বৃহস্পতিবার, ০৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০২:৩১ অপরাহ্ন
Title :
বিচারক শাহিদুল ইসলামের বিরুদ্ধে পুলিশ কর্মকর্তাকে খাসকামরায় ডেকে মারধরের অভিযোগের ঘটনায় ব্যাখ্যা চেয়ে কারণ দর্শানোর নোটিশ (শোকজ) দিয়েছে আইন মন্ত্রণালয় ট্রেনে চালু হতেই স্টারলিংক ডিভাইস চুরি ছয় মাসে চার আন্তঃনগর ট্রেনে মূল্যবান সরঞ্জাম উধাও, নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন ইরান যুদ্ধে স্থলসেনা পাঠানো নিয়ে ট্রাম্পের অবস্থান কী? বিমান ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চললেও স্থলযুদ্ধে মার্কিন সেনা পাঠানো নিয়ে অনিশ্চয়তা নতুন নিয়মে জমির নামজারি: ওয়ারিশদের যৌথ খতিয়ান, পৃথক খতিয়ানে বণ্টননামা বাধ্যতামূলক বিচারকের খাস কামরায় পুলিশ কর্মকর্তাকে মারধরের অভিযোগ জব্দকৃত পচনশীল খাদ্যশস্য থানায় ফেলে রেখে নষ্ট করার সুযোগ নেই: হাইকোর্ট শাহজালালের থার্ড টার্মিনালে মর্মান্তিক দুর্ঘটনা বিমানবাহিনীর ৩ সদস্য নিহত, আহত ৪ ময়মনসিংহে কাস্টমস কর্মীকে ১৫ টুকরো করে নৃশংস হত্যা: লোভের বলি বিশ্বাস, গ্রেপ্তার কেয়ারটেকার রাষ্ট্রদ্রোহ আইন বাতিলের রিট খারিজ করলেন হাইকোর্ট দিল্লিতে আওয়ামী লীগ–সংশ্লিষ্টদের সেমিনারের অনুমতি দেয়নি পুলিশ

ট্রেনে চালু হতেই স্টারলিংক ডিভাইস চুরি ছয় মাসে চার আন্তঃনগর ট্রেনে মূল্যবান সরঞ্জাম উধাও, নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন

  • প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
  • ২৬ বার পড়া হয়েছে

ট্রেনে চালু হতেই স্টারলিংক ডিভাইস চুরি
ছয় মাসে চার আন্তঃনগর ট্রেনে মূল্যবান সরঞ্জাম উধাও, নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন
নিজস্ব প্রতিবেদক, আদালত বার্তা
ঢাকা, ৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬
চলন্ত ট্রেনে যাত্রীদের নিরবচ্ছিন্ন ইন্টারনেট সুবিধা দিতে পরীক্ষামূলকভাবে চালু করা উচ্চগতির স্যাটেলাইটভিত্তিক স্টারলিংক ওয়াই-ফাই সেবা চালুর মাত্র ছয় মাসের মধ্যেই মূল্যবান প্রযুক্তি সরঞ্জাম চুরির ঘটনায় নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।
রেলওয়ে ও সংশ্লিষ্ট সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, পরীক্ষামূলকভাবে স্টারলিংক সেবা চালু হওয়া চারটি আন্তঃনগর ট্রেন—পর্যটক এক্সপ্রেস, পারাবত এক্সপ্রেস, উপবন এক্সপ্রেস ও বনলতা এক্সপ্রেসে বিভিন্ন সময়ে তারহীন সংযোগযন্ত্র ও অন্যান্য সরঞ্জাম চুরির ঘটনা ঘটেছে। চুরি যাওয়া কিছু ডিভাইস পুনরায় স্থাপন করা হলেও কোথাও কোথাও প্রতিস্থাপনের পরও একই ধরনের ঘটনা ঘটেছে।
সর্বশেষ ঢাকা-সিলেট রুটের উপবন এক্সপ্রেসের ছাদে স্থাপিত স্টারলিংক ফ্ল্যাট অ্যান্টেনা বা স্যাটেলাইট টার্মিনাল খুলে নিয়ে যাওয়ার ঘটনা সামনে এসেছে। ঘটনাস্থলে অ্যান্টেনা স্থাপনের হোল্ডার থাকলেও মূল যন্ত্রটি নেই বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।
