বুধবার, ২৪ জুন ২০২৬, ০৩:২২ অপরাহ্ন
Title :
আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল আইনের বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে হাইকোর্টে রিট মুন্সীগঞ্জে দেশের প্রথম ‘ক্যাশলেস কারাগার’ চালু কিশোরগঞ্জে জামান খুনের মামলায় খালাস পাওয়া ৮ আসামিকে আত্মসমর্পণের নির্দেশ হাইকোর্টের ঢাকার প্রধান সড়কগুলো থেকে অটোরিকশা উঠিয়ে দেওয়ার নীতিগত সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার ও ট্রাফিক বিভাগ। সাতাত্তর বছরে আওয়ামী লীগ: নিষেধাজ্ঞা, সংকট ও পুনর্গঠনের চ্যালেঞ্জ চট্টগ্রাম এডিটরস ক্লাবের প্রধান পৃষ্ঠপোষক ওসমান গনি মনসুর সংবর্ধিত হুট করে মামলা নয়, সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রেস কাউন্সিলে হতে হবে :এম এ মালেক  ৬ জেলায় সেনাবাহিনী মোতায়েন ধামরাইয়ে পরিত্যক্ত ৩০০ কোটি টাকার ক্যানসার হাসপাতাল প্রকল্প: স্বপ্ন ভেঙে এখন ভুতুড়ে স্থাপনা বিচারকদের সততার সঙ্গে দায়িত্ব পালনের আহ্বান প্রধান বিচারপতির আপিল বিভাগের গুরুত্বপূর্ণ সিভিল মামলায় রাষ্ট্রপক্ষে সিনিয়র অ্যাডভোকেট আহসানুল করিম

আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল আইনের বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে হাইকোর্টে রিট

  • প্রকাশিত: বুধবার, ২৪ জুন, ২০২৬
  • ২৩ বার পড়া হয়েছে

আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল আইনের বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে হাইকোর্টে রিট
নিউজ ডেস্ক আদালত বার্তাঃ ২৪ জুন, ২০২৬
কোর্ট রিপোর্টার, ঢাকা | বিগত বছরগুলোতে রাজনৈতিক প্রতিহিংসা চরিতার্থ করা এবং রাজনৈতিক প্রতিপক্ষকে বিচারিকভাবে হেনস্তা ও দৃশ্যপট থেকে সরিয়ে দেওয়ার হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহৃত হওয়ার অভিযোগ তুলে অবশেষে ‘আন্তর্জাতিক অপরাধ (ট্রাইব্যুনাল) আইন, ১৯৭৩’-এর আইনি বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে মহামান্য হাইকোর্টে একটি রিট আবেদন দায়ের করা হয়েছে। একই সাথে বিতর্কিত ও বৈষম্যমূলক এই আইনটি সম্পূর্ণ বাতিল ও রহিতকরণের (Repeal) নির্দেশনা চাওয়া হয়েছে।
আজ বুধকার (২৪ জুন) বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী অ্যাডভোকেট মহসীন রশিদ জনার্থে হাইকোর্টের সংশ্লিষ্ট শাখায় এই অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ রিট আবেদনটি দায়ের করেন।
দায়েরকৃত এই রিট আবেদনে সরকারের আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের আইন ও বিচার বিভাগের সচিবসহ (আইন সচিব) সংশ্লিষ্ট নীতিনির্ধারক ও কর্মকর্তাদের বিবাদী (Respondent) করা হয়েছে। চলতি সপ্তাহের মধ্যেই হাইকোর্টের একটি দ্বৈত বেঞ্চে এই রিট আবেদনটির ওপর প্রাথমিক শুনানি হতে পারে বলে আইনজীবীদের সূত্রে জানা গেছে।
রিটে রুল ও রহিতকরণের সুনির্দিষ্ট আর্জি
রিট আবেদনে মহামান্য হাইকোর্টের কাছে একটি সুনির্দিষ্ট রুল জারির আর্জি জানানো হয়েছে। রিটে বিবাদীদের প্রতি কারণ দর্শানোর (Show Cause) নোটিশ জারির নির্দেশনা চেয়ে বলা হয়েছে— কেন প্রতিপক্ষ সরকারের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের আইন অনুযায়ী ১৯৭৩ সালের আন্তর্জাতিক অপরাধ (ট্রাইব্যুনাল) আইনটি সম্পূর্ণ রহিত বা বিলুপ্ত করার জন্য প্রয়োজনীয় আইনি ও আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশনা দেওয়া হবে না।
আবেদনে মূল যুক্তি হিসেবে উপস্থাপন করা হয়েছে যে, ১৯৭৩ সালে যে বিশেষ ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট ও উদ্দেশ্যে এই বিশেষ আইনটি প্রণয়ন করা হয়েছিল, তা ইতিমধ্যে তার মূল উদ্দেশ্য পূরণ করে ফেলেছে। বর্তমান বাস্তবতায় এই আইনের আর কোনো যৌক্তিক প্রয়োজনীয়তা নেই।
বরং সাম্প্রতিক ইতিহাসের আলোকে দেখা গেছে, ভবিষ্যতে যেকোনো ক্ষমতাসীন দল কর্তৃক তাদের প্রধান রাজনৈতিক প্রতিপক্ষকে সম্পূর্ণ বিচারিকভাবে হেনস্তা ও নির্মূল করার এক চরম রাজনৈতিক অস্ত্র হিসেবে এই আইনের মারাত্মক অপব্যবহার ও অপপ্রয়োগ ঘটার আশঙ্কা রয়েছে। তাই দেশের মানুষের জানমালের নিরাপত্তা ও রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে এই অপপ্রয়োগ প্রতিরোধ করা অত্যন্ত জরুরি।
সংবিধানের সাথে সাংঘর্ষিক ও বাতিলের দাবি
রিট আবেদনে আরও উল্লেখ করা হয়, ১৯৭৩ সালের আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল আইনের বেশ কিছু ধারা ও বিধান স্বাধীন বাংলাদেশের পবিত্র সংবিধানের মৌলিক কাঠামো এবং নাগরিকদের মৌলিক অধিকার সংক্রান্ত অনুচ্ছেদগুলোর সাথে সরাসরি পরিপন্থি ও সাংঘর্ষিক। একটি গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রে একই অপরাধের বিচারের জন্য সাধারণ আইনি ব্যবস্থার বাইরে এমন কোনো বিশেষ ও বৈষম্যমূলক আইন বহাল থাকতে পারে না, যা নাগরিকের আত্মপক্ষ সমর্থনের স্বাভাবিক অধিকারকে খর্ব করে। ফলশ্রুতিতে, সংবিধানের বিধানগুলোর সাথে সাংঘর্ষিক হওয়ায় পুরো আইনটিকে অবৈধ, অসাংবিধানিক ও বাতিল ঘোষণার আরজি জানানো হয়েছে এই রিটে।
আইনজীবীরা মনে করছেন, এই রিট আবেদনের ওপর শুনানির মাধ্যমে বাংলাদেশের বিচারিক ইতিহাসে এক নতুন দিগন্তের উন্মোচন হতে পারে, কারণ দীর্ঘ দিন ধরে এই আইনের বিভিন্ন ধারা সংশোধন ও আন্তর্জাতিক মানদণ্ড নিশ্চিত করার বিষয়ে দেশি-বিদেশি মানবাধিকার সংস্থাগুলো দাবি জানিয়ে আসছিল।

আরো সংবাদ পড়ুন
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত
Theme Customized By BreakingNews