বুধবার, ০৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০১:২০ পূর্বাহ্ন
Title :
ক্ষমতা বদলায়, প্রতিষ্ঠান টিকে থাকে:  ব্যক্তি নয়, শক্তিশালী প্রতিষ্ঠানই রাষ্ট্রের রক্ষাকবচ। তথ্য গোপন করে একাধিক রিট: আইনজীবী ও রিটকারীকে ১০ লাখ টাকা জরিমানা প্রধান বিচারপতির সাথে সুপ্রিম কোর্ট বার সভাপতির বাদানুবাদ: এজলাস ছাড়লেন আপিল বিভাগের বিচারপতিরা আওয়ামী লীগের কার্যক্রম নিষিদ্ধের প্রজ্ঞাপনের বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে হাইকোর্টে রিট বিদেশ ভ্রমণে বৈদেশিক মুদ্রা খরচের সীমা বেড়ে ১৮ হাজার ডলার দেওয়ানি মামলায় আরজি সংশোধন: আইনি সুযোগ, সীমাবদ্ধতা এবং উচ্চ আদালতের নজির ভিডিও কলে স্বজনদের সঙ্গে ১০ মিনিট কথা বলতে পারবেন কারাবন্দিরা কলকাতা ভ্রমণে বাংলাদেশিদের অগ্রিম হোটেল বুকিংয়ের পরামর্শ: উপ-হাইকমিশনের বিশেষ নির্দেশনা বিচারকদের আবাসন ও নিরাপত্তা নিশ্চিতে ৬৪ জেলা ও ৮ মহানগরে আবাসিক ভবন নির্মাণের উদ্যোগ ভারতীয় ভিসা নিয়ে হাইকমিশনের জরুরি সতর্কবার্তা ‘গ্যারান্টিযুক্ত ভিসা’ ও ‘দ্রুত প্রসেসিং’-এর নামে প্রতারণা থেকে সতর্ক থাকার আহ্বান

ক্ষমতা বদলায়, প্রতিষ্ঠান টিকে থাকে:  ব্যক্তি নয়, শক্তিশালী প্রতিষ্ঠানই রাষ্ট্রের রক্ষাকবচ।

  • প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ৮ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
  • ১৫ বার পড়া হয়েছে

ক্ষমতা বদলায়, প্রতিষ্ঠান টিকে থাকে:  ব্যক্তি নয়, শক্তিশালী প্রতিষ্ঠানই রাষ্ট্রের রক্ষাকবচ।

​বিশেষ প্রতিবেদক, আদালত বার্তাঃ৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬ 

ঢাকা: রাষ্ট্রবিজ্ঞান কি কেবলই ক্ষমতা দখলের কলাকৌশল? সমসাময়িক রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট ও বিশ্ব-ইতিহাসের পাতা ওল্টালে দেখা যায়, রাষ্ট্রবিজ্ঞান শুধু ক্ষমতা দখলের বিজ্ঞান নয়; বরং ক্ষমতাকে কীভাবে মানুষের কল্যাণে ও অধিকার সুরক্ষায় ব্যবহার করতে হয়—তারও একটি সুশৃঙ্খল বিজ্ঞান।

​সাম্প্রতিক সময়ে বাংলাদেশের রাজনৈতিক ও রাষ্ট্রকাঠামোগত পরিবর্তনের প্রেক্ষাপটে রাষ্ট্রের স্থায়িত্ব, নাগরিক অধিকার এবং প্রাতিষ্ঠানিক শক্তির প্রশ্নটি নতুন করে সামনে এসেছে। ইতিহাস সাক্ষ্য দেয়, একটি রাষ্ট্র বাইরে থেকে যত বিশাল বা শক্তিশালীই মনে হোক না কেন, তার ভেতরের প্রতিষ্ঠানগুলো দুর্বল হলে সেই রাষ্ট্র তাসের ঘরের মতো ভেঙে পড়তে বাধ্য।

​ইতিহাসের আয়নায় রাষ্ট্রের উত্থান-পতন

পৃথিবীর ইতিহাস বারবার প্রমাণ করেছে যে, অন্যায়, দুর্নীতি ও প্রাতিষ্ঠানিক দুর্বলতা যেকোনো বিশাল সাম্রাজ্যের ভিত নড়িয়ে দিতে পারে। প্রতাপশালী রোম সাম্রাজ্যের পতন এর সবচেয়ে বড় উদাহরণ। অন্যদিকে, ফ্রান্সের ফরাসি বিপ্লব বিশ্ববাসীকে দেখিয়েছে যে, জনগণের অধিকার ও মর্যাদাকে দীর্ঘদিন উপেক্ষা করলে, সেই পুঞ্জীভূত ক্ষোভ একদিন দাবানলের মতো বিস্ফোরিত হয়।

​এর বিপরীতে ইতিবাচক দৃষ্টান্তও রয়েছে। সুইজারল্যান্ডের মতো রাষ্ট্রগুলো প্রমাণ করেছে—ক্ষমতার বিকেন্দ্রীকরণ, শক্তিশালী ও স্বাধীন প্রতিষ্ঠান এবং রাষ্ট্র পরিচালনায় জনগণের সরাসরি অংশগ্রহণ একটি রাষ্ট্রকে দীর্ঘস্থায়ী স্থিতিশীলতা দিতে পারে। বাংলাদেশও এই বিশ্ব-ইতিহাসের অমোঘ নিয়মের বাইরে নয়।

