1. multicare.net@gmail.com : আদালত বার্তা :
একজন আইনজীবী হিসেবে কি ভাবে অল্প সময় ব্যারিস্টার হতে পারেন। - আদালত বার্তা
শনিবার, ২৫ এপ্রিল ২০২৬, ১২:১৯ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম :
একজন আইনজীবী হিসেবে কি ভাবে অল্প সময় ব্যারিস্টার হতে পারেন। তীব্র গরমের মধ্যে স্বস্তির খবর দিল আবহাওয়া অফিস উত্তরাধিকারসূত্রে পাওয়া সম্পদের ওপর আগামী ২০২৬-২৭ অর্থবছর থেকে আয়কর ধার্য হতে পারে সুপ্রিম কোর্টে ভার্চুয়ালি ৭০৭টি মামলার শুনানি, ১৭৭টি নিষ্পত্তি। সৃজনশীল মানুষের সংগ্রাম: বাংলাদেশের প্রেক্ষাপট তনু হত্যার ১০ বছর পর প্রথম আসামি কেরাণীগঞ্জ থেকে গ্রেফতার। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের সংরক্ষিত নারী আসনে বিএনপি থেকে যারা মনোনীত হলেন। সরকার, গণমাধ্যম সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠান এবং সাংবাদিকদের মধ্যে সমন্বয়ের মাধ্যমে একটি ভারসাম্যপূর্ণ নীতিমালা প্রণয়নই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। সংসদে তথ্যমন্ত্রী সাংবাদিকদের শিক্ষাগত যোগ্যতা নির্ধারণ ও ডাটাবেজ তৈরির পরিকল্পনা করা হয়ছে। সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির নির্বাচন ১৩-১৪ মে

একজন আইনজীবী হিসেবে কি ভাবে অল্প সময় ব্যারিস্টার হতে পারেন।

প্রতিবেদকের নাম:
  • প্রকাশিত: শুক্রবার, ২৪ এপ্রিল, ২০২৬
  • ১৭ বার পড়া হয়েছে

 

একজন আইনজীবী হিসেবে কি ভাবে অল্প সময় ব্যারিস্টার হতে পারেন।

বিশেষ প্রতিবেদন আদালত বার্তাঃ২৪ এপ্রিল ২০২৬

টাকা থাকলেই ব্যারিস্টার! লন্ডন সফরে সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবীরা কীভাবে স্বল্প সময়ে হয়ে যাচ্ছেন ব্যারিস্টার?

বাংলাদেশে “ব্যারিস্টার” শব্দটি শুনলেই মানুষের মাথায় আসে বছরের পর বছর লন্ডনে পড়াশোনা, লক্ষ লক্ষ টাকা খরচ আর অসাধারণ মেধার কথা। কিন্তু এখন দৃশ্যটা বদলে গেছে। দেশের সুপ্রিম কোর্টের বহু আইনজীবী মাত্র কয়েক সপ্তাহের লন্ডন সফর করে ফিরে আসছেন “ব্যারিস্টার” পরিচয় নিয়ে। প্রশ্ন উঠছে — এটা কীভাবে সম্ভব? এই প্রতিবেদনে বিস্তারিত তুলে ধরা হলো।

ব্যারিস্টার আসলে কী?
ব্যারিস্টার হলেন ইংল্যান্ড ও ওয়েলসের আইনি পেশার বিশেষ একটি শাখা। তাঁরা ইংল্যান্ডের চারটি বিখ্যাত Inn of Court — Lincoln’s Inn, Gray’s Inn, Inner Temple এবং Middle Temple — এর যেকোনো একটিতে সদস্যপদ গ্রহণ করে “Called to the Bar” হন। এই Inns of Court-ই আনুষ্ঠানিকভাবে শিক্ষার্থীকে বারে “কল” করে, অনেকটা গ্র্যাজুয়েশন অনুষ্ঠানের মতো।

ঐতিহ্যগতভাবে ব্যারিস্টার হতে হলে ইংল্যান্ডে বছরের পর বছর পড়াশোনা করতে হতো। সাধারণ পথে প্রথমে ইংল্যান্ড বা ওয়েলসের কোনো বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে ইংরেজি আইনের ডিগ্রি অর্জন করতে হয়, তারপর Bar Training Course (BTC) সম্পন্ন করতে হয় যা এক থেকে দুই বছর সময় নেয়। এরপর বার্সার্স চেম্বারে এক বছরের pupillage করতে হয়।  পুরো প্রক্রিয়ায় সময় লাগে পাঁচ থেকে সাত বছর।

তাহলে এখন মাত্র কয়েক সপ্তাহে কীভাবে হচ্ছে?

