রবিবার, ৩০ অগাস্ট ২০২৬, ০৯:৪০ অপরাহ্ন
Title :
বেইমান কখনো বন্ধু হয় না—বিশ্বাস ভাঙার শব্দ শোনা যায় না, কিন্তু তার ক্ষত সবচেয়ে গভীর আপিল বিভাগের নবনিযুক্ত বিচারপতি হাবিবুল গনির শপথ দীর্ঘ বিচারিক অভিজ্ঞতার নতুন অধ্যায় বিচার প্রশাসনে ধীরগতি: মামলার পাহাড়, বিচারক সংকট, শূন্য পদ পূরণে স্থবিরতা সম্পত্তি দানে দাতার আজীবন ভোগাধিকার নিশ্চিতে সংসদে নতুন বিল উত্থাপন এআই দিয়ে রায় লেখা অনুচিত—প্রধান বিচারপতির সতর্কবার্তা বিচারকের বিবেক, স্বাধীন বিচারিক মনন ও আইনের শাসন রক্ষায় প্রযুক্তির সীমারেখা জরুরি ঢাকাসহ সারাদেশে অভিযানে নামছে পুলিশের নতুন ‘স্পেশাল’ ইউনিট সাবধান! আপনার মোবাইলে এই ৩১টি লোন অ্যাপ নেই তো? অবৈধ ঋণ কার্যক্রম নিয়ে বাংলাদেশ ব্যাংকের জরুরি সতর্কবার্তা রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র: পরীক্ষামূলক উৎপাদনে যাচ্ছে শিগগিরই, বছরে সাশ্রয় হবে ১০০ কোটি ডলার কণ্ঠশীলন-এর নতুন কার্যকরী পর্ষদ গঠিত: সভাপতি সোহেল, সম্পাদক নুরুজ্জামান সাভার থেকে এয়ারপোর্ট মাত্র ১০ মিনিটে! স্মার্ট বাংলাদেশের নতুন মাইলফলক

বেইমান কখনো বন্ধু হয় না—বিশ্বাস ভাঙার শব্দ শোনা যায় না, কিন্তু তার ক্ষত সবচেয়ে গভীর

  • প্রকাশিত: রবিবার, ৩০ আগস্ট, ২০২৬
  • ২৯ বার পড়া হয়েছে

সম্পাদকীয়
বেইমান কখনো বন্ধু হয় না—বিশ্বাস ভাঙার শব্দ শোনা যায় না, কিন্তু তার ক্ষত সবচেয়ে গভীর।

