মঙ্গলবার, ১৪ জুলাই ২০২৬, ০৪:১৫ পূর্বাহ্ন
Title :
মাসে গড়ে দুই মামলা নিস্পত্তির লক্ষ্য নির্ধারণ কর মামলায় বিকল্প বিরোধ নিষ্পত্তিতে ঝুঁকছে এনবিআর দেনমোহর আদায়ের নীতিমালা তৈরি করতে হাইকোর্টের রুল চট্টগ্রামে দাফনের মাটিটুকুও গিলে খেয়েছে বন্যা পানিতে ভাসছে অবুঝ শিশু থেকে গবাদিপশু নারী মরদেহের পোস্টমর্টেমে নারী ডোম নিয়োগ চেয়ে হাইকোর্টে রিট ত্রাণ বিতরণে বিশৃঙ্খলা: বাস্তবতার স্বীকারোক্তি, নাকি প্রশাসনিক ব্যর্থতার গ্রহণযোগ্যতা? বিক্ষোভে উত্তাল নেপাল, তোপের মুখে বালেন্দ্র শাহ UD Case মানেই হত্যা নয়: অপমৃত্যুর রহস্য উদঘাটনে আইনের প্রাথমিক অনুসন্ধান প্রক্রিয়া গণতান্ত্রিক আইনজীবী সমিতির নেতৃত্বে সুব্রত-তারিক রাষ্ট্র, রাজনীতি ও আইন অঙ্গনের প্রজ্ঞাবান ব্যক্তিত্ব ব্যারিস্টার জমির উদ্দিন সরকারের প্রয়াণে শোকের ছায়া

মাসে গড়ে দুই মামলা নিস্পত্তির লক্ষ্য নির্ধারণ কর মামলায় বিকল্প বিরোধ নিষ্পত্তিতে ঝুঁকছে এনবিআর

  • প্রকাশিত: সোমবার, ১৩ জুলাই, ২০২৬
  • ২ বার পড়া হয়েছে

মাসে গড়ে দুই মামলা নিস্পত্তির লক্ষ্য নির্ধারণ
কর মামলায় বিকল্প বিরোধ নিষ্পত্তিতে ঝুঁকছে এনবিআর
নিউজ ডেস্ক আদালত বার্তাঃ১৩ জুলাই ২০২৬
আয়কর সংক্রান্ত হাজার হাজার মামলা ঝুলে আছে উচ্চ আদালতে। এসব মামলায় জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) কোটি কোটি টাকা আটকে আছে। এসব মামলা দ্রুত সমাধানের জন্য আদালতের পরামর্শেই বিকল্প বিরোধ নিষ্পত্তির (এডিআর) দিকে নতুন করে ঝুঁকছে সরকারের রাজস্ব আদায়কারী প্রতিষ্ঠানটি। এনবিআরের বিতর্কিত ও অবিতর্কিত বকেয়া রাজস্ব আদায়ের ওপর বর্তমান সরকারের চাপের পর ঝুলে থাকা এসব মামলার দ্রুত নিষ্পত্তির উপায় খুঁজতে থাকে এনবিআর। এজন্য টাস্কফোর্স, আদালতের সঙ্গে সমন্বয় করতে কমিটি গঠন, এমনকি রাষ্ট্রের প্রধান আইন কর্মকর্তার (অ্যাটর্নি জেনারেল) সঙ্গেও বৈঠকে বসে এনবিআর। কিন্তু মামলার চলমান গতি বজায় থাকলে বিতর্কিত বকেয়া আদায়ের সুরাহা হওয়া সময়সাপেক্ষ হওয়ায় এডিআরের পরামর্শ দেন অ্যাটর্নি জেনারেল। ফলশ্রুতিতে এডিআরের দিকে জোর দেওয়ার নতুন করে উদ্যোগ নেয় এনবিআর।
এজন্য ৫১টি কর অঞ্চলকে প্রতি মাসে গড়ে দুটি কর মামলার এডিআরে নিষ্পত্তির লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে প্রতিষ্ঠানটির ট্যাকসেস লিগ্যাল অ্যান্ড এনফোর্সমেন্ট শাখা।
