বৃহস্পতিবার, ১০ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৩:০৫ অপরাহ্ন
Title :
অবসরের পর বিচারপতিদের পাসপোর্ট ভেরিফিকেশন ‘সম্পূর্ণ অযৌক্তিক ও ভিত্তিহীন’: হাইকোর্ট অর্থঋণ আদালত আইনের ১৮(২) ও ১৮(৩) ধারা কেন অসাংবিধানিক নয়: হাইকোর্টের রুল গণতন্ত্রকে বাঁচাতে হলে গণমাধ্যমকেও বাঁচাতে হবে: রাষ্ট্রপতি রাষ্ট্রপতি, প্রধানমন্ত্রী ও মন্ত্রীদের পদবির আগে ‘মহামান্য’ ও ‘মাননীয়’ না লেখার নির্দেশ সুষ্ঠু নির্বাচনের স্বার্থে পুলিশকে কোনো বেআইনি নির্দেশনা দেবে না কমিশন : সিইসি এনআইডিতে ছবির বিকল্প নেই, হাইকোর্টে রুল খারিজ চেকের মামলায় পাওনা শোধ ও সমঝোতা হলে কারাদণ্ড নয়: হাইকোর্ট রংপুর আইনজীবী সমিতিতে ভোটাধিকার ও ‘কালাকানুন’ বাতিলের দাবিতে দিনভর উত্তেজনা: সন্ধ্যায় সমঝোতা ক্ষমতা বদলায়, প্রতিষ্ঠান টিকে থাকে:  ব্যক্তি নয়, শক্তিশালী প্রতিষ্ঠানই রাষ্ট্রের রক্ষাকবচ। তথ্য গোপন করে একাধিক রিট: আইনজীবী ও রিটকারীকে ১০ লাখ টাকা জরিমানা

অবসরের পর বিচারপতিদের পাসপোর্ট ভেরিফিকেশন ‘সম্পূর্ণ অযৌক্তিক ও ভিত্তিহীন’: হাইকোর্ট

  • প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ১০ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
  • ৩২ বার পড়া হয়েছে

অবসরের পর বিচারপতিদের পাসপোর্ট ভেরিফিকেশন ‘সম্পূর্ণ অযৌক্তিক ও ভিত্তিহীন’: হাইকোর্ট

নিউজ ডেস্ক, আদালত বার্তা

প্রকাশ: ১০ সেপ্টেম্বর, ২০২৬

ঢাকা: সুপ্রিম কোর্টের অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতিদের সাধারণ পাসপোর্ট ইস্যুর ক্ষেত্রে পুনরায় গোয়েন্দা ভেরিফিকেশনের (Police Clearance/Verification) সম্মুখীন করাকে ‘সম্পূর্ণ অযৌক্তিক ও ভিত্তিহীন’ বলে রায় দিয়েছেন হাইকোর্ট। আপিল বিভাগের সাবেক বিচারপতি মোহাম্মদ ইমান আলীর পাসপোর্ট সংক্রান্ত এক রিট মামলার চূড়ান্ত শুনানি শেষে আদালত এই গুরুত্বপূর্ণ পর্যবেক্ষণ দেন।

​বৃহস্পতিবার (১০ সেপ্টেম্বর) সুপ্রিম কোর্টের ওয়েবসাইটে বিচারপতি ফাহমিদা কাদের এবং বিচারপতি মো. আসিফ হাসানের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চের দেওয়া এই পূর্ণাঙ্গ রায়টি প্রকাশ করা হয়।

আদালতের রায় ও আইনি পর্যবেক্ষণ

​এই রায়ের মাধ্যমে হাইকোর্ট সুপ্রিম কোর্টের সাবেক বিচারক ও তাদের স্ত্রীদের কোনো ধরনের অতিরিক্ত গোয়েন্দা ভেরিফিকেশন ছাড়াই সাধারণ পাসপোর্ট ইস্যু করার নির্দেশ দিয়েছেন। রায়ে আদালত সুস্পষ্টভাবে উল্লেখ করেছেন:

