শুক্রবার, ০৭ অগাস্ট ২০২৬, ০৯:২৪ অপরাহ্ন
Title :
মানবিক মূল্যবোধসম্পন্ন বিচারকের অভাবই বড় সংকট: আইনমন্ত্রী দিল্লিতে প্রেস কনফারেন্সে শেখ হাসিনার দেয়া বক্তব্যে সমর্থন নেই ভারতের: রণধীর জয়সওয়াল “নীতিমালা” কি আইন? হাইকোর্ট কি নীতিমালা প্রণয়নের নির্দেশ দিতে পারে—সংবিধান ও বিচারিক ব্যাখ্যায় স্পষ্টতা বিটিভির নতুন মহাপরিচালক কাজী জেসিন পরিবর্তনের প্রত্যাশায় রাষ্ট্রীয় সম্প্রচারমাধ্যম সাংবাদিক গ্রেফতার আর কত? গণমাধ্যমের স্বাধীনতা কি কেবল কাগজে-কলমে! হাসিনাকে ভারত এই সুযোগ কেন দিল—প্রশ্ন বিএনপির আদালতে মামলা পরিচালনার সময় অসুস্থ হয়ে মা’রা গেছেন সিনিয়র অ্যাডভোকেট আলহাজ্ব মো. রুহুল আমিন। চলতি অর্থবছরেই স্থানীয় সরকার নির্বাচন সম্পন্নের ঘোষণা: বাজেট, প্রস্তুতি ও রাজনৈতিক বাস্তবতা নিয়ে প্রশ্ন তথ্য কমিশন গঠনে যোগ্য ও নিরপেক্ষ ব্যক্তিদের নিয়োগের আহ্বান। বদলি ইস্যুতে অনিশ্চয়তা প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠকেও মিলল না সিদ্ধান্ত

