বৃহস্পতিবার, ১৩ অগাস্ট ২০২৬, ১১:৩১ অপরাহ্ন
Title :
বাংলাদেশে সেল গঠনের চেষ্টা করছে আল-কায়েদা ভারত উপমহাদেশ শাখা: জাতিসংঘের মনিটরিং টিম আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল ও বাচ্চু রাজাকারের বিচার: পারভেজ হাসেমের মতামত। জুলাই-জুনের বদলে এপ্রিল-মার্চে অর্থবছর পরিবর্তনের পরিকল্পনা করছে সরকার। জামিনপ্রক্রিয়া স্বচ্ছ করতে আরও ১২ জেলায় ‘ই-বেইল বন্ড’ চালু হঠাৎ আলোচনায় সমকামিতা: বাংলাদেশের প্রচলিত আইন, বিচারিক বাস্তবতা ও সামাজিক প্রেক্ষাপট বিচারকক্ষে মিডিয়ার প্রবেশে বাধা দেওয়া সংবিধান লঙ্ঘন: এলআরএফের অবস্থান কর্মসূচিতে সাংবাদিক নেতারা বাংলাদেশের রাজস্ব আয়-ব্যয়ে আরও স্বচ্ছতা চায় যুক্তরাষ্ট্র নন প্র্যাকটিসিং ও দ্বৈত পেশায় যুক্ত আইনজীবীদের সনদ বাতিলের দাবিতে বার কাউন্সিলে আইনি নোটিশ আখেরি চাহার সোম্বা: ইসলামী শরিয়তে এর অবস্থান ও ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট সরকারি খরচে বিনামূল্যে আইনগত সহায়তা দরিদ্র ও অসহায় বিচারপ্রার্থীর ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে জেলা লিগ্যাল এইড অফিস

আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল ও বাচ্চু রাজাকারের বিচার: পারভেজ হাসেমের মতামত।

  • প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ১৩ আগস্ট, ২০২৬
  • ৩ বার পড়া হয়েছে

আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল ও বাচ্চু রাজাকারের বিচার: পারভেজ হাসেমের মতামত।

নিউজ ডেস্ক আদালত বার্তাঃ১৩ আগষ্ট ২০২৬

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র থেকে পারভেজ হাসেমের মতামত
মৃত্যুদণ্ড স্থগিতের নজিরবিহীন আদেশ: বাচ্চু রাজাকার মামলায় ট্রাইব্যুনালের এখতিয়ার নিয়ে প্রশ্ন
মেলবোর্ন, ১৩ আগস্ট: মৃত্যুদণ্ডে দণ্ডিত আসামি আত্মসমর্পণের পর তাকে কারাগারে পাঠানোর পরিবর্তে ‘বর্তমান অবস্থায় মুক্ত’ থাকার অনুমতি দেওয়ায় আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২-এর একটি আদেশ নিয়ে নতুন করে আইনি প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। মামলাটি জামায়াতে ইসলামীর সাবেক ছাত্রনেতা ও ‘বাচ্চু রাজাকার’ নামে পরিচিত মাওলানা আবুল কালাম আজাদকে ঘিরে।
২০১৩ সালের ২১ জানুয়ারি আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২, তৎকালীন চেয়ারম্যান বিচারপতি ওবায়দুল হাসানের নেতৃত্বে, অনুপস্থিতিতে আবুল কালাম আজাদকে মৃত্যুদণ্ড দেন। ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধের সময় অপহরণ, নির্যাতন, ধর্ষণ এবং নিরস্ত্র বেসামরিক মানুষ, বিশেষ করে হিন্দু সম্প্রদায়ের সদস্যদের গণহত্যার ঘটনায় তাকে দোষী সাব্যস্ত করা হয়। পাকিস্তানি দখলদার বাহিনীকে সহযোগিতার অভিযোগও তার বিরুদ্ধে প্রমাণিত হয়।
রায় ঘোষণার আগেই আজাদ দেশ ছেড়ে পালিয়ে যান। পরে তিনি পাকিস্তানে অবস্থান করছেন বলে ধারণা করা হয়।
১৩ বছর পর আত্মসমর্পণ, এরপর নজিরবিহীন আদেশ
রায় ঘোষণার প্রায় ১৩ বছর পর, ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি আবুল কালাম আজাদ ট্রাইব্যুনালের রেজিস্ট্রারের কার্যালয়ে গিয়ে আত্মসমর্পণ করেন। তিনি অবশ্য শুরু থেকেই নিজের নির্দোষ দাবি করে আসছেন।
রাষ্ট্রপক্ষের ভাষ্য অনুযায়ী, এর আগের বছরই তিনি স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কাছে আবেদন করে তার মৃত্যুদণ্ড স্থগিতের অনুরোধ জানিয়েছিলেন।
আত্মসমর্পণের পরদিন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২-এর তিন সদস্যের বেঞ্চ, এবার বিচারপতি মো. নজরুল ইসলাম চৌধুরীর নেতৃত্বে, একটি আদেশ দেন। এতে আপিলের বিষয়টি নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত আজাদকে ‘যে অবস্থায় আছেন, সে অবস্থায় মুক্ত’ থাকার অনুমতি দেওয়া হয়। একই সঙ্গে আপিল দায়েরের প্রস্তুতির জন্য মামলার নথিপত্র ও রায়ের সত্যায়িত অনুলিপি তাকে দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়।
অর্থাৎ, মৃত্যুদণ্ডে দণ্ডিত একজন ব্যক্তি আত্মসমর্পণের পরও ট্রাইব্যুনাল প্রাঙ্গণ থেকে কারাগারে না গিয়ে গাড়িতে করে মুক্ত অবস্থায় বেরিয়ে যান, অন্তত আপাতত।
মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামির ক্ষেত্রে প্রচলিত আইনি প্রক্রিয়া কী?
