
যমুনার চরে ৬ হাজার মেগাওয়াটের সৌরবিদ্যুৎ কেন্দ্র: জ্বালানি নিরাপত্তায় নতুন সম্ভাবনা, বাস্তবায়ন নিয়ে প্রশ্ন
জামালপুরের ইসলামপুরে ২০ হাজার একর চরাঞ্চলে সৌরবিদ্যুৎ হাব নির্মাণের পরিকল্পনা | আমদানিনির্ভর জ্বালানি কমানো, বৈদেশিক মুদ্রা সাশ্রয় ও নবায়নযোগ্য জ্বালানিতে নতুন দিগন্তের প্রত্যাশা
নিউজ ডেস্ক, আদালত বার্তা
প্রকাশ: ৩ অক্টোবর ২০২৬
বাংলাদেশের বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতে আমদানিনির্ভরতা কমিয়ে নবায়নযোগ্য জ্বালানির ব্যবহার বাড়ানোর লক্ষ্যে জামালপুরের ইসলামপুরে যমুনা নদীর চরাঞ্চলে দেশের অন্যতম বৃহৎ সৌরবিদ্যুৎ কেন্দ্র স্থাপনের পরিকল্পনা নতুন করে আলোচনায় এসেছে। প্রায় ২০ হাজার একর জমিতে ৫ হাজার থেকে ৬ হাজার মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদনক্ষমতার একটি মেগা সোলার হাব নির্মাণের সম্ভাবনা নিয়ে কাজ করছে সংশ্লিষ্ট সরকারি সংস্থাগুলো।
প্রস্তাবিত এই প্রকল্প বাস্তবায়িত হলে বাংলাদেশের বিদ্যুৎ উৎপাদন ব্যবস্থায় নবায়নযোগ্য জ্বালানির অংশ বাড়বে। একই সঙ্গে কয়লা, তেল ও তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) আমদানির ওপর নির্ভরতা কমানোর সুযোগ তৈরি হতে পারে। তবে বিশাল এই পরিকল্পনাকে বাস্তবে রূপ দিতে জমির মালিকানা, নদীভাঙন, পরিবেশগত প্রভাব, অর্থায়ন, প্রযুক্তি এবং জাতীয় গ্রিডে বিদ্যুৎ সরবরাহের মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলোর সমাধান প্রয়োজন।
বিশ্বব্যাংকের সমীক্ষায় সম্ভাবনার ইঙ্গিত
২০২৪ সালের ৮ মে প্রকাশিত দ্য বিজনেস স্ট্যান্ডার্ডের এক প্রতিবেদনে বলা হয়, বিদ্যুৎ বিভাগের তৎকালীন যুগ্ম সচিব নিরোদ চন্দ্র মণ্ডল জানিয়েছিলেন, জামালপুরের ইসলামপুরে যমুনা নদীর তীরবর্তী প্রায় ২০ হাজার একর চরাঞ্চলে ৫ হাজার থেকে ৬ হাজার মেগাওয়াট ক্ষমতার সৌরবিদ্যুৎ কেন্দ্র স্থাপনের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, বিশ্বব্যাংকের সহায়তায় পরিচালিত সম্ভাব্যতা যাচাইয়ে প্রকল্পটির বিষয়ে ইতিবাচক ফল পাওয়া গিয়েছিল। তবে প্রাথমিক সম্ভাব্যতা যাচাই এবং পূর্ণাঙ্গ কারিগরি, অর্থনৈতিক ও পরিবেশগত সমীক্ষা এক বিষয় নয়।
বাংলাদেশ সরকারের পাওয়ার সেল ২০২৪ সালের ২৮ ফেব্রুয়ারি জামালপুর চরাঞ্চলে সৌরবিদ্যুৎ পার্ক নির্মাণের বিস্তারিত সম্ভাব্যতা সমীক্ষার জন্য পরামর্শক প্রতিষ্ঠান নিয়োগের আগ্রহপত্র আহ্বান করে। পরবর্তী সময়ে ২০২৫ সালের ২২ এপ্রিল একই এলাকার সৌরবিদ্যুৎ পার্কের পরিবেশগত ও সামাজিক প্রভাব সমীক্ষার জন্যও পরামর্শক নিয়োগের বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হয়।
এ থেকে স্পষ্ট, প্রকল্পটি কেবল আলোচনার বিষয় নয়; এর প্রস্তুতিমূলক কার্যক্রমে সরকারি পর্যায়ে প্রাতিষ্ঠানিক উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। তবে ৬ হাজার মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদনক্ষমতা নিশ্চিত হয়েছে কিংবা নির্মাণকাজ শুরু হয়েছে—এমন সিদ্ধান্তে পৌঁছানোর মতো তথ্য এখনো প্রতিষ্ঠিত নয়।
কেন গুরুত্বপূর্ণ এই সৌরবিদ্যুৎ প্রকল্প?
