বুধবার, ১২ অগাস্ট ২০২৬, ০১:২৯ পূর্বাহ্ন
Title :
মির্জা ফখরুল রাষ্ট্রপতি হলে বিএনপিতে শূন্য হবে গুরুত্বপূর্ণ দুই পদ, বদল আসতে পারে মন্ত্রিসভাতেও সুপ্রিম কোর্ট লিগ্যাল এইড অফিসে মধ্যস্থতা (ADR) কার্যক্রম শুরু: বিচারপ্রার্থীদের জন্য এক নতুন দিগন্ত চার কোটি টাকা আত্মসাতের মামলা: অ্যাম্বুলেন্সে আদালতে ফারমার্স ব্যাংকের সাবেক কর্মকর্তা হাইকোর্টের ৫৫টি বেঞ্চ পুনর্গঠন করলেন প্রধান বিচারপতি। অতিরিক্ত দামের কারনে মার্কিন প্রতিষ্ঠানের সাথে দীর্ঘমেয়াদি এলএনজি চুক্তি স্থগিত ই-গভর্নেন্স ও প্রযুক্তিতে বাংলাদেশের অংশীদার হতে চায় এস্তোনিয়া: নেওয়া হবে আইটি ও স্বাস্থ্য খাতের দক্ষ জনশক্তি মেট্রোরেল লাইন-৬: সেফটি অডিট কমিটির সুপারিশ ও হাই কোর্টের নির্দেশ বাস্তবায়নে ডিএমটিসিএলের বিস্তৃত পদক্ষেপ পদ্মা সেতু হয়ে ঢাকা-গোপালগঞ্জ রুটে নতুন কমিউটার ট্রেন চালু নিরাপদ খাদ্য কেনাকাটায় উপভোক্তার সচেতনতায় আইন, বাস্তবতা ও নাগরিক দায়িত্ব মোবাইল ব্যাংকিংয়ে জরুরি প্রয়োজনে মিলবে সুদমুক্ত ৫ হাজার টাকা ঋণ

মির্জা ফখরুল রাষ্ট্রপতি হলে বিএনপিতে শূন্য হবে গুরুত্বপূর্ণ দুই পদ, বদল আসতে পারে মন্ত্রিসভাতেও

  • প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ১১ আগস্ট, ২০২৬
  • ১৭ বার পড়া হয়েছে

মির্জা ফখরুল রাষ্ট্রপতি হলে বিএনপিতে শূন্য হবে গুরুত্বপূর্ণ দুই পদ, বদল আসতে পারে মন্ত্রিসভাতেও
নিউজ ডেস্ক | আদালত বার্তা
প্রকাশ: ১১ আগস্ট ২০২৬
রাষ্ট্রপতি নির্বাচনকে ঘিরে দেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে শুরু হয়েছে নানা আলোচনা ও জল্পনা-কল্পনা। এরই মধ্যে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) থেকে রাষ্ট্রপতি পদে দলের মহাসচিব ও স্থানীয় সরকারমন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের নাম আলোচনায় আসায় সম্ভাব্য রাজনৈতিক ও সাংগঠনিক পরিবর্তন নিয়েও নতুন করে হিসাব-নিকাশ শুরু হয়েছে।
মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হলে একই সঙ্গে তার বর্তমান মন্ত্রিত্ব, দলের মহাসচিবের দায়িত্ব এবং সংসদীয় আসন—তিন ক্ষেত্রেই পরিবর্তন আসার সম্ভাবনা তৈরি হবে। ফলে বিএনপির সাংগঠনিক কাঠামো থেকে শুরু করে সরকারের মন্ত্রিসভা এবং সংশ্লিষ্ট সংসদীয় আসনে নতুন নেতৃত্ব নিয়ে আলোচনা জোরালো হয়েছে।
শূন্য হতে পারে বিএনপির গুরুত্বপূর্ণ দুটি পদ
বিএনপির একাধিক স্থায়ী কমিটির সদস্যের বরাত দিয়ে জানা গেছে, মির্জা ফখরুল রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব গ্রহণ করলে দলের মহাসচিব পদে তাৎক্ষণিকভাবে একজনকে ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব হিসেবে দায়িত্ব দেওয়ার সম্ভাবনাই বেশি।
একই সঙ্গে রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব গ্রহণের কারণে মির্জা ফখরুলের বিএনপির স্থায়ী কমিটির পদও শূন্য হবে। ফলে দলটির সর্বোচ্চ নীতিনির্ধারণী ফোরাম স্থায়ী কমিটিতে দুটি পদ শূন্য হওয়ার পরিস্থিতি তৈরি হতে পারে।
দলীয় সূত্রের ভাষ্য অনুযায়ী, এর আগে মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমদ স্পিকার হওয়ার কারণে স্থায়ী কমিটির একটি পদ শূন্য হয়েছিল। মির্জা ফখরুল রাষ্ট্রপতি হলে সেই শূন্যতার সঙ্গে নতুন করে আরেকটি পদ যুক্ত হবে।
তবে দলের জাতীয় কাউন্সিল সামনে থাকায় স্থায়ী কমিটির শূন্য পদগুলোতে এখনই কাউকে অন্তর্ভুক্ত করা হবে কি না, তা নিয়েও রয়েছে অনিশ্চয়তা।
জাতীয় কাউন্সিল ঘিরেও প্রস্তুতি