বাংলাদেশের প্রচলিত ফৌজদারি বিচারব্যবস্থায় দীর্ঘদিনের প্রতিষ্ঠিত রীতি হলো, মৃত্যুদণ্ডে দণ্ডিত কোনো ব্যক্তি গ্রেপ্তার বা আত্মসমর্পণ করলে তাকে হেফাজতে নেওয়া হয়। এটি সাধারণত বিচারকের বিবেচনাধীন কোনো বিষয় নয়, বরং মৃত্যুদণ্ডের স্বাভাবিক আইনি পরিণতি।
দণ্ডের যথার্থতা নিয়ে আপিলের সুযোগ থাকলেও, আপিল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত দণ্ডিত ব্যক্তিকে কারাগারে রাখা হয়। আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের রায়ের বিরুদ্ধে বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগে আপিল করার আইনগত অধিকার রয়েছে দণ্ডিত ব্যক্তির। আপিল বিভাগ প্রয়োজন মনে করলে দণ্ড কার্যকর স্থগিত করতে পারে এবং আপিল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত জামিনও দিতে পারে।
তবে আপিল বিভাগের এই এখতিয়ার এবং ট্রাইব্যুনালের একই ধরনের ক্ষমতা এক বিষয় নয়।
প্রচলিত বিচারিক চর্চায়, বিশেষ করে মৃত্যুদণ্ডের মামলায়, আপিল বিভাগ অত্যন্ত সতর্কতার সঙ্গে দণ্ড স্থগিত বা অন্তর্বর্তীকালীন জামিনের বিষয় বিবেচনা করে থাকে। এ ধরনের সুবিধা স্বয়ংক্রিয় কোনো অধিকার নয়। যথাযথভাবে দায়ের করা আপিলের ভিত্তিতে আদালত মামলার নথি, দণ্ডের কারণ ও অন্যান্য প্রাসঙ্গিক বিষয় পর্যালোচনা করে সন্তুষ্ট হলে তবেই এ ধরনের আদেশ দেওয়া হতে পারে।
এই প্রতিষ্ঠিত আইনি কাঠামোর বিপরীতে আবুল কালাম আজাদের ক্ষেত্রে ট্রাইব্যুনালের আদেশটি ব্যতিক্রমী। কারণ আত্মসমর্পণের পর তাকে হেফাজতে নেওয়ার পরিবর্তে ট্রাইব্যুনাল তাকে মুক্ত থাকার অনুমতি দিয়েছে। আরও গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, তখনও কোনো আপিল দায়ের হয়নি। বরং যে আপিল করার জন্য প্রয়োজনীয় নথি সরবরাহের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, তার প্রস্তুতির পর্যায়েই তাকে মুক্ত রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
প্রচলিত ধারার উল্টো পথে গেল প্রক্রিয়া
বাংলাদেশের ফৌজদারি বিচারব্যবস্থায় সাধারণত যে ধারাটি অনুসরণ করা হয় তা হলো: প্রথমে হেফাজত, এরপর আপিল বিভাগে দণ্ড স্থগিতের আবেদন।
কিন্তু আজাদের ক্ষেত্রে কার্যত এর উল্টোটি ঘটেছে। আত্মসমর্পণের পর তাকে হেফাজতে না নিয়ে আপিল করার সুযোগ তৈরি হওয়ার আগেই মুক্ত থাকার অনুমতি দেওয়া হয়েছে।
ফলে প্রশ্ন উঠছে, এমন আদেশের জন্য ট্রাইব্যুনালের স্পষ্ট আইনগত এখতিয়ার রয়েছে কি না এবং বাংলাদেশের সাধারণ ফৌজদারি বিচারব্যবস্থায় এর কোনো সুস্পষ্ট নজির আছে কি না।
‘আগেও করেছি’ বললেই কি এখতিয়ার তৈরি হয়?
