বুধবার, ১২ অগাস্ট ২০২৬, ০৬:৫৫ অপরাহ্ন
Title :
বাংলাদেশের রাজস্ব আয়-ব্যয়ে আরও স্বচ্ছতা চায় যুক্তরাষ্ট্র নন প্র্যাকটিসিং ও দ্বৈত পেশায় যুক্ত আইনজীবীদের সনদ বাতিলের দাবিতে বার কাউন্সিলে আইনি নোটিশ আখেরি চাহার সোম্বা: ইসলামী শরিয়তে এর অবস্থান ও ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট সরকারি খরচে বিনামূল্যে আইনগত সহায়তা দরিদ্র ও অসহায় বিচারপ্রার্থীর ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে জেলা লিগ্যাল এইড অফিস মির্জা ফখরুল রাষ্ট্রপতি হলে বিএনপিতে শূন্য হবে গুরুত্বপূর্ণ দুই পদ, বদল আসতে পারে মন্ত্রিসভাতেও সুপ্রিম কোর্ট লিগ্যাল এইড অফিসে মধ্যস্থতা (ADR) কার্যক্রম শুরু: বিচারপ্রার্থীদের জন্য এক নতুন দিগন্ত চার কোটি টাকা আত্মসাতের মামলা: অ্যাম্বুলেন্সে আদালতে ফারমার্স ব্যাংকের সাবেক কর্মকর্তা হাইকোর্টের ৫৫টি বেঞ্চ পুনর্গঠন করলেন প্রধান বিচারপতি। অতিরিক্ত দামের কারনে মার্কিন প্রতিষ্ঠানের সাথে দীর্ঘমেয়াদি এলএনজি চুক্তি স্থগিত ই-গভর্নেন্স ও প্রযুক্তিতে বাংলাদেশের অংশীদার হতে চায় এস্তোনিয়া: নেওয়া হবে আইটি ও স্বাস্থ্য খাতের দক্ষ জনশক্তি

নন প্র্যাকটিসিং ও দ্বৈত পেশায় যুক্ত আইনজীবীদের সনদ বাতিলের দাবিতে বার কাউন্সিলে আইনি নোটিশ

  • প্রকাশিত: বুধবার, ১২ আগস্ট, ২০২৬
  • ৪ বার পড়া হয়েছে

 

