মঙ্গলবার, ০৬ অক্টোবর ২০২৬, ০৩:৩৬ অপরাহ্ন
Title :
কর ফাঁকি ধরতে এনবিআরের এআই প্রযুক্তি: কড়া নজরে বিলাসবহুল গাড়ির মালিকরা কক্সবাজার থেকে মিয়ানমার হয়ে সরাসরি চীন: বাংলাদেশের সামনে ভূ-অর্থনীতির নতুন দিগন্ত বৈধ ভিসা থাকলেই প্রবেশের অধিকার নিশ্চিত নয়: দিল্লি হাইকোর্ট রিমান্ড শেষে মেজর (অব.) আখতারুজ্জামানকে কারাগারে পাঠানোর আবেদন নামের বিভ্রাটে ১০ মাস ধরে কারাগারে নির্দোষ আলমাছ: পরিচয় নিশ্চিতে হাইকোর্টের তদন্তের নির্দেশ যমুনার চরে ৬ হাজার মেগাওয়াটের সৌরবিদ্যুৎ কেন্দ্র: জ্বালানি নিরাপত্তায় নতুন সম্ভাবনা, বাস্তবায়ন নিয়ে প্রশ্ন চাঁদাবাজ ও সন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে ‘জিরো টলারেন্স’: এমপি মিষ্টির পদত্যাগে কাঁপছে অপরাধ জগৎ কড়া নিরাপত্তায় রূপপুরে পৌঁছাল দ্বিতীয় ইউনিটের প্রথম ইউরেনিয়াম চালান বিবাহ ও তালাক নিবন্ধন হচ্ছে ডিজিটাল, কমবে পারিবারিক মামলা ও জালিয়াতি ঘণ্টাপ্রতি শ্রম নয়, দক্ষতার বাজারমূল্যেই বাড়ে সফলতা প্রযুক্তি ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার যুগে টিকে থাকতে কারিগরি দক্ষতার বিকল্প নেই

অবসরের পর বিচারপতিদের পাসপোর্ট ভেরিফিকেশন ‘সম্পূর্ণ অযৌক্তিক ও ভিত্তিহীন’: হাইকোর্ট

  • প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ১০ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
  • ১২১ বার পড়া হয়েছে

অবসরের পর বিচারপতিদের পাসপোর্ট ভেরিফিকেশন ‘সম্পূর্ণ অযৌক্তিক ও ভিত্তিহীন’: হাইকোর্ট

​নিউজ ডেস্ক, আদালত বার্তা

প্রকাশ: ১০ সেপ্টেম্বর, ২০২৬

​ঢাকা: সুপ্রিম কোর্টের অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতিদের সাধারণ পাসপোর্ট ইস্যুর ক্ষেত্রে পুনরায় গোয়েন্দা ভেরিফিকেশনের (Police Clearance/Verification) সম্মুখীন করাকে ‘সম্পূর্ণ অযৌক্তিক ও ভিত্তিহীন’ বলে রায় দিয়েছেন হাইকোর্ট। আপিল বিভাগের সাবেক বিচারপতি মোহাম্মদ ইমান আলীর পাসপোর্ট সংক্রান্ত এক রিট মামলার চূড়ান্ত শুনানি শেষে আদালত এই গুরুত্বপূর্ণ পর্যবেক্ষণ দেন।

​বৃহস্পতিবার (১০ সেপ্টেম্বর) সুপ্রিম কোর্টের ওয়েবসাইটে বিচারপতি ফাহমিদা কাদের এবং বিচারপতি মো. আসিফ হাসানের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চের দেওয়া এই পূর্ণাঙ্গ রায়টি প্রকাশ করা হয়।

​আদালতের রায় ও আইনি পর্যবেক্ষণ

​এই রায়ের মাধ্যমে হাইকোর্ট সুপ্রিম কোর্টের সাবেক বিচারক ও তাদের স্ত্রীদের কোনো ধরনের অতিরিক্ত গোয়েন্দা ভেরিফিকেশন ছাড়াই সাধারণ পাসপোর্ট ইস্যু করার নির্দেশ দিয়েছেন। রায়ে আদালত সুস্পষ্টভাবে উল্লেখ করেছেন:

