বৃহস্পতিবার, ২৯ অক্টোবর ২০২৬, ০১:২৬ অপরাহ্ন
Title :
কুষ্টিয়ায় ৬ হত্যা: মাহবুবউল আলম হানিফের মৃত্যুদণ্ড, ৩ জনের আমৃত্যু কারাদণ্ড আইনজীবীর ভুলে মক্কেলকে ভোগান্তিতে ফেলা উচিত নয়: হাইকোর্ট তাহসিফ সৌরির মরদেহ উদ্ধার: ৫ আগস্টের আলোচিত ভিডিও, নিখোঁজের পর তুরাগে মৃত্যু—রহস্য ঘনীভূত আওয়ামী লীগের ওপর নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার চেয়ে জাতিসংঘে শেখ হাসিনার আবেদন: আইনি অধিকার ও আন্তর্জাতিক সনদ লঙ্ঘনের অভিযোগ ১ নভেম্বর খুলছে সেন্ট মার্টিন: দৈনিক সাড়ে তিন হাজার পর্যটকের সীমা ও পরিবেশবিধির কড়া নজরদারি। কণ্ঠশীলনের ‘শ্রুতি সমাহার’: এক মঞ্চে চার প্রযোজনার নান্দনিক পরিবেশনা আইনজীবীর সিল জালিয়াতি করে ভুয়া দলিল: ফেঁসে যাচ্ছেন আসল আইনজীবীরা, ঢাকা বার থেকে টাউট আটক। আইনজীবী হিসেবে তালিকাভুক্তির সর্বোচ্চ বয়সসীমা ৩৫ বছর নির্ধারণ করল বার কাউন্সিল: কার্যকর ২০৩০ সাল থেকে এনএসআই প্রধানের হঠাৎ দিল্লি সফর: প্রত্যর্পণ আইনি প্রক্রিয়ায়, আলোচনায় আঞ্চলিক নিরাপত্তা ও শেখ হাসিনার ভবিষ্যৎ জাতীয় রূপান্তর ও আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষণ: নিরপেক্ষতা, দায়িত্বশীলতা ও সামাজিক সংহতির প্রাসঙ্গিকতা

আইনজীবীর ভুলে মক্কেলকে ভোগান্তিতে ফেলা উচিত নয়: হাইকোর্ট

  • প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ২৯ অক্টোবর, ২০২৬
  • ২২ বার পড়া হয়েছে