বাংলাদেশের বিদ্যুৎ উৎপাদন ব্যবস্থার অন্যতম বড় চ্যালেঞ্জ হলো জ্বালানির সরবরাহ ও মূল্য। দেশের নিজস্ব গ্যাসের মজুত ও উৎপাদন পরিস্থিতির ওপর চাপ বাড়ার পাশাপাশি আন্তর্জাতিক বাজার থেকে কয়লা, জ্বালানি তেল ও এলএনজি আমদানির প্রয়োজনীয়তা রয়েছে।
আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানির দাম বৃদ্ধি, ডলারের বিনিময় হার, বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভের চাপ এবং আমদানি ব্যয় বিদ্যুৎ উৎপাদনের সামগ্রিক ব্যয়কে প্রভাবিত করে।
এ অবস্থায় সৌরবিদ্যুৎ একটি গুরুত্বপূর্ণ বিকল্প হতে পারে। কারণ সূর্যের আলো ব্যবহার করে বিদ্যুৎ উৎপাদনে জ্বালানি হিসেবে প্রতিনিয়ত কয়লা, তেল বা গ্যাস আমদানি করতে হয় না।
প্রকল্পটি পূর্ণ সক্ষমতায় বাস্তবায়িত হলে সম্ভাব্য সুফলগুলো হতে পারে—
১. বৈদেশিক মুদ্রা সাশ্রয়: সৌরবিদ্যুৎ প্রচলিত আমদানিনির্ভর জ্বালানির বিকল্প হিসেবে ব্যবহৃত হলে জ্বালানি আমদানির ওপর চাপ কমতে পারে। তবে বছরে ঠিক কত ডলার সাশ্রয় হবে, তা নির্ভর করবে উৎপাদিত বিদ্যুতের পরিমাণ, প্রতিস্থাপিত জ্বালানির ধরন, উৎপাদন ব্যয় ও প্রকৃত ব্যবহার পরিস্থিতির ওপর।
২. বিদ্যুৎ উৎপাদনে বৈচিত্র্য: গ্যাস, কয়লা ও তেলনির্ভর বিদ্যুৎকেন্দ্রের পাশাপাশি সৌরবিদ্যুৎ যুক্ত হলে জাতীয় বিদ্যুৎ উৎপাদন ব্যবস্থায় জ্বালানির উৎস বৈচিত্র্যময় হবে।
৩. কৃষিজমির ওপর চাপ কমানোর সুযোগ: চরাঞ্চলের উপযুক্ত ও পরিকল্পিতভাবে নির্বাচিত জমি ব্যবহার করা গেলে দেশের উর্বর কৃষিজমি অধিগ্রহণের প্রয়োজন কমতে পারে। তবে চরাঞ্চলের সব জমি অনাবাদি বা পরিবেশগতভাবে ব্যবহারযোগ্য—এমন ধরে নেওয়া যাবে না।
৪. কর্মসংস্থান ও বিনিয়োগ: প্রকল্প নির্মাণ, প্যানেল স্থাপন, রক্ষণাবেক্ষণ, বিদ্যুৎ সঞ্চালন এবং সংশ্লিষ্ট শিল্পে নতুন কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হতে পারে।
একই জমিতে বিদ্যুৎ উৎপাদন ও কৃষি—সম্ভব কি?
