শনিবার, ১৭ অক্টোবর ২০২৬, ১২:২৬ পূর্বাহ্ন
Title :
স্পষ্ট কারণ ছাড়া পক্ষ সংযোজনের আদেশ আইনসম্মত নয়: হাইকোর্ট ধর্ম অবমাননার অপবাদ ও ফেসবুক উসকানি: হাসপাতাল থেকে ছিনিয়ে নিয়ে পিটিয়ে হত্যা কামিল পাস শামীমকে পেশার প্রতি ভালোবাসাই আইনজীবীর সবচেয়ে বড় শক্তি বয়স বাড়ে, শরীরের গতি কমে—কিন্তু শেখার আগ্রহ ও ন্যায়বোধ যেন থেমে না যায়।  কক্সবাজারে সন্তান হারানো নিউজিল্যান্ডের পরিবার ৫০ দিন পর ছাড়লো বাংলাদেশ: নৌযানডুবি ও ডাকাত হামলার দুঃসহ স্মৃতি নিয়ে বিদায় শেকৃবির গবেষণা মাঠে সচিবালয় স্থানান্তরের পরিকল্পনা প্রতিবাদে ফের আন্দোলনে শিক্ষক-শিক্ষার্থী, প্রেস ক্লাবে মানববন্ধন।  দুজন স্থানীয় সাক্ষীর উপস্থিতি ছাড়া তল্লাশি ও জব্দ বেআইনি: হাইকোর্ট সনদ হওয়ার পর, দক্ষতা ও সততাই নতুন আইনজীবীর পেশাগত পরিচয়ের ভিত্তি ধানমন্ডির ফুটপাতে বয়স্ক ব্যক্তিকে প্রকাশ্যে মারধর ভাইরাল ভিডিওর ঘটনায় যুবক আটক পরকালের জীবনে বিশ্বাসে এশিয়ায় শীর্ষে বাংলাদেশ, ৯৮.৮ শতাংশ মানুষের বিশ্বাস মানবতাবিরোধী অপরাধে ১০ বছরের সাজা বাতিল চেয়ে আপিল করলেন হাসানুল হক ইনু

স্পষ্ট কারণ ছাড়া পক্ষ সংযোজনের আদেশ আইনসম্মত নয়: হাইকোর্ট

  • প্রকাশিত: শুক্রবার, ১৬ অক্টোবর, ২০২৬
  • ২৫ বার পড়া হয়েছে

 

আইন ও বিচার বিষয়ক প্রতিবেদন
​স্পষ্ট কারণ ছাড়া পক্ষ সংযোজনের আদেশ আইনসম্মত নয়: হাইকোর্ট
​আপিল পর্যায়ে ‘নন-স্পিকিং’ আদেশে পক্ষভুক্তির রেওয়াজে লাগাম; কিশোরগঞ্জের অতিরিক্ত জেলা জজ আদালতের আদেশ বাতিল