গত ৭ জুলাই এ-সংক্রান্ত জারি করা এক নির্দেশনায় ঢাকার অন্তর্গত ২৫টি কর অঞ্চল, চট্টগ্রামের ৬টি, গাজীপুর, নারায়ণগঞ্জ, কুমিল্লা, খুলনা, বরিশাল, সিলেট, রাজশাহী, কুষ্টিয়া, রংপুর, বগুড়া, যশোর, নোয়াখালী, ময়মনসিংহ, কক্সবাজার, দিনাজপুর, ফরিদপুর, নরসিংদী কেন্দ্রীয় কর জরিপ অঞ্চল এবং বৃহৎ করদাতা ইউনিটকে প্রতি মাসে গড়ে দুটি মামলা এডিআরের মাধ্যমে সমাধানের উদ্যোগ নিতে বলা হয়।
নির্দেশনায় বলা হয়, এনবিআরের আওতাধীন কর অঞ্চলসমূহের চলমান মামলার সংখ্যা ৫ হাজার ৩৮৮টি এবং এপ্রিল পর্যন্ত এসব মামলায় জড়িত রাজস্বের পরিমাণ প্রায় ৩৬ হাজার ৩১৩ কোটি টাকা। উচ্চ আদালতে দীর্ঘদিন ধরে এ বিপুলসংখ্যক মামলা চলমান থাকায় সরকারের রাজস্ব আদায় কার্যক্রমে দীর্ঘসূত্রিতার সৃষ্টি হয়েছে, যা রাজস্ব আহরণের অন্তরায়। এ প্রেক্ষাপটে উচ্চ আদালতে চলমান অধিক রাজস্ব জড়িত মামলাগুলোর মধ্যে থেকে প্রতি মাসে গড়ে দুটি মামলা এডিআরের মাধ্যমে নিষ্পত্তির লক্ষ্যে কর অঞ্চলগুলোকে উদ্যোগ নেওয়ার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
জানা যায়, এডিআরের মাধ্যমে বিরোধ নিষ্পত্তির জন্য করদাতাকে আবেদন করতে হয়। এজন্য অগ্রিম ৫ শতাংশ অর্থ পরিশোধের প্রয়োজন হয়। কোনো করদাতা আগ্রহী না হলে এডিআরের এই উদ্যোগ কতটা কাজে আসবে-এমন প্রশ্নের উত্তরে এনবিআরের এক কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, প্রত্যেক কর অঞ্চলের প্রধানের সঙ্গে করদাতাদের নিয়মিত যোগাযোগ থাকে। আদালতে দীর্ঘদিন ধরে ঝুলে থাকা এসব মামলার কারণে নানা সমস্যায় পড়তে হয় করদাতাদের। এজন্য এডিআরের মাধ্যমে সমস্যা সমাধানে তারা আগ্রহী হন।
তিনি আরও বলেন, কিছু ছাড়ের মাধ্যমে করের মামলা সমাধানের সুযোগ তৈরি হয়, যা করদাতারা গ্রহণ করেন। আর রাষ্ট্রও তার বকেয়া পাওনা বুঝে পেতে আইনের মধ্যে থেকেই কিছুটা ছাড় দিয়ে সমাধানের আগ্রহ প্রকাশ করে। এজন্য এটি বিশ্বজুড়ে স্বীকৃত পদ্ধতি, বাংলাদেশেও কার্যকর।
এনবিআরের তথ্যমতে, আদালতের নির্ধারিত প্রক্রিয়ার বাইরে গিয়ে স্বল্পতম সময়ে বিরোধ নিষ্পত্তির প্রক্রিয়াকে এডিআর বলা হয়। এতে করদাতারা যেমন মামলার খরচ থেকে রেহাই পান, তেমনি সরকারও দ্রুত রাজস্ব আদায় করতে সক্ষম হয়।