প্রস্তাবিত সৌরবিদ্যুৎ হাবের অন্যতম সম্ভাবনাময় দিক হলো অ্যাগ্রিভোলটাইকস (Agrivoltaics) প্রযুক্তির ব্যবহার।
এই প্রযুক্তিতে একই জমিতে সৌরবিদ্যুৎ প্যানেল স্থাপন এবং কৃষিকাজ পরিচালনার ব্যবস্থা করা হয়। প্যানেলের উচ্চতা, সারিবিন্যাস ও সূর্যালোক প্রবেশের পরিমাণ বিবেচনায় রেখে নির্দিষ্ট ধরনের ফসল উৎপাদন সম্ভব।
কিছু শাকসবজি, মসলা ও ছায়াসহিষ্ণু ফসল উপযুক্ত পরিবেশে প্যানেলের নিচে বা মাঝের জায়গায় চাষ করা যেতে পারে। এতে একই জমি থেকে বিদ্যুৎ ও কৃষিপণ্য—দুই ধরনের উৎপাদনের সুযোগ তৈরি হয়।
তবে সব ফসলের জন্য এই পদ্ধতি উপযোগী নয়। মাটির ধরন, পানির প্রাপ্যতা, বন্যার ঝুঁকি, প্যানেলের উচ্চতা এবং স্থানীয় কৃষি পরিবেশ বিবেচনা করে পরীক্ষামূলকভাবে প্রযুক্তিটি প্রয়োগ করা প্রয়োজন।
৬ হাজার মেগাওয়াট কি দিনের লোডশেডিং কমাতে পারবে?
সৌরবিদ্যুতের সবচেয়ে বড় সুবিধা হলো দিনের বেলায় সূর্যের আলো পাওয়া গেলে বিদ্যুৎ উৎপাদন করা যায়। ফলে দিনের সর্বোচ্চ চাহিদার সময়, বিশেষ করে গ্রীষ্মকালে শিল্পকারখানা, শীতাতপনিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা ও সেচের বিদ্যুৎ চাহিদা পূরণে এটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।
কিন্তু এখানে একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় রয়েছে। ৬ হাজার মেগাওয়াট স্থাপিত উৎপাদনক্ষমতা মানেই প্রতিদিন ৬ হাজার মেগাওয়াট বিদ্যুৎ নিরবচ্ছিন্নভাবে পাওয়া যাবে—এমন নয়। মেঘ, বৃষ্টি, মৌসুমি পরিবর্তন ও দিনের আলোর সময়ের ওপর সৌরবিদ্যুতের উৎপাদন নির্ভর করে।
তাই প্রকল্পটির সঙ্গে আধুনিক ব্যাটারি এনার্জি স্টোরেজ সিস্টেম (BESS), উন্নত সঞ্চালন অবকাঠামো এবং কার্যকর গ্রিড ব্যবস্থাপনা যুক্ত করা জরুরি।
দিনের বেলায় উৎপাদিত অতিরিক্ত বিদ্যুৎ ব্যাটারিতে সংরক্ষণ করে সন্ধ্যা বা রাতের নির্দিষ্ট সময়ে সরবরাহ করা সম্ভব। তবে এত বড় প্রকল্পের জন্য ব্যাটারি স্থাপনের ব্যয়, সংরক্ষণক্ষমতা এবং প্রযুক্তিগত সক্ষমতা আলাদাভাবে মূল্যায়ন করতে হবে।
২০৩০ সালের নবায়নযোগ্য জ্বালানি লক্ষ্যমাত্রা
বাংলাদেশ সরকার ২০৩০ সালের মধ্যে মোট বিদ্যুৎ চাহিদার ২০ শতাংশ নবায়নযোগ্য জ্বালানি থেকে পূরণের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছে। ২০৪০ সালের মধ্যে এই অংশ ৩০ শতাংশে উন্নীত করার লক্ষ্যও ঘোষণা করা হয়েছে।
