শুক্রবার, ১০ জুলাই ২০২৬, ০৪:২৩ পূর্বাহ্ন
Title :
দেশে বিচারাধীন মামলার সংখ্যা ৪৬ লাখ ছাড়িয়েছে: সংবিধানের ন্যায়বিচার নিশ্চিতে বাড়ছে চাপ ধানমন্ডিতে চিকিৎসক ধীপ্রার মৃত্যু: কবর থেকে মরদেহ উত্তোলনের নির্দেশ নিজেদের প্রণীত আইনেই মানবতাবিরোধী অভিযোগে বিচারের মুখে আ.লীগ: নিষিদ্ধ ঘোষণার আইনি পথ কতটা বাস্তবসম্মত? স্টেশনের নীরব মৃত্যু: বুবি হত্যাকাণ্ডে উন্মোচিত প্রান্তিক জীবনের নিরাপত্তাহীনতা হাইকোর্টের রায়: সংবিধানে ফিরলো গণভোট ও তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা অ্যাডভোকেট সাহারা খাতুনের মৃত্যুবার্ষিকীতে আইনজীবীদের শ্রদ্ধা কারাগারে বাড়ছে বন্দি মৃত্যু: চিকিৎসক-অ্যাম্বুলেন্স সংকটে সময়মতো মিলছে না জরুরি চিকিৎসা আদালত ভবনের উর্ধ্বমুখী সম্প্রসারণে জোর, দ্রুত অবকাঠামো উন্নয়নের নির্দেশনা উচ্চ আদালতের আদেশ অমান্য করে আবারও সাবেক প্রধান বিচারপতি খায়রুল হককে গ্রেপ্তার দেখালো আদালত মামলার ডকেট সংরক্ষণে নতুন নীতিমালা: কোর্ট পুলিশের হাতে যাচ্ছে দায়িত্ব

দেশে বিচারাধীন মামলার সংখ্যা ৪৬ লাখ ছাড়িয়েছে: সংবিধানের ন্যায়বিচার নিশ্চিতে বাড়ছে চাপ

  • প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ৯ জুলাই, ২০২৬
  • ২২ বার পড়া হয়েছে