ছাদের অ্যান্টেনা চুরি হলে বন্ধ হয়ে যায় পুরো সংযোগ
প্রযুক্তিবিদদের মতে, ট্রেনের ছাদে স্থাপিত ফ্ল্যাট অ্যান্টেনাটি স্টারলিংক স্যাটেলাইটের সঙ্গে যোগাযোগের মাধ্যমে ইন্টারনেট সংকেত গ্রহণ করে। পরে ট্রেনের অভ্যন্তরে থাকা নেটওয়ার্ক সরঞ্জামের মাধ্যমে সেই সংযোগ ওয়াই-ফাই হিসেবে যাত্রীদের মধ্যে বিতরণ করা হয়।
ফলে ছাদের মূল স্যাটেলাইট টার্মিনাল চুরি হয়ে গেলে পুরো ইন্টারনেট ব্যবস্থাই অচল হয়ে পড়তে পারে। একইভাবে বগির ভেতরে থাকা নেটওয়ার্ক ডিভাইস চুরি বা ক্ষতিগ্রস্ত হলেও সেবা ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা থাকে।
রেল মন্ত্রণালয়: নিরাপত্তা নিশ্চিত করা বড় চ্যালেঞ্জ
স্টারলিংক সরঞ্জাম চুরির বিষয়টি স্বীকার করেছেন বাংলাদেশ রেলপথ মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. ফাহিমুল ইসলাম।
তিনি জানান, পরীক্ষামূলকভাবে চারটি ট্রেনে স্টারলিংক সেবা চালু করা হয়েছিল। উপবন এক্সপ্রেসের গুরুত্বপূর্ণ কিছু যন্ত্রপাতি চুরি হয়েছে এবং অন্য ট্রেনগুলোতেও একই ধরনের ঘটনার খবর পাওয়া গেছে।
সচিব বলেন, বিষয়টি কীভাবে ব্যবস্থাপনা করা যায় তা নিয়ে সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর মধ্যে সমন্বিত আলোচনা প্রয়োজন। প্রতিটি ট্রেনে স্টারলিংক সেবা স্থাপনে বড় অঙ্কের অর্থ ব্যয় হয়েছে উল্লেখ করে তিনি জানান, সক্ষমতার সীমাবদ্ধতা থাকলে মূল্যবান যন্ত্রপাতি সুরক্ষিত রাখাও কঠিন হয়ে পড়ে।
যাত্রীদের ব্যাপক সাড়া, ছয় মাসে ব্যবহার প্রায় ১৮ টেরাবাইট
চলতি বছরের ১৩ মার্চ দেশে প্রথমবারের মতো চলন্ত ট্রেনে পরীক্ষামূলকভাবে স্যাটেলাইটভিত্তিক স্টারলিংক ইন্টারনেট সেবা চালু করা হয়।
প্রাথমিক পর্যায়ে পর্যটক, পারাবত, উপবন ও বনলতা এক্সপ্রেসে যাত্রীদের বিনামূল্যে ওয়াই-ফাই সুবিধা দেওয়া হয়। প্রতিটি বগিতে কিউআর কোডের মাধ্যমে সহজে সংযোগ নেওয়ার ব্যবস্থা করা হয়েছিল।
সংশ্লিষ্ট সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, পরীক্ষামূলক সময়ে চারটি ট্রেনে যাত্রীরা সম্মিলিতভাবে প্রায় ১৮ টেরাবাইট ডেটা ব্যবহার করেছেন। বিশেষ করে যেসব দূরপাল্লার রুটে মোবাইল নেটওয়ার্ক দুর্বল বা অনুপস্থিত, সেখানে এই সেবা যাত্রীদের কাছে কার্যকর বিকল্প হিসেবে সাড়া ফেলেছে।
বিএসসিএল: চুরি হলেও দ্রুত প্রতিস্থাপনের চেষ্টা চলছে
বাংলাদেশ স্যাটেলাইট কোম্পানি লিমিটেডের (বিএসসিএল) ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা ড. ইমাদুর রহমান জানান, সরকারের ‘সবার জন্য ইন্টারনেট’ উদ্যোগের অংশ হিসেবেই চলন্ত ট্রেনে স্যাটেলাইট ইন্টারনেট চালু করা হয়েছে।
