
জাল সনদে ১৯ বছর চাকরি: সুপ্রিম কোর্টের সাবেক কর্মীকে ৪২ লাখ টাকা ফেরতের নির্দেশ
নিজস্ব প্রতিবেদক, আদালত বার্তা, ঢাকাঃ ২০ সেপ্টেম্বর ২০২৬
জাল শিক্ষাগত যোগ্যতার সনদ দিয়ে সুপ্রিম কোর্টে দীর্ঘ ১৯ বছর চাকরি করেছেন মোহাম্মদ গোলাম মাওলা নামের এক অফিস সহকারী। জালিয়াতি প্রমাণিত হওয়ায় আগেই তাকে চাকরি থেকে অপসারণ করা হয়েছিল। এবার এই দীর্ঘ সময়ে তার গ্রহণ করা বেতন-ভাতার ৪২ লাখ ৩ হাজার ৯০১ টাকা সরকারি কোষাগারে ফেরত দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছে সুপ্রিম কোর্ট প্রশাসন।
রোববার (২০ সেপ্টেম্বর) সুপ্রিম কোর্টের হাইকোর্ট বিভাগের সাধারণ ও সংস্থাপন শাখা থেকে এ সংক্রান্ত একটি অফিস আদেশ জারি করা হয়েছে। আগামী ৩০ দিনের মধ্যে অটোমেটেড চালান সিস্টেমের মাধ্যমে এই অর্থ জমা দিতে বলা হয়েছে।
যেভাবে ধরা পড়লো জালিয়াতি
আদালত সূত্রে জানা যায়, রাজধানীর হাতিরপুলের বাসিন্দা মোহাম্মদ গোলাম মাওলা ২০০৭ সালের ৩১ জানুয়ারি সুপ্রিম কোর্টে অফিস সহকারী পদে যোগ দেন। দিব্যি কাজ করে যাচ্ছিলেন তিনি। কিন্তু দীর্ঘদিন চাকরি করার পর তার শিক্ষাগত যোগ্যতার সনদের সত্যতা নিয়ে অভিযোগ ওঠে। এর পরিপ্রেক্ষিতে ২০২১ সালে তার বিরুদ্ধে একটি বিভাগীয় মামলা (নম্বর ০৯/২০২১) দায়ের করা হয়। দীর্ঘ তদন্ত ও যাচাই-বাছাই শেষে তার সনদ জালের বিষয়টি সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণিত হয়। এরপর বিধি অনুযায়ী চলতি বছরের ২১ জানুয়ারি তাকে চাকরি থেকে চূড়ান্তভাবে অপসারণ করা হয়।
আদেশে যা বলা হয়েছে
বরখাস্তকৃত অফিস সহকারী মোহাম্মদ গোলাম মাওলাকে উদ্দেশ্য করে জারি করা আদেশে বলা হয়েছে, জাল-জালিয়াতির মাধ্যমে সৃজিত শিক্ষাগত যোগ্যতার সনদের ভিত্তিতে তিনি সুপ্রিম কোর্টের অফিস সহকারী পদে চাকরি নিয়েছিলেন। জালিয়াতি প্রমাণিত হওয়ায় তার চাকরি শুরু থেকেই বাতিল মর্মে গণ্য হবে। সে হিসেবে চাকরিকালে তিনি কোনো বেতন-ভাতাদি পাওয়ার যোগ্য নন।
আদেশে আরও উল্লেখ করা হয়, ২০০৭ সালের ৩১
জানুয়ারি থেকে ২০২৫ সালের ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত চাকরিকালে গোলাম মাওলা বেতন-ভাতা বাবদ মোট ৪২ লাখ ৩ হাজার ৯০১ টাকা উত্তোলন করেছেন। যেহেতু তিনি কোনো বেতন-ভাতা প্রাপ্য হন না, সেহেতু উত্তোলিত সম্পূর্ণ অর্থ আগামী ৩০ দিনের মধ্যে সরকারি কোষাগারে ফেরত দিতে হবে।
আইনজীবীরা বলছেন, জাল সনদে চাকরি নেওয়ার পর তা ধরা পড়লে শুধু চাকরিচ্যুতিই নয়, বরং গৃহীত আর্থিক সুবিধা ফেরত দেওয়ার এই কঠোর নির্দেশ প্রশাসনে স্বচ্ছতা ফেরাতে একটি বড় বার্তা হিসেবে কাজ করবে।