রবিবার, ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৬:৩৪ অপরাহ্ন
Title :
১০ বছরের মধ্যে এআই ‘সবাইকে মেরে ফেলবে’, প্রযুক্তিবিদের সতর্কবার্তায় তোলপাড় আদালতের রায়ের বিরুদ্ধে ধর্মঘট-হরতাল ডাকা অবৈধ: হাইকোর্ট আওয়ামী লীগের কার্যক্রম নিষিদ্ধের প্রজ্ঞাপনের বৈধতা চ্যালেঞ্জ করা রিট হাইকোর্টে খারিজ দিল্লিতে ব্রিকস সম্মেলন: অন্যের স্বাধীনতায় হস্তক্ষেপ ও বাণিজ্য অবরোধ বন্ধের কড়া বার্তা শি জিনপিংয়ের জোরপূর্বক পদত্যাগ বৈধ নয়: হাইকোর্ট মনোনীত প্রার্থীর বিরুদ্ধে ভোট দিয়ে হারালে দল মেনে নেবে না: আইনমন্ত্রী আইন পেশায় আসার আগে ভাবুন: শুধু সনদ নয়, দক্ষতাই নির্ধারণ করবে ভবিষ্যৎ রাজধানীর লালবাগে ভাড়া বাসা থেকে আইনজীবীর অর্ধগলিত মরদেহ উদ্ধার আহসানউল্লাহ মাস্টার হত্যা মামলা: ২২ বছরের বিচারিক পরিক্রমা শেষে আপিল বিভাগের চূড়ান্ত রায়ের অপেক্ষায় এনবিআরের দাবি বৈধ: ড. ইউনূসের ‘গ্রামীণ কল্যাণ’কে ৬৬৬ কোটি টাকা কর পরিশোধের নির্দেশ হাইকোর্টের

১০ বছরের মধ্যে এআই ‘সবাইকে মেরে ফেলবে’, প্রযুক্তিবিদের সতর্কবার্তায় তোলপাড়

  • প্রকাশিত: রবিবার, ১৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
  • ২৩ বার পড়া হয়েছে

 

আন্তর্জাতিক
১০ বছরের মধ্যে এআই ‘সবাইকে মেরে ফেলবে’, প্রযুক্তিবিদের সতর্কবার্তায় তোলপাড়
আন্তর্জাতিক ডেস্ক,আদালত বার্তাঃ
প্রকাশ: ১৬:২৭, ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬| 
পশ্চিমা বিশ্বের প্রযুক্তিবিদ ও রাজনীতিবিদেরা ক্রমেই কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার (এআই) চূড়ান্ত ধাপ ‘আর্টিফিশিয়াল সুপারইন্টেলিজেন্সের’ (এএসআই) বিপদ নিয়ে শঙ্কিত। শীর্ষস্থানীয় কয়েকজন বিজ্ঞানী এবং যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যের সরকারি কর্মকর্তাদের মতে, উন্নত প্রযুক্তির এআই পারমাণবিক অস্ত্রের চেয়েও বড় ঝুঁকি হয়ে উঠতে পারে। এমনকি অনেকে এ-ও বলছেন, আগামী এক দশকের মধ্যে এআই-এর কারণে ‘মানবজাতি বিলুপ্ত হওয়ার সম্ভাবনা প্রায় ১০ শতাংশ’। খবর গার্ডিয়ানের।
যতটা দ্রুত এই প্রযুক্তি এগিয়ে যাচ্ছে, তার সঙ্গে তাল মেলাতে হিমশিম খাচ্ছেন পশ্চিমা বিশ্বের আইনপ্রণেতারা। সাধারণ মানুষ অবশ্য এখনও এআই-কে কেবলই একটি সাধারণ ওয়েব টুল হিসেবে দেখেন।
গত সোমবার (৭সেপ্টেম্বর)  যুক্তরাজ্যের পার্লামেন্টের এক অধিবেশনে কম্পিউটার বিজ্ঞানী অধ্যাপক স্টুয়ার্ট রাসেল সতর্ক করে বলেন, সামনে ‘চেরনোবিলের মতো কোনও বড় বিপর্যয়’ ঘটতে পারে অথবা মানবজাতি চিরতরে এর (এআই) নিয়ন্ত্রণ হারাতে পারে। যুক্তরাজ্যের সাবেক প্রতিরক্ষা সচিব ডেস ব্রাউন এতে যোগ করে বলেন, সুপারইন্টেলিজেন্ট এআই পরমাণু যুদ্ধের চেয়েও মানবজাতির জন্য বড় হুমকি হতে পারে।
‘কন্ট্রোল এআই’ নামের একটি লবি গ্রুপের উদ্যোগে এই অধিবেশনটি আয়োজিত হয়। এতে সমর্থন দেন স্কাইপের সহ-প্রতিষ্ঠাতা জান তালিন। তিনি সতর্ক করে বলেন, প্রযুক্তি খাতের কিছু নির্বাহী মানুষজাতিকে ‘ব্যবহারের পর ফেলে দেয়ার মতো একটি প্রজাতি’ হিসেবে দেখেন।
কন্ট্রোল এআই বর্তমানে লেবার পার্টির এমপি অ্যালেক্স সোবেলের প্রস্তাবিত একটি নতুন বিলকে সমর্থন করছে। এর মূল লক্ষ্য সুপারইন্টেলিজেন্স তৈরি পুরোপুরি নিষিদ্ধ করা। এ ছাড়া লেবার পার্টির আরেক এমপি ড্যারেন জোন্স একটি আন্তর্জাতিক নিরাপত্তা চুক্তির দাবি জানিয়ে বলেন, বিপদটি বাস্তব নাকি কেবলই জল্পনা-কল্পনা—সেটি ভাবার সময় নেই, সরকারগুলোকে এখনই পদক্ষেপ নিতে হবে।
এদিকে শীর্ষস্থানীয় এআই প্রতিষ্ঠানগুলোর অন্দরমহলেও উদ্বেগ-উৎকণ্ঠা বাড়ছে। প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান ‘অ্যানথ্রোপিক’-এর ২৮ বছর বয়সী গবেষক জেকুব কক্সন সম্প্রতি চাকরি থেকে পদত্যাগ করেছেন। তার অভিযোগ, সবার আগে শক্তিশালী এআই মডেল তৈরি করার এক বেপরোয়া প্রতিযোগিতায় নেমে এআই কোম্পানিগুলো ‘আমাদের জীবন নিয়ে জুয়া খেলছে’।