২০১১-১২ অর্থবছর থেকে বাংলাদেশের কর প্রশাসনে এ পদ্ধতির প্রচলন করা হয়। এরপর ২০১২-১৩ অর্থবছরে ১৪৯টি, ২০১৩-১৪ অর্থবছরে ১৬৭টি, ২০১৪-১৫ অর্থবছরে ১৪৫টি, ২০১৫-১৬ অর্থবছরে ১৬১টি, ২০১৬-১৭ অর্থবছরে ২৭৭টি এবং ২০১৭-১৮ অর্থবছরে ৯৯টি মামলার নিষ্পত্তি হয়। সব মিলিয়ে ৯৯৮টি মামলায় প্রায় ১০ হাজার ৭১৭ কোটি টাকার রাজস্ব বিরোধের সুরাহা হয়। এর মধ্যে সবচেয়ে বড় মামলার সমাধান হয় একটি মুঠোফোন কোম্পানির সঙ্গে। ১৯ বছর ধরে ঝুলে থাকা ৪০০ কোটি টাকার বিরোধ এডিআরের মাধ্যমে সমাধান হয়।
জানা গেছে, বিচারাধীন রাজস্ব মামলার কারণে আপিল ট্রাইব্যুনাল ও হাইকোর্ট পার হয়ে চূড়ান্ত নিষ্পত্তিতে বছরের পর বছর লেগে যায়। ফলে বিচারাধীন মামলার সংখ্যা বাড়ে এবং রাজস্ব আদায়ে গতি কমে যায়।
বর্তমান সরকার ক্ষমতায় আসার পর এই অচলাবস্থা কাটিয়ে রাজস্ব আহরণ বাড়াতে এনবিআরের আয়কর, মূসক ও শুল্ক খাতের জন্য পৃথক তিনটি টাস্কফোর্স গঠন করে।
এই প্রেক্ষাপটে সদ্য বিদায়ী এনবিআর চেয়ারম্যানের দপ্তর থেকে আধা সরকারি পত্র (ডিও) অ্যাটর্নি জেনারেল মো. রুহুল কুদ্দুস কাজলের দফতরে পাঠানো হয়। পত্রে উচ্চ আদালতে ঝুলে থাকা এসব মামলা দ্রুত কার্যতালিকায় আনতে এবং রাজস্ব আদায়ে গতি সঞ্চারের জন্য রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ আইন কর্মকর্তার সহযোগিতা কামনা করা হয়।
ফলশ্রুতিতে গত ২৩ মে অ্যাটর্নি জেনারেলের কার্যালয়ে দিনব্যাপী বৈঠক করেন এনবিআরের দায়িত্বশীল কর্মকর্তারা। সেই সভায় এনবিআরের কর্মকর্তারা আয়কর, মূসক ও শুল্ক সংক্রান্ত মামলার বাছাই করা তালিকা তুলে দেন। তালিকায় ২০০ কোটি টাকা বা তার বেশি রাজস্ব জড়িত মামলাগুলোর দ্রুত নিষ্পত্তির জন্য উচ্চ আদালতের সহযোগিতা চাওয়া হয়। সেই সভায় অ্যাটর্নি জেনারেল মামলা সুরাহায় আদালতের ওপর নির্ভরতা কমিয়ে বিকল্প বিরোধ নিষ্পত্তির গুরুত্বারোপ করেন। এরই ধারাবাহিকতায় এনবিআর এডিআরকে শক্তিশালী করে বকেয়া আদায়ের গতি বাড়াতে উদ্যোগ নিয়েছে।
জানতে চাইলে এনবিআরের দ্বিতীয় সচিব (ট্যাকসেস লিগ্যাল) শরীফ মাহমুদ টাইমস টুডেকে বলেন, করদাতা ও এনবিআরের পারস্পরিক সমঝোতার ভিত্তিতে এডিআরের মাধ্যমে বিতর্কিত কর আদায়ের জন্যেই এই  উদ্যোগ। আদালতের মাধ্যমে কর মামলার সমস্যা সমাধানে যে দীর্ঘসূত্রিতা তৈরি হয় তা পরিহার করতে প্রত্যেক কর অঞ্চলকে এডিআরে মাসে গড়ে দুটি মামলা সুরাহার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করে দেওয়া হয়েছে। 

আরো সংবাদ পড়ুন
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত
Theme Customized By BreakingNews