
আমদানিনির্ভরতা কমাতে কক্সবাজারে আধুনিক লবণ রিফাইনারি হাব স্থাপনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে এতে
সিন্ডিকেট ভাঙবে, চাষিরা পাবেন ন্যায্যমূল্য
নিজস্ব প্রতিবেদক,আদালত বার্তাঃ৬ আগষ্ট ২০২৬
দেশের লবণ খাতে দীর্ঘদিনের অস্থিরতা ও আমদানিনির্ভরতা কমাতে কক্সবাজারে একটি আধুনিক লবণ রিফাইনারি হাব স্থাপনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, এই প্রকল্প বাস্তবায়িত হলে দেশের লবণ শিল্পে কাঠামোগত পরিবর্তন আসবে, ভাঙবে দীর্ঘদিনের সিন্ডিকেট এবং চাষিরা ন্যায্যমূল্য পেতে শুরু করবেন।
বাংলাদেশের মোট লবণ উৎপাদনের প্রায় ৯০ শতাংশই আসে কক্সবাজার অঞ্চল থেকে। প্রতিবছর লক্ষাধিক টন কাঁচা লবণ উৎপাদিত হলেও আধুনিক সংরক্ষণ ও পরিশোধন সুবিধার অভাবে উৎপাদকরা প্রায়ই ক্ষতিগ্রস্ত হন। বিশেষ করে মৌসুম শেষে অতিরিক্ত লবণ মজুদ থাকার কারণে দাম পড়ে যায়, আর ভোক্তা পর্যায়ে মধ্যস্বত্বভোগীদের কারণে মূল্য বৃদ্ধি পায়।
এই প্রেক্ষাপটে বাংলাদেশ ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্প করপোরেশন (বিসিক) কক্সবাজারে একটি সমন্বিত লবণ রিফাইনারি শিল্প হাব গড়ে তোলার পরিকল্পনা নিয়েছে। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, প্রকল্পটির জন্য প্রায় ৩০ থেকে ৫০ একর জমির প্রয়োজন হবে, যেখানে একাধিক আধুনিক রিফাইনারি ইউনিট, গুদামজাতকরণ সুবিধা, প্যাকেজিং প্লান্ট এবং মান নিয়ন্ত্রণ ল্যাব স্থাপন করা হবে।
বিসিক সূত্রে জানা গেছে, ইতোমধ্যে সম্ভাব্যতা যাচাই (ফিজিবিলিটি স্টাডি) প্রাথমিক পর্যায়ে সম্পন্ন হয়েছে এবং বিস্তারিত প্রকল্প প্রস্তাব (ডিপিপি) প্রণয়নের কাজ চলছে। প্রকল্পটি বাস্তবায়নে সরকারি-বেসরকারি অংশীদারিত্ব (পিপিপি) মডেল বিবেচনায় রয়েছে, যাতে দেশীয় উদ্যোক্তাদের পাশাপাশি বিদেশি বিনিয়োগও আকৃষ্ট করা যায়।
সরকারের পক্ষ থেকে লবণ খাতকে কৌশলগত শিল্প হিসেবে চিহ্নিত করে নীতিগত সহায়তা দেওয়ার কথাও জানানো হয়েছে। শিল্প মন্ত্রণালয় ও সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলো যৌথভাবে অবকাঠামো উন্নয়ন, বিদ্যুৎ ও যোগাযোগ সুবিধা নিশ্চিত করার উদ্যোগ নিয়েছে। একই সঙ্গে চাষিদের জন্য প্রশিক্ষণ, আধুনিক উৎপাদন পদ্ধতি এবং ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করতে ক্রয়নীতি প্রণয়নের বিষয়টিও বিবেচনায় রয়েছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, আধুনিক রিফাইনারি হাব চালু হলে
বছরে উৎপাদিত কাঁচা লবণের প্রায় সম্পূর্ণটাই দেশে প্রক্রিয়াজাত করা সম্ভব হবে। এতে করে লবণ আমদানির প্রয়োজনীয়তা উল্লেখযোগ্যভাবে কমে আসবে এবং বৈদেশিক মুদ্রা সাশ্রয় হবে। পাশাপাশি মানসম্মত আয়োডিনযুক্ত লবণ সহজলভ্য হবে, যা জনস্বাস্থ্যের জন্যও ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে।
প্রকল্প সংশ্লিষ্টরা জানান, সব প্রক্রিয়া সম্পন্ন হলে আগামী ২ থেকে ৩ বছরের মধ্যে এই রিফাইনারি হাবের নির্মাণ কাজ শেষ করে উৎপাদনে যাওয়া সম্ভব হতে পারে। তবে জমি অধিগ্রহণ, পরিবেশগত অনুমোদন এবং বিনিয়োগ চূড়ান্তকরণের ওপর সময়সীমা কিছুটা নির্ভর করবে।
অর্থনীতিবিদরা মনে করছেন, এই উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে দেশের লবণ খাতে স্বচ্ছতা ও প্রতিযোগিতা বাড়বে। সিন্ডিকেট নির্ভর বাজারব্যবস্থা ভেঙে গিয়ে একটি ন্যায্য ও টেকসই সরবরাহ ব্যবস্থা গড়ে উঠবে। এর ফলে একদিকে যেমন চাষিরা ন্যায্যমূল্য পাবেন, অন্যদিকে ভোক্তারাও সাশ্রয়ী দামে মানসম্মত লবণ কিনতে পারবেন।
সামগ্রিকভাবে, কক্সবাজারে আধুনিক লবণ রিফাইনারি হাব স্থাপন দেশের লবণ শিল্পকে একটি নতুন উচ্চতায় নিয়ে যাবে বলেই সংশ্লিষ্টদের প্রত্যাশা।