সম্পাদকীয়, আদালত বার্তাঃ৩০ আগষ্ট ২০২৬
মানুষের জীবনে কিছু ক্ষত থাকে, যার কোনো রক্তপাত নেই। কোনো ব্যান্ডেজ লাগে না, কোনো হাসপাতালের দরকার হয় না—তবু সেই ক্ষত বছরের পর বছর মানুষকে ভেতর থেকে রক্তাক্ত করে। বিশ্বাসভঙ্গ তেমনই এক ক্ষত।
একজন অপরিচিত মানুষ প্রতারণা করলে আমরা তাকে এড়িয়ে যেতে পারি। একজন শত্রু আঘাত করলে আমরা তার বিরুদ্ধে সতর্ক হতে পারি। কিন্তু যখন আঘাতটি আসে বন্ধুর হাত থেকে—তখন মানুষ শুধু একজনকে হারায় না, হারায় তার বিশ্বাসের একটি অংশ।
বেইমান কখনো বন্ধু হয় না।
সে হয়তো আপনার সঙ্গে হাসে, আপনার পাশে বসে, আপনার সুখের দিনে শুভেচ্ছা জানায়, আপনার ব্যক্তিগত কথা জানে, আপনার দুর্বলতা বোঝে। কিন্তু তার হৃদয়ে যদি আপনার জন্য বিশ্বস্ততা না থাকে, তাহলে সেই সম্পর্কের নাম বন্ধুত্ব হতে পারে—বন্ধুত্বের আত্মা হতে পারে না।
আজকের সমাজে সবচেয়ে বড় সংকটগুলোর একটি হলো—আমরা পরিচিত মানুষকে বন্ধু ভাবছি, আর সুবিধাবাদী মানুষকে আপন ভাবছি।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে হাজার হাজার বন্ধু; কিন্তু বিপদের দিনে পাশে দাঁড়ানোর মানুষ কয়জন? আনন্দের দিনে ছবি তোলার লোকের অভাব নেই; কিন্তু কান্নার রাতে ফোন ধরার মানুষ কতজন?
আমরা এমন এক সময়ে বাস করছি, যেখানে সম্পর্কের মূল্য অনেক সময় নির্ধারিত হচ্ছে স্বার্থ দিয়ে। আপনার অর্থ আছে—আপনার বন্ধু আছে। আপনার ক্ষমতা আছে—আপনার চারপাশে মানুষের ভিড় আছে। আপনার প্রয়োজন আছে—অনেকে আপনাকে ভুলে যাবে। আর আপনি যখন নিঃস্ব, অসহায় কিংবা বিপদগ্রস্ত—তখন সেই ভিড়ের বড় একটি অংশ অদৃশ্য হয়ে যাবে।
এটাই বাস্তবতা।
তবে সব মানুষ এক নয়। এখনও এমন মানুষ আছেন, যারা বন্ধুর বিপদে নিজের স্বার্থ ভুলে পাশে দাঁড়ান। বন্ধুর ব্যর্থতায় হাসেন না, বরং তাকে উঠে দাঁড়াতে সাহায্য করেন। বন্ধুর গোপন কথা বাজারে বিক্রি করেন না। বন্ধুর দুর্বলতাকে অস্ত্র বানান না।
তারাই প্রকৃত বন্ধু।
বন্ধুত্বের সবচেয়ে বড় পরীক্ষা সুখের দিনে নয়—দুঃসময়ে। আপনার যখন অর্থ নেই, ক্ষমতা নেই, পরিচিতি নেই, তখন যে মানুষটি আপনার পাশে দাঁড়ায়, সেই মানুষটির মূল্য কোনো সম্পদ দিয়ে মাপা যায় না।
অন্যদিকে, যে মানুষ আপনার সাফল্যে কাছে আসে, আপনার পতনে দূরে সরে যায়, আপনার গোপনীয়তাকে নিজের স্বার্থে ব্যবহার করে, আপনার বিরুদ্ধে অন্যের কাছে কথা বলে এবং সুযোগ পেলেই আপনার ক্ষতি করে—তাকে বন্ধু বলে ধরে রাখার কোনো নৈতিক দায় নেই।
ক্ষমা করা যায়; কিন্তু প্রতারকের হাতে বারবার বিশ্বাস তুলে দেওয়া যায় না।
আমাদের সমাজে একটি ভুল ধারণা আছে—সব সম্পর্ক ধরে রাখতে হবে। না, সব সম্পর্ক ধরে রাখার প্রয়োজন নেই। কিছু সম্পর্ক থেকে বেরিয়ে আসাই আত্মসম্মান। কিছু মানুষকে ক্ষমা করে দূরে রাখাই প্রজ্ঞা। আর কিছু দরজা বন্ধ করে দেওয়াই আত্মরক্ষা।
কারণ বেইমান মানুষকে পরিবর্তন করার দায়িত্ব আপনার নয়।
আপনি কারও প্রতি ভালো ছিলেন—এটি আপনার চরিত্রের পরিচয়। সে আপনার সঙ্গে বেইমানি করেছে—এটি তার চরিত্রের পরিচয়। তার অন্যায়ের কারণে আপনি আপনার মানবিকতা হারাবেন কেন?