  • মর্যাদা ও পরিচয় পূর্বেই পরীক্ষিত: বিচারক পদে দায়িত্ব পালনকালে রাষ্ট্র তাদের মর্যাদা ও পরিচয় যথাযথভাবে যাচাই করেই কূটনৈতিক পাসপোর্ট (Diplomatic Passport) প্রদান করে থাকে।
  • ভেরিফিকেশন অপ্রয়োজনীয়: যেহেতু তারা রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ আদালতের বিচারক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন, তাই অবসরের পর সাধারণ পাসপোর্ট পেতে তাদের পুনরায় গোয়েন্দা সংস্থার ভেরিফিকেশনের সম্মুখীন করা প্রশাসনিকভাবে হয়রানিমূলক এবং এর কোনো যৌক্তিক ভিত্তি নেই।

মামলার প্রেক্ষাপট ও স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের স্মারক

​রাষ্ট্রীয় প্রটোকল বা ‘ওয়ারেন্ট অব প্রিসিডেন্স’ অনুযায়ী, সুপ্রিম কোর্টের বিচারক ও তাদের স্ত্রীগণ পদাধিকারবলে কূটনৈতিক পাসপোর্টের অধিকারী। নিয়ম অনুযায়ী, বিচারকের পদ থেকে অবসর বা পদত্যাগের পর এই কূটনৈতিক পাসপোর্ট সমর্পণ করে তাদের সাধারণ পাসপোর্টের জন্য আবেদন করতে হয়। পূর্বে এই প্রক্রিয়ায় কোনো গোয়েন্দা প্রতিবেদনের বাধ্যবাধকতা ছিল না।

  • জটিলতার সূত্রপাত: ২০২৪ সালের ২২ আগস্ট স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় একটি স্মারক জারি করে। এতে শর্ত যুক্ত করা হয় যে, কূটনৈতিক পাসপোর্ট সমর্পণকারী ব্যক্তিদের সাধারণ পাসপোর্ট পাওয়ার পূর্বে দুটি গোয়েন্দা সংস্থার ‘সন্তোষজনক প্রতিবেদন’ থাকতে হবে।

সাবেক বিচারপতি মোহাম্মদ ইমান আলীর রিট

​স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের উক্ত সিদ্ধান্তের কারণে আপিল বিভাগের অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতি মোহাম্মদ ইমান আলী অপ্রত্যাশিত জটিলতার সম্মুখীন হন।

  • ​তিনি তার কূটনৈতিক পাসপোর্ট সমর্পণ করে ৩ নভেম্বর ২০২৪ তারিখে সাধারণ পাসপোর্টের জন্য আবেদন করেন।
  • ​শুধুমাত্র ‘গোয়েন্দা ক্লিয়ারেন্স’ না পাওয়ার অজুহাতে পাসপোর্ট অধিদফতর তাকে পাসপোর্ট প্রদান থেকে বিরত রাখে, যার ফলে তার বিদেশ ভ্রমণ মারাত্মকভাবে বাধাগ্রস্ত হয়।

​এই অনাকাঙ্ক্ষিত প্রশাসনিক বাধা চ্যালেঞ্জ করে, সুপ্রিম কোর্টের রেজিস্ট্রার জেনারেলের অনুমতিক্রমে হাইকোর্ট বিভাগের প্রটোকল অফিসার মো. রোমান ভূঁইয়া একটি রিট আবেদন দায়ের করেন। সেই রিটের প্রাথমিক শুনানি শেষে হাইকোর্ট যে রুল জারি করেছিলেন, বৃহস্পতিবার সেই রুল নিষ্পত্তি করে এই যুগান্তকারী রায় প্রদান করা হলো।

আরো সংবাদ পড়ুন
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত
ওয়েবসাইট ডিজাইন : ইয়োলো হোস্ট