দেশে বিচারাধীন মামলার সংখ্যা ৪৬ লাখ ছাড়িয়েছে: সংবিধানের ন্যায়বিচার নিশ্চিতে বাড়ছে চাপ
নিউজ ডেস্ক, আদালত বার্তাঃ ১০ জুলাই ২০২৬
দেশের সর্বোচ্চ আদালত বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টসহ সব পর্যায়ের আদালতে বর্তমানে প্রায় ৪৬ লাখ মামলা বিচারাধীন রয়েছে বলে জানিয়েছেন আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান। সংবিধানের ৩১ ও ৩৫ অনুচ্ছেদে বর্ণিত ন্যায়বিচার প্রাপ্তির মৌলিক অধিকারের প্রেক্ষাপটে এই বিপুল মামলাজট বিচার ব্যবস্থার ওপর বাড়তি চাপ সৃষ্টি করছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
মঙ্গলবার (৭ জুলাই) ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের দ্বিতীয় অধিবেশনে এক প্রশ্নের জবাবে আইনমন্ত্রী এ তথ্য তুলে ধরেন। স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত অধিবেশনে যশোর-৪ আসনের সংসদ সদস্য মো. গোলাম রছুলের প্রশ্নের উত্তরে তিনি জানান, সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগ ও হাইকোর্ট বিভাগ মিলিয়ে বর্তমানে ৫ লাখ ৬১ হাজার ৪৪টি মামলা বিচারাধীন রয়েছে।
আইনমন্ত্রীর তথ্যমতে, আপিল বিভাগে ২১ হাজার ৬৫২টি দেওয়ানি এবং ১৭ হাজার ৬১টি ফৌজদারি মামলাসহ মোট ৩৮ হাজার ৭১৩টি মামলা বিচারাধীন। অন্যদিকে, হাইকোর্ট বিভাগে বিচারাধীন মামলার সংখ্যা ৫ লাখ ২২ হাজার ৩৩১টি, যার মধ্যে ১ লাখ ১ হাজার ১৬৮টি দেওয়ানি এবং ৪ লাখ ২১ হাজার ১৬৩টি ফৌজদারি মামলা রয়েছে। গত ২০২৫ সালে আপিল বিভাগে ৭ হাজার ৫৫৩টি এবং হাইকোর্ট বিভাগে ৫৫ হাজার ৭৫৬টি মামলার নিষ্পত্তি হয়েছে।
এ ছাড়া দেশের অধস্তন আদালতসমূহে (৩১ মার্চ পর্যন্ত) বিচারাধীন মামলার সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৪০ লাখ ৭৮ হাজার ৪৩২টি। এর মধ্যে ১৬ লাখ ৯০ হাজার ৪৪৩টি দেওয়ানি এবং ২৩ লাখ ৮৭ হাজার ৯৮৯টি ফৌজদারি মামলা রয়েছে। গত এক বছরে অধস্তন আদালতে মোট ২ লাখ ৭৫ হাজার ৮৪টি মামলার নিষ্পত্তি হয়েছে, যা বিচারিক কার্যক্রমে কিছুটা ইতিবাচক অগ্রগতির ইঙ্গিত দেয়।
বিশেষজ্ঞদের মতে, মামলার জট দীর্ঘমেয়াদে বিচারপ্রার্থীদের ন্যায়বিচার প্রাপ্তির পথে বাধা সৃষ্টি করে এবং ‘বিলম্বিত বিচার মানেই বিচার না পাওয়া’—এই নীতির সঙ্গে সাংঘর্ষিক। ফৌজদারি কার্যবিধি (CrPC) ও দেওয়ানি কার্যবিধি (CPC)-এর বিভিন্ন ধারায় দ্রুত বিচার নিশ্চিত করার বিধান থাকলেও বাস্তবায়নে নানা সীমাবদ্ধতা রয়ে গেছে।
আইনমন্ত্রী জানান, মামলার জট কমাতে সরকার বিচার বিভাগের সক্ষমতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে একাধিক পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে। ইতোমধ্যে ৫৩৬টি বিচারকের পদ সৃজন করা হয়েছে এবং নতুন করে ১৫০ জন সিভিল জজ নিয়োগের প্রক্রিয়া চলছে। পাশাপাশি জুডিশিয়াল সার্ভিস কমিশনের মাধ্যমে সহায়ক জনবল নিয়োগ কার্যক্রমও অব্যাহত রয়েছে।
তিনি আরও জানান, সম্প্রতি ৬৫০টি সিভিল জজ ও সিনিয়র সিভিল জজ আদালত, ৪০৬টি যুগ্ম দায়রা জজ আদালত এবং ২০৪টি অতিরিক্ত দায়রা জজ আদালত প্রতিষ্ঠা করা হয়েছে। এসব আদালতের বিপরীতে নতুন বিচারকের পদ সৃষ্টির বিষয়টি সরকারের সক্রিয় বিবেচনায় রয়েছে। এ পদক্ষেপসমূহ বাস্তবায়িত হলে বিচারিক কার্যক্রম আরও গতিশীল হবে এবং মামলার দ্রুত নিষ্পত্তি নিশ্চিত করা সম্ভব হবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।
 বিচারক সংখ্যা বৃদ্ধি, আদালতের অবকাঠামো উন্নয়ন, বিকল্প বিরোধ নিষ্পত্তি (ADR) পদ্ধতির সম্প্রসারণ এবং প্রযুক্তিনির্ভর বিচার ব্যবস্থা চালুর মাধ্যমে মামলাজট নিরসনে কার্যকর অগ্রগতি অর্জন সম্ভব।

আরো সংবাদ পড়ুন
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত
Theme Customized By BreakingNews