২০২৬ সালের ৮ জুলাই জাতীয় সংসদে বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদমন্ত্রী এ লক্ষ্যমাত্রার কথা জানান বলে বাংলাদেশ সংবাদ সংস্থার প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
এই লক্ষ্যে পৌঁছাতে শুধু একটি বৃহৎ সৌরবিদ্যুৎ কেন্দ্রের ওপর নির্ভর করলে চলবে না। সরকারি-বেসরকারি ভবনের ছাদে সৌরবিদ্যুৎ, শিল্পকারখানায় রুফটপ সোলার, কৃষিভিত্তিক সৌরবিদ্যুৎ, ভাসমান সৌরবিদ্যুৎ এবং অন্যান্য নবায়নযোগ্য জ্বালানি প্রকল্প একসঙ্গে এগিয়ে নিতে হবে।
বিশ্বব্যাংকের একটি খাতভিত্তিক প্রতিবেদনে বাংলাদেশে ৪০ গিগাওয়াটের বেশি নবায়নযোগ্য জ্বালানি স্থাপনের সম্ভাবনার কথা উল্লেখ করা হয়েছে। তবে এ সম্ভাবনা বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে জমির প্রাপ্যতা ও ব্যবহারযোগ্যতা বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে।
প্রকল্প বাস্তবায়নে যেসব চ্যালেঞ্জ বিবেচনায় নিতে হবে
যমুনার চরাঞ্চলে বিশাল সৌরবিদ্যুৎ কেন্দ্র নির্মাণের পরিকল্পনা সম্ভাবনাময় হলেও বাস্তবায়নের আগে কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্নের উত্তর প্রয়োজন।
নদীভাঙন ও বন্যা: যমুনা একটি গতিশীল নদ। চর সৃষ্টি ও বিলীন হওয়ার প্রাকৃতিক প্রক্রিয়া, মৌসুমি বন্যা এবং নদীভাঙনের ঝুঁকি বিবেচনায় নিয়ে প্রকল্পের জমি নির্বাচন করতে হবে।
জমির মালিকানা ও স্থানীয় মানুষের অধিকার: চরাঞ্চলের জমির সরকারি মালিকানা, বন্দোবস্ত, দখল, কৃষি ব্যবহার এবং স্থানীয় জনগোষ্ঠীর জীবিকার বিষয়গুলো স্বচ্ছভাবে যাচাই করা জরুরি।
পরিবেশ ও জীববৈচিত্র্য: চরাঞ্চল অনেক ক্ষেত্রে পাখি, জলজ প্রাণী ও অন্যান্য বন্যপ্রাণীর আবাসস্থল। পরিবেশগত প্রভাব সমীক্ষা ছাড়া বড় আকারের অবকাঠামো নির্মাণ ঝুঁকিপূর্ণ হতে পারে।
অর্থায়ন ও বিনিয়োগ: ৫ থেকে ৬ হাজার মেগাওয়াট ক্ষমতার প্রকল্পে বিপুল বিনিয়োগ প্রয়োজন হবে। দেশি-বিদেশি বিনিয়োগ, সরকারি-বেসরকারি অংশীদারত্ব এবং বিদ্যুতের ক্রয়মূল্য নির্ধারণে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে হবে।
জাতীয় গ্রিডের সক্ষমতা: উৎপাদিত বিদ্যুৎ দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে পৌঁছে দিতে নতুন সঞ্চালন লাইন, সাবস্টেশন এবং আধুনিক গ্রিড ব্যবস্থাপনা প্রয়োজন হবে।
সব নদীর চরে কি সৌরবিদ্যুৎ কেন্দ্র নির্মাণ করা উচিত?