​রাষ্ট্র বনাম সরকার: একটি কাঠামোগত বিশ্লেষণ

একটি রাষ্ট্রকে কেবল তার ‘সরকার’ দিয়ে বিচার করা হলে রাষ্ট্রবিজ্ঞানের অর্ধেকটাই অদেখা থেকে যায়। সরকার পরিবর্তন মানেই রাষ্ট্রের গুণগত পরিবর্তন নয়, আর ক্ষমতার পালাবদল মানেই গণতন্ত্রের পূর্ণতা নয়।

​বিশ্লেষকদের মতে, রাষ্ট্রের প্রকৃত শক্তি নিহিত থাকে এর মূল স্তম্ভগুলোর ওপর। একটি স্বাধীন বিচারব্যবস্থা, কার্যকর সংসদ, সময়োপযোগী সংবিধান, নিরপেক্ষ নির্বাচন ব্যবস্থা, স্বাধীন গণমাধ্যম এবং জনপ্রশাসন—এই প্রতিষ্ঠানগুলোই রাষ্ট্রের মূল চালিকাশক্তি। সর্বোপরি, নাগরিকের অধিকার ও আইনের শাসনের উপস্থিতিই একটি রাষ্ট্রের প্রকৃত স্বাস্থ্য নির্ধারণ করে। নির্বাচন কেবল গণতন্ত্রের একটি মাধ্যম মাত্র, এটিই গণতন্ত্রের শেষ কথা নয়। গণতন্ত্রের আসল সৌন্দর্য হলো—ক্ষমতায় যে-ই থাকুক না কেন, নাগরিকের মৌলিক অধিকার ও আইনের আশ্রয় লাভের সুযোগ যেন সম্পূর্ণ নিরাপদ থাকে।

​ব্যক্তি নয়, জোর দিতে হবে প্রতিষ্ঠান নির্মাণে

রাষ্ট্রবিজ্ঞানের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষা হলো—ব্যক্তি বা দলের চেয়ে প্রতিষ্ঠানকে শক্তিশালী করতে হয়। একজন ভালো বা ক্যারিশম্যাটিক শাসক একটি দেশকে হয়তো কিছু সময়ের জন্য এগিয়ে নিতে পারেন; কিন্তু শক্তিশালী, নিরপেক্ষ ও কার্যকর প্রতিষ্ঠান একটি দেশকে প্রজন্মের পর প্রজন্ম পথ দেখাতে পারে।

​সমসাময়িক বাস্তবতায় বাংলাদেশের জন্য তাই সবচেয়ে বড় প্রশ্ন এটি হওয়া উচিত নয় যে, “কে ক্ষমতায় থাকবে?” বরং এর চেয়েও জরুরি ও বড় প্রশ্ন হওয়া উচিত— “ক্ষমতায় যে-ই থাকুক, রাষ্ট্র কি ন্যায়বিচার, জবাবদিহিতা ও নাগরিক অধিকারের পথে চলবে?”

​জবাবদিহিতামূলক রাষ্ট্রকাঠামো ও ভবিষ্যৎ

একটি দেশের গণতন্ত্র তখনই পরিণত ও সাবালক হয়, যখন সাধারণ মানুষ শুধু সরকারকে ভয় পায় না, বরং সরকারও জনগণের কাছে নিজের কাজের জবাবদিহি করতে বাধ্য থাকে। রাষ্ট্র কোনো নির্দিষ্ট ব্যক্তির সম্পত্তি নয়, কিংবা কোনো দলের একক মালিকানাধীন কোনো প্রতিষ্ঠানও নয়। রাষ্ট্র হলো তার জনগণের।

​ইতিহাসের সবচেয়ে বড় ও নির্মম শিক্ষা হলো—যে রাষ্ট্র তার জনগণের কণ্ঠ শুনতে শেখে, মতপ্রকাশের স্বাধীনতা দেয় এবং আইনের শাসন নিশ্চিত করে, সেই রাষ্ট্র টিকে থাকে। আর যে রাষ্ট্র দমন-পীড়ন ও প্রাতিষ্ঠানিক দুর্বলতার সুযোগ নিয়ে জনগণের কণ্ঠকে চিরকাল নীরব রাখতে চায়, ইতিহাস একদিন নির্মমভাবে তার বিচার করে।

​বাংলাদেশের বর্তমান প্রেক্ষাপটে তাই আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা এবং বিচারব্যবস্থাসহ রাষ্ট্রের প্রতিটি প্রতিষ্ঠানকে স্বাধীন ও শক্তিশালী করার কোনো বিকল্প নেই। ব্যক্তি বা দলের ঊর্ধ্বে উঠে একটি কল্যাণমুখী ও জবাবদিহিমূলক রাষ্ট্রকাঠামো গড়ে তোলাই এখন সময়ের সবচেয়ে বড় দাবি।

আরো সংবাদ পড়ুন
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত
ওয়েবসাইট ডিজাইন : ইয়োলো হোস্ট