তিনি বলেন, কিছু যন্ত্রপাতি চুরি হলেও তা দ্রুত প্রতিস্থাপনের চেষ্টা করা হচ্ছে। সংশ্লিষ্ট সব পক্ষের সমন্বিত প্রচেষ্টায় সেবাটি আরও বিস্তৃত করার কাজ চলছে।
তবে একের পর এক যন্ত্র চুরির ঘটনায় শুধু আর্থিক ক্ষতিই নয়, পরীক্ষামূলক প্রকল্পটির ধারাবাহিকতা ও ভবিষ্যৎ সম্প্রসারণ নিয়েও প্রশ্ন তৈরি হয়েছে।
রেলওয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের বক্তব্য পাওয়া যায়নি
চুরির ঘটনা ও নিরাপত্তা ব্যবস্থার বিষয়ে বাংলাদেশ রেলওয়ের মহাপরিচালক মো. আফজাল হোসেন এবং অতিরিক্ত মহাপরিচালক (অপারেশন) মোহাম্মদ নাজমুল ইসলামের বক্তব্য জানতে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাদের কাছ থেকে কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
একই বিষয়ে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বশীল ব্যক্তিদের বক্তব্য পাওয়ারও চেষ্টা করা হয়। তবে তাদের পক্ষ থেকেও তাৎক্ষণিক কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।
ট্রেনের পর বাস ও ফেরিতেও স্যাটেলাইট ইন্টারনেট
ট্রেনে পরীক্ষামূলক সেবায় ইতিবাচক সাড়া পাওয়ার পর স্টারলিংক ইন্টারনেট শুধু রেলপথে সীমাবদ্ধ না রেখে অন্যান্য গণপরিবহনেও সম্প্রসারণের পরিকল্পনা করছে বিএসসিএল।
ইতোমধ্যে রাজধানীর নারীদের জন্য নির্ধারিত পিঙ্ক বাসে পরীক্ষামূলকভাবে সেবা চালুর মাধ্যমে কার্যকারিতা যাচাই করা হয়েছে। পর্যায়ক্রমে দূরপাল্লার বাস ও ফেরিতেও এ ধরনের সেবা চালুর পরিকল্পনা রয়েছে।
এমনকি একজন যাত্রী যাতে একই অ্যাকাউন্ট ব্যবহার করে ট্রেন, বাস ও ফেরিতে ইন্টারনেট সুবিধা নিতে পারেন, সে লক্ষ্যে একটি ‘একক সাবস্ক্রিপশন ব্যবস্থা’ চালুর পরিকল্পনাও রয়েছে।
নিরাপত্তা নিশ্চিত না হলে বড় প্রকল্পে ঝুঁকি
সংশ্লিষ্টদের মতে, ট্রেনে স্যাটেলাইট ইন্টারনেট প্রযুক্তি ব্যবহারে বড় ধরনের কারিগরি বাধার চেয়ে বর্তমানে মূল চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে যন্ত্রপাতির নিরাপত্তা, রক্ষণাবেক্ষণ ও দ্রুত প্রতিস্থাপন।
পরীক্ষামূলক চারটি ট্রেনেই যদি মূল্যবান সরঞ্জাম বারবার চুরি হয়, তাহলে ভবিষ্যতে দেশের সব আন্তঃনগর ট্রেনে এই সেবা সম্প্রসারণের আগে নিরাপত্তা কাঠামো শক্তিশালী করা জরুরি।
সরকারি অর্থে স্থাপিত প্রযুক্তি সরঞ্জামের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা না গেলে একদিকে যেমন আর্থিক ক্ষতি বাড়বে, অন্যদিকে সাধারণ যাত্রীদের জন্য সম্ভাবনাময় একটি আধুনিক সেবা দীর্ঘমেয়াদে বাধাগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কাও রয়েছে।
তাই স্টারলিংক প্রকল্পের পরবর্তী ধাপে ডিভাইস সুরক্ষা, নজরদারি, দায়িত্ব নির্ধারণ, চুরি প্রতিরোধ এবং দ্রুত রক্ষণাবেক্ষণের সমন্বিত ব্যবস্থা গড়ে তোলাকে অগ্রাধিকার দেওয়ার দাবি উঠেছে।

আরো সংবাদ পড়ুন
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত
ওয়েবসাইট ডিজাইন : ইয়োলো হোস্ট