মঙ্গলবার, ০৬ অক্টোবর ২০২৬, ০১:৩৭ অপরাহ্ন
Title :
কক্সবাজার থেকে মিয়ানমার হয়ে সরাসরি চীন: বাংলাদেশের সামনে ভূ-অর্থনীতির নতুন দিগন্ত বৈধ ভিসা থাকলেই প্রবেশের অধিকার নিশ্চিত নয়: দিল্লি হাইকোর্ট রিমান্ড শেষে মেজর (অব.) আখতারুজ্জামানকে কারাগারে পাঠানোর আবেদন নামের বিভ্রাটে ১০ মাস ধরে কারাগারে নির্দোষ আলমাছ: পরিচয় নিশ্চিতে হাইকোর্টের তদন্তের নির্দেশ যমুনার চরে ৬ হাজার মেগাওয়াটের সৌরবিদ্যুৎ কেন্দ্র: জ্বালানি নিরাপত্তায় নতুন সম্ভাবনা, বাস্তবায়ন নিয়ে প্রশ্ন চাঁদাবাজ ও সন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে ‘জিরো টলারেন্স’: এমপি মিষ্টির পদত্যাগে কাঁপছে অপরাধ জগৎ কড়া নিরাপত্তায় রূপপুরে পৌঁছাল দ্বিতীয় ইউনিটের প্রথম ইউরেনিয়াম চালান বিবাহ ও তালাক নিবন্ধন হচ্ছে ডিজিটাল, কমবে পারিবারিক মামলা ও জালিয়াতি ঘণ্টাপ্রতি শ্রম নয়, দক্ষতার বাজারমূল্যেই বাড়ে সফলতা প্রযুক্তি ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার যুগে টিকে থাকতে কারিগরি দক্ষতার বিকল্প নেই বিডিনিউজের প্রধান সম্পাদক তৌফিক ইমরোজ খালিদী আর নেই

কক্সবাজার থেকে মিয়ানমার হয়ে সরাসরি চীন: বাংলাদেশের সামনে ভূ-অর্থনীতির নতুন দিগন্ত

  • প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ৬ অক্টোবর, ২০২৬
  • ১৫ বার পড়া হয়েছে

কক্সবাজার থেকে মিয়ানমার হয়ে সরাসরি চীন: বাংলাদেশের সামনে ভূ-অর্থনীতির নতুন দিগন্ত

​আদালত বার্তা ডেস্ক:৬ অক্টোবর ২০২৬ 

সিঙ্গাপুর বা থাইল্যান্ডের বন্দর ঘুরে নয়, এবার কক্সবাজার থেকে সরাসরি মিয়ানমার হয়ে চীনে পণ্য পরিবহনের এক যুগান্তকারী সম্ভাবনার কথা সামনে এসেছে। সম্প্রতি প্রকাশিত একটি বিশেষ প্রতিবেদনে এই নতুন ভূ-অর্থনৈতিক সমীকরণের বিষয়টি উঠে আসে। বিশ্লেষকরা মনে করছেন, প্রস্তাবিত এই ত্রিপক্ষীয় করিডোর বাস্তবায়িত হলে তা বাংলাদেশের অর্থনীতি ও ভূ-রাজনীতিতে ‘গেম চেঞ্জার’ হিসেবে আবির্ভূত হতে পারে।

​রাখাইনের পরিবর্তিত পরিস্থিতি ও চীনের ভূমিকা

মিয়ানমারের রাখাইন প্রদেশের বর্তমান পরিস্থিতি বেশ জটিল হলেও তা নতুন সমীকরণের জন্ম দিয়েছে। প্রদেশের ১৭টি টাউনশিপের মধ্যে ১৪টিই এখন সশস্ত্র গোষ্ঠী আরাকান আর্মির নিয়ন্ত্রণে। অন্যদিকে, মিয়ানমারের জান্তা সরকার ও আরাকান আর্মি—উভয় পক্ষের ওপরই চীনের শক্তিশালী প্রভাব রয়েছে। এই ভূ-রাজনৈতিক বাস্তবতাকে কাজে লাগিয়ে চীনের মধ্যস্থতায় একটি নতুন কৌশলগত করিডোর নির্মাণের পরিকল্পনা নিয়ে আলোচনা এগোচ্ছে।

​অর্থনৈতিক করিডোরটি কেন গুরুত্বপূর্ণ?