বিএনপির চেয়ারম্যানের ঘনিষ্ঠ একটি সূত্রের দাবি, আগামী শীত মৌসুমে—নভেম্বরের শেষ অথবা ডিসেম্বরের দিকে—দলের জাতীয় কাউন্সিল আয়োজনের প্রস্তুতি চলছে। এ কারণে স্থায়ী কমিটির শূন্য পদ পূরণের পরিবর্তে জাতীয় কাউন্সিল পর্যন্ত অপেক্ষা করার সম্ভাবনাও রয়েছে।
দলীয় পর্যায়ে কাউন্সিলের মাধ্যমে নতুন নেতৃত্ব ও সাংগঠনিক কাঠামো নির্ধারণের বিষয়টি বিবেচনায় রাখা হচ্ছে বলেও সূত্রগুলো জানিয়েছে।
মহাসচিব পদে রুহুল কবির রিজভীকে ঘিরে আলোচনা
মির্জা ফখরুল রাষ্ট্রপতি হলে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব হিসেবে দলের সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী আহমেদের নাম সবচেয়ে বেশি আলোচনায় রয়েছে।
দীর্ঘদিন ধরে দলের সাংগঠনিক কর্মকাণ্ড ও মাঠপর্যায়ের রাজনীতিতে সক্রিয় থাকার কারণে রিজভীকে এই দায়িত্ব দেওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে বলে দলীয় নেতাদের একটি অংশ মনে করছে।
তবে বিএনপির ভেতরে এমন আলোচনাও রয়েছে যে, দলীয় গঠনতন্ত্রে চেয়ারম্যানের যে ক্ষমতা রয়েছে, সেই ক্ষমতাবলে তিনি অন্য কাউকেও ভারপ্রাপ্ত মহাসচিবের দায়িত্ব দিতে পারেন।
মহাসচিব পদ নিয়ে আলোচনায় রিজভীর পাশাপাশি বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমদ এবং যুগ্ম মহাসচিব হাবিব উন নবী খান সোহেল-এর নামও রয়েছে বলে দলীয় সূত্রে জানা গেছে।
বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান শামসুজ্জামান দুদু বলেন, তুলনামূলক তরুণ ও কর্মীবান্ধব কোনো নেতাকে মহাসচিবের দায়িত্ব দেওয়ার সম্ভাবনাও রয়েছে। তার মতে, শেষ পর্যন্ত দলের চেয়ারম্যান তারেক রহমানের পছন্দ এবং তার সঙ্গে সাংগঠনিকভাবে সমন্বয় করতে সক্ষম এমন নেতাকেই দায়িত্ব দেওয়ার বিষয়টি গুরুত্ব পেতে পারে।
স্থায়ী কমিটির শূন্য পদে আলোচনায় একাধিক নেতা
মির্জা ফখরুল রাষ্ট্রপতি হলে স্থায়ী কমিটিতে যে পদ শূন্য হবে, সেখানে সম্ভাব্য নতুন সদস্য হিসেবে বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান আব্দুল আউয়াল মিন্টু, মোহাম্মদ শাহজাহান, শামসুজ্জামান দুদু, চেয়ারম্যানের উপদেষ্টা জয়নুল আবদীন ফারুক এবং রুহুল কবির রিজভী আহমেদ-এর নাম আলোচনায় রয়েছে বলে দলীয় সূত্র জানিয়েছে।
তবে জাতীয় কাউন্সিলের আগে এসব পদে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে কি না, সে বিষয়ে এখনো নিশ্চিত কোনো সিদ্ধান্ত জানা যায়নি।
রিজভীর বক্তব্য—‘দল যেভাবে দায়িত্ব দেবে’
ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব হওয়ার সম্ভাবনা নিয়ে জানতে চাইলে রুহুল কবির রিজভী বলেন, তিনি দলের প্রতি শতভাগ আনুগত্য প্রকাশ করে দায়িত্ব পালন করছেন। দলের শীর্ষ নেতৃত্ব যেভাবে দায়িত্ব দেবেন, সেভাবেই তিনি কাজ করবেন।
ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব পদ নিয়ে কোনো সিদ্ধান্ত হয়েছে কি না—এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, এ বিষয়ে তিনি কিছু জানেন না। দলের চেয়ারম্যান ও নীতিনির্ধারকরাই এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেবেন।
স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়েও আসতে পারে পরিবর্তন
মির্জা ফখরুল রাষ্ট্রপতি হলে তার মন্ত্রিত্বও শূন্য হবে। ফলে স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ে নতুন নেতৃত্ব আসার সম্ভাবনা তৈরি হবে।
জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়-সংশ্লিষ্ট সূত্রের বরাত দিয়ে জানা গেছে, বর্তমান স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী শাহে আলমকে পূর্ণ মন্ত্রীর দায়িত্ব দেওয়ার বিষয়টি আলোচনায় রয়েছে। পাশাপাশি বর্তমান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদকেও স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব দেওয়ার সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা রয়েছে।
তবে মন্ত্রিসভায় সম্ভাব্য পরিবর্তন নিয়ে এখনো আনুষ্ঠানিক কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি। রাষ্ট্রপতি নির্বাচন ও পরবর্তী সাংবিধানিক প্রক্রিয়া চূড়ান্ত হওয়ার পরই মন্ত্রিসভায় পরিবর্তনের বিষয়টি স্পষ্ট হতে পারে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো মনে করছে।
শূন্য হবে মির্জা ফখরুলের সংসদীয় আসনও
রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হলে মির্জা ফখরুলের সংসদীয় আসনও শূন্য হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। ফলে ওই আসনে সম্ভাব্য উপনির্বাচন এবং বিএনপির প্রার্থী নিয়েও দলের ভেতরে আলোচনা শুরু হয়েছে।
বিশেষ করে মির্জা ফখরুলের পরিবারের কোনো সদস্যকে প্রার্থী করা হবে, নাকি দলীয়ভাবে অন্য কোনো নেতাকে মনোনয়ন দেওয়া হবে—তা নিয়ে স্থানীয় পর্যায়ে নানা আলোচনা চলছে।
তবে এ বিষয়ে এখন পর্যন্ত বিএনপির পক্ষ থেকে কোনো আনুষ্ঠানিক সিদ্ধান্ত বা প্রার্থী ঘোষণার তথ্য পাওয়া যায়নি।
রুহুল কবির রিজভীর পক্ষে জোরালো বক্তব্য
বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব আব্দুস সালাম আজাদ বলেন, মির্জা ফখরুল রাষ্ট্রপতি হলে ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব হিসেবে রুহুল কবির রিজভী আহমেদের সম্ভাবনা বেশি।
তিনি বলেন, দীর্ঘ সময় ধরে দলের সাংগঠনিক কর্মকাণ্ড ও রাজপথের আন্দোলনে রিজভীর সক্রিয় ভূমিকা রয়েছে। এ কারণে দলের একটি অংশ তাকে ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব হিসেবে দেখতে আগ্রহী।
তবে একই সঙ্গে তিনি স্বীকার করেন, চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত দলের চেয়ারম্যানের ওপরই নির্ভর করবে। চেয়ারম্যান চাইলে গঠনতান্ত্রিক ক্ষমতাবলে অন্য কাউকেও ভারপ্রাপ্ত মহাসচিবের দায়িত্ব দিতে পারেন।
এখনো চূড়ান্ত নয় কোনো সিদ্ধান্ত
সব মিলিয়ে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর রাষ্ট্রপতি হলে বিএনপির সাংগঠনিক কাঠামো, সরকারের মন্ত্রিসভা এবং তার সংসদীয় আসনে একাধিক পরিবর্তনের সম্ভাবনা তৈরি হবে। মহাসচিব পদে কে আসবেন, স্থায়ী কমিটির শূন্য পদ কীভাবে পূরণ হবে, স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব কে পাবেন এবং সংসদীয় আসনে কাকে প্রার্থী করা হবে—এসব প্রশ্নের উত্তর এখনো চূড়ান্ত হয়নি।
দলীয় সূত্রগুলোর বক্তব্য অনুযায়ী, রাষ্ট্রপতি নির্বাচন প্রক্রিয়া শেষ হওয়ার পরই এসব বিষয়ে আনুষ্ঠানিক সিদ্ধান্তের পথ পরিষ্কার হতে পারে। আর জাতীয় কাউন্সিল সামনে থাকায় বিএনপির সাংগঠনিক পুনর্বিন্যাসের বিষয়টিও একই সঙ্গে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে।
মির্জা ফখরুল রাষ্ট্রপতি হলে বিষয়টি শুধু একজন শীর্ষ নেতার পদ পরিবর্তনের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকবে না; এর প্রভাব পড়তে পারে বিএনপির নেতৃত্ব কাঠামো, সরকারের মন্ত্রিসভা এবং একটি সংসদীয় আসনের প্রতিনিধিত্বে। ফলে রাষ্ট্রপতি নির্বাচনকে কেন্দ্র করে সম্ভাব্য এই পরিবর্তনগুলো আগামী দিনের রাজনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।

আরো সংবাদ পড়ুন
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত
ওয়েবসাইট ডিজাইন : ইয়োলো হোস্ট