শুক্রবার, ১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১০:২৭ অপরাহ্ন
Title :
১৫ দিনে একবার দেখা: অতিরিক্ত বন্দীতে লালমনিরহাট কারাগারে স্বজনদের চরম দুর্ভোগ হাইকোর্টের জামিনের পরও বন্দি মুক্তি না পাওয়ার অভিযোগ: চট্টগ্রাম জেল সুপারকে আদালতের শোকজ জামায়াত একাত্তরের ভূমিকা মেনে নিয়েছে: আইনমন্ত্রী শুনানিতে অসংলগ্ন কথা ও অস্বাভাবিক আচরণ: আইনজীবীর ‘ডোপ টেস্টের’ নির্দেশ আদালতের সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশনা লঙ্ঘন করে বিচারকের ফেসবুক পোস্ট: সমালোচনা ও বিতর্ক আসামির কাঠগড়ায় আইনজীবী আবুল বাশার: নিজের মামলায় নিজেই লড়লেন, জামিন নামঞ্জুর করে কারাগারে পাঠালেন ম্যাজিস্ট্রেট। আসিফ মাহমুদের দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা চাইবে দুদক, সম্পদের তথ্য চেয়ে বিএফআইইউকে চিঠি আসামিদের অনুপস্থিতিতে বিচার ও তড়িঘড়ি রায়: ট্রাইব্যুনালের আদেশে সাংবাদিক ফ্রন্টের গভীর উদ্বেগ মির্জা আব্বাসের সময়োপযোগী সতর্কবার্তা: ‘আমলারা সবাই চোর’—এমন কাণ্ডজ্ঞানহীন বক্তব্য কেন? আদালত অবমাননা’: সুপ্রিম কোর্টের দুই আইনজীবীকে ট্রাইব্যুনালে তলব

১৫ দিনে একবার দেখা: অতিরিক্ত বন্দীতে লালমনিরহাট কারাগারে স্বজনদের চরম দুর্ভোগ

  • প্রকাশিত: শুক্রবার, ১৮ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
  • ১৩ বার পড়া হয়েছে

১৫ দিনে একবার দেখা: অতিরিক্ত বন্দীতে লালমনিরহাট কারাগারে স্বজনদের চরম দুর্ভোগ

নিউজ ডেস্ক, আদালত বার্তাঃ১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬

লালমনিরহাট জেলা কারাগারে ধারণক্ষমতার চেয়ে অতিরিক্ত বন্দী থাকায় চরম দুর্ভোগে পড়েছেন বন্দীদের স্বজনেরা। বিশেষ করে দীর্ঘ ১৫ দিন পরপর সাক্ষাতের সুযোগ এবং উপচে পড়া ভিড়ের কারণে এই দুর্ভোগ চরমে পৌঁছেছে। সাক্ষাৎ-বঞ্চিত স্বজনদের ক্ষোভ ও আহাজারি জনমনেও উদ্বেগের সৃষ্টি করেছে।

​দেশের অন্যান্য কারাগারের মতো লালমনিরহাট জেলা কারাগারেও ধারণক্ষমতার চেয়ে বেশি বন্দী অবস্থান করছে। ফলে কারা বিধিমালা মেনে বন্দীদের সঙ্গে দেখা করতে আসা সাধারণ মানুষ চরম ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন। দূর-দূরান্ত থেকে আসা স্বজনদের দীর্ঘ সময় লাইনে দাঁড়িয়ে অপেক্ষা করতে হয়। এমনকি কঠোর নিয়ম ও অতিরিক্ত ভিড়ের কারণে অনেকেই প্রিয়জনের দেখা না পেয়েই হতাশ হয়ে ফিরে যেতে বাধ্য হন।

​কারা বিধিমালা ও সাক্ষাতের বর্তমান নিয়ম

জেলা কারাগার ও কারা অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে সাক্ষাতের ক্ষেত্রে বেশ কিছু নিয়ম মেনে চলা হচ্ছে:

  • ​হাজতি (বিচারাধীন বন্দী): স্বজনরা ১৫ দিনে মাত্র ১ বার দেখা করার সুযোগ পান।
  • ​কয়েদি (সাজাপ্রাপ্ত বন্দী): মাসে ১ বার দেখা করতে পারেন।
  • ​সাক্ষাতের সময় ও সদস্য: প্রতি সাক্ষাতে সর্বোচ্চ ৩০ মিনিট সময় বরাদ্দ থাকে এবং একসঙ্গে সর্বোচ্চ ৫ জন দেখা করতে পারেন।
  • ​বিশেষ অনুমতি: ডিটেন্যু ও সেফ হোমে থাকা বন্দীদের সঙ্গে দেখা করার ক্ষেত্রে জেলা ম্যাজিস্ট্রেট বা আদালতের পূর্বানুমতি বাধ্যতামূলক।

​কর্তৃপক্ষের বক্তব্য ও নতুন উদ্যোগ

সার্বিক বিষয়ে লালমনিরহাট জেলা কারাগারের জেলার জামাল হোসাইন বলেন, “কারাগারের যেকোনো অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি এড়াতে এবং শৃঙ্খলা বজায় রাখতে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও কারা অধিদপ্তর নিয়মিত তদারকি করে থাকে। নিরাপত্তার স্বার্থেই বর্তমান সময়সূচি ও নিয়মকানুন কঠোরভাবে মেনে চলা হচ্ছে। তবে আমরা মানবিক দিকগুলোও বিবেচনা করছি।”

​তিনি আরও জানান, বর্তমানে হাজতিরা সপ্তাহে একবার মুঠোফোনের মাধ্যমে পরিবারের সঙ্গে সর্বোচ্চ ১০ মিনিট কথা বলার সুযোগ পাচ্ছেন।

​বন্দিজীবনে স্বজনদের সরাসরি দেখার আকুলতা দূর করতে খুব শিগগিরই পাইলট প্রকল্প হিসেবে কারাগারে যুক্ত হচ্ছে ভিডিও কল সুবিধা। কারা কর্তৃপক্ষের এই আধুনিক ও মানবিক উদ্যোগের ফলে নির্দিষ্ট নিয়ম মেনে কয়েদি ও হাজতিরা সপ্তাহে একবার ১০ মিনিট ভিডিও কলে পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে কথা বলতে পারবেন, যা বর্তমানে প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।

​এদিকে, ভুক্তভোগী স্বজনরা মানবিক দিক বিবেচনা করে সাক্ষাতের নিয়ম কিছুটা শিথিল করা এবং কারাগারের ধারণক্ষমতা অনুযায়ী বন্দী ব্যবস্থাপনার জোর দাবি জানিয়েছেন।

আরো সংবাদ পড়ুন
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত
ওয়েবসাইট ডিজাইন : ইয়োলো হোস্ট