম্পূর্ণ অবৈধ নির্মাণ হিসেবেই রাজউকের নথিতে রয়েছে।

​ঢাকা জেলা পরিষদের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মো. বদরুদ্দোজা শুভ জানান, মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনেই সব কার্যক্রম শুরু করা হয়েছে এবং পেছনের সব অনিয়ম বা ব্যত্যয় সংশোধন করে রাজউকের শর্ত মেনে ভবনটি চালু করার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।

​নিয়ম অমান্য ও দুর্নীতির নজির স্থাপনকারী এই ভবনটি নিয়ে কোনো দৃষ্টান্তমূলক ব্যবস্থা না নিয়ে কীভাবে মন্ত্রণালয়ের আশ্রয়ে এটি চালু করা হচ্ছে—তা নিয়ে সচেতন মহল ও আইনজীবীদের মধ্যে চরম ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।

আরো সংবাদ পড়ুন
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত
ওয়েবসাইট ডিজাইন : ইয়োলো হোস্ট