  • ​মর্যাদা ও পরিচয় পূর্বেই পরীক্ষিত: বিচারক পদে দায়িত্ব পালনকালে রাষ্ট্র তাদের মর্যাদা ও পরিচয় যথাযথভাবে যাচাই করেই কূটনৈতিক পাসপোর্ট (Diplomatic Passport) প্রদান করে থাকে।
  • ​ভেরিফিকেশন অপ্রয়োজনীয়: যেহেতু তারা রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ আদালতের বিচারক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন, তাই অবসরের পর সাধারণ পাসপোর্ট পেতে তাদের পুনরায় গোয়েন্দা সংস্থার ভেরিফিকেশনের সম্মুখীন করা প্রশাসনিকভাবে হয়রানিমূলক এবং এর কোনো যৌক্তিক ভিত্তি নেই।

​মামলার প্রেক্ষাপট ও স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের স্মারক

​রাষ্ট্রীয় প্রটোকল বা ‘ওয়ারেন্ট অব প্রিসিডেন্স’ অনুযায়ী, সুপ্রিম কোর্টের বিচারক ও তাদের স্ত্রীগণ পদাধিকারবলে কূটনৈতিক পাসপোর্টের অধিকারী। নিয়ম অনুযায়ী, বিচারকের পদ থেকে অবসর বা পদত্যাগের পর এই কূটনৈতিক পাসপোর্ট সমর্পণ করে তাদের সাধারণ পাসপোর্টের জন্য আবেদন করতে হয়। পূর্বে এই প্রক্রিয়ায় কোনো গোয়েন্দা প্রতিবেদনের বাধ্যবাধকতা ছিল না।

  • ​জটিলতার সূত্রপাত: ২০২৪ সালের ২২ আগস্ট স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় একটি স্মারক জারি করে। এতে শর্ত যুক্ত করা হয় যে, কূটনৈতিক পাসপোর্ট সমর্পণকারী ব্যক্তিদের সাধারণ পাসপোর্ট পাওয়ার পূর্বে দুটি গোয়েন্দা সংস্থার ‘সন্তোষজনক প্রতিবেদন’ থাকতে হবে।

​সাবেক বিচারপতি মোহাম্মদ ইমান আলীর রিট

​স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের উক্ত সিদ্ধান্তের কারণে আপিল বিভাগের অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতি মোহাম্মদ ইমান আলী অপ্রত্যাশিত জটিলতার সম্মুখীন হন।

  • ​তিনি তার কূটনৈতিক পাসপোর্ট সমর্পণ করে ৩ নভেম্বর ২০২৪ তারিখে সাধারণ পাসপোর্টের জন্য আবেদন করেন।
  • ​শুধুমাত্র ‘গোয়েন্দা ক্লিয়ারেন্স’ না পাওয়ার অজুহাতে পাসপোর্ট অধিদফতর তাকে পাসপোর্ট প্রদান থেকে বিরত রাখে, যার ফলে তার বিদেশ ভ্রমণ মারাত্মকভাবে বাধাগ্রস্ত হয়।

​এই অনাকাঙ্ক্ষিত প্রশাসনিক বাধা চ্যালেঞ্জ করে, সুপ্রিম কোর্টের রেজিস্ট্রার জেনারেলের অনুমতিক্রমে হাইকোর্ট বিভাগের প্রটোকল অফিসার মো. রোমান ভূঁইয়া একটি রিট আবেদন দায়ের করেন। সেই রিটের প্রাথমিক শুনানি শেষে হাইকোর্ট যে রুল জারি করেছিলেন, বৃহস্পতিবার সেই রুল নিষ্পত্তি করে এই যুগান্তকারী রায় প্রদান করা হলো।

আরো সংবাদ পড়ুন
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত
ওয়েবসাইট ডিজাইন : ইয়োলো হোস্ট