বাংলাদেশের নদ-নদীর বিস্তীর্ণ চরাঞ্চল নবায়নযোগ্য জ্বালানি উৎপাদনের ক্ষেত্রে সম্ভাবনাময় সম্পদ হতে পারে। তবে সব চরকে সৌরবিদ্যুৎ কেন্দ্র নির্মাণের উপযোগী হিসেবে বিবেচনা করা ঠিক হবে না।
প্রতিটি এলাকার জমির স্থায়িত্ব, নদীভাঙনের ইতিহাস, বন্যার মাত্রা, কৃষি ব্যবহার, পরিবেশগত গুরুত্ব এবং জাতীয় গ্রিডের সঙ্গে সংযোগের সুবিধা বিবেচনা করে আলাদা পরিকল্পনা তৈরি করা প্রয়োজন।
এ ক্ষেত্রে একটি জাতীয় চরভিত্তিক নবায়নযোগ্য জ্বালানি মানচিত্র তৈরি করা যেতে পারে। কোন চরাঞ্চল সৌরবিদ্যুতের জন্য উপযুক্ত, কোথায় কৃষি ও বিদ্যুৎ উৎপাদন একসঙ্গে সম্ভব এবং কোথায় পরিবেশগত কারণে প্রকল্প গ্রহণ করা উচিত নয়—তা বৈজ্ঞানিক জরিপের মাধ্যমে নির্ধারণ করা প্রয়োজন।
শেষ পর্যন্ত প্রকল্পটি কি বাস্তবায়িত হবে?
যমুনার চরে ৫ থেকে ৬ হাজার মেগাওয়াটের সৌরবিদ্যুৎ হাব বাংলাদেশের জ্বালানি খাতের জন্য একটি বড় সম্ভাবনার নাম। এটি বাস্তবায়িত হলে আমদানিনির্ভর জ্বালানির ওপর চাপ কমানো, বিদ্যুৎ উৎপাদনে বৈচিত্র্য আনা এবং নবায়নযোগ্য জ্বালানিতে বিনিয়োগ বাড়ানোর সুযোগ তৈরি হতে পারে।
তবে বড় প্রকল্পের ঘোষণা আর বাস্তবায়নের মধ্যে ব্যবধান থাকে। বিস্তারিত সম্ভাব্যতা সমীক্ষা, পরিবেশগত ছাড়পত্র, জমি ব্যবস্থাপনা, বিনিয়োগ চুক্তি, নির্মাণ পরিকল্পনা এবং জাতীয় গ্রিডের প্রস্তুতি—সবকিছু সম্পন্ন না হলে এই প্রকল্পের সুফল পাওয়া সম্ভব নয়।
বাংলাদেশের জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হলে শুধু নতুন বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণ নয়, বরং দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা, জবাবদিহিমূলক বিনিয়োগ, প্রযুক্তিগত দক্ষতা এবং স্বচ্ছ বিদ্যুৎ ক্রয়ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে হবে।
জ্বালানি নিরাপত্তা কোনো একক প্রকল্পের ওপর নির্ভরশীল হতে পারে না। তবে যমুনার চরাঞ্চলের এই সৌরবিদ্যুৎ পরিকল্পনা যথাযথভাবে বাস্তবায়িত হলে তা বাংলাদেশের নবায়নযোগ্য জ্বালানি রূপান্তরের ইতিহাসে একটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় হয়ে উঠতে পারে।
তথ্যসূত্র ও প্রাসঙ্গিক নথি:
দ্য বিজনেস স্ট্যান্ডার্ড, ৮ মে ২০২৪: Govt plans 6000MW solar power hub in Jamalpur।
বাংলাদেশ সরকারের পাওয়ার সেল: জামালপুর চরাঞ্চলে সৌরবিদ্যুৎ পার্কের বিস্তারিত সম্ভাব্যতা সমীক্ষা-সংক্রান্ত বিজ্ঞপ্তি।
বাংলাদেশ সরকারের পাওয়ার সেল, ২২ এপ্রিল ২০২৫: সৌরবিদ্যুৎ পার্কের পরিবেশগত ও সামাজিক প্রভাব সমীক্ষা-সংক্রান্ত বিজ্ঞপ্তি।
বিশ্বব্যাংক: Bangladesh Sustainable Energy
Support Program – Synthesis Report।
বাংলাদেশ সংবাদ সংস্থা (বিএসএস), ৮ জুলাই ২০২৬: নবায়নযোগ্য জ্বালানি থেকে ২০৩০ সালের মধ্যে ২০ শতাংশ বিদ্যুৎ উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা-সংক্রান্ত প্রতিবেদন