রহস্যের চাবিকাঠি — Bar Transfer Test (BTT)
Bar Transfer Test বা BTT হলো সম্ভবত সবচেয়ে সহজ পথ যেখানে অন্য দেশের যোগ্য আইনজীবীরা ইংল্যান্ড ও ওয়েলসের বারে যোগ দিতে পারেন। এই পরীক্ষার মাধ্যমে যোগ্য আইনজীবীরা সম্পূর্ণ একাডেমিক এবং Vocational পর্যায় সম্পন্ন না করেই বারে প্রবেশের সুযোগ পাচ্ছেন। 
সহজ ভাষায় বলতে গেলে — BTT এমন একটি সুযোগ যেখানে বাংলাদেশের যোগ্য আইনজীবীরা ইংল্যান্ড ও ওয়েলসের বারে যোগ দিতে পারেন, সম্পূর্ণ একাডেমিক পর্যায় (Qualifying Law Degree বা conversion course) এবং Vocational Stage (Bar Professional Training Course) সম্পন্ন না করেই। 

কারা আবেদন করতে পারবেন?
সবাই এই সুযোগ পাবেন না। নির্দিষ্ট শর্ত পূরণ করতে হবে।
বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে, Bangladesh Bar Council-এ নথিভুক্ত এবং কমপক্ষে তিন বছরের বৈধ সনদধারী (সনদ) অ্যাডভোকেট BTT-এর জন্য আবেদন করতে পারেন। এরপর Bangladesh Bar Council থেকে “Certificate of Good Standing” বা Testimonial সংগ্রহ করতে হবে। 

BSB Handbook অনুযায়ী, যে বিদেশি আইনজীবী কমপক্ষে তিন বছর ধরে এমন আদালতে নিয়মিত পূর্ণ শুনানির অধিকার প্রয়োগ করেছেন যেখানে ইংল্যান্ড ও ওয়েলসের Common Law-এর মতো আইন প্রচলিত, তিনি আংশিক ছাড় পাওয়ার যোগ্য বলে বিবেচিত হতে পারেন। 

ধাপে ধাপে পুরো প্রক্রিয়া
ধাপ ১ — যোগ্যতা নিশ্চিত করুন
বাংলাদেশ বার কাউন্সিলে নথিভুক্ত অ্যাডভোকেট হতে হবে এবং কমপক্ষে তিন বছর অনুশীলনের অভিজ্ঞতা থাকতে হবে।

ধাপ ২ — BSB-তে আবেদন
BSB-র কাছে ছাড় (exemption) এর জন্য আবেদন করতে হবে। BSB একাডেমিক পটভূমি ও পূর্ববর্তী অভিজ্ঞতা যাচাই করে সিদ্ধান্ত নেয়। একবার ছাড় পেলে পাঁচ বছরের মধ্যে BTT পরীক্ষা দিতে হবে। BTT পরীক্ষা বছরে তিনবার হয় — Spring (মার্চ-এপ্রিল), Summer (আগস্ট-সেপ্টেম্বর) এবং Winter (ডিসেম্বর-জানুয়ারি)। 

ধাপ ৩ — Inn of Court-এ সদস্যপদ
ছাড় মঞ্জুর হওয়ার পর চারটি Inn of Court-এর যেকোনো একটিতে সদস্যপদ নিতে হবে। 

ধাপ ৪ — লন্ডনে গিয়ে পরীক্ষা দেওয়া
BTT-এর জন্য মাত্র এক মাসের লন্ডন সফর করলেই চলে — BPP University-তে পরীক্ষা দেওয়া এবং Inn of Court-এ ডিনারে অংশ নেওয়ার জন্য। 

ধাপ ৫ — Qualifying Sessions ও Call to the Bar
BTT পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হওয়ার পর নির্ধারিত সংখ্যক Qualifying Sessions সম্পন্ন করলে ইংল্যান্ড ও ওয়েলসের বারে “Called to the Bar” হওয়ার যোগ্যতা অর্জিত হয় এবং আনুষ্ঠানিকভাবে ব্যারিস্টার উপাধি লাভ করা যায়। 

খরচ কত?
সব মিলিয়ে আনুমানিক খরচ হয় ৭,৫০০ থেকে ১২,০০০ পাউন্ড (UK)। এর মধ্যে রয়েছে — BSB আবেদন ফি ৪৪০ পাউন্ড, BPP University-র পরীক্ষার ফি ১,৫০০ পাউন্ড, প্রতিষ্ঠানের ফি ২,৫০০-৪,০০০ পাউন্ড, ভিসা খরচ ৫০০-১,০০০ পাউন্ড এবং লন্ডনে থাকা-খাওয়া ১,৫০০-৩,০০০ পাউন্ড। 

বাংলাদেশি টাকায় এই পরিমাণ প্রায় ১০-১৫ লক্ষ টাকা। সুপ্রিম কোর্টের সিনিয়র আইনজীবীদের জন্য এই অঙ্কটা বিশেষ কঠিন নয়।

বলা যায়, BTT রুটটি সম্পূর্ণ বৈধ এবং UK Bar Standards Board অনুমোদিত। তবে এটি মূলত এমন অভিজ্ঞ আইনজীবীদের জন্য তৈরি করা হয়েছিল যাঁরা সত্যিকার অর্থে ইংল্যান্ডের বারে প্র্যাকটিস করতে চান। কিন্তু বাংলাদেশে এটি মূলত “ব্যারিস্টার” উপাধির সামাজিক মূল্যকে কাজে লাগাতেই বেশি ব্যবহৃত হচ্ছে। তাই বলাই যায় — টাকা, অভিজ্ঞতা আর সঠিক পরিচিতি থাকলে এখন লন্ডন সফরেই ব্যারিস্টার হওয়া সম্ভব।

আরো সংবাদ পড়ুন
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত
ওয়েবসাইট ডিজাইন প্রযুক্তি সহায়তায়: ইয়োলো হোস্ট