মানবিক মূল্যবোধসম্পন্ন বিচারকের অভাবই বড় সংকট: আইনমন্ত্রী

  • প্রকাশিত: শুক্রবার, ৭ আগস্ট, ২০২৬
  • ১৪ বার পড়া হয়েছে

মানবিক মূল্যবোধসম্পন্ন বিচারকের অভাবই বড় সংকট: আইনমন্ত্রী
নিউজ ডেস্ক | আদালত বার্তা
প্রকাশ: ৭ আগস্ট ২০২৬
দেশের বিচার বিভাগের অন্যতম প্রধান সংকট মানবিক মূল্যবোধসম্পন্ন বিচারকের অভাব—এমন মন্তব্য করেছেন আইন, বিচার ও সংসদবিষয়ক মন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান। তিনি বলেছেন, বিচার বিভাগই সাধারণ মানুষের শেষ আশ্রয়স্থল; তাই এমন একটি বিচারব্যবস্থা গড়ে তুলতে হবে যেখানে জনগণ নির্ভয়ে ও নির্ভরতার সঙ্গে ন্যায়বিচার পেতে পারে।
শুক্রবার (৭ আগস্ট) সকালে ঝিনাইদহের শৈলকুপা উপজেলা পরিষদ মিলনায়তনে প্রখ্যাত শিল্পী মুস্তফা মনোয়ারের স্মরণসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
আইনমন্ত্রী বলেন, “বিচারকের দায়িত্ব অন্য যেকোনো পেশার চেয়ে আলাদা ও অধিক গুরুত্বপূর্ণ। বিচারকের আসনে বসে একজন মানুষের ভাগ্য নির্ধারিত হয়। তাই বিচারকদের মধ্যে দায়িত্ববোধ, সততা, নৈতিকতা এবং সর্বোপরি মানবিক মূল্যবোধ থাকা অত্যন্ত জরুরি।”
তিনি আরও বলেন, দেশে বিচারব্যবস্থা নিয়ে বিভিন্ন মহলে নানা ধরনের সমালোচনা রয়েছে। কেউ দুর্নীতির অভিযোগ করেন, কেউ বলেন দালাল ও টাউটচক্রের প্রভাব রয়েছে, আবার কেউ কাঠামোগত দুর্বলতার কথা তুলে ধরেন। তবে তার মতে, এসব সমস্যার মূল কারণগুলোর মধ্যে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো মানবিক মূল্যবোধসম্পন্ন বিচারকের অভাব।
আইনমন্ত্রী জোর দিয়ে বলেন, “যখন বিচারকরা সততা, নিরপেক্ষতা ও মানবিক দৃষ্টিভঙ্গি নিয়ে দায়িত্ব পালন করবেন, তখনই একটি স্বচ্ছ, স্বাধীন ও ন্যায়ভিত্তিক বিচারব্যবস্থা প্রতিষ্ঠা সম্ভব হবে।”
বিচার বিভাগের বর্তমান প্রেক্ষাপট
আইন বিশেষজ্ঞদের মতে, দেশে বিচারাধীন মামলার জট দীর্ঘদিনের একটি বড় সমস্যা। সর্বশেষ বিভিন্ন সরকারি ও বিচার বিভাগীয় সূত্র অনুযায়ী, নিম্ন আদালত থেকে সুপ্রিম কোর্ট পর্যন্ত মিলিয়ে প্রায় ৪৫ থেকে ৪৬ লাখেরও বেশি মামলা বিচারাধীন রয়েছে। এর ফলে বিচারপ্রার্থীদের দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করতে হয়, যা ন্যায়বিচার প্রাপ্তির ক্ষেত্রে বড় প্রতিবন্ধকতা হিসেবে দেখা হচ্ছে।
এছাড়া, বিচার বিভাগের স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিয়ে নাগরিক সমাজ ও আইনজীবী মহলে নিয়মিত আলোচনা চলছে। বিশেষ করে বিচারক নিয়োগ, পদোন্নতি, আদালত ব্যবস্থাপনা এবং প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়ানোর বিষয়ে সংস্কারের দাবি দীর্ঘদিনের।
শেখ হাসিনার দেশে ফেরা প্রসঙ্গ
অনুষ্ঠানে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার দেশে ফেরার প্রসঙ্গেও কথা বলেন আইনমন্ত্রী। তিনি বলেন, “শুনছি তিনি ডিসেম্বর মাসে দেশে ফিরতে পারেন। আমিও চাই তিনি দেশে ফিরুন। তবে ফিরে তাকে আইনের মুখোমুখি হতে হবে। প্রয়োজনে কারাগারেও যেতে হবে এবং পুরো বিষয়টি আইনি প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়েই পরিচালিত হবে।”
তিনি আরও বলেন, “মানুষের ক্ষমতা যত বড়ই হোক, আইনের ক্ষমতা তার চেয়েও বড়। আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা করতে হলে সবাইকে আইনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল হতে হবে।”
অনুষ্ঠানে উপস্থিতি
স্মরণসভায় ঝিনাইদহের জেলা প্রশাসক নোমান হোসেন, পুলিশ সুপার মিয়া মোহাম্মদ আশিস বিন হাছান, জেলা প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাবৃন্দ, স্থানীয় জনপ্রতিনিধি এবং বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার গণ্যমান্য ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন।
বিশ্লেষণ
সংশ্লিষ্ট মহলের মতে, আইনমন্ত্রীর এই বক্তব্য বিচার বিভাগের গুণগত মান উন্নয়নের প্রশ্নটিকে নতুন করে সামনে নিয়ে এসেছে। বিচারক নিয়োগে মেধা, সততা ও মানবিক দৃষ্টিভঙ্গিকে অগ্রাধিকার দেওয়া, প্রশিক্ষণ ব্যবস্থার আধুনিকায়ন এবং বিচার প্রক্রিয়ায় প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়ানো—এসব উদ্যোগ গ্রহণ করা হলে বিচারব্যবস্থার প্রতি মানুষের আস্থা আরও সুদৃঢ় হবে।
বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, শুধু অবকাঠামোগত উন্নয়ন নয়, বিচারকদের মানসিকতা ও মূল্যবোধের উন্নয়নই একটি কার্যকর, মানবিক ও ন্যায়ভিত্তিক বিচারব্যবস্থা প্রতিষ্ঠার মূল চাবিকাঠি।

আরো সংবাদ পড়ুন
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত
ওয়েবসাইট ডিজাইন : ইয়োলো হোস্ট