প্রস্তাবিত এই করিডোরটি বাংলাদেশের জন্য বহুমুখী সুবিধা বয়ে আনতে পারে:

  • ​বাণিজ্যিক দূরত্ব ও সময় হ্রাস: বর্তমানে চীন বা দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার দেশগুলোর সাথে বাণিজ্য করতে বাংলাদেশের জাহাজগুলোকে সিঙ্গাপুর বন্দর ঘুরে যেতে হয়। কিন্তু কক্সবাজারের ঘুমধুম সীমান্ত হয়ে রাখাইনের বুথিডং ও মংডু দিয়ে চীনের কিয়াকফিউ গভীর সমুদ্রবন্দরের সাথে সরাসরি যুক্ত হলে এই বাণিজ্যিক দূরত্ব প্রায় ৮০ শতাংশ কমে যাবে। এর ফলে গন্তব্যে পণ্য পৌঁছাতে সময় লাগবে মাত্র ১ থেকে ২ দিন।
  • ​বিপুল আর্থিক সাশ্রয়: লজিস্টিকস ও পরিবহন খরচ ব্যাপকভাবে কমে যাওয়ার ফলে দেশের আমদানি-রপ্তানি বাণিজ্যে বছরে প্রায় ১৫ থেকে ২০ হাজার কোটি টাকা সাশ্রয় হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
  • ​তিন বন্দরের শক্তিশালী মহাজোট: চট্টগ্রাম বন্দর এবং মাতারবাড়ী গভীর সমুদ্রবন্দরের সাথে চীনের কিয়াকফিউ বন্দরের সরাসরি সংযোগ স্থাপিত হলে বাংলাদেশ দক্ষিণ ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার অন্যতম প্রধান প্রবেশদ্বারে পরিণত হবে।

​রোহিঙ্গা সংকটের স্থায়ী সমাধানের আশা

অর্থনৈতিক সম্ভাবনার পাশাপাশি এই করিডোর রোহিঙ্গা সংকট সমাধানের একটি বাস্তবসম্মত পথ তৈরি করতে পারে। বর্তমানে প্রায় ১২ লাখ রোহিঙ্গার আশ্রয় ও ব্যবস্থাপনার জন্য বাংলাদেশকে প্রতি বছর প্রায় ১২০ কোটি ডলার (যা স্থানীয় মুদ্রায় প্রায় ১৪ হাজার কোটি টাকার সমান) ব্যয় করতে হচ্ছে। সংশ্লিষ্টদের মতে, এই করিডোর বাস্তবায়নের অন্যতম শর্ত হিসেবে রাখাইনকে একটি নিরাপদ অর্থনৈতিক অঞ্চলে পরিণত করা গেলে, সেখানে রোহিঙ্গাদের সসম্মানে ও নিরাপদে প্রত্যাবাসন নিশ্চিত করা সহজ হবে।

​সম্ভাবনা ও চ্যালেঞ্জ

মিয়ানমারের বর্তমান অস্থিতিশীল অভ্যন্তরীণ পরিস্থিতিতে এমন একটি মেগা প্রকল্প বাস্তবায়ন নিঃসন্দেহে একটি বড় চ্যালেঞ্জ। তবে ভূ-রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের ধারণা, চীন যদি এই করিডোরের সামগ্রিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পারে, তবে এটি বাংলাদেশের ‘লুক ইস্ট’ বা পূবমুখী নীতির সবচেয়ে বড় ঐতিহাসিক সাফল্য হতে পারে।

​দেশের অর্থনৈতিক সমৃদ্ধি এবং রোহিঙ্গা সংকটের মতো দীর্ঘস্থায়ী সমস্যার সমাধানে মিয়ানমারের বর্তমান বাস্তবতাকে বিবেচনায় নেওয়া অত্যন্ত জরুরি। কূটনৈতিক মহলের মতে, জাতীয় স্বার্থ রক্ষার্থে চীনের মধ্যস্থতায় আরাকান আর্মির সাথে একটি কার্যকর ও কৌশলগত সমঝোতায় পৌঁছানো বাংলাদেশের জন্য একটি সময়োপযোগী ও যৌক্তিক পদক্ষেপ হতে পারে।

আরো সংবাদ পড়ুন
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত
ওয়েবসাইট ডিজাইন : ইয়োলো হোস্ট