1. multicare.net@gmail.com : আদালত বার্তা :
সৃজনশীল মানুষের সংগ্রাম: বাংলাদেশের প্রেক্ষাপট - আদালত বার্তা
বৃহস্পতিবার, ২৩ এপ্রিল ২০২৬, ১১:০৭ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম :
সৃজনশীল মানুষের সংগ্রাম: বাংলাদেশের প্রেক্ষাপট তনু হত্যার ১০ বছর পর প্রথম আসামি কেরাণীগঞ্জ থেকে গ্রেফতার। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের সংরক্ষিত নারী আসনে বিএনপি থেকে যারা মনোনীত হলেন। সরকার, গণমাধ্যম সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠান এবং সাংবাদিকদের মধ্যে সমন্বয়ের মাধ্যমে একটি ভারসাম্যপূর্ণ নীতিমালা প্রণয়নই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। সংসদে তথ্যমন্ত্রী সাংবাদিকদের শিক্ষাগত যোগ্যতা নির্ধারণ ও ডাটাবেজ তৈরির পরিকল্পনা করা হয়ছে। সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির নির্বাচন ১৩-১৪ মে বাজেট ২০২৬-২৭ জমির বাজারমূল্যে দিতে হবে ‘সম্পদ কর’ বললেন ডিএমপি কমিশনার বিকল্প সড়ক চালু হলে কুড়িল–রামপুরার যানজট অনেকাংশে কমবে এনটিআরসিএ’র ফাইল না নেয়ায় পিয়নকে পুলিশে দিলেন অ্যাটর্নি জেনারেল ইংরেজি মাধ্যমের মেধাবীদের জন্য বার কাউন্সিল পরীক্ষা যুগোপযোগী করতে হবে।

সৃজনশীল মানুষের সংগ্রাম: বাংলাদেশের প্রেক্ষাপট

এডভোকেট মোহাম্মদ এনামুল হক
  • প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ২৩ এপ্রিল, ২০২৬
  • ১ বার পড়া হয়েছে

সৃজনশীল মানুষের সংগ্রাম: বাংলাদেশের প্রেক্ষাপট
বাংলাদেশ একটি সম্ভাবনাময় দেশ, যেখানে সংস্কৃতি, সাহিত্য, সংগীত, শিল্পকলা ও উদ্ভাবনের দীর্ঘ ঐতিহ্য রয়েছে। তবুও বাস্তবতা হলো—এই দেশে সৃজনশীল মানুষের টিকে থাকা প্রায়শই কঠিন হয়ে দাঁড়ায়। কারণগুলো বহুমাত্রিক এবং গভীরভাবে সামাজিক, অর্থনৈতিক ও প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামোর সঙ্গে যুক্ত।
প্রথমত, অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তা সৃজনশীল মানুষের সবচেয়ে বড় বাধা। একজন শিল্পী, লেখক, সংগীতশিল্পী বা উদ্ভাবক নিয়মিত আয় নিশ্চিত করতে পারেন না। অধিকাংশ ক্ষেত্রেই তাদের কাজের যথাযথ মূল্যায়ন হয় না। ফলে তারা জীবিকার তাগিদে অন্য পেশায় যুক্ত হতে বাধ্য হন, যা তাদের সৃজনশীলতাকে বাধাগ্রস্ত করে।
দ্বিতীয়ত, সমাজের দৃষ্টিভঙ্গি একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। অনেক সময় সৃজনশীল পেশাকে ‘অনিশ্চিত’ বা ‘অপ্রয়োজনীয়’ হিসেবে দেখা হয়। পরিবার ও সমাজ থেকে পর্যাপ্ত উৎসাহ না পাওয়ায় অনেক প্রতিভা অকালেই হারিয়ে যায়। বিশেষ করে গ্রামাঞ্চলে এই সমস্যাটি আরও প্রকট।
তৃতীয়ত, প্রাতিষ্ঠানিক সহায়তার অভাব রয়েছে। উন্নত দেশগুলোতে শিল্প ও সৃজনশীলতাকে উৎসাহ দিতে সরকারি অনুদান, প্রশিক্ষণ, গবেষণা ও বাজার তৈরি করা হয়। কিন্তু বাংলাদেশে এই ধরনের সুযোগ সীমিত। সরকারি বা বেসরকারি উদ্যোগ থাকলেও তা প্রয়োজনের তুলনায় খুবই কম।
চতুর্থত, মেধার যথাযথ মূল্যায়নের ঘাটতি রয়েছে। অনেক সময় প্রকৃত সৃজনশীল ব্যক্তি অবমূল্যায়িত হন, আর যোগ্যতার পরিবর্তে প্রভাব বা পরিচিতির ভিত্তিতে সুযোগ দেওয়া হয়। এতে করে প্রতিভাবানদের মধ্যে হতাশা সৃষ্টি হয়।
তবে ইতিবাচক দিকও আছে। বর্তমানে ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মের বিস্তারের ফলে নতুন প্রজন্মের সৃজনশীল মানুষ তাদের কাজ বিশ্বব্যাপী ছড়িয়ে দিতে পারছেন। ইউটিউব, ফেসবুক, ব্লগিং বা ফ্রিল্যান্সিং-এর মাধ্যমে অনেকেই নিজেদের জায়গা তৈরি করছেন।
সমাধানের পথ
এই পরিস্থিতি থেকে উত্তরণের জন্য কিছু পদক্ষেপ জরুরি—
সৃজনশীল পেশাকে সম্মানজনক হিসেবে প্রতিষ্ঠা করা
সরকারি অনুদান ও প্রশিক্ষণ বৃদ্ধি করা
শিক্ষাব্যবস্থায় সৃজনশীলতাকে গুরুত্ব দেওয়া
মেধার সঠিক মূল্যায়ন নিশ্চিত করা
সাংস্কৃতিক ও সৃজনশীল শিল্পখাতকে অর্থনৈতিকভাবে শক্তিশালী করা

সৃজনশীল মানুষ একটি জাতির আত্মা। তাদের চিন্তা, কাজ ও উদ্ভাবনই একটি দেশকে এগিয়ে নেয়। তাই “সৃজনশীল মানুষের বেঁচে থাকা কষ্টকর”—এই বাস্তবতা পরিবর্তন করা সময়ের দাবি। সঠিক পরিকল্পনা ও সম্মিলিত প্রচেষ্টার মাধ্যমে আমরা এমন একটি সমাজ গড়ে তুলতে পারি, যেখানে সৃজনশীলতা শুধু টিকে থাকবে না, বরং বিকশিত হবে।

আরো সংবাদ পড়ুন
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত
ওয়েবসাইট ডিজাইন প্রযুক্তি সহায়তায়: ইয়োলো হোস্ট