আজ যারা বন্ধুর মুখোশ পরে অন্যের বিশ্বাস বিক্রি করছে, তাদের মনে রাখা উচিত—বিশ্বাস ভাঙার পর সম্পর্ক হয়তো টিকে থাকতে পারে, কিন্তু আগের সেই আস্থা আর ফিরে আসে না।
একটি কাঁচের গ্লাস ভেঙে জোড়া লাগানো যায়; কিন্তু তার ফাটল থেকে যায়। তেমনি ভাঙা বিশ্বাসও হয়তো ক্ষমার মাধ্যমে সম্পর্ককে বাঁচিয়ে রাখতে পারে, কিন্তু হৃদয়ের গভীরে সেই ফাটল থেকে যায়।
সবচেয়ে কষ্টের বিষয় হলো, বেইমান মানুষ অনেক সময় বুঝতেই পারে না সে কী ধ্বংস করেছে। সে হয়তো একটি গোপন কথা প্রকাশ করেছে, একটি সম্পর্ক নষ্ট করেছে, একটি সুযোগ কেড়ে নিয়েছে কিংবা সামান্য স্বার্থের জন্য একজন বিশ্বস্ত মানুষকে আঘাত করেছে। কিন্তু সে জানে না—তার সেই সামান্য স্বার্থের বিনিময়ে একজন মানুষের ভেতরে হয়তো মানুষের প্রতি বিশ্বাসটাই ভেঙে গেছে।
তাই আমাদের সন্তানদের শুধু সফল হতে শেখালে হবে না; বিশ্বস্ত হতে শেখাতে হবে।
শুধু অর্থ উপার্জনের শিক্ষা নয়; মানুষের মর্যাদা রক্ষার শিক্ষা দিতে হবে। শুধু প্রতিযোগিতার শিক্ষা নয়; অন্যের সাফল্যে আনন্দিত হওয়ার শিক্ষা দিতে হবে। শুধু নিজের অধিকার নয়; অন্যের বিশ্বাসের মর্যাদা দেওয়ার শিক্ষাও দিতে হবে।
কারণ একটি সভ্য সমাজ শুধু আইন দিয়ে গড়ে ওঠে না; গড়ে ওঠে বিশ্বাস, নৈতিকতা ও পারস্পরিক সম্মানের ওপর।
আজ প্রয়োজন এমন একটি সামাজিক মূল্যবোধ, যেখানে বন্ধুত্ব মানে সুবিধা নয়—দায়িত্ব; সম্পর্ক মানে ব্যবহার নয়—বিশ্বাস; আর ভালোবাসা মানে অধিকার নয়—আস্থার নিরাপত্তা।
শেষ পর্যন্ত মানুষ তার সম্পদ নিয়ে যায় না, ক্ষমতা নিয়ে যায় না, পদ-পদবি নিয়ে যায় না। মানুষের কাছে থেকে যায় তার আচরণ, তার সততা এবং মানুষের হৃদয়ে তার রেখে যাওয়া স্মৃতি।
তাই যদি কারও জীবনে বন্ধু হওয়ার সুযোগ পান, বেইমান হবেন না।
কারও বিশ্বাস আপনার হাতে এলে সেটিকে আমানত মনে করুন। কারও দুর্বলতা জানলে সেটিকে অস্ত্র বানাবেন না। কেউ আপনাকে আপন ভেবে নিজের কথা বললে তার সেই আস্থাকে বাজারে তুলবেন না।
কারণ মানুষ ভুলে যেতে পারে আপনি তাকে কী উপহার দিয়েছিলেন; কিন্তু সে খুব সহজে ভুলবে না—আপনি তার বিশ্বাসের সঙ্গে কী করেছিলেন।
আর যারা বেইমানির শিকার হয়েছেন, তাদের বলি—
হতাশ হবেন না। একজন বেইমান মানুষের কারণে পৃথিবীর সব মানুষ বেইমান হয়ে যায় না। একজন প্রতারকের কারণে আপনার হৃদয়ের মানবিকতা নষ্ট হতে দেবেন না। শুধু ভবিষ্যতে মানুষ চিনতে শিখুন।
সবাইকে ভালোবাসুন, কিন্তু সবাইকে বিশ্বাস করবেন না।
সবাইকে ক্ষমা করুন, কিন্তু সবাইকে আবার আগের জায়গায় বসাবেন না।
আর বন্ধুত্ব করুন—কিন্তু এমন মানুষের সঙ্গে, যার অনুপস্থিতিতেও আপনার সম্মান নিরাপদ থাকে।
কারণ—
**বেইমান কখনো বন্ধু হয় না।
সে শুধু বন্ধুর ছদ্মবেশে আসে—আর চলে যাওয়ার সময় সঙ্গে নিয়ে যায় আমাদের বিশ্বাসের একটি অংশ।**

আরো সংবাদ পড়ুন
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত
ওয়েবসাইট ডিজাইন : ইয়োলো হোস্ট