বিতর্কের মূল জায়গাটি শুধু এই একটি আদেশ নয়। বরং ভবিষ্যতে এই আদেশ কী ধরনের নজির তৈরি করবে, সেটিই বড় প্রশ্ন।
যদি ধরে নেওয়া হয় যে ট্রাইব্যুনাল এমন একটি ক্ষমতা প্রয়োগ করেছে, যা ১৯৭৩ সালের আইনে তাকে স্পষ্টভাবে দেওয়া হয়নি, তাহলে পরবর্তী সময়ে একই ধরনের সুবিধা চাইলে অন্য আসামিরাও আবুল কালাম আজাদের মামলাকে নজির হিসেবে তুলে ধরতে পারেন।
এখানেই আইনি জটিলতা।
কোনো আদালত বা ট্রাইব্যুনালের নিজস্ব পূর্ববর্তী চর্চা নিজে থেকে তার এখতিয়ারের উৎস হয়ে যায় না। আদালত ও ট্রাইব্যুনালের ক্ষমতা আসে সংশ্লিষ্ট আইন থেকে। অর্থাৎ ১৯৭৩ সালে কোনো ক্ষমতা আইনে না থাকলে এবং পরবর্তীতে সংসদ আইন সংশোধন করে সেই ক্ষমতা সংযোজন না করলে, শুধু আদালতের ধারাবাহিক প্রয়োগের মাধ্যমে সেই ক্ষমতা সৃষ্টি হয়েছে বলে ধরে নেওয়া যায় না।
কারণ, এভাবে কোনো অনির্ধারিত ক্ষমতার ব্যবহার ধীরে ধীরে নিয়মে পরিণত হওয়ার ঝুঁকি তৈরি করে।
মানবিক বিবেচনা বনাম আইনি কর্তৃত্ব
আত্মসমর্পণকারী কোনো মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামিকে তার সব আইনগত প্রতিকার ব্যবহারের সুযোগ দেওয়ার পক্ষে মানবিক বা ন্যায়বিচারসংক্রান্ত যুক্তি থাকতে পারে। বিশেষ করে মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের মতো চূড়ান্ত পদক্ষেপের আগে আপিলের সুযোগ নিশ্চিত করা গুরুত্বপূর্ণ।
কিন্তু এমন কোনো নীতি যদি বাংলাদেশের আইনি কাঠামোর অংশ করতে হয়, তাহলে সেটি আদালতের পৃথক পৃথক আদেশের মাধ্যমে নয়, আইন প্রণয়নের মাধ্যমে স্পষ্ট করা উচিত।
সংসদ চাইলে আন্তর্জাতিক অপরাধ (ট্রাইব্যুনাল) আইন, ১৯৭৩ সংশোধন করে নির্ধারণ করতে পারে, কোনো মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত পলাতক আসামি আত্মসমর্পণ করলে কোন পরিস্থিতিতে এবং কী শর্তে তার দণ্ড কার্যকর স্থগিত রাখা যাবে।
আইনে এ বিষয়ে সুস্পষ্ট বিধান না থাকলে আদালতের পৃথক আদেশের মাধ্যমে নতুন কোনো প্রক্রিয়া তৈরি করা হলে ভবিষ্যতে তা ধীরে ধীরে অলিখিত আইনি নিয়মে পরিণত হওয়ার আশঙ্কা থাকে।
৫ আগস্ট ২০২৪-এর পর বৃহত্তর রাজনৈতিক ও বিচারিক প্রেক্ষাপট
বাংলাদেশের ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধের সময় সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের বিচার ও দায়বদ্ধতা নিশ্চিত করতেই আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল।
২০২৪ সালের ৫ আগস্টের রাজনৈতিক পরিবর্তনের পর দেশের রাজনৈতিক পরিবেশেও বড় ধরনের পরিবর্তন এসেছে। এ সময় মুক্তিযুদ্ধবিরোধী ও পাকিস্তানপন্থী হিসেবে পরিচিত বিভিন্ন রাজনৈতিক শক্তির সক্রিয়তা নতুন করে আলোচনায় এসেছে। এর প্রভাব রাষ্ট্রের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান, বিশেষ করে বিচারব্যবস্থা ও আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের ওপর পড়ছে কি না, তা নিয়েও নানা মহলে আলোচনা রয়েছে।