অ্যানথ্রোপিকের অ্যালাইনমেন্ট সায়েন্স প্রধান ইভান হাবিংগার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে স্বীকার করেছেন, তার মতেও আগামী ১০ বছরে এআই-এর হাতে মানবজাতি বিলুপ্তির সম্ভাবনা ১০ শতাংশের বেশি। তিনি উল্লেখ করেন, এএসআই বা সুপারইন্টেলিজেন্সকে নিরাপদ রাখার মতো কোনও পরিকল্পনা এই মুহূর্তে কোনও প্রতিষ্ঠানের কাছে নেই।
যুক্তরাজ্যের এআই সিকিউরিটি ইনস্টিটিউটের কাছে অ্যানথ্রোপিক তাদের সর্বশেষ এআই মডেল ‘মিথোস ৫.১’ প্রকাশের আগে পরীক্ষার জন্য জমা দিতে অস্বীকৃতি জানিয়েছে। এতে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন যুক্তরাজ্যের সরকারি কর্মকর্তারা।
যুক্তরাষ্ট্রের সিনেটর বার্নি স্যান্ডার্স এআই শিল্পকে নিয়ন্ত্রণের জন্য কংগ্রেসের প্রতি তার আহ্বান পুনর্ব্যক্ত করেছেন। ৮১ শতাংশ আমেরিকান এআই-এর ওপর সরকারি নিয়ন্ত্রণের পক্ষে—এমন জরিপের তথ্য তুলে ধরে স্যান্ডার্স বলেন, ‘আমরা অল্প কিছু লোভী মানুষকে ঈশ্বরের ভূমিকা নিতে এবং মানবজাতির ভবিষ্যৎ নির্ধারণ করতে দিতে পারি না।’
তবে সব বিশেষজ্ঞই যে এআই-কে পৃথিবীর শেষ পরিণতি বা কেয়ামতের হুমকি হিসেবে দেখছেন, তা নয়। বেশ কয়েকজন গবেষকের মতে, এই ধরনের বিষয়ে অতিরিক্ত নজর দেয়ায় বর্তমানের আসল সমস্যাগুলো ঢাকা পড়ে যাচ্ছে।
সারে ইনস্টিটিউটের ড. অ্যান্ড্রিউ রগোইস্কি যেমন মনে করেন, অত্যন্ত উন্নত এআই প্রযুক্তি শেষ পর্যন্ত অতিরিক্ত ব্যয়বহুল ও সীমাবদ্ধ প্রমাণিত হতে পারে। সোফেয়ার এআই রিসার্চ ল্যাবের পরিচালক অধ্যাপক ডেভিড বার্বার অতি-কঠোর নিষেধাজ্ঞার বিরুদ্ধে সতর্ক করেছেন। তিনি উল্লেখ করেন, এআই-এর জন্য কঠোর নিয়ন্ত্রণ ও সিকিউরিটি আপডেট প্রয়োজন হলেও এটি একটি অত্যন্ত উপযোগী হাতিয়ার।
অক্সফোর্ড ইন্টারনেট ইনস্টিটিউটের অধ্যাপক স্যান্ড্রা ওয়াখটার ‘টার্মিনেটর সিনেমার মতো কল্পকাহিনী’ কেন্দ্রিক আতঙ্ককে বিভ্রান্তিকর বলে উড়িয়ে দিয়েছেন। এর চেয়ে বরং এআই-এর কারণে মানুষের চাকরিচ্যুত হওয়া, ভুল তথ্য ছড়ানো এবং এআই ডেটা সেন্টারের ফলে পরিবেশের ওপর ক্ষতিকর প্রভাবের মতো বিষয়গুলোতে মনোযোগ দিতে বিশ্বনেতাদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।

আরো সংবাদ পড়ুন
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত
ওয়েবসাইট ডিজাইন : ইয়োলো হোস্ট