আইনজীবীর ভুলে মক্কেলকে ভোগান্তিতে ফেলা উচিত নয়: হাইকোর্ট
নিউজ ডেক্স আদালত বার্তা ২৯ অক্টোবর ২০২৬ 
আইনজীবীর ভুল বা ত্রুটির কারণে কোনো মক্কেলকে ভোগান্তির শিকার হতে দেওয়া উচিত নয় বলে গুরুত্বপূর্ণ পর্যবেক্ষণ দিয়েছেন হাইকোর্ট। আদালত বলেছেন, মামলার আরজি প্রস্তুতের সময় আইনজীবীর করা ভুলে যদি মক্কেলের কোনো ভূমিকা না থাকে, তাহলে সেই ভুলের দায়ে মক্কেলকে ক্ষতিগ্রস্ত করা ন্যায়সংগত নয়।
‘মোহাম্মদ আসিফ বনাম বাংলাদেশ ও অন্যান্য’ মামলায় এমন পর্যবেক্ষণ দিয়েছেন হাইকোর্টের বিচারপতি এস এম কুদ্দুস জামান ও বিচারপতি তামান্না রহমান খালিদী সমন্বয়ে গঠিত ডিভিশন বেঞ্চ। সুপ্রিম কোর্টের কজলিস্ট অনুযায়ী, ১০ সেপ্টেম্বর ২০২৬ তারিখে বেঞ্চটি First Appeal No. 18/2018 মামলাটি মঞ্জুর করেন।
মামলাটি ছিল জমির মালিকানা ও রেকর্ড সংশোধনসংক্রান্ত। হাইকোর্ট অধস্তন আদালতের দেওয়া রায় ও ডিক্রি বাতিল করে মামলাটি পুনর্বিচারের জন্য সংশ্লিষ্ট বিচারিক আদালতে ফেরত পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছেন।
মামলার পটভূমি
মামলার নথি ও প্রকাশিত রায়ের বিবরণ অনুযায়ী, বাদী মোহাম্মদ আসিফ বিরোধপূর্ণ ৬৭ দশমিক ৪০ শতাংশ জমির ওপর স্বত্ব ঘোষণার দাবিতে মামলা করেন। তাঁর দাবি ছিল, সংশ্লিষ্ট জমির মালিকানা পূর্ববর্তী দলিল ও রেকর্ডের মাধ্যমে তাঁর কাছে হস্তান্তরিত হয়েছে এবং তিনি জমিটি ভোগদখল করে আসছিলেন।
তবে রেকর্ড পর্যালোচনায় দেখা যায়, আর.এস. খতিয়ানে মোট ৬৭ দশমিক ৪০ শতাংশ জমির পরিবর্তে মাত্র ৫৮ দশমিক ৬৮ শতাংশ জমি ভুলভাবে রেকর্ডভুক্ত হয়। পরবর্তী সময়ে সিটি সার্ভে খতিয়ানেও জমিটির একটি অংশ বিবাদীদের নামে রেকর্ড করা হয়।
এই ভুল রেকর্ডকে কেন্দ্র করে বাদী ঢাকার যুগ্ম জেলা জজ আদালতে মামলা করেন। কিন্তু মামলার আরজি প্রস্তুতের সময় সংশ্লিষ্ট আইনজীবী গুরুত্বপূর্ণ কিছু তথ্য যথাযথভাবে উপস্থাপন করতে পারেননি। বিশেষ করে আর.এস. খতিয়ানে জমির পরিমাণের অসংগতিসহ পরবর্তী সিটি সার্ভে রেকর্ডের ভুলের বিষয়টি আরজিতে যথাযথভাবে তুলে ধরা হয়নি।
ফলে মামলাটি ২০১৭ সালের ১৫ জুন ঢাকার যুগ্ম জেলা জজ আদালতে খারিজ হয়ে যায়। পরে ওই রায় ও ডিক্রিতে সংক্ষুব্ধ হয়ে বাদী ২০১৮ সালে হাইকোর্টে ফাস্ট আপিল করেন। মামলাটি পরবর্তীতে বিচারপতি এস এম কুদ্দুস জামান ও বিচারপতি তামান্না রহমান খালিদীর বেঞ্চে শুনানি হয়।
আইনজীবীর ভুল নিয়ে হাইকোর্টের পর্যবেক্ষণ
মামলার শুনানি ও নথিপত্র পর্যালোচনা করে হাইকোর্ট বলেন, মামলার আরজি প্রস্তুতের সময় সংশ্লিষ্ট আইনজীবীর ভুল হয়েছিল। ওই ভুলের ক্ষেত্রে বাদীর কোনো ভূমিকা ছিল না। ফলে তাঁর নিযুক্ত আইনজীবীর ভুল বা ত্রুটির কারণে বাদীকে ক্ষতিগ্রস্ত কিংবা ভোগান্তির শিকার হতে দেওয়া উচিত নয়।
আদালতের এ পর্যবেক্ষণ বিচারপ্রার্থী মানুষের ন্যায়বিচার পাওয়ার অধিকার এবং আইনজীবীর পেশাগত দায়িত্ব—উভয় বিষয়কেই সামনে নিয়ে এসেছে। বিশেষ করে কোনো মামলায় আইনজীবীর প্রস্তুত করা আরজি বা উপস্থাপনায় অনিচ্ছাকৃত ত্রুটি থাকলে, সেই ত্রুটির কারণে প্রকৃত বিরোধের বিচার থেকে মক্কেলকে বঞ্চিত করা উচিত কি না—এ প্রশ্নে হাইকোর্ট মানবিক ও ন্যায়বিচারভিত্তিক দৃষ্টিভঙ্গি গ্রহণ করেছেন।
পুনর্বিচারের নির্দেশ
হাইকোর্ট মামলার সার্বিক তথ্য-উপাত্ত ও নথিপত্র বিবেচনা করে মনে করেন, ন্যায়বিচারের স্বার্থে উভয় পক্ষকে তাদের নিজ নিজ আরজি সংশোধনের সুযোগ দেওয়া প্রয়োজন। একই সঙ্গে প্রয়োজন হলে অতিরিক্ত সাক্ষ্য-প্রমাণ উপস্থাপনের সুযোগ দেওয়ার কথাও বলেন আদালত।
এর পরিপ্রেক্ষিতে হাইকোর্ট ফাস্ট আপিলটি মঞ্জুর করে ঢাকার ১ম যুগ্ম জেলা জজ আদালতের রায় ও ডিক্রি বাতিল করেন এবং মামলাটি পুনর্বিচারের জন্য সংশ্লিষ্ট বিচারিক আদালতে ফেরত পাঠান। আদালতকে নির্দেশ দেওয়া হয়, আদেশের অনুলিপি পাওয়ার পর ছয় মাসের মধ্যে দ্রুত মামলাটির বিচার সম্পন্ন করতে।
আইনজীবী ও বিচারপ্রার্থীদের জন্য তাৎপর্য
হাইকোর্টের এই সিদ্ধান্তের তাৎপর্য শুধু সংশ্লিষ্ট মামলার মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। মামলার আরজি, লিখিত বক্তব্য, দলিলপত্র ও সাক্ষ্য-প্রমাণ যথাযথভাবে উপস্থাপনের ক্ষেত্রে আইনজীবীর পেশাগত দায়িত্বের গুরুত্বও এ রায়ের মাধ্যমে স্পষ্ট হয়েছে।
একই সঙ্গে আদালত যে নীতিটি সামনে এনেছেন তা হলো—আইনজীবীর অনিচ্ছাকৃত ভুলের কারণে মক্কেলের ন্যায়বিচার পাওয়ার পথ বন্ধ হয়ে যাওয়া উচিত নয়, বিশেষত যখন প্রমাণিত হয় যে ওই ভুলের সঙ্গে মক্কেলের কোনো ভূমিকা ছিল না।
মামলার মূল রায়টি লিখেছেন বিচারপতি এস এম কুদ্দুস জামান। রায়টি ৮ পৃষ্ঠার এবং এর পূর্ণাঙ্গ অনুলিপি ২৮ অক্টোবর ২০২৬ সুপ্রিম কোর্টের ওয়েবসাইটে প্রকাশিত হয়।
আদালতে আপিলকারীর পক্ষে ছিলেন আইনজীবী মোহাম্মদ নাজমুল হোসেন। রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল মোহাম্মদ রাশেদুল হাসান, সহকারী অ্যাটর্নি জেনারেল বিলকিস নাসিমা রহমান, মো. আবদুস সালাম ও মোহাম্মদ নাজমুল হোসেন সিদ্দিক।

আরো সংবাদ পড়ুন
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত
ওয়েবসাইট ডিজাইন : ইয়োলো হোস্ট