এরই মধ্যে জামায়াতে ইসলামীর নেতা এ টি এম আজহারুল ইসলামকে আপিল বিভাগে রিভিউ আবেদন মঞ্জুর হওয়ার পর মুক্তি দেওয়ার ঘটনা ব্যাপক আলোচনার জন্ম দেয়। ১৯৭১ সালের অপরাধের বিচার এবং ২০২৪-পরবর্তী বিচারিক ব্যবস্থার গতিপথ নিয়েও এ সিদ্ধান্তের পর নতুন করে বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে।
এই বৃহত্তর প্রেক্ষাপটে মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত পলাতক আসামি মাওলানা আবুল কালাম আজাদের আত্মসমর্পণের পর ট্রাইব্যুনালের সাম্প্রতিক আদেশটি আলাদা একটি গুরুত্বপূর্ণ আইনি প্রশ্ন সামনে এনেছে।
প্রশ্নটি আসলে আজাদকে আত্মসমর্পণের সঙ্গে সঙ্গে ফাঁসিতে ঝোলানো উচিত ছিল কি না, তা নয়। কোনো দণ্ডিত ব্যক্তি দেশে ফিরে এসে তার সব আইনগত প্রতিকার ব্যবহারের সুযোগ পাওয়ার আগে মৃত্যুদণ্ড কার্যকর না করার পক্ষে ন্যায়বিচার ও যথাযথ আইনি প্রক্রিয়ার যুক্তি থাকতে পারে।
মূল প্রশ্ন হলো, এমন সুরক্ষা বা প্রক্রিয়া চালুর ক্ষমতা ট্রাইব্যুনালকে আইন দিয়েছে কি না।
শেষ পর্যন্ত প্রশ্নটি বিচারিক ক্ষমতার সীমা নিয়ে
এখন বাংলাদেশের উচ্চতর বিচার বিভাগ ও আইনজগতের সামনে একটি মৌলিক প্রশ্ন দাঁড়িয়েছে: সংসদ কোনো ক্ষমতা আদালত বা ট্রাইব্যুনালকে না দিলে, শুধু অতীতে সেই ক্ষমতা প্রয়োগ করা হয়েছে বলে কি আদালত তা প্রয়োগ করতে পারে?
যদি উত্তর ‘হ্যাঁ’ হয়, তাহলে বিচারিক ক্ষমতার সীমানা আইন নয়, বরং আদালতের পূর্ববর্তী সিদ্ধান্ত ও চর্চার মাধ্যমে নির্ধারিত হওয়ার ঝুঁকি তৈরি হয়। এর ফলে সংসদের অনুমোদন ছাড়াই কোনো বিচারিক প্রক্রিয়া ধীরে ধীরে আইনের মর্যাদা পেতে পারে।
আর যদি উত্তর ‘না’ হয়, তাহলে আজাদের মামলায় ট্রাইব্যুনালের আদেশটি এর পেছনে থাকা মানবিক বা বাস্তবিক বিবেচনা যাই থাকুক না কেন, তা উচ্চতর বিচারিক পর্যালোচনার আওতায় আনা প্রয়োজন।
আদেশটি আইনগতভাবে বৈধ হলে বিষয়টি স্পষ্ট করতে আইন সংশোধন করা যেতে পারে। আর যদি এর পক্ষে পর্যাপ্ত আইনি ভিত্তি না থাকে, তাহলে ভবিষ্যতে একই ধরনের আদেশ বারবার দেওয়ার মাধ্যমে একটি ব্যতিক্রমী সিদ্ধান্তকে প্রতিষ্ঠিত আইনি চর্চায় পরিণত হওয়ার আগেই তা সংশোধন করা প্রয়োজন।
শেষ পর্যন্ত বিষয়টি শুধু একজন দণ্ডিত ব্যক্তির ভাগ্য নির্ধারণের প্রশ্ন নয়। এর সঙ্গে জড়িয়ে আছে বিচারিক ক্ষমতার সীমা, আইনি প্রক্রিয়া নির্ধারণে সংসদের কর্তৃত্ব এবং বাংলাদেশের আন্তর্জাতিক অপরাধবিষয়ক বিচারব্যবস্থার বিশ্বাসযোগ্যতা।
বিশেষ করে মৃত্যুদণ্ড ও মানবতাবিরোধী অপরাধের মতো গুরুতর বিষয়ে আইনি নিশ্চয়তা অবশ্যই স্পষ্ট আইন ও সংসদীয় কর্তৃত্বের ওপর ভিত্তি করে প্রতিষ্ঠিত হওয়া উচিত। অনুমিত ক্ষমতা কিংবা সময়ের সঙ্গে গড়ে ওঠা বিচারিক চর্চার ওপর এমন গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নির্ভর করা উচিত নয়।

আরো সংবাদ পড়ুন
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত
ওয়েবসাইট ডিজাইন : ইয়োলো হোস্ট