নন প্র্যাকটিসিং ও দ্বৈত পেশায় যুক্ত আইনজীবীদের সনদ বাতিলের দাবিতে বার কাউন্সিলে আইনি নোটিশ
নিউজ ডেস্ক আদালত বার্তাঃ
১২ আগস্ট, ২০২৬
দ্বৈত পেশা ও বাণিজ্যিক কর্মকাণ্ডে জড়িত আইনজীবীদের প্র্যাক্টিসিং লাইসেন্স তথা সনদ বাতিল, নন প্র্যাকটিসিং আইনজীবীদের চিহ্নিতকরণ এবং এ সংক্রান্ত আবেদন নিষ্পত্তির দাবি জানিয়ে বাংলাদেশ বার কাউন্সিল ও আইন মন্ত্রণালয়কে আইনি নোটিশ (Notice Demanding Justice) পাঠানো হয়েছে।
আজ বুধবার (১২ আগস্ট ) সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগের আইনজীবী ফরহাদ উদ্দিন আহমেদ ভূঁইয়া স্বপ্রণোদিত হয়ে ব্যক্তিগত উদ্যোগে ডাকযোগে (Registered A/D) এই আইনি নোটিশটি প্রেরণ করেন।
আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের (আইন ও বিচার বিভাগ) সচিব, বাংলাদেশ বার কাউন্সিলের সচিব, নির্বাহী কমিটির চেয়ারম্যান, অভিযোগ ও মনিটরিং (ভিজিল্যান্স) কমিটির চেয়ারম্যান এবং রোল ও প্রকাশনা কমিটির চেয়ারম্যানকে নোটিশে বিবাদী করা হয়েছে।
নোটিশে উল্লেখ করা হয় যে, ওকালতি একটি মহান, স্বাধীন ও সম্মানজনক পেশা। কিন্তু উদ্বেগের বিষয় হলো, বাংলাদেশ বার কাউন্সিল থেকে লাইসেন্স নেওয়ার পর একটি উল্লেখযোগ্য সংখ্যক ব্যক্তি সক্রিয় আইন চর্চায় যুক্ত না থেকে কেবল “অ্যাডভোকেট” পদবিটিকে একটি ঢাল বা প্রভাব বিস্তারের হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করছেন। বাস্তবে তারা বিভিন্ন লাভজনক ব্যবসা, চাকরি ও বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানে নিয়োজিত রয়েছেন।
নোটিশে দাবি করা হয়, অনেক সনদপ্রাপ্ত আইনজীবী প্র্যাকটিস না করে কার শোরুম, ইট-বালি-সিমেন্ট সরবরাহ, ম্যানপাওয়ার/দালালি ব্যবসা, ঠিকাদারি, পরিবহন ব্যবসা, এমনকি মোবাইল ফ্লেক্সিলোড ও মোবাইল ফিন্যান্সিয়াল সার্ভিসের (বিকাশ/নগদ) দোকান পরিচালনা করছেন। এছাড়া অনেকে সনদ সমর্পণ (Surrender) না করেই বিদেশে অবস্থান করছেন কিংবা বিভিন্ন সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠান, ব্যাংক, বীমা ও কর্পোরেট সংস্থায় পূর্ণকালীন বা খণ্ডকালীন চাকরি করছেন।
আইনি ও সাংবিধানিক লঙ্ঘন
১. বার কাউন্সিল বিধিমালা, ১৯৭২: The Bangladesh Legal Practitioners and Bar Council Rules, 1972-এর ৭০ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, একজন তালিকাভুক্ত আইনজীবী কোনো ব্যবসায় বা লাভজনক কর্মসংস্থানে যুক্ত হতে পারেন না। এটি স্পষ্টতই “পেশাগত অসদাচরণ” (Professional Misconduct)।
২. পেশাগত আচরণবিধি: Canons of Professional Conduct & Etiquette-এর অধ্যায়-৪, রুল ৮ অনুযায়ী
সক্রিয় লাইসেন্স রেখে অন্য পেশায় যুক্ত থাকা পেশাগত নৈতিকতার লঙ্ঘন।
৩. সংবিধানের বিধান: দ্বৈত পেশা ধারণ করা সংবিধানের ২০(১) অনুচ্ছেদ (কর্মের অধিকার ও সম্মান), ৩১ অনুচ্ছেদ (আইনের সুরক্ষা লাভ) এবং ৪০ অনুচ্ছেদের (পেশা বা বৃত্তির স্বাধীনতা) বরখেলাপ।
৪. আন্তর্জাতিক নজির: ভারতের সুপ্রিম কোর্টের Dr. Haniraj L. Chulani v. Bar Council of Maharashtra & Goa [AIR 1996 SC 1708] মামলায় স্পষ্টভাবে বলা হয়েছে যে, ওকালতি একটি পূর্ণকালীন পেশা এবং একজন আইনজীবী একসাথে অন্য কোনো ব্যবসায় যুক্ত হতে পারেন না। একই নীতি ইউকের ‘বার স্ট্যান্ডার্ডস বোর্ড’ (BSB) ও আমেরিকান বার অ্যাসোসিয়েশনের (ABA) নীতিমালায় অনুসরণ করা হয়।
আবেদনের নিষ্ক্রিয়তা ও ৫ দিনের আল্টিমেটাম
নোটিশদাতা জানান, এ বিষয়ে প্রতিকার চেয়ে তিনি ২০১৯ সালের ২ ডিসেম্বর এবং ২০২৩ সালের ৩০ জানুয়ারি বার কাউন্সিলে লিখিত আবেদন জমা দিয়েছিলেন। কিন্তু দীর্ঘ সময় পার হলেও কোনো দৃশ্যমান ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়নি।
অতএব, এই নোটিশ প্রাপ্তির ৫ (পাঁচ) দিনের মধ্যে নিম্নলিখিত পদক্ষেপগুলো গ্রহণের আহ্বান জানানো হয়েছে:
সক্রিয় আইন চর্চার পরিবর্তে অন্য ব্যবসা বা চাকরিতে নিয়োজিতদের চিহ্নিত করতে উচ্চস্তরের তদন্ত/ভিজিল্যান্স কমিটি গঠন।
জাতীয় দৈনিক পত্রিকায় গণবিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করে অন্য পেশায় নিয়োজিত নন-প্র্যাক্টিসিং আইনজীবীদের নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে সনদ সমর্পণের নির্দেশ দেওয়া।
নির্ধারিত সময়ে সনদ সমর্পণ না করলে তাদের বিরুদ্ধে শৃঙ্খলাভঙ্গের আইনি প্রক্রিয়া শুরু, লাইসেন্স বাতিল এবং ৩০ জানুয়ারি ২০২৩ তারিখের আবেদনটি নিষ্পত্তি করা।
নোটিশে সাফ জানিয়ে দেওয়া হয়েছে, উল্লিখিত ৫ দিনের সময়সীমার মধ্যে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা না নেওয়া হলে সংবিধানের ১০২ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী হাইকোর্ট বিভাগে রিট পিটিশন (Writ Petition) দায়ের করা হবে।

আরো সংবাদ পড়ুন
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত
ওয়েবসাইট ডিজাইন : ইয়োলো হোস্ট