​নিজস্ব প্রতিবেদক | আদালত বার্তাঃ১৬অক্টোবর ২০২৬
দেওয়ানি আপিল চলাকালে কোনো পক্ষকে মামলায় পক্ষভুক্ত (Addition of Parties) করার ক্ষেত্রে আদালতের সিদ্ধান্তের সুনির্দিষ্ট কারণ উল্লেখ করা বাধ্যতামূলক। কারণবিহীন দায়সারা বা ‘নন-স্পিকিং’ (Non-speaking) আদেশ আইনসম্মত ও টেকসই নয় বলে পর্যবেক্ষণ দিয়েছেন হাইকোর্ট বিভাগ।
​সিভিল রিভিশন (নং- ১৮৪৬/২০২৫; মোশাররফ হোসেন ওরফে মুছা মিয়া ও অন্যান্য বনাম সরকার মো. হেলাল উদ্দিন ও অন্যান্য) মামলায় বিচারপতি মো. সোহরাওয়ার্দীর একক হাইকোর্ট বেঞ্চ এ পর্যবেক্ষণসহ রায় ঘোষণা করেন। সম্প্রতি সুপ্রিম কোর্টের ওয়েবসাইটে পূর্ণাঙ্গ রায়টি প্রকাশিত হয়েছে।
​মামলার প্রেক্ষাপট ও অধস্তন আদালতের আদেশ
​মামলার বিবরণ থেকে জানা যায়, ২০১৬ সালে মোশাররফ হোসেন ও অন্যরা স্বত্ব ঘোষণা চেয়ে (Declaration of Title) সরকারের বিরুদ্ধে মূল দেওয়ানি মামলা দায়ের করেন। ২০১৮ সালের ২০ আগস্ট বিচারিক আদালত বাদীদের অনুকূলে স্বত্ব ঘোষণার ডিক্রি দেন। উক্ত ডিক্রির বিরুদ্ধে সরকার পক্ষ দেওয়ানি আপিল দায়ের করে।
​আপিল বিচারাধীন থাকা অবস্থায় সরকার মো. হেলাল উদ্দিনসহ কয়েকজন ব্যক্তি নিজেদের স্বার্থসংশ্লিষ্ট দাবি করে দেওয়ানি কার্যবিধির ১ আদেশের ১০(২) বিধির বিধান অনুযায়ী সহ-আপিলকারী হিসেবে পক্ষভুক্ত হওয়ার আবেদন জানান। কিশোরগঞ্জের অতিরিক্ত জেলা জজ, ২য় আদালত ২০২৫ সালের ১১ মার্চ কোনো সুনির্দিষ্ট আইনি যৌক্তিকতা বা কারণ বিশ্লেষণ ছাড়াই আবেদনটি মঞ্জুর করেন। ওই আদেশের বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে হাইকোর্টে সিভিল রিভিশন দায়ের করা হয়।
​হাইকোর্টের সিদ্ধান্ত ও নির্দেশনা
​উভয় পক্ষের শুনানি শেষে হাইকোর্ট কিশোরগঞ্জের অতিরিক্ত জেলা জজ আদালতের ১১ মার্চ ২০২৫ তারিখের পক্ষ সংযোজনের আদেশটি আইনগত ত্রুটিপূর্ণ ও ‘নন-স্পিকিং’ হিসেবে চিহ্নিত করে বাতিল ঘোষণা করেন।
​একই সঙ্গে পক্ষ সংযোজনের আবেদনটি পুনর্বিবেচনার জন্য সংশ্লিষ্ট আপিল আদালতে ফেরত পাঠিয়ে নির্দেশ দেওয়া হয় যে, রায় পৌঁছানোর ৩০ দিনের মধ্যে উভয় পক্ষকে শুনানির সুযোগ দিয়ে এবং আইনানুগ কারণ উল্লেখপূর্বক (Speaking Order) আবেদনটির ওপর নতুন আদেশ প্রদান করতে হবে।
​গুরুত্বপূর্ণ আইনি পর্যবেক্ষণ ও সারসংক্ষেপ
​উচ্চ আদালত রায়ে দেওয়ানি কার্যবিধির ১ আদেশের ১০(২) বিধির (Order I Rule 10(2) CPC) প্রয়োগ
​’প্রয়োজনীয়’ ও ‘উচিত’ পক্ষ নির্ধারণের বাধ্যবাধকতা: পক্ষভুক্তির ক্ষেত্রে প্রস্তাবিত ব্যক্তি মামলায় ‘প্রয়োজনীয় পক্ষ’ (Necessary Party) নাকি ‘উচিত পক্ষ’ (Proper Party)—তা আদালতের আদেশে স্পষ্ট হতে হবে। প্রস্তাবিত পক্ষের উপস্থিতি ছাড়া মামলার বিষয়বস্তুর পূর্ণাঙ্গ ও চূড়ান্ত নিষ্পত্তি সম্ভব কি না, তা আদালতের বিবেচনায় প্রতিফলিত থাকতে হবে।
​’নন-স্পিকিং’ আদেশের অগ্রহণযোগ্যতা: কেবল “আবেদনটি মঞ্জুর করা হলো” মর্মে সংক্ষিপ্ত বা কারণবিহীন আদেশ বিচারিক নীতিমালার পরিপন্থী। কারণযুক্ত আদেশ একদিকে যেমন বিচারপ্রার্থীর কাছে আদালতের স্বচ্ছতা নিশ্চিত করে, অন্যদিকে উচ্চতর আদালতে সেই আদেশের আইনি বৈধতা ও বিচারিক বিবেচনার (Judicial application of mind) মানদণ্ড যাচাইয়ের সুযোগ তৈরি করে।

 

 

আরো সংবাদ পড়ুন
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত
ওয়েবসাইট ডিজাইন : ইয়োলো হোস্ট