বাংলাদেশে সেল গঠনের চেষ্টা করছে আল-কায়েদা ভারত উপমহাদেশ শাখা: জাতিসংঘের মনিটরিং টিম
প্রকাশিত:
বৃহস্পতিবার, ১৩ আগস্ট, ২০২৬
১
বার পড়া হয়েছে
বাংলাদেশে সেল গঠনের চেষ্টা করছে আল-কায়েদা ভারত উপমহাদেশ শাখা: জাতিসংঘের মনিটরিং টিম আন্তর্জাতিক ডেস্ক | আদালত বার্তা প্রকাশ: ১৩ আগস্ট ২০২৬ বাংলাদেশে সেল গঠনের চেষ্টা করছে আল-কায়েদার ভারত উপমহাদেশ শাখা (একিউআইএস)—এমন তথ্য জানিয়েছে জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের নিষেধাজ্ঞা পর্যবেক্ষণকারী মনিটরিং টিম। গত ১০ আগস্ট প্রকাশিত প্রতিবেদনে সন্ত্রাসবাদবিরোধী নিষেধাজ্ঞার আওতায় থাকা সংগঠনগুলোর কার্যক্রম ও নেটওয়ার্ক নিয়ে বিভিন্ন তথ্য তুলে ধরা হয়। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, আল-কায়েদা ভারত উপমহাদেশ শাখা (AQIS) বর্তমানে একটি বিচ্ছিন্ন গোষ্ঠী থেকে ধীরে ধীরে আঞ্চলিক সন্ত্রাসী নেটওয়ার্কে রূপ নেওয়ার চেষ্টা করছে। এ লক্ষ্যে সংগঠনটি বিভিন্ন দেশে লজিস্টিক ও অর্থনৈতিক নেটওয়ার্ক গড়ে তুলছে। বড় আকারের সাংগঠনিক কাঠামোর পরিবর্তে ছোট ও বিকেন্দ্রীভূত সেল এবং বিচ্ছিন্ন গ্রুপের মাধ্যমে কার্যক্রম পরিচালনার কৌশল নেওয়া হয়েছে বলেও প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়। দিল্লির লালকেল্লা হামলার সঙ্গে সংশ্লিষ্টতার দাবি জাতিসংঘের মনিটরিং টিমের প্রতিবেদনে গত বছরের ২৫ নভেম্বর ভারতের দিল্লির লালকেল্লায় সংঘটিত গাড়িবোমা হামলার সঙ্গে AQIS-এর সংশ্লিষ্টতার কথা উল্লেখ করা হয়েছে। হামলার পর ভারতের জাতীয় তদন্ত সংস্থা (NIA) চলতি বছরের মে মাসে ১০ জনের বিরুদ্ধে চার্জশিট দাখিল করে। তদন্তে তাদের ‘আনসার গাজওয়াত-উল-হিন্দ’ নামের একটি সংগঠনের সঙ্গে সম্পৃক্ত বলে উল্লেখ করা হয়। ওই সংগঠনের সঙ্গে আল-কায়েদা ভারত উপমহাদেশ শাখার সম্পর্ক রয়েছে বলেও তদন্তে উঠে আসে। ভারতীয় তদন্তকারীদের দাবি, হামলার মূল পরিকল্পনাকারী ছিলেন উমর উন-নবী। তিনি ফরিদাবাদের আল-ফালাহ বিশ্ববিদ্যালয়ের মেডিসিন বিভাগের সহকারী অধ্যাপক হিসেবে কর্মরত ছিলেন। হামলার সময় তিনি নিহত হন। ভয়াবহ ওই হামলায় ১১ জন নিহত এবং বহু মানুষ আহত হন। পাশাপাশি ব্যাপক সম্পদের ক্ষয়ক্ষতি হয়। কাবুলে অবস্থান ও আঞ্চলিক নেটওয়ার্ক জাতিসংঘের প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, AQIS-এর কয়েকজন নেতা বর্তমানে আফগানিস্তানের রাজধানী কাবুলে অবস্থান করছেন। তাদের আফগানিস্তানের জাতীয় পরিচয়পত্র দেওয়া হয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়। মনিটরিং টিমের মতে, এ বিষয়টি AQIS-এর সঙ্গে তালেবানের সম্পর্ক নিয়ে নতুন প্রশ্ন তৈরি করছে। প্রতিবেদনে আরও দাবি করা হয়েছে, পাকিস্তানে ‘ইত্তেহাদ-উল-মুজাহিদিন পাকিস্তান’ নামে একটি সশস্ত্র গোষ্ঠীর সক্ষমতা বৃদ্ধিতেও AQIS ভূমিকা রাখছে। ওই গোষ্ঠীর বিরুদ্ধে পাকিস্তানের খাইবার পাখতুনখাওয়ায় গত ৯ মে হামলা চালিয়ে ২১ জনকে হত্যার অভিযোগ রয়েছে। রাসায়নিক ও জৈব অস্ত্র নিয়ে উদ্বেগ জাতিসংঘের মনিটরিং টিমের প্রতিবেদনে আল-কায়েদা ভারত উপমহাদেশ শাখা ও ইসলামিক স্টেটের রাসায়নিক ও জৈব অস্ত্র তৈরির সক্ষমতা অর্জনের প্রচেষ্টা নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়েছে। প্রতিবেদন অনুযায়ী, ভারতে এক চিকিৎসকসহ তিনজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছিল। তাদের বিরুদ্ধে ‘রিসিন’ নামের একটি বিষাক্ত পদার্থ তৈরির চেষ্টার অভিযোগ ছিল। এ ছাড়া গত ফেব্রুয়ারিতে এসব সন্ত্রাসী সংগঠনের সদস্যদের রাসায়নিক ও জৈব অস্ত্র তৈরির বিষয়ে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছিল বলেও প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। বাংলাদেশের জন্য নতুন নিরাপত্তা উদ্বেগ বিশ্লেষকদের মতে, বাংলাদেশে AQIS-এর সম্ভাব্য সেল গঠনের চেষ্টা নিয়ে জাতিসংঘের মনিটরিং টিমের এই পর্যবেক্ষণ দেশের নিরাপত্তা পরিস্থিতির জন্য গুরুত্বপূর্ণ সতর্কবার্তা। তবে প্রতিবেদনে উল্লেখিত তথ্যগুলো গোয়েন্দা ও নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণের অংশ হিসেবে দেখা হচ্ছে এবং বাংলাদেশে সংগঠনটির কার্যক্রমের সুনির্দিষ্ট মাত্রা বা কোনো সক্রিয় সেলের বিষয়ে স্বাধীনভাবে নিশ্চিত তথ্য প্রকাশ্যে এসেছে কি না, তা আলাদাভাবে যাচাই করা প্রয়োজন। সন্ত্রাসবাদ মোকাবিলায় আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক গোয়েন্দা সহযোগিতা জোরদার করা এবং অনলাইন ও অফলাইন উভয় মাধ্যমে উগ্রবাদী নেটওয়ার্কের বিস্তার প্রতিরোধে কার্যকর নজরদারি নিশ্চিত করার ওপরই এখন গুরুত্ব দিচ্ছে সংশ্লিষ্ট মহল।